somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওরা মানুষ, চিড়িয়াখানার পশু নয়!

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েক দিন আগে সিলেটের জাফলং এর খাসিয়া পল্লীতে গিয়েছিলাম তাদের উপর একটা রিপোর্ট লিখতে।রিপোর্টের জন্য তাদের সাথে সারাদিন কাটাতে হয়েছে।প্রথম দিকে তাদের কাছ থেকে কোন ধরনের সাহায্য পাচ্ছিলাম না।কেউ কথা বলতে চায় না,সবাই বলে তারা ব্যাস্ত।কিন্তু তাদের কাজে কোন ব্যাস্ততা খুজে পাই না।কোন কাজই করছে না,দাঁড়িয়ে আছে তাকে বললেও বলে ব্যাস্ত আছি।ভাবলাম বড়রা হয়ত ব্যাস্ত তাই ছোটদের সাথে কথা বলার চেস্টা করলাম।কিন্তু তারাও হয় ব্যাস্ত অথবা বাংলা জানি না বলে এড়িয়ে গেল।এরকম ব্যাবহার দেখে আমি তো পুরো অবাক।কারন কেউ যে মুখের উপর এভাবে অনায়েসে মিথ্যা বলতে পারে তা আমি কল্পনাও করতে পারি নি।মনে মনে প্রচন্ড রাগ হচ্ছিল তাদের উপর, তারপরও কাজটা তো শেষ করতে হবে এই ভেবে আরো চেষ্টা করতে লাগলাম।কিন্তু কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না।তখনি মনে হল বিজনেস কমিউনিকেশনে শেখা “থিউরি অফ কমননেস”(কমিউনিকেশন তখনি সম্ভব যখন পরশ্পরের মাঝে কোন মিল থাকে)এর কথা।তাই কোন বিষয় নিয়ে কথা বললে তারা কথা বলতে পারে তা খুজতে লাগলাম।একটু পরেই পেয়ে গেলাম সাবজেক্ট।কয়েকটি ছেলে ফুটবল খেলছিল এদের মাঝে কেউ বলতেছিল মেসি, কেউ ম্যারাডোনা বা কাকার কথা।ওদের সাথে ফুটবল নিয়ে কথা বলতেই একে একে সবাই কথা বলা শুরু করল,যারা কিনা একটু আগেই বলছিল বাংলা জানে না।কিছুক্ষন কথা বলতেই সবাই খুব ফ্রি হয়ে হয়ে গেল।আমরা(আমি এবং আমার এক বন্ধু) আমাদের কাজ শুরু করে দিলাম।সব কাজ বাদ দিয়ে সবার আগে তাদের এই আচরনের কারন খুজতে লাগলাম।
যখন কারনটি খুজে পেলাম তখন নিজের কাছেই কেমন যেন লাগছিল।তাদের এই ব্যাবহারের কারন হল তারা কতজনের সাথে আর কথা বলবে! সারা দিন হাজার হাজার পর্যটক ঘুরতে যায় আর বিভিন্ন প্রশ্ন করে।আরো যেটা দেখলাম তা হল এই পর্যটকদের কারনে তাদের প্রাইভেসি বলতে কিছু নেই।সারাদিন মানুষের আনাগোনার জন্য নিজের বাড়িতেও শান্তিমত থাকতে পারে না।তার উপর অনেক বখাটে ছেলেরা ঘুরতে গিয়ে অনেক ঝামেলা করে।ওখানে ছবি উঠানো নিষেধ থাকলেও অনেকে ছবি উঠায়,বিশেষ করে মেয়েদের।মেয়েরা নিজের বাড়িতেও পরাধীন,ঘর থেকে বেরোলেই অনেকে হয়ত ছবি উঠাচ্ছে।কেউ কেউ বিশ্রী মন্তব্য করতেও ছাড়ছে না।সরকার যদি এতই খাসিয়া আধিবাসি দেখাতে চায় তাহলে তাদের ইতিহাস,সংস্কৃতি নিয়ে কোন জাদুঘর করে দিলেই পারে।এভাবে চিড়িয়াখানার জন্তুর মত মানুষ দেখানোর তো কোন দরকার নেই।মানুষের প্রাইভেসী,স্বাধীনতা খর্ব করার অধিকার কারো নেই।সবাই একবার শুধু ভেবে দেখবেন যে, আপনার বাসায় যদি সারাদিন এরকম হাজার মানুষ আসতে থাকে এবং কোন কিছু না বলেই যখন তখন আপনার বেডরুমে ডুকে যায়,তাহলে আপনি কি করবেন?
বিঃদ্রঃ যারা কষ্ট করে এই পোস্টটি পড়েছেন তাদের সকলকেই অসংখ্য ধন্যবাদ।
৯টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামুর ঈদ কবে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬




সবাইকে ঈদ মুরাবক!

ঈদ কেমন গেলো? পুরো রমজানের দুআা কতটুকু কাজে লেগেছে? বৃষ্টি ভেজা, বজ্রপাতে কোনো ভোগান্তি হয়েছে : প্রিয়জন সব ঠিকঠাক আছে? আহত বা নিহত হয়েছে?? ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-৩

লিখেছেন অর্ক, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৫



সারাজীবন আমি মানবতা, সত্য, শুভ, সুস্থ, সুন্দরের চর্চা করে এসেছি। আমার উপর শতভাগ আস্থা রাখতে পারেন। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে আমি কিছু বলি না, দাবি করি না। এই যুদ্ধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইহুদীদের ষড়যন্ত এবং আমেরিকার খনিজ সমৃদ্ধ ভূমী দখলের লীলাখেলা।

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪২



র্দীঘদিন ধরে ইহুদীরা মুসলিমদের সন্ত্রাসী পরিচয় তকমা দিয়ে বিশ্ব দরবারে ঘৃন্য জাতি সত্ত্বাতে পরিনত করার অপেচেষ্টায় রত ছিলো। মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী প্রথমেই ধারনা দিতে তৈরি করা হল আল কায়দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯১

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯

প্রিয় কন্যা আমার, আজ ইদের দিন!
একমাস ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সিয়াম সাধনা করেছে। রমজান মাস মূলত সংযমের মাস। ফাজ্জা কাউকে আমি দেখিনি সংযম করতে। রমজান মাসে সবাই বিলাসিতা করেছে। খাওয়া দাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি সত্যিই দেখি, নাকি যা বিশ্বাস করি কেবল সেটাই দেখি ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২৯


গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কমলা বেগম ঈদের সকালে গোরুর মাংস রান্না করতে বসেছিলেন। গতবছর কোরবানির ঈদে মানুষের বাড়ি থেকে চেয়ে আনা মাংস, মাসের পর মাস পাশের বাড়ির ফ্রিজে থাকা, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×