somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এনআরসি বাংলাদেশেও চাই !!! দৈত্ব নাগরিকত্বের বিলোপ চাই !!!

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১.সাম্প্রতিক সময়ে উপমহাদেশে , বিষয়ে করিয়া ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশে এনআরসি হট টপিকস, টক অফ দা টাউন, বার্নিং ইস্যু ! এনআরসি বাস্তবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কার্ড হইলেও উহার উপরিতলে বিজেপি সরকারের, আসাম সরকারের যুক্তি লক্ষণীয় ! তাহাদের যুক্তি হইলো অবৈধ বাংলাদেশিরা তাহাদের নরকে গিয়া তাহাদের ভাত মারিতেছে ! অর্থাৎ চাকুরী-বাকুরী , ব্যবসা , সম্পদ বাগাইয়া লইয়াছে , তাহাদের ভাগে কম পড়িয়া যাইতেছে বিধায় তাহারা এনআরসি চাহে !! এনআরসির মেইন টার্গেট বাংলাদেশ ! আসামে এনআরসি করিয়া বাঙালি মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন করিয়া তাহাদের বাংলাদেশে ঠেলিয়া দেওয়ার একখানা পরোক্ষ হুমকি তৈয়ার করাই ছিল বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্য ! এনআরসি নিজেই বিজেপি ও আসাম সরকারের ইয়ে মারিয়া দিয়াছে ! ইতোমধ্যে আসাম বিজেপি নিজেই এনআরসি বাতিল চাহিয়াছে। কারণ নাগরিকত্ব সনদবিহীনদের মধ্যে সনাতনধর্মী বাংলাভাষীদের সংখ্যাই বেশি যাহারা কার্যত বিজেপির ভোট ব্যাংক ! অন্যের জন্য খোড়া গর্তে বিজেপি এখন নিজেই ধরা ! বাংলাদেশের দিকে তাক করিয়া ছোড়া অস্ত্র এখন তাহাদেরই পশ্চাৎদেশ খুঁড়িতেছে !! সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের মন্ত্রী টিপু মুন্সী আর উপদেষ্টা গওহর সাহেব আসামে গিয়া বিজেপিরে ধুইয়া দিয়াছেন দেখিয়া আমুদ পাইলাম !

২. এনআরসির আরেক টার্গেট পশ্চিমবঙ্গ ! এনআরসির টার্গেট যেহেতু কথিত বাংলাদেশী, তাই রাজ্যে রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলমানদের সাথে সনাতনধর্মীরাও হুমকির সম্মুখীন হইতেছে ! কর্নাটক, বেঙ্গালুরু ইহার উদাহরণ। অন্যান্য রাজ্যও বাদ যাইবে না ! পশ্চিমবঙ্গে যেহেতু অবিজেপি সরকার ক্ষমতায় তাই মমতার সরকারকে চাপে ফেলিতে বাংলাভাষীদের উপর এনআরসি চলিতেছে ! টার্গেট মুসলমান হইলেও সনাতনধর্মীরাও ভুগিতেছে ! পশ্চিমবঙ্গেও ইহা বুমেরাং হইবে বলিয়াই বিশ্বাস!

৩. এনআরসির বাস্তব কারণ রাজনীতি হইলেও বিদেশিদের দেশের কর্মসংস্থানে ভাগ বসানো , সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার বিষয় চমকপ্রদ বটে ! ইহার কথা বলিয়াই বিজেপি সরকার এনআরসির পালে হাওয়া দিতেছে ! এই যুক্তি যদি ভারতের ক্ষেত্রে মানিয়া লইতে হয় তাহা হইলে বাংলাদেশেও এনআরসির দাবি তোলা উচিত। কারণ একই সমস্যা বাংলাদেশেও আছে ! প্রশ্ন হইলো বাংলাদেশে এনআরসি হইলে কি সুবিধা হইবে ?

৪. সংবাদপত্রে প্রকাশ , বাংলাদেশ ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স আয় করে ! পক্ষান্তরে ৫ বিলিয়ন ডলার অবৈধ বিদেশিরা বাংলাদেশ হইতে লইয়া যায়। ইহারা কোনপ্রকার ট্যাক্স না দিয়াই দেশে কাজ করিতেছে ! বিআইডিএসের গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশের শিক্ষিতদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশেরও অধিক বেকার। এনআরসি হইলে অবৈধ বিদেশী চিহ্নিত করিয়া তাহাদের বিতাড়ন করা গেলে আমাদের বেকার সমস্যা কিছুটা হইলেও লাঘব হইবে। ৫ বিলিয়ন ডলার দেশেই রাখা যাইবে। যদি বিদেশী কর্মীর একান্তই প্রয়োজন হয় তাহারা বৈধ কাগজপত্রে কাজ করিলে তাহাদের হইতে সরকার যথাযথ ট্যাক্স আদায় করিতে পারিবে ! তাই বাংলাদেশেও এনআরসি এখন সময়ের দাবী ! ইহাতে ইটের জবাবে পাটকেলটাও ভালোই জমিবে!

