somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য লিখিত পরীক্ষার সম্ভাব্য কিছু প্রশ্নোত্তর। শেষ পর্ব।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সঠিক নিয়মে ড্রাইভিং জানা যেমন জরুরী তেমনি ছোট-খাট কিছু বিষয় সম্পর্কে সচ্ছ ধারণা থাকলে নানা অনাকাংখিত বিপদ এড়িয়ে চলা যায়। এই ছোটখাট বিষয়গুলি নিয়ে লিখা যদি কারো সামান্যতম উপকারে লাগে তবেই আমার লিখা সার্থক হবে। লাইসেন্স পাওয়ার লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রশ্নোত্তর পর্ব লিখতে লিখতে ছয়টি পর্ব করে আজকের টি হলো শেষ পর্ব। সব শেষে আগের ছয়টি পর্বের লিংক দিয়ে দেবো। তারপর কিছু মৌখিক পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর নিয়ে দুইটা পোষ্ট করবো, পরবর্তী পোষ্ট টি দেবো নিয়ম না মেনে গাড়ি চালালে কি কি শাস্তি হতে পারে। সব শেষটি দেবো বাংলাদেশের কোথায় কোথায় ড্রাভিং স্কুল আছে তা নিয়ে। তো চলেন শুরু করি আজকের পর্ব (শেষপর্ব)।

প্রশ্ন ১০১: পেট্রোল ও ডিজেল ইঞ্জিনের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তরঃ ক) পেট্রোল ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল ব্যবহার করা হয় আর ডিজেল ইঞ্জিনে ডিজেল।
খ) পেট্রোল ইঞ্জিনে স্পার্ক করে ইগনিশন করা হয় আর ডিজেল ইঞ্জিনে কম্পেশন করে ইগনিশন করা হয়।
গ) পেট্রোল ইঞ্জিনে কার্বোরেটর থাকে কিন্তু ডিজেল ইঞ্জিনে কার্বুরেটরের স্থলে ইনজেক্টর থাকে।
ঘ) পেট্রোল ইঞ্জিন অটো সাইকেলে কাজ করে কিন্তু ডিজেল ইঞ্জিন ডিজেল সাইকেলে কাজ করে।
প্রশ্ন নং ১০১: কী কী লক্ষণ দেখা দিলে ইঞ্জিন ওভার হলিং করার প্রয়োজন হয়?
উত্তর: ক) ইঞ্জিনে জ্বালানি এবং লুব অয়েল বেশী খরচ হলে,
খ) ইঞ্জিন থেকে অত্যাধিক কালো ধোয়া বের হলে,
গ) বোঝা বহন করার ক্ষমতা কমে গেলে।
প্রশ্ন নং ১০২: ইঞ্জিন কুলিং সিস্টেমের কাজ কী?
উত্তরঃ ইঞ্জিনের অতিরিক্ত তাপমাত্রা হ্রাস করে ইঞ্জিনকে কার্যকরী তাপমাত্রায় রাখাই কুলিং সিস্টিমের কাজ।
প্রশ্ন নং ১০৩: রেডিয়েটরের কাজ কী?
উত্তর: রেডিয়েটরের কাজ পানি ঠান্ডা করা। রেডিয়েটর হতে ঠান্ডা পানি পাসম্পর সাহায্যে ওয়াটার জ্যাকেটের মাধ্যমে ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশে পেীঁছে ইঞ্জিনকে ঠান্ডা করে এবং গরম অবস্থায় পুনরায় রেডিয়েটরে ফিরে আসে। রেডিয়েটরে এই গরম পানি ঠান্ডা হয়ে পুনরায় ইঞ্জিনে যায়।
প্রশ্ন নং ১০৪: কুলিং ফ্যানের কাজ কী?
উত্তরঃ রেডিয়েটরের ভিতর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত করা এবং গরম পানিকে ঠান্ডা করা।
প্রশ্ন নং ১০৫: এয়ার কুলিং সিস্টেমে ইঞ্জিন কিভাবে ঠান্ডা হয়?
