somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইয়িদ রফিকুল হক
আমি মানুষ। আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষ বলে আমার ভুলত্রুটি হতেই পারে। বইপড়তে আমার ভালো লাগে। সাহিত্য ভালোবাসি। লেখালেখি আমার খুব শখের বিষয়। বাংলাদেশরাষ্ট্র ও গণমানুষের জন্য আমি লেখনিশক্তিধারণ করেছি।

এখনও যারা পাকিস্তানকে ভালোবাসে তারা আসলেই খুব খারাপ

১৪ ই জুন, ২০১৬ রাত ৮:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এখনও যারা পাকিস্তানকে ভালোবাসে তারা আসলেই খুব খারাপ
সাইয়িদ রফিকুল হক

এই বাংলাদেশে বসবাসকারী এখনও অনেক পাষণ্ড মন খুলে গাইতে পারে না বাঙালি-জাতির প্রিয় জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’ ওদের হৃদয়ে এখনও পাকিস্তান। আর ওদের বুকের ভিতরে এখনও ধ্বনিতপ্রতিধ্বনিত হয়: পাক সার জমিন সাদ বাদ...। আর এই পশুগুলো এখনও বহাল তবিয়তে বসবাস করে। আবার গায়ের জোরে যাবতীয় শয়তানী-কথাবার্তাও বলে থাকে। এদের শয়তানী-কথাবার্তার মধ্যে অন্যতম হলো: “পাকিস্তান একটি ইসলামীরাষ্ট্র, পাকিস্তান একটি মুসলিম-রাষ্ট্র!” কতবড় নরপশু আর কত জঘন্যপ্রকৃতির জানোয়ার এরা। তা-না-হলে এরা বাংলাদেশের খেয়ে-পরে বাংলাদেশে বসবাস করে এভাবে পাকিস্তানের দালালি করে! এরা সবসময় ভয়াবহ-রকমের পশু। আর হিতাহিতজ্ঞানশূন্য। তাই, পাকিস্তানের মতো একটি জংলীরাষ্ট্রকে এরা বলে ইসলামীরাষ্ট্র! আসলে, পাকিস্তান কোনো ইসলামীরাষ্ট্র কিংবা মুসলিম-রাষ্ট্র নয়—এটি একটি সম্পূর্ণ শয়তানরাষ্ট্র। আর এদের একমাত্র পেশা ও নেশা সারাবিশ্বে ‘শয়তানী’ রফতানি করা।

বর্তমান বিশ্বে যাবতীয় শয়তানী-বদমাইশীসহ জঙ্গীবাদ, হত্যাবাদ, ষড়যন্ত্রবাদ, গুপ্তহত্যাবাদ ইত্যাদি বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। মূলত বর্তমান বিশ্বে পাকিস্তান হচ্ছে মানবজাতির জন্য সর্বাপেক্ষা ক্ষতিকর এক বিষাক্ত-ভাইরাস। আর এই বিষাক্ত-ভাইরাস দমনের জন্য পৃথিবীতে এখন সকল সভ্য-জাতির সমন্বয়ে শক্তিশালী অ্যান্টি-ভাইরাস তৈরি করা প্রয়োজন।

পাকিস্তান আজন্ম শয়তানের দোসর। আর শয়তানের পূজারী। আর সবসময় শয়তানী করতেই এদের ভালো লাগে। আর তাই, সারাবিশ্বে শয়তানী করার উদ্দেশ্যে এরা তৈরি করেছে: পাকিস্তানসেনাবাহিনী, পাকিস্তানজঙ্গীবাহিনী। আর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রে শয়তানী করার ও শয়তানী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এরা তৈরি করেছে “আইএসআই” নামক গুপ্তঘাতক-গোয়েন্দাসংস্থা।

বাংলাদেশে বসে যারা লোকদেখানো নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, ধার্মিক সাজে কিন্তু ধর্মকর্ম ভুলে এখনও শুধু পাকিস্তানের মতো একটি শয়তানরাষ্ট্রের গুণকীর্তন করে তাদের মতো নির্লজ্জবেহায়া পৃথিবীর বুকে আর নাই। এদের এবার নতুন করে মানুষ হতে হবে। আর সবার আগে বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ভালোবেসে তাদের একেকজনকে বাঙালি হতে হবে।

পাকিস্তান নামক শয়তানরাষ্ট্রটি এ পর্যন্ত স্বাধীন-সার্বভৌম-বাংলাদেশরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে-সব নোংরা, জঘন্য ও মানবতাবিরোধী অপকর্ম ও আগ্রাসন পরিচালনা করেছে, এখানে তার কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো:

১. ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাঙালি-জাতি নিরঙ্কুশভাবে জয়লাভ করা সত্ত্বেও তাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা-অর্পণ করেনি এই পাকিস্তান নামক জালিমগোষ্ঠী।
২. ১৯৭১ সালের ২৫-এ মার্চ রাতের আঁধারে পাকিস্তানীহানাদারবাহিনী ঘুমন্ত-নিরীহ বাঙালি-জাতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। আর এই জালিমগোষ্ঠীর আগ্রাসনে ১৯৭১ সালে ৩০লক্ষ বাঙালি প্রাণ হারায়।
৩. পাকিস্তানীনরপশুদের আক্রমণে ১৯৭১ সালে দুই লক্ষ বাঙালি-নারী তাদের সম্ভ্রম হারায়। আর এতে কমপক্ষে ৫লক্ষ নারী কম-বেশি তাদের আক্রমণের শিকার হয়।
৪. পাকিস্তান ১৯৭১ সালে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছিলো। আর তারা বাঙালি-জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য এদশেীয় একশ্রেণীর কুলাঙ্গারদের নিয়ে তৈরি করেছিলো পৃথিবীর ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধীসংগঠন—জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান। আর এই জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের অধীনে ছিল আরও কয়েকটি অস্থায়ী-যুদ্ধাপরাধীসংগঠন। এগুলো হচ্ছে: রাজাকারবাহিনী, আলবদরবাহিনী, আলশামসবাহিনী ও শান্তিকমিটি। ১৯৭১ সালে, পাকিস্তানীহানাদারবাহিনী নিজেরা নির্বিচারে বাংলাদেশের মানুষহত্যা করতো। আর তাদের দোসর রাজাকারদের দিয়েও মানুষহত্যা করাতো।
৫. পাকিস্তানীশাসকগোষ্ঠী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য নানারকম ও যারপরনাই ষড়যন্ত্র করেছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৪২ বছর পরে পুনরায় একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্যক্রম শুরু হয়েছে—আর এতেই গাত্রদাহ শুরু হয়েছে পাকিস্তানের। এরা এখনও আমাদের দেশের একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য নানারকম ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
৬. পাকিস্তান ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাংলাদেশের বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে উখাত করে পুনরায় রাজাকারদের সমন্বয়ে তালেবান-সরকারগঠন করতে চাচ্ছে। এজন্য তারা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী-অপশক্তিকে সবসময় সবরকমের সাহায্য-সহযোগিতা করছে।
৭. বর্তমানে পাকিস্তান আইএসআই-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশে গুপ্তহত্যা শুরু করেছে।
৮. বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলাপরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর জন্য স্বাধীনতাবিরোধী-অপশক্তির সহায়তায় কাজ করছে পাকিস্তানের জানিম-গোয়েন্দাসংস্থা: আইএসআই।
৯. বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে ব্লগার-হত্যার পিছনেও পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ রয়েছে।
১০. ১৯৭৫ সালে, স্বাধীন-বাংলাদেশরাষ্ট্রের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও পাকিস্তান জড়িত।

যারা এখনও অন্ধভাবে ইসলামের দোহাই দিয়ে মুসলমানের নামে শয়তানরাষ্ট্র পাকিস্তানের সমর্থক ও অনুসারী—তাদের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। পাকিস্তান নামক শয়তানরাষ্ট্রটি চিরদিন আমাদের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য শত্রু। আর কোনো ঈমানদার-মুসলমান কখনও বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ভুলে পাকিস্তানের মতো একটি শয়তানরাষ্ট্রকে ভালোবাসতে পারে না। আর আমাদের ৩০লক্ষ শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানীও করতে পারে না। তাই, যারা এখনও বাংলাদেশে বসে পাকিস্তানের পূজা করতে-করতে সদাসর্বদা এখানে পাকিস্তান-কায়েমের স্বপ্ন দেখছেন, তারা তওবা করে এখনই মুসলমান হন। আর কায়মনোবাক্যে সবসময় বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করুন, বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলুন। আর এতোকিছুর পরও এখনও যারা পাকিস্তানকে ভালোবাসে তারা আসলেই খুব খারাপ। আর তারা ইয়াহিয়া-ভুট্টোর প্রেতাত্মা।


সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১৪/০৬/২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৬ রাত ৮:১৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×