somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইয়িদ রফিকুল হক
আমি মানুষ। আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষ বলে আমার ভুলত্রুটি হতেই পারে। বইপড়তে আমার ভালো লাগে। সাহিত্য ভালোবাসি। লেখালেখি আমার খুব শখের বিষয়। বাংলাদেশরাষ্ট্র ও গণমানুষের জন্য আমি লেখনিশক্তিধারণ করেছি।

সাহিত্য সকল মানুষের জন্য

১০ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সাহিত্য সকল মানুষের জন্য
সাইয়িদ রফিকুল হক

সাহিত্যের আবার ধর্ম কী? সাহিত্য হিন্দু না, মুসলমান না, বৌদ্ধ না, খ্রিস্টান না। তাহলে, সাহিত্যের ধর্ম কী? আসলে, সাহিত্যের নির্দিষ্ট কোনো পোশাকি-ধর্ম নাই। তাই, সাহিত্যের একমাত্র ধর্ম মানবতা আর সার্বজনীন মনুষ্যত্বের জাগরণ। আর কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের একমাত্র ধর্ম হলো মানবধর্ম। আর এই মানবধর্মেরই জয়গানে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে সারাটি জীবন শব্দের মালা গাঁথেন কবি, লেখক ও সাহিত্যিকগণ। সাহিত্য শুধু মানুষের—আর কবি, লেখক ও সাহিত্যিকরাও মানুষের বন্ধু। তাঁরা জীবনব্যাপী মানুষের জন্য সৃষ্টিধর্মী-চিন্তাভাবনায় ডুবে থাকেন।

অনেকে মূর্খতাবশতঃ প্রায়ই বলে থাকে: অমুকে হিন্দু-কবি, তমুকে মুসলিম-কবি, অমুকে বিধর্মী লেখক, তমুকে ইসলামধর্মের লেখক বা অমুকে মুসলমান-লেখক! আর এগুলোর সবই হচ্ছে তাদের অযাচিত-মূর্খতা। আর একশ্রেণীর সমাজবিরোধী-মানুষের নাশকতাসৃষ্টির অপপ্রয়াস মাত্র। বিশ্বভূমে সর্বকালের ও সর্বদেশের কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের কোনো জাত-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র দেখতে নেই। এঁরা শুধু মানুষ ও মানবতার সৈনিক। আর এঁরা সদাসর্বদা মানবধর্মে দীক্ষিত। আরে, কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের আবার ধর্ম কী? তাঁদের একমাত্র ধর্ম হলো: মানুষ আর মানবতা। তাঁরা এরই লক্ষ্যে তাঁদের সৃষ্টিশীল-কাজেকর্মে নিয়োজিত রয়েছেন। তাই, তাঁদের ধর্মবিচার না করে আজ-এক্ষুনি শুধু তাঁদের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এরপরও কি আরও বুঝিয়ে বলার দরকার আছে?

কবির ধর্ম নিয়ে যদি কারও মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়—তাহলে, তিনি আর সত্যপথের পথিক হতে পারবেন না। তিনি সাম্প্রদায়িক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন সত্য, কিন্তু তার মানবাত্মার মুক্তি কখনও ঘটবে না। তিনি দিনে-দিনে আরও গোঁড়া-সাম্প্রদায়িক ও অমানবিক হয়ে উঠবেন। কবি-লেখকদের ধর্ম জিজ্ঞাসা করতে নেই। তাঁদের লেখা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। কবি-লেখকদের লেখা সবসময় অসাম্প্রদায়িক। আর কেউ যদি সাম্প্রদায়িক কবি-লেখক হয়েও থাকেন—তাহলে, তিনি অচিরেই নির্বাসিত হবেন। কবি-লেখক হবেন সর্বকালের, সর্বমানুষের আর সর্বদেশের। তাঁদের একমাত্র ধর্ম হলো মানবাত্মার জয়গান গেয়ে যাওয়া। আমাদের বাংলা সহিত্যের কবি-লেখক-সাহিত্যিকগণ সুদীর্ঘকাল যাবৎ সেই মহৎ-কাজটিই চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাহিত্য শুধু মানুষের জন্য। আর পশুদের জন্য আজ পর্যন্ত কোথাও-কোনো সাহিত্য রচিত হয়নি। যারা মানবধর্মে বিশ্বাসী, যারা মানুষ আর মানবতাকে সবসময় ভালোবাসেন, আর একে ক্রোড়ে নিয়ে শান্তিসুখে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে চান—তাদের জন্যই সমকালীন সাহিত্য। পৃথিবীর যেকোনো সাহিত্যিকই আমাদের বন্ধু। আর আমরা তাঁদের লেখা পড়ে মুগ্ধ হই, বিস্মিত হই, শিহরিত হই, চমকিত হই আর আনন্দলাভে দিশেহারা হয়ে পড়ি। এর কারণ কী? এর কারণ হলো: আমি মানুষ আর যিনি সাহিত্যরচনা করেছেন তিনিও একজন মানুষ। আর এজন্যই একজন মানুষের লেখা আমাদের হৃদয়ে এতোটা অনুভূতির সঞ্চার করতে সক্ষম হয়। কাজেকাজেই, একজন কবি, লেখক ও সাহিত্যিককে শুধু মানুষ ভাবতে হবে। তাঁর ধর্ম নিয়ে গবেষণা শুরু করলে আমরা সাহিত্যের রসাস্বাদন করতে পারবো না। আর আমাদের উদ্দেশ্য কিন্তু কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের ধর্ম নিয়ে আলোচনা নয়—আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো: কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের অমর সৃষ্টিসমূহের পুরাপুরি স্বাদ-আস্বাদন করা। তবে কেন আমরা নিতান্ত মূর্খতাবশতঃ কবির ধর্ম নিয়ে ছলচাতুরি করে সময়ের অপচয় করছি? আমাদের এই অজ্ঞতা আজ-এক্ষুনি দূর করা প্রয়োজন। আর জীবনের সর্বক্ষেত্রে ও সবার উপরে একমাত্র মানবধর্মকে প্রাধান্য দিতে হবে।

