somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতি ও জাতীয়তা সমাচার

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঙালি জাতি অর্থাৎ আমাদের
নিজেদের প্রতি আমাদের বিতৃষ্ণা ও
অভিযোগের অন্ত নেই।
আমি এটাকে সবসময় নিরুৎসাহিত
করতে চেষ্টা করি।
আসলে জাতি হিসেবে আমাদের গর্ব
করার মতো যেসব অর্জন আছে তার
দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল।

তামিলরা একটি বিরাট অংশ ভারত
জুড়ে আছে, মেধায়, জ্ঞানে এবং স্বকীয়
যোগ্যতায় তারা সেই বহু যুগ আগে হতেই
অনেক এগিয়ে। তাদের সেই প্রথম হতেই
নিজস্ব সিনেমা, নিজস্ব ভাষা ও সাহিত্য
এবং ঐতিহ্যের একটি অব্যাহত
ধারা রয়েছে।
এরা প্রয়োজনে ইংরেজি বলে তবু
হিন্দি বলে না।
স্বকীয়তা সম্পর্কে এরা এতটাই সচেতন!
অথচ তবুও তারা স্বাতন্ত্র্য
নিয়ে আলাদা হতে পারেনি।
আমরা পেরেছি। ক্ষুদ্র ভূখণ্ড নিয়েও
আমরা নিজেদের ভাষা ও
স্বকীয়তা নিয়ে আলাদা হয়েছি। ভাষার
জন্য রক্ত দিয়েছি, মাত্র নয় মাসের
যুদ্ধে দেশটাকে স্বাধীন করেছি। বিশ্বের
আর কোন
জাতি পারেনি এমনটা করে দেখাতে।
আমাদের মেধা, কৃতি সন্তানদের
বিশ্বব্যাপী অবদান
এবং আবিষ্কারসমূহের তালিকা যে কত
দীর্ঘ তা আপনারা সকলে জানেন ঠিকই,
কিন্তু কখনও
ব্যাপারটা নিয়ে ভাবেননি বা মূল্যায়ন
করেননি। আসলে যে জাতি তার অতীত,
ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে ভুলে যায়
সে জাতি মাথা তুলে দাঁড়ানো তো দূর
উল্টো নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। হ্যাঁ, অতীত
এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান
থাকা জরুরি।

এখন পরিতাপের বিষয় হল, ঐতিহ্য
সচেতনতার বেলায় আমার দাদা জমিদার,
বাপ মুক্তিযোদ্ধা এই সেই
ইত্যাদি নিয়ে বিরাট
ফিরিস্তি আমরা দিয়ে থাকি, অথচ
নিজে এখন কী সেটা আর জোর গলায়
বলার মুখ পাই না। বাপ জমিদার ছিল
সেটার গর্ব যদি করতেই হয়,
যদি সে সম্মানটা বোঝই, তবে তুমি আজ
চাকর কেন, বাছা?

অতীতে তোমার জাতির যে সম্মান ছিল
আজ বর্তমানের প্রেক্ষাপটে তার কতটুকু
আছে?

সকলেই যা জানে, আজ সেসব দৃষ্টান্ত
দিয়েই আবার একটু নতুন
করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করতে চাই সবাইকে।

হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধের
সময়ে সেনাবাহিনীর একজন সাধারণ
পদাতিক ছিলেন। জার্মানির পরাজয়ের
পর সেই লোক সেনাবাহিনীর
মধ্যে ঘুরে ঘুরে বলেছিলেন যে,
"আমি প্রতিশোধ নেব। এই অপমানের
প্রতিশোধ আমি নেবই।"

তাঁর এই প্রতিজ্ঞাকে সবাই সমর্থন
যুগিয়েছিল। সাধারণ এই সৈনিককেই
তাঁরা উৎসাহ দিয়েছিল কেবল
জাতীয়তাবোধ ও জাতিগত ঐক্যের
কারণে!

