somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দারুল উলুম দেওবন্দের কুষ্ঠিনামা

১৫ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দারুল উলুম দেওবন্দের কুষ্ঠিনামা

মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী (রহঃ) এর কালজয়ী ভাষণ অবলম্বনে


কেউ বলতে পারেন, দেওবন্দ মাদ্রাসা তো প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে মাত্র কিছু দিন পূর্বে। আর জাতি হিসেবে মুসলমানরা তো বহু আগে থেকেই আছে। কিন্তু আমি পূর্বেই আপনাদের সামনে আলোচনা করেছি, দারুল উলুম দেওবন্দ কী উদ্দেশ্যে স্থাপিত হয়েছে আর মুসলিম জাতি তার কী কী ফলাফল ভোগ করেছে? মনে রাখতে হবে, মুসলিম জাতির কুষ্ঠিনামা বা বংশ পরম্পরার সূচনা মাদরাসা থেকে হয় না; বরং বংশ পরম্পরা শুরু হয় রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে। বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আমাদের সম্পর্ক কতখানি দৃঢ় এবং মজবুত।

আমরা গর্বের সাথে একথা বলতে পারি যে, আমাদের আধ্যাত্নিক সম্পর্ক যেভাবে রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে, তেমনিভাবে ইলমের দিক থেকেও আমাদের সম্পর্ক রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে পুরোপুরি সম্পৃক্ত।

প্রথমে ইলমী সম্পর্কে কথা বলছি শুনুন, কিভাবে তা রসূলের সাথে সংযুক্ত।


ইলমে নববীর সনদ


আমাদের পীর ও মুরশিদ হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবী (রহঃ) ইলমে দ্বীন হাসিল করেছেনঃ


১। শাহ আব্দুল গনী মুজাদ্দেদী (রহঃ) থেকে

২। শাহ আব্দুল গনী (রহঃ) শাহ ইসহাক (রহঃ) থেকে

৩। তিনি শাহ আব্দুল আযীয থেকে

৪। তিনি শাহ ওয়ালী উল্লাহ থেকে

৫। তিনি শায়খ আবু তাহের মাদানী থেকে

৬। তিনি (তদীয় পিতা) শায়খ ইব্রাহীম কারদারী থেকে

৭। তিনি শায়খ আহমদ কোশাশী থেকে

৮। তিনি শায়খ আবুল মাওয়াহিব আহমদ ইবনে আব্দুল কুদ্দুস শানাভী থেকে

৯। তিনি শাহ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে রমলী থেকে

১০। তিনি শায়খুল ইসলাম আবু ইয়াহইয়া আহমেদ যাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ আনসারী থেকে

১১। তিনি শায়খ শিহাবুদ্দীন ইব্রাহীম ইবনে আহমদ তানুখী থেকে

১২। তিনি শায়খ সিরাজ উদ্দীন ইবনে মোবারক হাম্বলী যুবাইদী থেকে

১৩। তিনি আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল ঈসা ইবনে শোয়াইব সানজারী হারাবী থেকে

১৪। তিনি আবুল হাসান আব্দুর রহমান ইবনে মুজাফফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাউদ দাউদী থেকে

১৫। তিনি আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ সারাখসী থেকে

১৬। তিনি আবু মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ মাতার ইবনে সালেহ ইবনে বিশর আল ফেরারবী থেকে

১৭। তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল থেকে

১৮। তিনি হযরত হাম্মাদ বিন যায়েদ থেকে

১৯। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক থেকে

২০। তিনি ইমাম আবু হানিফা থেকে

২১। তিনি আনাস ইবনে মালেক থেকে

২২। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে

২৩। তিনি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে।



এই হলো আমাদের ইলমের সনদ।


এবার শুনুন কিভাবে রসূলের সাথে আমাদের আধ্যাত্নিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে।



তাসাওউফ বা তরীকতের সনদ


কুতুবুল আলম হযরত মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (রহঃ) বেলায়েত শিখেছেনঃ


১। হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী থেকে

২। তিনি মিয়াজী নুর মুহাম্মদ থেকে

৩। তিনি শাহ আব্দুর রহীম থেকে

৪। তিনি শাহ আব্দুল বারী থেকে

৫। তিনি শাহ আব্দুল হাদী থেকে

৬। তিনি শাহ আযদুদ্দীন থেকে

৭। তিনি শাহ মুহাম্মদ মক্কী আবু সাঈদ থেকে

৮। তিনি শায়খ নিজামুদ্দীন বলখী থেকে

৯। তিনি শায়খ জালালুদ্দীন থানেশ্বরী থেকে

১০। তিনি শাহ আব্দুল কুদ্দুস থেকে

১১। তিনি শায়খ মুহাম্মদ আরিফ থেকে

১২। তিনি শায়খ আরিফ ইবনে আহমদ থেকে

১৩। তিনি শায়খ আব্দুল হক রাদুলোভী থেকে

১৪। তিনি শায়খ জালালুদ্দীন থেকে

১৫। তিনি শায়খ শামসুদ্দীন থেকে

১৬। তিনি শায়খ আলাউদ্দিন সাবের কালারী থেকে

১৭। তিনি শায়খ ফরিদুদ্দীন গনজেশকর থেকে

১৮। তিনি খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী থেকে

১৯। তিনি খাজা উসমান থেকে

২০। তিনি খাজা হাজী শরীফ যিন্দানী থেকে

২১। তিনি খাজা হোযাইফা থেকে

২২। তিনি খাজা ইবরাহীম ইবনে আদহাম থেকে

২৩। তিনি ফুযাইল ইবনে আয়ায থেকে

২৪। তিনি খাজা আব্দুল ওয়াহিদ থেকে

২৫। তিনি হাসান বসরী থেকে

২৬। তিনি আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (রঃ) থেকে

২৭। তিনি সাইয়েদুল মুরসালীন মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে।

মাহবুবে খোদা রহমাতুললীল আলামীনের সাথে ইলমী ও রুহানী উভয় দিক থেকে আমাদের যোগসূত্র রয়েছে। এটাই আমাদের গর্ব।





মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী (রহঃ) এর কালজয়ী ভাষণ "ওলামায়ে দেওবন্দের সংগ্রামী ইতিহাস" অবলম্বনে
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×