somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তামান্না তাবাসসুম
আমি খুব পজেটিভ মানুষ। যা আমাকে পোড়ায় তা নিয়ে মাঝে-সাঝে লিখি। তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে একটা উপস্থিত কবিতা লেখা প্রতিযোগীতায় পুরস্কৃত হওয়ার মধ্য দিয়ে কলম ধরার যাত্রা শুরু

প্রশ্নপত্র সৃজনশীল করার পূর্বে প্রয়োজন সৃজনশীল পাঠদান

২২ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকার দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের পরামর্শ নিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির জন্য সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের প্রণয়ন করে। নিঃসন্দেহে এটি খুব ভালো একটা উদ্যোগ। এর ফলে শিক্ষার্থীরা এখন সাজেশনের মুখস্থ থেকে বেরিয়ে এসে পুরো বই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়ছে। যারা গাইড মুখস্থ করছে, তারা কোনো লাভ পাচ্ছে না।
কিন্তু অনেক দুর্বল শিক্ষার্থীর জন্য এটা ভীতির কারণ, তাই অনেকে এর বিরুদ্ধে কথা বলে। কিন্তু এর জন্য তো ভালো একটি প্রশ্নপদ্ধতি বদলে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাহলে আগের মতো জোড় বছরের শিক্ষার্থীরা এক নিয়মে আর বিজোড় বছরের শিক্ষার্থীরা আরেক সাজেশনে পরীক্ষা দেবে। একজন ‘পীথাগোরাসের উপপাদ্য’ জানে না, কারণ সে ২০১০-এর পরীক্ষার্থী আর ২০০৯-এ এটা চলে আসায় সে এটা শিখেইনি। হাস্যকর হলেও এটা খুব কমন একটা উদাহরণ।
এদিকে দুর্বল ছাত্রদের তো আর ফেলে দেয়া যায় না। আর এজন্যই এতো প্রশ্ন ফাঁস, যেটা আগে চিন্তাও করা যেত না। আসলে ভূতটা সরিষার মধ্যেই।
শিক্ষার্থীরা আগে শেখে, তারপর পরীক্ষার খাতায় লেখে। আমাদের পাঠদান গৎবাঁধা নিয়মে রেখে আমরা কীভাবে ছাত্রছাত্রীদের কাছে সৃজনশীলতা আশা করি? আমাদের শিক্ষকদের পড়া বোঝানোর ধরন কতটা সৃজনশীল?
যখন একটি ক্লাসে ৭০-৮০ জন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক পড়ানোর চেয়ে হট্টগোল থামাতেই বেশি ব্যস্ত। যখন বাংলা ও ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের সৃজনশীল চিঠির চেয়ে গৎবাঁধা আবেদনপত্র লিখতেই বেশি উৎসাহী করা হয়। যখন শুধু গ্রামারের রুল মুখস্থ করানো হয় কিন্তু সময়মতো তার প্রয়োগ পারে না ছাত্র। যখন একুশ শতকেও আমাদের মাস্টার, কাছে ‘মাইরের ওপর কোনো ওষুধ নেই’। তখন কীভাবে আমরা আশা করি যে, হঠাৎ করে সে খুব সৃজনশীল হয়ে উঠবে?
উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের প্রশ্নপত্রে একটি নেতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সেটা তখনই সম্পূর্ণ হবে যখন আমাদের পাঠদান পদ্ধতিও উন্নত দেশগুলোর মতোই হবে। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে আমাদের শিক্ষকদের গৎবাঁধা নিয়ম থেকে বেরিয়ে পড়ানোর ট্রেনিং দেয়া দরকার। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে এই আমার আবেদন। তাহলে শিক্ষার্থীরা আগের বছরের পড়া পরের বছর ভুলে না গিয়ে তা জীবনে কাজে লাগাতে শিখবে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:২৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলীকে ধন্যবাদ। তিনি একটি ট্যাবু ভেঙে দিয়েছেন। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জন্মদিন উপলক্ষে একটি বাউল গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এই খবর প্রচার হওয়ার পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাজীপুর থেকে কক্সবাজার: চার বাইকে ছয় সহকর্মীর ১৪ ঘণ্টার নাইট রাইড অ্যাডভেঞ্চার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০২


আমি শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, থাকি সাভার এলাকায়। ভ্রমণের নেশা আর মোটরসাইকেলের প্রতি ভালোবাসা আমার দীর্ঘদিনের। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব গাজীপুর থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Personal Cancer Vaccine: আশার আলো দেখাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২


আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×