৫. গণতান্ত্রিক অর্থনীতিতে দুর্নীতি একখানা উপজাত বিষয়। ইহাকে কোনভাবেই নির্মূল করা যায় না, বিশেষ করিয়া তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ইহা ডালভাত ! এজন্য সরকারগুলো কালোটাকা সাদা করার সুবিধা দিয়া থাকে। ইহাতে সরকারের আশা, টাকা কালো হইলেও দেশের টাকা দেশেই থাকিবে , বিনিয়োগ হইবে। সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ইহা ভালো মনে করা হয়। একটা সময় পর্যন্ত ইহা কার্যকর হয়তো ছিল। কিন্তু এখন আর নহে। কালো টাকার মালিকেরা এখন দেশে টাকা রাখিতেছে না। তাহারা বিদেশের ব্যাংকে টাকা জমাইতেছে। ক্যাসিনো কাণ্ডে ইহার প্রমান পাওয়া যাইতেছে ! ইহাতে ইন্ধন জোগাইতেছে ঐসকল দেশের দৈত্ব নাগরিকত্ব ব্যবস্থা , সেকেন্ড হোমের অপসন ! তাই দেশের বৈধ-অবৈধ নাগরিকেরা এদেশে উপার্জন করিয়া বিদেশে পাচার করিতেছে। খুব শক্ত মানি লন্ডারিং আইন করিয়াও ইহাদের থামানো যাইতেছে না ! দৈত্ব নাগরিক হওয়ায় ইহাদের দেশের প্রতি কোন দায়বোধও নাই। তাই দৈত্ব নাগরিকত্ব বাতিল হইলে তাহারা এদেশে বসিয়া উপার্জন করিতে পারিবে না। কারণ ভিন্ন দেশের নাগরিক হইলে দেশে কাজ করিতে সরকার হইতে বৈধ অনুমতি লইতে হইবে ! একারণে দৈত্ব নাগরিকত্ব বাতিল করা উচিত ! ইহাতে অন্যদেশে টাকা পাচার বন্ধ হইবে , দেশের টাকা দেশেই থাকিবে। এই টাকা দেশে বিনিয়োগ হইলে কর্মসংস্থান বাড়িবে ! আর যাহারা এদেশে কর্মস্থান বানাইয়া অন্যদেশে বাসস্থান বানাইয়াছে তাহাদের সংখ্যাও কমিয়া আসিবে। দুর্নীতিবাজদেরও নিরাপদ আশ্রয়স্থল সংকুচিত হইবে ! দেশে আকাম করিয়া বিদেশে পারি দেওয়ার রাস্তাও বন্ধ হইবে ! আমার জানা আছে বহু প্রবাসীর দৈত্ব নাগরিকত্ব আছে। তাহারা অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হইলেও দেশ লাভবান হইবে বলিয়াই আমার বিশ্বাস !
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:১৮
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কাওসার চৌধুরী ও তার গল্পগুচ্ছ 'পুতুলনাচ' (বই রিভিউ)

লিখেছেন আকতার আর হোসাইন, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:১৫



লেখকের প্রথম বই--- বায়স্কোপ: যে বইয়ে কাওসার চৌধুরী এঁকেছেন জীবনের বায়স্কোপ

আর সবার মতন একজন লেখকেরও রয়েছে স্বাধীনতা। যার যে বিষয়ে ইচ্ছে সে সেই বিষয়েই লিখবে। জোড় করে কোন লেখকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

যীশুর রহস্যময় বাল্যকালঃ মিশর অবস্থান কাল বার বছর পর্যন্ত

লিখেছেন শের শায়রী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:৩০



যীশুর জীবনের অন্যতম রহস্যময় ঘটনা হিসাবে যা আমার কাছে মনে হয় তা হল যীশুর বাল্যকাল। ইতিহাস প্রসিদ্ধ ধর্মপ্রচারকদের মাঝে যীশুর জীবনির একটা অংশ নিয়ে আজো কোন কুল কিনারা পাওয়া যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাড়ী ভাড়া বিষয়ক সাহায্য পোস্ট - সাময়িক, হেল্প/অ্যাডভাইজ নিয়েই ফুটে যাবো মতান্তরে ডিলিটাবো

লিখেছেন বিষন্ন পথিক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:১৭

ফেসবুক নাই, তাই এখানে পোস্টাইতে হৈল, দয়া করে দাত শক্ত করে 'এটা ফেসবুক না' বৈলেন্না, খুব জরুরী সহায়তা প্রয়োজন।

মোদ্দা কথা...
আমার মায়ের নামে ঢাকায় একটা ফ্লাট আছে (রিং রোডের দিকে), ১৬০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৪৫


জীবনানন্দ দাস লিখেছেন- সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...। বনলতা সেন কবিতার অসাধারণ এই লাইনসহ শেষ প্যারাটা খুবই রোমান্টিক। বাংলা শিল্প-সাহিত্যের রোমান্টিসিজমে সন্ধ্যার আলাদা একটা যায়গাই রয়ে গেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৪



"বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!", এই কথাটি আমাকে বলেছিলেন আমাদের গ্রামের একজন নতুন বধু; ইহা আমার মনে অনেক কষ্ট দিয়েছিলো।

আমি তখন অষ্টম শ্রেণীত, গ্রাম্য এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×