somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইয়িদ রফিকুল হক
আমি মানুষ। আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষ বলে আমার ভুলত্রুটি হতেই পারে। বইপড়তে আমার ভালো লাগে। সাহিত্য ভালোবাসি। লেখালেখি আমার খুব শখের বিষয়। বাংলাদেশরাষ্ট্র ও গণমানুষের জন্য আমি লেখনিশক্তিধারণ করেছি।

হিন্দুরাও মানুষ! আর হিন্দুদেরও নিজস্ব একটি ধর্ম আছে!

১৫ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হিন্দুরাও মানুষ! আর হিন্দুদেরও নিজস্ব একটি ধর্ম আছে!
সাইয়িদ রফিকুল হক

দেশের একটা শ্রেণী একটু সুযোগ পেলেই হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে শ্রাব্য ও অশ্রাব্য গালিগালাজ করে থাকে। আর তাদের ভাবখানা দেখে মনে হয়: হিন্দুর যেন মা-বাপ নাই। তাই, এদের মুখে যখন-তখন যা আসে তা-ই বলে এরা হিন্দুধর্মাবলম্বীদের গালিগালাজ করে থাকে। এরা সবসময় সুযোগসন্ধানী। আর তারা নিজেরা যেকোনো একটা অজুহাত তৈরি করে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের যাচ্ছেতাই ভাষায় গালিগালাজ করে থাকে। আর এদের গালিগালাজ শুনলে মনে হয়: দুনিয়াতে আর বুঝি মানুষ নাই—এরাই একমাত্র মানুষ!

হিন্দুধর্মাবলম্বীরা তাদের শাস্ত্রমতে সনাতনধর্মাবলম্বী। আমাদের সমাজে তা কালক্রমে হিন্দুধর্ম নামে পরিচিতি লাভ করেছে। তাদের ‘হিন্দু’ বলা যায় আবার ‘সনাতনধর্মাবলম্বী’ও বলা যায়। কিন্তু তাই বলে তাদের প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ‘মালাউন’ বা ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলে গালিগালাজ করা রীতিবিরুদ্ধ, সামাজিক শিষ্টাচার-বহির্ভূত ও সর্বোপরি মানবতাবিরোধী একটি দুষ্কর্ম ও অপকর্ম। আমাদের সমাজে অনেকেই একটুখানি সুযোগ পেলেই অমনি হিন্দুসম্প্রদায়কে সমানে গালিগালাজ করছে। আর তারা নিজের মনের আক্রোশ মিটাতে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের পাইকারিভাবে ‘মালাউন’ বা ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলে সশব্দে গালিগালাজ করছে। আর তারা এমনই অমানুষ যে নিজেদের স্বার্থগত কারণে অনেক সময় তারা নিজেরাই হিন্দুধর্মাবলম্বীদের গালিগালাজ করার জন্য একটি আবহ ও পরিবেশ তৈরি করে নেয়। এরা সবসময় হিন্দুধর্মাবলম্বীদের গালি দিয়ে খুব মজা পায়। আর এরা মনে করে থাকে: একজন হিন্দুকে গালি দিতে পারলেই বুঝি তাদের খুব সওয়াব হবে! এমনই মূর্খতা আজ এদের পেয়ে বসেছে। আর এইসব মূর্খের সংখ্যাটা কমছে না। বরং এদের সংখ্যাই যেন আজ বাড়ছে। একশ্রেণীর নামমাত্র-মুসলমান দেশে আজ কথায়-কথায় শিষ্টাচার-বহির্ভূতভাবে একজন হিন্দুকে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশে ‘মালাউন’ বা ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলে গালি দিচ্ছে। এরা মুসলমান নয়—এরা শুধু মুসলমানের বেশ ধরেছে মাত্র। তাই, এদের শরীর এতো গরম! মাথা এতো গরম! আর যে বা যারা প্রকৃত-মুসলমান তারা কখনও অন্য ধর্মাবলম্বীদের গালিগালাজ করবে না। তারা দুনিয়ার কোনো হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদী ইত্যাদি কারও সঙ্গেই অহেতুক সংঘাতে জড়াবে না—আর তাদের গালিগালাজও করবে না। একশ্রেণীর নামধারী ও নিম্নশ্রেণীর মুসলমানরাই এটি সবসময় করে থাকে।

আমাদের দেশের একশ্রেণীর সস্তা-মুসলমান বা নামধারী-মুসলমান গায়ের জোরে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সবকিছু কেড়ে নিতে চায়—কুক্ষিগত করতে চায়—আর সমূলে গ্রাস করতে চায়। এদের কাছে হিন্দুর ধর্ম ভালো না, হিন্দুর কর্ম ভালো না। হিন্দুর আচারবিধি ভালো না। কিন্তু এদেরই কাছে সবসময় হিন্দুর ঘরবাড়ি ভালো, জায়গাজমি ভালো, বিষয়আশয় ভালো, হিন্দুর বাগান-পুকুর আর জোতজমি সবই ভালো। আরও ভালো হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সুন্দরী মেয়ে, বউ-ঝি! এরা এমনই অধম-পশু যে আজ পবিত্র ইসলামের নাম-ভাঙ্গিয়ে নিজেদের স্বার্থের সব নাজায়েজ ও শয়তানী কর্মসম্পাদন করছে, এবং এখনও তা বহাল তবিয়তে করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পশুদের আবার ধর্ম কী? এদের মধ্যে সামান্যতম মানবচরিত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু পরিচয় দেওয়ার সময় এরা নিজেদের একেকজন পাক্কা-মুসলমান বলে পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু এরা কবে, কখন, কোথায়, কার কাছে, কীভাবে মুসলমান হয়েছে—তার কোনো প্রমাণ নাই। এরা একশ্রেণীর নির্লজ্জ ও আত্মস্বীকৃত জালেম। এরাই সামাজিকভাবে ফায়দা-লোটার জন্য পবিত্র ধর্ম ইসলামকে নিজেদের ভোগদখলের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে থাকে। আর এরা মনে করে থাকে: তারা নিজেরা যতোই অকাম-কুকাম করুক না কেন শুধু একটি আরবি নামের জোরে নিজেদের মুসলমান পরিচয় দিয়ে সরাসরি একচান্সে বেহেশতে ঢুকে যাবে! পাগল আর কাকে বলে! এই পশুগুলো আজও জানে না, মহান আল্লাহর পবিত্র বেহেশতে এদের মতো নাপাকশয়তান কখনও ঢুকতে পারবে না। এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কুরআনে বলেছেন:

“যারা ঈমান এনেছে এবং সকর্মশীল হয়েছে—তারা জান্নাতুল ফিরদাউসে আল্লাহর অতিথি হবে।”

আর যারা অন্য ধর্মাবলম্বীদের গালি দেয় মহান আল্লাহ তাদের হুশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন:

“তারা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের ইবাদত করে তোমরা তাদের গালি দিয়ো না, কেননা, তারা আল্লাহকে গালি দিবে সীমালংঘন করে অজ্ঞতাবশতঃ। এভাবেই আমি শোভন করে দিয়েছি প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের কার্যকলাপ। অবশেষে তাদের প্রত্যাবর্তন তাদের রবের কাছে। তখন তিনি তাদের অবহিত করবেন তারা যা করতো সে সম্বন্ধে।”
(সুরা আন’আম ৬: ১০৮)

এর থেকে বুঝা যায়: প্রত্যেকে তার কার্যকলাপের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ। আর তাই, এখানে (পৃথিবীতে) অতিউৎসাহী হয়ে বা মুসলমান-সেজে কারও কোনো মাতবরি করার সুযোগ নাই। আর কেউ কারও ধর্মে আঘাত করতে পারবে না।


যারা দুশ্চরিত্রের অধিকারী খুনী, চরিত্রহীন, লম্পট, ধর্ষক, পারজায়িক, ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী, ধোঁকাবাজ, প্রতারক, চালবাজ, আর একেবারে ভণ্ড তারা মুসলমান হয় কীভাবে? আর তারা মহান আল্লাহর বেহেশতেই বা যাবে কীভাবে? গায়ের জোরে হিন্দুদের ঘরবাড়ি-দখল করার মতো করে? হয়তো এরা তা-ই ভাবছে। আর আরও শয়তানী করার চিন্তাভাবনা করতে-করতে বেহেশতের স্বপ্ন দেখতে-দেখতে মনের সুখে জাবর কাটছে! আর এই পশুদের ভণ্ডামি কবে শেষ হবে?
আর এদের মতো নরপশু ইসলামধর্মে ঢুকেছে বলেই আজ ইসলামধর্ম তার গৌরব হারাতে বসেছে। ভণ্ডগুলো এখনও নিজেদের লাম্পট্য ও ছলচাতুরি একমুহূর্তের জন্য বন্ধ না করে শুধু তাদের একটি আরবি-নামের জোরে আজ নিজেদের মুসলমান ভাবছে! আরে পাপিষ্ঠ, তুই এখনই ইসরাইলে যা। একবার সেখান থেকে ঘুরে আয়। আর দেখে নে সেখানে অনেক ইহুদী এখনও আরবি-ভাষায় তাদের নাম-ধাম রাখে। কারণ, ইসরাইলের ইহুদীরা এখনও আরবি-ভাষায়ই ব্যবহার করছে। আর আমাদের দেশের একশ্রেণীর ভণ্ড মনে করে নিজের ও তদীয় সন্তানদের একটা আরবি-নাম রাখতে পারলেই সে একনিমিষে বিরাট এক মুসলমান! হায়রে গাধা, কবে আর মানুষ হবি!

অনেক ভণ্ড আজকাল হিন্দুধর্মাবলম্বীদের গালিগালাজ করাটাকে বাহাদুরীর কাজ বলে মনে করে থাকে। আবার অনেকে বংশানুক্রমে বা পুরুষানুক্রমে হিন্দুদের গালি দিয়ে তার নিজের বহুদিনের অতৃপ্তআত্মাকে ও পূর্বপুরুষের বিদেহীআত্মাকে শান্তিতে রাখতে চায়।

আমাদের আজ ভাবতে হবে: এই দেশে মুসলমানদের যেমন একটি ধর্ম রয়েছে তেমনি হিন্দুদেরও একটি ধর্ম রয়েছে। আর তাদেরও অধিকার রয়েছে নিজস্ব ধর্মপালনের। এখানে, কাউকেই বা কারও ধর্মকে খারাপ-চোখে দেখার কোনো সুযোগ বা অধিকার নাই। স্বাধীন-বাংলাদেশরাষ্ট্রে প্রত্যেকে তাদের স্ব-স্ব-ধর্মপালন করবেন। আর এটাই আমাদের রাষ্ট্রের মূলনীতি। এখানে, ব্যক্তিবিশেষের খামখেয়ালিপনা বা শয়তানীচিন্তাভাবনার কোনো অবকাশ নাই।


সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৩/০৬/২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ২:০২
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×