এমন ভয়াবহ দৃশ্য চোখে সহ্য করা কঠিন। কাঠের মতো পড়ে আছে শরীর। হয়তো আধা ঘণ্টা আগেও হাসিতে ঠাট্টাতে চারপাশ ব্যাপ্ত রেখেছিলো তা। হয়তো ঘণ্টা খানেক আগে প্রিয় সন্তানের শরীর ছুঁয়ে গিয়েছিলো হাচরে পাচরে গাড়ি থেকে বের হতে চাওয়া হাত দুটো।
সেই সব কিছু খানিকের বাবধানে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। পুড়ে গেছে একজন জলজ্যান্ত মানুষ। কেবল গুলি করে মৃতু্য নিশ্চিত করেই ক্ষান্ত হয় নি ঘাতকেরা, আগুন দিয়ে গেছে গাড়িতে। সেখানেই পুড়ে শেষ ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম।
পত্রিকায় খবর এসেছে আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে। আমরা দেখছি একজন মানুষ হিসেবে।
কী ভয়ংকর নৃশংসতায় পর্যবসিত হয়েছে দেশ, নারায়নগঞ্জের পরপরই তার আরেকটি বড় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়ে গেলো ফেনীতে।
প্রধানমন্ত্রী নিদের্শ দিয়েছেন হত্যাকারীদের ধরার। তার মতে স্বাধীনতা বিরোধীরা এর সাথে জাড়িত থাকতে পারে। সুতরাং একটা ধরাণা তিনি দিয়ে দিয়েছেন কাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। এর মতো ভয়ংকর কাজ আর হতে পারে না।
নারায়নগঞ্জের হতাকাণ্ডের পর সরকারের আরো সতর্ক হওয়া দরকার কাউকে দোষারোপ করার ক্ষেত্রে। প্রধানমন্ত্রী তা হন নি। কয়েকদিন আগে রাজশাহীতে দু'জন ছাত্রলীগ নেতাকে রাগ কেটে, পায়ের গোড়ালী কেটে পঙ্গু করা হয়েছিলো। তার দোষ স্বভাবতই গিয়েছিলো একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনের উপর। তার মামলা ও তদন্তের পর কারা গ্রেফতার হয়েছে, কে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে তার কোন ফলো আপ রিপোর্ট দেখার সুযোগ হয় নি আমাদের। কারণ প্রতিনিয়ত দেশে এমনসব নৃশংস কাণ্ড ঘটে যে একটার কাছে দ্বিতীয়বার যাবার সুযোগ ঘটেনা মিডিয়ার।
সরকার বিরোধীরা তো থাকতেই পারে জড়িত এমন কাজে। কিন্তু সরকারী বাহিনী ও সরকার সমর্থকরা যা করছে সেটা যদি প্রধানমন্ত্রী ও তার অন্য মন্ত্রীরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন তবে নৃশংসতার মাত্রা হয়তো নব্বই শতাংশ কম হতো।
একই সাথে দেশের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে ও সুবিচার নিশ্চিত করতে একটি নৈতিকভাবে নির্বাচিত সরকারও যে খুবই জরুরি করতে সেটা যত আগে এই সরকার বুঝবে ততই মঙ্গল।
-ইউএমবি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



