somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোথায় আছ কেমন আছ মা...

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চার বছর। শুনতে কেমন অল্প লাগে। কিন্তু আমি তো জানি এই চারটি বছর আমার কাছে কত দীর্ঘ। কতোদিন কতোদিন তোমায় দেখিনা মাগো। শুনিনা তোমার কন্ঠস্বর। সেই যে ২০০৬ এ জুলাই মাসে হঠাৎ করে ফোনে বললে, “তুই আসবি না মা? আমি কি শেষ দেখা তোকে দেখবোনা”? কিন্তু এর মাস ছয়েক আগেই তোমার সাথে দেখা হয়েছিলো। তবুও তুমি এভাবে কেন বলেছিলে মা? তখন তো তুমি এমন অসুস্থও ছিলে না। তোমার কথায় ছুটে গিয়েছিলাম। সাত দিন পরেই রোজা শুরু হবে হবে এ অজুহাতে চলে এসেছিলাম। তুমি কত করে বললে কয়েকটি রোজা তোমার সাথে কাটিয়ে আসতে। শুনিনি তোমার কথা। স্বার্থপরের মত নিজের সংসারের টানে চলে এসেছিলাম। যাদের জন্য আমার সেই স্বার্থপরতা, যাদের জন্য বিয়ের পর একটি ঈদও তোমার সাথে না কাটানো সেই তারা তো আজ আমার পাশে নেই মা। সবাই নিজের নিজের ক্ষেত্রে ভিষন ব্যাস্ত। বেশ হয়েছে। এমন স্বার্থপরের এই তো পাওয়া উচিত।

আনন্দ উৎসবে তোমার পাশে না থাকলেও তোমার অসুস্থতায় আমি কিন্তু সব সময় তোমার পাশে থেকেছি। এটা কিন্তু তোমায় স্বীকার করতেই হবে মা। নেফ্রাটাইসের চিকিৎসার সময় বারডেমে, ক্যান্সারের কেমোথেরাপির সময় ক্লিনিকে, অন্যান্য সময় সিএমএইচ এ। তুমি জানতে চরম স্বার্থপর হলেও তোমার কষ্টের মুহুর্তে আমি ঠিকই ছুটে আসবো। থাকবো তোমার পাশে। শেষের দেড়টা মাস আমি তোমার পাশে ছিলাম। একটুও নিজের সংসারের কথা ভাবিনি। তাতে কিইবা লাভ হলো? তুমিই তো কেমন স্বার্থপরের মত আমাদের ফেলে চলে গেলে। একবারও ভাবলে না, তোমাকে ছাড়া বাবা কি ভাবে থাকবেন। তুমি না সবসময় উনার কথা চিন্তা করতে? বলতে “আমি না থাকলে এই একরোখা মানুষটা কি করে চলবে? তোমাকে ঘিরেই যে তাঁর দিন-রাত্রি আবর্তিত হত। তুমি যখন আইসিইউতে তখন তোমার বিয়ের ৫০ বছর পুর্তি হলো। বাবা একরাশ ফুল নিয়ে তোমার বিছানার পাশে রাখলেন একটু ক্ষনের জন্য। তোমার পান্ডুর মুখে একচিলতে হাসি দেখার জন্য। তুমি কি তখন জানতে আর ক’দিন পরেই তুমি একা একা চলে যাবে না ফেরার দেশে?

আগে মনে চাঁপা দুঃখ ছিলো, ভাবতাম, তোমার যত ভালোবাসা সবটুকুই ভাইয়া আর ছোটবোনের জন্য। মাঝখানে আমি বড় অবহেলিত, বঞ্চিত। এখন বুঝি, মা তার কোন সন্তানকেই অবহেলা, বঞ্চিত করতে পারেন না। তোমার মনের মাঝে সব সময়ই এই জেদি, একরোখা মেয়েটির জন্য এক সমুদ্র ভালবাসা ছিলো। সিস্টারদের কাছে শুনেছি, রাতে যখনই তোমার চেতনা হতো তুমি আমার নাম ধরে ডাকতে। কেন ডাকতে মা? কিছু কি বলতে চেয়েছিলে তুমি? নাকি মনের ভুলে যেমন তুমি সব সময় আমাদের এক জনকে ডাকতে গিয়ে অনুপস্থিত অন্য জনকে ডাকতে তেমনি ডেকেছিলে?
অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করেছ। যখনই জিজ্ঞাসা করেছি, “মা তোমার কি কষ্ট হচ্ছে”? তুমি মানা করতে। হঠাৎ করে চোখ মেলে প্রশ্ন করতে “খেয়েছ? আহা! তোমাদের কত কষ্ট হচ্ছে”। নিজের কষ্ট অগ্রাহ্য করে সন্তানের সামান্য কষ্টে আকুল হতে আর কে পারে তুমি ছাড়া?
সভা-সমিতির কোন কাজে ঢাকা গিয়েও যখন তোমার সাথে দেখা না করে ফিরেছি, তুমি একটুকু রাগ করনি। কত খুশী হতে তুমি আমার ওসব কাজে। কবে কোথায় আমার লেখা পড়ে তুমি সব সময় আমায় তাগাদা দিতে লেখার জন্য। বলতে, “তুই অনেক ভালো লিখিস। দেখিস একদিন অনেকেই তোর লেখার প্রশংসা করবে। আহা! মা, আমি আজ ব্লগে লিখি। তুমি দেখলে না। অনেকেই তোমার মতই আমার লেখা পছন্দ করে, আমাকে ভালবাসে। তুমি কি তা দেখতে পাও মা?

তোমার কত সাধের বাড়ি আশ্রয়। আজ সেখানে অন্য লোকের বাস। তুমিহীনা ও বাড়িতে বাবা কি করে থাকেন? তবুও তোমার কথা ভেবে মাঝে মাঝে ঘুরে আসি সেখানে। তোমার গাছগুলো কত বড় হয়েছে। বাড়ির ভিতর ঢুকতে পারিনা। সব জায়গায় তো তোমার স্মৃতি। এখনও নাকি মাছওয়ালা নিতাই তোমার কথা বলে। শীতে আর খেজুরের রস খাওয়া হয়না। খাওয়া হয়না দুধ চিতুই। তোমার আদরের ছেলে এখন অনেক ভালো আছে, সুখে আছে। থাকবেই তো, তুমি তার জন্য এতো দোয়া করতে। তোমার দোয়া মাথায় নিয়ে সে কি খারাপ থাকতে পারে?
তোমার ছোটমেয়েটা এখনও তোমার জন্য মন খারাপ করে বসে থাকে। আর আমি? প্রতি রাতে অদৃশ্য তোমার সাথে কথা বলি। তুমি কি শুনতে পাও মাগো? মৃত্যুকে এতো কাছ থেকে দেখার পর, তোমার সেই প্রশান্তি মাখা মুখ দেখার পর থেকে মৃত্যুকে আর ভয় হয়না। মনে হয় মৃত্যুই সত্য, মৃত্যুই সুন্দর। আর সে সুন্দর সত্যর মাঝে কবে তোমায় পাশে পাবো সে অপেক্ষায় আছি। “তোমায় অনেক অনেক ভালবাসি মা”।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২০
৮৮টি মন্তব্য ৮২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×