আমাদের আরও শুদ্ধ হতে হবে। আমাদের আগে মানবধর্ম বুঝতে হবে। আর আমাদের চিন্তাশক্তির উন্মেষ ও বিকাশ ঘটাতে হবে। মানুষের রক্ত এক—মানুষের চিন্তাভাবনাও প্রায় একই। তাই, বিশ্বভূমে মানিবজাতির এতোবড় সংসার গড়ে উঠেছে। কিছুসংখ্যক ক্ষুদ্রস্বার্থের অমানুষদের জন্যই আজ আমাদের এই সুন্দর-পৃথিবীতে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে। আর সত্যি কথা বলতে কি আধুনিককালে সমাজ-রাষ্ট্রবিধ্বংসী এই সাম্প্রদায়িক-পশুদের নির্বাসনে পাঠাতে পারলে ভালো হতো। যারা সাহিত্যপাঠকালে কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের ধর্ম নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা সুস্থমস্তিষ্কের মানুষ নয়। অবিলম্বে এদের সুচিকিৎসা প্রয়োজন।
সাহিত্যপাঠকালে দেখতে হবে একজন লেখকের চিন্তাশক্তি, সমকালীন জীবনভাবনা, তাঁর রচিত গল্প বা প্রবন্ধসমূহের বাস্তবতা, যৌক্তিকতা, আর ভাবতে হবে এঁদের সৃষ্ট চরিত্রসমূহ নিয়ে। কেউ যদি সাহিত্য বাদ দিয়ে সাহিত্যিকের ধর্ম নিয়ে মাতামাতি শুরু করে দেন—তাহলে, তিনি সাহিত্যপাঠের যোগ্যতা হারাবেন। আর সাহিত্যের এই সুবিশাল-সাম্রাজ্যে বিচরণ করার অধিকারও তিনি হারাবেন। এইজাতীয় সাম্প্রদায়িক-পাঠকের বিশ্বসাহিত্যে কোনো প্রয়োজন নাই।

আমাদের বাংলা সাহিত্যে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী কবি, লেখক, সাহিত্যিকগণ তাঁদের অমর সৃষ্টিসমূহ সর্বধর্মের ও সর্বকালের মানুষের জন্য রেখে গেছেন। সামাজিক মানুষ হিসাবে তাঁরা প্রত্যেকে নিজস্ব একটি ধর্মমতে বিশ্বাসী ছিলেন এবং এখনও যাঁরা জীবিত—তাঁরাও স্ব-স্ব-ধর্মে দীক্ষিত রয়েছেন। আর এটি কালের ও জীবনের স্বাভাবিক ধর্ম। কিন্তু এর বাইরেও একজন কবি, লেখক ও সাহিত্যিকের নিজস্ব একটা ধর্ম থাকে—আর এই ধর্মদর্শনের নাম মানবধর্ম। তাই, তাঁদের কারও সামাজিক-ধর্ম যেন আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় হয়ে না দাঁড়ায়—আমরা কারও সামাজিক-ধর্মদর্শন নিয়ে যেন ব্যতিব্যস্ত হয়ে না পড়ি—আমরা যেন তাঁদের মানবধর্মে সর্বাবস্থায় শ্রদ্ধা রাখি—আর তাঁদের রচিত সৃষ্টিশীল-গ্রন্থসমূহ নিয়ে আনন্দে মেতে উঠি। এই হোক আজকের দিনের সর্বাপেক্ষা আধুনিক-মানুষের জীবনভাবনা আর জীবনদর্শন। আর আমাদের চিরদিন ভাবতে হবে: পৃথিবীর কোনো সত্যিকারের কবি, লেখক ও সাহিত্যিক ধর্মপ্রচারের জন্য তাঁর লেখনিশক্তিধারণ করেননি। এটি প্রাচীনযুগে ও মধ্যযুগে হয়তো পাওয়া যেতো। কিন্তু আধুনিককালের একজন কবি, লেখক ও সাহিত্যিক শুধুই মানুষের—আর তাঁরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য।

আজ থেকে আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে যে, আমরা সকল ধর্মের মানুষের লেখা পড়বো। আর সকল ধর্মের কবি, লেখক ও সাহিত্যিককে সম্মানের চোখে দেখবো। সাহিত্যপাঠকালে কখনও কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের ধর্ম নিয়ে মাতামাতি করবো না। আর আজ থেকে কাউকে হিন্দু-লেখক কিংবা ইসলামী-লেখক বা মুসলিম-লেখক বলে তাঁকে সংকীর্ণরূপে গণ্ডিবদ্ধ করবো না।

সাহিত্য সকল মানুষের পাঠযোগ্য-গ্রন্থসমূহ। আর এটি সীমাহীন আনন্দের এক ভুবন। আর কোনো ধর্ম দিয়ে সাহিত্যবিচার করা চলে না। সাহিত্য এসবকিছুর উর্ধ্বে। সাহিত্যে আছে শুধু মানুষ আর মানুষ—মানবতা আর মানবতা। আর তাই, জীবনের প্রয়োজনে সাহিত্য আজ সকল মানুষের জন্য।


সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৩/০৬/২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ২:২১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×