উত্তরঃ ইঞ্জিন সিলিন্ডার এবং হেডের চর্তুদিকে কিছু পাতলা লোহার পাত বা ফিন থাকে। বাতাসের সংস্পর্শে এই পাতলা লোহার পাত ঠান্ডা হয়ে ইঞ্জিনকে ঠান্ডা রাখে।
প্রশ্ন নং ১০৬: ওয়াটার কুলিং সিস্টেমে কী ধরনের পানি ব্যবহার করা উচিত?
উত্তরঃ ডিস্টিল ওয়াটারের ন্যায় পরিস্কার পানি, যেমন পরিস্কার পুকুর, নদী ও বৃষ্টির পানি ব্যবহার করা উচিত। সমুদ্রের লবনাক্ত পানি এবং আয়রন পানি ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রশ্ন নং ১০৭: ফ্যান বেল্ট কোথায় থাকে?
উত্তর: ইঞ্জিনের পুলি, ফ্যান পুলি ও ডায়নামো পুলির উপর পরানো থাকে।
প্রশ্ন নং ১০৮: একটি ইঞ্জিন অত্যাধিক গরম অবস্থায় চলছে তা কিভাবে বোঝা যাবে?
উত্তরঃ ক) ড্যাশ বোর্ডে টেম্পারেচার মিটারের কাটা লাল দাগে চলে যাবে।
খ) ইঞ্জিনে খট খট শব্দ (নকিং) হবে।
গ) বেশি পানি বাষ্পায়িত হয়ে ওভারফ্লো পাইপ দিয়ে প্রবাহিত হবে।
ঘ) ক্রমান্বয়ে ইঞ্জিনের শক্তি কমতে থাকবে।
প্রশ্ন নং ১০৯: ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে করনীয় কী এবয় এ অবস্থায় গাড়ি চালালে কী অসুবিধা হবে?
উত্তরঃ প্রথমে ইঞ্জিন বন্ধ করে সুবিধামতো স্থানে পার্ক করতে হবে। বনেট খুলে ইঞ্জিন ঠান্ডা হতে দিতে হবে। পরে ইঞ্জিন গরম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে যে কোন মুহুর্ত্বে পিষ্টন ও বেয়ারিং গলে গিয়ে ইঞ্জিন জ্যাম বা সিজড হতে পারে। এর ফরে পুনরায় ইঞ্জিন ওবারহেলিং করতে হবে যা অত্যন্ত ব্যায়বহুল।
প্রশ্ন নং ১১০: এয়া ক্লীনারের কাজ কী?
উত্তরঃ বাতাসে যে সমস্ত ধুলি-কণা থাকে তা পরিস্কার করে বিশুদ্ধ বাতাস ইঞ্জিনে সরবরাহ করা। পরিস্কার বাতাস কার্বুরেটরে প্রবেশ না করলে ধুলিকণা পেট্রোলের সাথে মিশ্রিত হয়ে ইঞ্জিনের সিলিন্ডার, পিস্টন এবং পিস্টনের রিং এর অতি দ্রুত ক্ষয় সাধন করে থাকে।
প্রশ্ন নং ১১১. কার্বুরেটরের অবস্থান কোথায় এবং এর কাজ কী?
উত্তরঃ কার্বুরেটরের অবস্থান ইঞ্জিনের ইনটেক ম্যানিফোল্ডের উপরে ও এয়ার ক্লিনারের নিচে। ফুয়েল ও বাতাসকে নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশ্রিত করে ইঞ্জিনে সরবরাহ করাই কার্বুরেটরের কাজ।
প্রশ্ন নং ১১২: ডিষ্ট্রিবিউটরের কাজ কী?
উত্তরঃ প্রত্যেকটি স্পার্ক প্লাগে হাই ভোল্টেজ কারেন্ট পেীঁছে দেয়া।
প্রশ্ন নং ১১৩: কনডেনসারের কাজ কী?
উত্তরঃ ডিষ্ট্রিবিউটরের কনট্যাক্ট ব্রেকার পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা।
প্রশ্ন নং ১১৪: এয়ার লক এবং ভেপার লক এর অর্থ কী?
