পরিতোষ বুদ্ধি দিল বাবার পকেট থেকে সিগারেট চুরির। তখন আমরা তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। বিড়িতে আগুন দিয়ে কয়েক টান দিতেই মাথা ঘুরে উঠল। ভেবেছিলাম জীবনে আর বিড়ি মুখে তুলবো না। অষ্টম শ্রেণীর বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে মাঝে মাঝে দু/এক টান দিতাম। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার পর তা নেশায় পরিণত হল। নব্বইয়ের দশকের ঘটনা। স্টার, ক্যাপস্টান, গোল্ডলিফ ইত্যাতি সিগারেট আমাদের গ্রামের বাজারে পাওয়া যেত। স্কুলের পাশেই বাজার। প্রতিদিন সকালে এবং বিকেলে বাজারে আড্ডা দিতাম। ফাঁকে ধুমপান। এক বন্ধুর পাল্লায় পড়ে একদিন গঞ্জিকাও সেবন করলাম। যাহোক সিগারেট এবং ম্যাচ আমার পকেটে জায়গা করে নিল। অমাদের বাড়িতে তখন আমার মা ছাড়া কোন মেয়েলোক ছিল না। বড় বোনের (একমাত্র বোন) আগেই বিয়ে হয়েছে। আমারা চার ভাই । আমি মেঝো। আমি মার সাথে সবখিচু শেয়ার করতাম। এমনকি কোন মেয়েকে ভাল লাগলে সেটাও মাকে জানাতাম। আমাকে অসম্ভব বিশ্বাস করেন। আমি কখনো তার কাছে মিথ্যা বলতে পারি তিনি তা বিশ্বাস করেন না। সে সময় মা-ই আমার জামাকাপড় পরিষ্কার করতেন। একদিন আমার জামার পকেটে দুটি সিগারেট এবং একটি ম্যাচ পাওয়া গেল। ম হতভম্ব হয়ে গেলেন। হতাশ ভঙ্গিতে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোর পকেটে সিগারেট কেন?" আমি তাড়াতাড়ি মিথ্যার আশ্রয় নিলাম। বললাম, " ও! রাজকুমার আমার কছে রেখেছিল। পরে নিতে ওর মনে নেই"। রাজকুমার আমার বাল্যবন্ধু। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই লেখাপড়া বাদ দিয়ে লোহার যন্ত্রপাতি তৈরির কাজ করে। ও কর্মকার পরিবারের ছেলে। রাজকুমার প্রায়ই আমাদের বাড়িতে যেত। ও ধুমপান করে আমার মা তা জানতেন। মা আমার কথায় বিশ্বাস করলেন। তাঁর মুখ উজ্জ্বল হল। তিনি সিগারেট এবং ম্যাচ আমার টেবিলে রেখে দিলেন। আমি বললাম ওগুলি রাজকুমারকে বিকেলে দিয়ে দিব। বিকেলে বাজারে আড্ডা দিতে যাওয়ার সময় সেই সিগারেট এবং ম্যাচ চিত্রা নদীতে ভাসিয়ে দিলাম। সাথে নেশাকেও চিত্রার জলে নিক্ষেপ করলাম। আমার বাড়ির ১০০ গজের মধ্যে বয়ে গেছে যশোরের ছোট্ট চিত্রা নদী। আমি তারপর থেকে একটি বারের জন্যও সিগারেট মুখে নেয়নি।
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই
ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।