বিজ্ঞানের জনক ‘থ্যালিস’
আধুনিক জীবন বিজ্ঞান দ্বারা পরিচালিত। বিজ্ঞানের সুফল আমরা খুব সহজেই পেয়ে যাই আধুনিক জীবনে। বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে করেছে সহজ থেকে সহজতর। কিন্তু এই বিজ্ঞান আবিষ্কার কে করেন। বিজ্ঞানের জনকই বা কে। খৃষ্টপূর্ব ৫৮৫ সাল, বর্তমান তুরস্কের মিলেটাস শহর তখন গ্রীকদের দখলে ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্যে মিলেটাস শহর সমৃদ্ধ ছিল। সে সময় ঘটল এক অদ্ভুত কাণ্ড। শহরের এক গ্রীক পণ্ডিত ঘোষণা করলেন যে, মে মাসের আটাশ তারিখ শহরে দেখা যাবে সূর্যগ্রহণ।
সূর্যগ্রহণ!!!! ভারী অবাক হলো মানুষ। এ আবার কী কথা! এমন ঘটনা তো কখনও ঘটেনি আর।
গ্রীক পণ্ডিত বোঝালেন চাঁদের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে ঢাকা পড়ে যাবে সূর্য। অর্থাৎ পৃথিবী এবং সূর্যের মাঝে যখন চাঁদ এসে পড়বে, তখন পৃথিবীর কোন কোন জায়গা হতে সূর্যকে দেখা যাবে না। আর এটাই হলো সূর্যগ্রহণ।
হুহ! বললেই হলো....সূর্য ঢাকা পড়ে যাবে নাকি চঁাঁদের কারণে...আরে ওসব কিছু নয়, সব ফালতু......।
কিন্তু নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে সত্যি সত্যিই আটাশে মে তারিখে ঘটল সূর্যগ্রহণ। অবাক মিলেটাসবাসী। আলোড়ন শুরু হলো সারা দেশে। জন্ম হলো বিজ্ঞানের। বিজ্ঞানের জন্ম দিলেন সেই গ্রীক পণ্ডিত, নাম তার থ্যালিস।
তুরস্কের পশ্চিম তীরের প্রাচীন মিলেটাস শহরে ৬২৪ খৃষ্ট পূর্বাব্দে জন্মগ্রহণ করেন থ্যালিস। সভ্য দেশ হিসাবে শীর্ষস্থানীয় আসনটি দখলের মালিক তখন মিশর, গ্রীস ও ব্যাবিলনিয়া। কিশোর থ্যালিস মিশরে এসে গণিত শাস্ত্র, বিশেষ করে জ্যামিতিতে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেন। বর্তমান জ্যামিতির মূল সূত্রগুলো ( রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভূজ, সমকোণী ত্রিভূজ, কোণ উৎপন্ন হয় দুটি রেখার মিলনে ইত্যাদি) থ্যালিসই দিয়ে গেছেন। পরে তার সূত্র অনুসারে পিথাগোরাস, হিপোক্রেটিস, ইউক্লিড এরা একে আরও উন্নত করেছেন।
থ্যালিসই প্রথম আবিষ্কার করেন, বস্তুর ঘর্ষণের দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। একদিন নদীর ধারে হাটবার সময় থ্যালিস একটি আশ্চর্য পাথর কুড়িয়ে পান । তিনি লক্ষ করলেন ছোট ছোট পাখির পালক ও খড়কুটাকে আকর্ষণ করে এই পাথর । এই পাথরের নাম দেন ‘ইলেকট্রন’। ‘ইলেকট্রন’ গ্রীক শব্দ। থ্যালিস আরও একজাতের পাথর নিয়ে গবেষণা করে দেখেন যে, এই পাথর ছোট ছোট লোহাকে আকর্ষণ করে। এটা আসলে চুম্বক পাথর। থ্যালিস বলেন, ইলেকট্রন পাথর ও চুম্বক পাথরের এই আকর্ষণ একই।
কিন্তু আসল ব্যাপারটা তিনি ধরতে পারলেন না । আর তার এই আবিষ্কারকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে তার মৃত্যুর দু’হাজার বছরের মধ্যেও এই ভুল ধরা পড়েনি। খৃষ্টপূর্ব ৫৫০ অব্দে মহান দার্শনিক ও বিজ্ঞানের আদি জনক, মহাবিজ্ঞানী থ্যালিসের মৃত্যু হয়। থ্যালিস আজ নেই। বিজ্ঞানের সূচনা করে দিয়েছেন যিনি তিনি বেঁচে থাকবেন বিজ্ঞানের মাঝে। আমরা সবাই কৃতজ্ঞ, সবাই ঋণী এই মহাবিজ্ঞানীর কাছে যার নাম ‘থ্যালিস’।
আলোচিত ব্লগ
বুনো মহিষের পাল!

ঘনিয়ে এসেছে প্রস্থানকাল; অনেককিছুর মতো আমিও
হারিয়ে যাবো কালের গর্ভে বা কৃষ্ণচুড়ার লালে লালে।
মূলত হারিয়ে যাওয়ার জন্যই আবির্ভূত হয়ে,
মাঝখানে সবার সাথে খেলে গেলাম বনভোজন বনভোজন।
অনেকদিন ধরেই মগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন
দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি
আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন
I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)
এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।