somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইয়িদ রফিকুল হক
আমি মানুষ। আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষ বলে আমার ভুলত্রুটি হতেই পারে। বইপড়তে আমার ভালো লাগে। সাহিত্য ভালোবাসি। লেখালেখি আমার খুব শখের বিষয়। বাংলাদেশরাষ্ট্র ও গণমানুষের জন্য আমি লেখনিশক্তিধারণ করেছি।

শেখ কামালের ছোট্ট জীবনের একটা পৃষ্ঠা

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি-সংগ্রহ: ফেসবুক থেকে

"শুনলাম শেখ কামাল সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র এবং আবাহনী নামে ধানমণ্ডিতে একটি ক্লাব গঠন করেছে। একদিন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে ঢুকছি। আমতলায় যে আমগাছটি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা কেটে ফেলেছিল, পরে সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন, তখন আমরা তাঁকে দিয়ে একটি বটগাছ রোপণ করাই।
সেই আমতলার সেই মঞ্চটিতে একদল ছেলে গান গাইছিল। গানটি হচ্ছে, ‘এমন একটা মা দে-না, যে মায়ের সন্তানেরা...’
ওই দলে ফেরদৌস ওয়াহিদ, শেখ কামাল এবং আমার মনে হয় ফিরোজ সাঁইও ছিলেন। শেখ কামালকে জানতাম, তার খেলার প্রতি ঝোঁক ছিল। কিন্তু দেখলাম সংগীতেও তার নেশা।
এরই মধ্যে একদিন রব, মাখন ও কামাল আমার কাছে হাজির। আমাকে বলল, ভারতের কলকাতায় গড়ের মাঠে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী মেলা হচ্ছে। ডাকসু থেকে একটি নাট্যদল আমরা ভারতে নিয়ে যেতে চাই। সেখানে আমরা নাটক করব। আপনি আমাদের একটা নাটক সিলেক্ট করে দেন। আমরা জানি আপনি ভালো নাটক করতেন। স্যার, এই সফরে আপনি আমাদের নাটকটি পরিচালনা করবেন।
আমার মনে হলো, ১৯৫৭ সালে আমি প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছি। বার্নার্ড শর ‘ইউ নেভার ক্যান টেল’ নাটক, মুনীর চৌধুরী কর্তৃক অনূদিত ‘কেউ কিচ্ছু বলতে পারে না’। ১৯৫৭ সালে শিক্ষক হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উৎসবে নাটকটি নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাদের এই নাটকটির কথা বললাম। কামাল এই নাটকে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিল। অবশ্য এর আগে নাটকটি কার্জন হলে বেশ কয়েকবার মঞ্চায়ন করি। কলকাতার সফর সামনে রেখে রিহার্সাল শুরু হয়। টিএসসিতে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৭-৮টা পর্যন্ত মাসখানেক নিয়মিত রিহার্সাল থাকত। নাটকটিতে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিল জাহানারা ইমামের বোন তাহমিদা সায়িদা। সে বাংলার ছাত্রী ছিল।
আমরা সদলবলে পৌঁছলাম ভারতে। প্রফেসর মনিরুজ্জামান ও সংগীতশিল্পী আবদুল লতিফও আমাদের সঙ্গে গিয়েছিলেন। কলকাতায় শ্রী অন্নদাশঙ্কর রায় আমাদের অভ্যর্থনা জানান। সেখানে গড়ের মাঠে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী মেলায় সফলতার সঙ্গে পর পর কয়েকবার নাটকটি মঞ্চায়ন করি। আমাদের এই নাটক দেখতে এসেছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা পাহাড়ি সান্যাল, কবি বিষ্ণু দে, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অনেকে। অন্নদাশঙ্কর বাংলাদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় মেলাটির আয়োজন করা হয়। বালিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
কলকাতায় আগে থেকেই কামালের একটা পরিচিতি ছিল। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময় সে কলকাতায়ই ছিল। বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটক আমাদের নাটক দেখতে আসেন। আমাদের মঞ্চাভিনয়টি উপভোগ করে কলকাতার লোকজন বেশ সুনাম করেছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের মানুষ এত সুন্দর করে অভিনয় করতে পারে, সেটা তাদের জানা ছিল না।
শেখ কামাল একদিন আমাকে বলল, ‘স্যার, আপনি তো শপিং করলেন না।’ আমি বললাম, আমি তো কলকাতা চিনি না। সে বলল, ‘স্যার, বলেন কী কী লাগবে?’ আমি বললাম, তোমার ভাবি আমাকে একটা হারমোনিয়াম নিয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু আমি তো জানি না কোথায় হারমোনিয়াম পাওয়া যায়। আবার আমার বাসা তো এয়ারপোর্ট থেকে অনেক দূরে। কিভাবে বহন করব? সে বলল, ‘স্যার, আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আপনার বাজেট কত?’ আমি বললাম, এক হাজার টাকা। এই টাকায় কি ভালো হারমোনিয়াম পাওয়া যাবে? সে বলল, ‘দেন-না স্যার।’ এরপর বলল, ‘আমি তো চিনি না। লতিফ ভাই, আপনি চলেন।’ কিছুক্ষণ পর দেখি একটা হারমোনিয়াম নিয়ে কামাল হাজির।
বেশ ভালো একটা হারমোনিয়াম। ‘ডয়ার পিন’ নামে কলকাতার একটা ব্র্যান্ডের হারমোনিয়াম। ঢাকায় পৌঁছে নিজের মাথায় করে চারতলার সিঁড়ি বেয়ে হারমোনিয়ামটি আমার বাসায় পৌঁছে দেয় কামাল। আমার স্ত্রী অনেক খুশি হয়েছিলেন। সেই হারমোনিয়ামটি এখনো আমাদের বাসায় আছে। সেটা কামালের স্মৃতি বহন করছে।"

শেখ কামালের স্মৃতিচারণ:
লেখক : রফিকুল ইসলাম
জাতীয় অধ্যাপক

ছবি : বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালI
ছবি-সংগ্রহ ফেসবুক থেকে
লেখার শিরোনাম: ব্লগার কর্তৃক প্রদত্ত
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:০১
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিব হল → ওসমান হাদি হল: নতুন বাংলাদেশের শুরু ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মা জননী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯


তুমি আপসহীন বলে ঘুমিয়ে গেলে
শহীদ জিয়ার পাশে অশ্রুসিক্ত শুধু
বাংলার মাটিতে ধানের শীষে শীষে
তোমার নামের ধ্বনিতে গান গায়ব
আমরা শুনোবো যে দোয়েলের ঠোঁটে
তুমি চিরামলিন তোমার কর্ম আদর্শে
আমরা জাগবো লাল সবুজ পতাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×