জোয়ান অভ আর্ক।
আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী একটি দেশ ফ্রান্স। ফ্রান্সের আদি নাম ভেল্টিক গল। খ্রীষ্টপূর্ব ৫৮-৫১ সালে জুলিয়াস সিজার এ অঞ্চল দখল করেন এবং পাঁচশো বছর রোমানগণ দেশটি শাসন করেন। রোমানদের পর কালক্রমে একসময় ইংরেজরাও এই দেশটি দখল করে নেয়। ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম হেনরী শতবর্ষব্যাপী এক যুদ্ধে ফ্রান্সকে পরাজিত করেন এবং দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেন পুরো ফ্রান্সে। তাই ফ্রান্স এক দীর্ঘ সময় ছিল ইংরেজদের অধীনে। আর পরবর্তীতে এই পরাধীন ফ্রান্সের মুক্তিদাত্রী বীরকন্যা হলেন জোয়ান অভ আর্ক।
জোয়ান অভ আর্ক ছিলেন ফ্রান্সের এক কৃষক পরিবারের মেয়ে। তার জন্ম হয়েছিল ১৪১২ খ্রীষ্টাব্দে। ইংরেজদের শোষণে ফ্রান্স যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছিল তখন আলোর প্রদীপ নিয়ে এগিয়ে এসেছেলেন জোয়ান অভ আর্ক। পলাতক ফ্রান্সের রাজার কাছে গিয়ে তিনি সৈন্য প্রার্থনা করেছিলেন। দেশের স্বাধীনতা রার জন্য তার কঠিন প্রতিজ্ঞার কথা ব্যক্ত করেছিলেন।
ফ্রান্সের রাজাও তাকে অস্বীকার করতে পারলেন না। আর্কের প্রতিজ্ঞা দেখে তিনি একটি সাদা পতাকা দিলেন। সেই সঙ্গে আদেশ করলেন সৈন্যদেরকে তারা যেন এই মেয়েটির আদেশ পালন করে।
তারপর ঘটতে লাগল সব অলৌকিক ঘটনা। জোয়ান অভ আর্ক প্রবল বিক্রমে একদল সৈন্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন ইংরেজ বাহিনীর উপর। প্রথম আক্রমণেই তিনি একটি শহর দখল করে নেন।
প্রথম আক্রমণে জয়ী হয়ে নেত্রীর প্রতি সৈন্যদের বিশ্বাস আরও জোরাল হলো। এরপর তারা প্রচণ্ড উৎসাহে একটার পর একটা আক্রমণ চালিয়ে দখল করতে লাগল শহরের পর শহর।
জোয়ান অভ আর্কের নেতৃত্বে ফরাসী বাহিনী একটার পর একটা জয়লাভ করছে শুনে ইংরেজ বাহিনীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল প্রচণ্ড আতংক।
একটা সামান্য মেয়ে কি না ঝানু ঝানু ইংরেজ সেনাপতিদের হারিয়ে দিচ্ছে। এ সত্যি মানুষ, নাকি ডাইনী। জোয়ান অভ আর্কের অগ্রযাত্রা দেখে এমন অবস্থা হলো যে ইংরেজ সৈন্যরা তার নাম শুনলেই ভয়ে ছুটে পালাতে লাগল। ডাইনীর সাথে যুদ্ধ করা কারও সাধ্য নয়।
ফরাসী সিংহাসনে আবার বসলেন ফ্রান্সের রাজা। এর সব কৃতিত্বই জোয়ান অভ আর্কের। কিন্তু এর বিনিময়ে তিনি রাজার কাছ থেকে কোন প্রতিদানই গ্রহণ করলেন না।
ইংরেজগণ কিন্তু এই অপমানের কথা ভুলতে পারল না। কেমন করে প্রতিশোধ নেওয়া যায় তার জন্য ফন্দী আঁটতে লাগল। অবশেষে ফ্রান্সের এক বিশ্বাসঘাতক রাজনৈতিক দল জোয়ানকে আহত অবস্থায় ইংরেজদের হাতে ধরিয়ে দিল।
জোয়ান অভ আর্কের বিচার করা হলো। বিচারে রায় দেওয়া হলো যে জোয়ান মানুষ নয় সে একজন ডাইনী। জোয়ান অভ আর্কের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলো। তাকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।
জোয়ান অভ আর্কের এই হত্যাকাণ্ডের পর অবশ্য ফরাসীরা ইংরেজদের উপর প্রতিশোধ নিয়েছিল। ফ্রান্স থেকে ইংরেজদের সকল চিহ্ন ও অধিকার মুছে গিয়েছিল।
এই জোয়ান অভ আর্ক ছিলেন ফ্রান্সের স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক। তার আদর্শ আজ শুধু ফ্রান্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গোটা পৃথিবী তার আদর্শে অনুপ্রাণিত। তিনি সমগ্র বিশ্বেরই পরাধীন দেশের মুক্তির দিশারী হয়ে থাকবেন চিরকাল।
আলোচিত ব্লগ
হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন
নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন
এরা খুবই বিপদজনক
যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।