উত্তরঃ ফুয়েল লাইনে বাতাস প্রবেশের কারণে ফুয়েল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াকে বলে এয়ার লক। ফুয়েল লাইনে অত্যাধিক তাপের কারণে লাইনের ভেতরে বাষ্পের সৃষ্টি হয়। এই বাষ্পের চাপে লাইনে ফুয়েল সরবরাহ বন্ধ হয়াকেই ভেপার লক বলে।
প্রশ্ন নং ১১৫: কোন কোন ক্রুটির কারণে সাধারণত ইঞ্জিন স্টার্ট হয় না?
উত্তরঃ জ্বালানি না থাকলে, ব্যাটারিতে চার্জ না থাকলে বা দূর্বল হয়ে গেলে, সেল্ফ স্টার্টার ঠিকমতো কাজ না করলে, কার্বুরেটর ঠিকমতো কাজ না করলে, ইগনিশন সিস্টেম ঠিকমতো কাজ না করলে, ডিজেল ইঞ্জিনের ফুয়েল লাইনে বাতাস ঢুকে গেলে।
প্রশ্ন নং ১১৬: কী কী কারণে ইঞ্জিন চালু অবস্থায় বন্ধ হতে পারে?
উত্তরঃ জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে, ডিজলে ইঞ্জিনরে জ্বালানি লাইনে বাতাস ঢুকে গেলে, স্পার্ক প্লাকে অতিরিক্ত তোল (মবিল) বা কার্বন জমা হলে, কার্বুরেটরে ফ্লাডিং হলে অর্থাৎ কার্বুরেটরে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ হলে, এক্সিলারেটর প্রয়োজনমতো না চেপে ক্লচ প্যাডেল ছেড়ে দিলে, অতিরিক্ত বোঝা বহন করলে।
প্রশ্ন নং ১১৭: ইগনিশন সিস্টেম ঠিক থাকা সত্ত্বেও একটি ঠান্ডা ইঞ্জিন স্টার্ট না হলে কি করতে হবে?
উত্তরঃ মিকচার আরো রিচ করতে হবে (এক্সিলারেটর দাবায়ে কার্বুরেটর ফ্লাডিং দ্বারা অথবা এয়ার ইনটেক সম্পূর্ণ বন্ধ করে।)
প্রশ্ন নং ১১৮: ইগনিশন সিস্টেম ঠিক থাকা সত্ত্বেও একটি গরম ইঞ্জিন স্টার্ট না হলে কি করতে হবে?
উত্তরঃ মিকচার খুব বেশী রিচ হলে এমন হয়। ইগনিশন সুইচ অফ করে এবং থ্রটলভালব সম্পূর্ণ খুলে ইঞ্জিনকে কয়েকবার ঘুরাতে হবে। তারপর থ্রটলভালব বন্ধ করে ইগনিশন সুইচ অন করতে হবে।
প্রশ্ন নং ১১৯: ডিজেল ইঞ্জিনে গভর্নরের কাজ কী?
উত্তরঃ গভর্নর ডিজেল ইঞ্জিনের ফুয়েল সরবরাহকে নিয়ন্ত্রন করে ইণ্জিনের স্পিড বা গতি নিয়ন্ত্রণ করে।

১ম পর্বের লিংকঃ ১ম পর্ব
২য় পর্বের লিংকঃ ২য় পর্ব
৩য় পর্বের লিংকঃ ৩য় পর্ব
৪র্থ পর্বের লিংকঃ ৪র্থ পর্ব
৫ম পর্বের লিংকঃ ৫ম পর্ব
৬স্ঠ পর্বের লিংকঃ ৬ষ্ঠ পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:০০
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....

বর্তমান সচিবালয়ের আয়তনঃ ঢাকার আবদুল গনি রোড- সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বর্তমান বাংলাদেশ সচিবালয় প্রায় ৩২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে মাত্র ১৭ লাখ বর্গফুট যায়গায় অপরিকল্পিত ভবন নির্মিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×