
মাননীয় প্রধানমন্ত্রির 'কওমি জননী' উপাধি গ্রহনের কি প্রয়োজন ছিল? প্রশ্নটা আওয়ামী সমর্থকদের মধ্যে থেকেও উঠেছে! প্রথম কথা হল যারা তাকে এই খেতাব দিয়েছে তাঁরা তাঁদের কৃতজ্ঞতা বোধ থেকেই দিয়েছে। তারা সেটা ঐ মাহফিলে বলেছেনও। তারা বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয় না থাকলে আজ কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি আইন জাতীয় সংসাদে পাশ হতো না। এ ক্ষেত্রে তিনি সব ধরনে চাপ ও ভিন্নমত উপেক্ষা করে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।" এবং এটা তাঁরা যথার্থই বলেছেন। কাজেই উপাধি গ্রহন না করার তো কোন কারন নেই।
দ্বিতীয় কথা হল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তার ধর্মানুরাগ নিয়ে যে পরিমাণ মিথ্যাচার সইতে হয়েছে এবং এখনও সইতে হয় তাকে প্রতিহত করতে এই খেতাবের প্রয়োজন ছিল।
প্রয়োজন অপ্রয়োজন হিসেব করতে হলে আমাদের সাধারণ মানসিকতার দিকটি বিবেচনায় নিতে হবে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে দেশ হিন্দু রাষ্ট্র হয়ে যাবে। মসজিদ থেকে আযান ধ্বনি শোনা যাবে না, উলু ধ্বনি শোনা যাবে। এমনতর হাজারো প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে তাও আবার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ট পোষকতায়। তার থেকেও বড় কথা হল, সেই প্রোপাগান্ডা আমরা গোগ্রাসে গিলেছি। নির্বাচনের রায়ে তার যথেষ্ট প্রতিফলনও দেখতে পেয়েছি। আমরা কি সে সব ভুলে গেছি?
যদি ভুলে না যাই। তাহলে আজ কি করে মনে করছি 'কওমি জননী' খেতাবের প্রয়োজন ছিল না?
ইসলাম এমন একটি ধর্ম যেখানে মুসলমান যে ইবাদত করে তা মহান আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই করে। এমন কি একজন মুসলমান যে ভাল কাজটিই করে থাকে তার পেছনেও থাকে আল্লাহ্র সন্তোষটি লাভের ইচ্ছা। আর সেটা যখন থাকে তখন ঐ ভাল কাজটিও ইবাদতের মধ্যেই গণ্য হয়। ইসলামে লোক দেখানো ইবাদতকে বলা হয় রিয়া। কেউ ভালো বলবে এরূপ মনোভাব নিয়ে ইবাদত করলে প্রকৃত পক্ষে সে ইবাদত আল্লাহর উদ্দেশ্যে করা হয় না। এ কারণে রিয়াকে গোপন শিরক বলা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে ইবাদত করেন তা যেমন লোক দেখানোর জন্য নয়। তেমনি কওমি শিক্ষাকে মুল্যায়নটাও নিশ্চয়ই লোক দেখানোর জন্য ছিল না।
কিন্তু তিনি যে প্রকৃত পক্ষেই একজন ধর্মভীরু মানুষ সেটা প্রমাণ করাও এ দেশের অকাট মূর্খদের জন্য প্রয়োজন ছিল এটাও তো ঠিক।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