আমাদের দেশের কোন
আর্টিলারি সৈনিক যদি এমন কথা বলত
তবে আমরা নির্ঘাত
তাকে "হাতি ঘোড়া গেল তল,
আইছে আমার আব্দুল" বলে পাগল
আখ্যা দিয়ে এবং সাথে মাথায়
একটা চাটা দিয়ে তাড়িয়ে দিতাম।

কিন্তু ওটা কেবল জার্মানি বলেই হিটলার
নামক সাধারণ সৈনিকটাই নেতা হয়ে উঠল
এবং সারা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিল
জাতীয়তাবোধ কী!

জার্মান জাতি সম্পর্কে আরেকটু
বলতে হয়, ওদেশে প্রতিটি নাগরিকের
সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ গ্রহণ
বাধ্যতামূলক। ফলে প্রতিটি ব্যক্তিই
চলাফেরা, কথাবার্তা এবং আচার
আচরণে আত্মপ্রত্যয়ী, মার্জিত ও
ব্যক্তিত্ববান হয়ে ওঠে।

আমার স্বপ্ন যে, আমাদের
শিক্ষাব্যবস্থায় স্কাউটিংকে একসময়
বাধ্যতামূলক করা হবে। এবং দেশের
প্রতিটি সন্তানই সৈনিকদের
মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ, ব্যক্তিত্ববান
এবং আত্মবিশ্বাসী হবে।
এরা অযথা রাস্তাঘাটে হোঁচট খাবে না,
উদভ্রান্তের
মতো এখানে ওখানে ঠেলা খাবে না,
একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ জাতিতে পরিণত হবে।

একটা জাতি গঠনে শিক্ষাব্যবস্থার
অবদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের
শিক্ষাব্যবস্থাকে আমি এক কথায়
একটি ঘৃণিত
এবং অকেজো ব্যবস্থা বলে নিন্দা করি।
জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা দেখুন,
প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে কোন
পরীক্ষা নেই। কোন খটকা পড়াও নেই। এ
পর্যায়ে এরা কেবলই নিজের ভাষা ও
কালচার সম্পর্কে শিখবে। এদের শিক্ষার
মূলমন্ত্র হল, "আগে নিজেকে জানো,
নিজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জানো"।

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হবার পর এরা আর
কেতাবি শিক্ষার ধার মাড়ায় না। এদের
বাকি শিক্ষা সব কর্মমূখী।
প্রতিটি ছাত্রের জন্য একেকটি রোবট
এবং একটি করে টিভি সেট।
পরবর্তীতে এরা মেধা খাটায় দেশ ও
জাতির জন্যে। যে শিক্ষা জাতীয়
উন্নয়নে কাজে দেবে সেটাই তো চাই।
গোলাম কেরানি হলে দেশের ফায়দা কী?

ও দেশের আর্থিক বাজেটের সিংহভাগই
শিশুদের জন্য বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ
করা হয়। জোয়ান বা বুড়োদের জন্য ওদের
কোন মাথাব্যথা নেই। কেন
মাথাব্যথা নেই জানেন? কারণ কাল
ওরা কী খাবে সে ভাবনা আজ
থেকে পঞ্চাশ বছর আগের পূর্বপুরুষেরাই
ভেবে রেখে তাদের খাবার
ব্যবস্থা করে গেছে। আর আজ
যারা ক্ষমতায় আছে, তারা পদক্ষেপ
নিচ্ছে আরো একশো বছর পরের
জাপানী প্রজন্মের জন্য।অথচ আমাদের
ক্ষমতাসীন নেতারা ? এই জাপান
উন্নতি করবে না তো কে করবে?
হিরোশিমা আর নাগাসাকির
আঘাতে বিধ্বস্ত জাপান কত দ্রুত
মাথা তুলে দাঁড়িয়ে গেছে, খেয়াল
করেছেন!

এখন কি বুঝতে পারছেন, জাতীয়
চেতনা বলতে কী বোঝায়?

কাছের একটা উদাহরণ দেখাই, আমাদের
দেশে চিংড়ির চাষ হয়
এবং সে চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি হয়।
আমরা হৃষ্টপুষ্ট আস্ত চিংড়ির
শরীরটা প্যাকেটে ভরে বিদেশে পাঠাই
আর নিজেদের জন্যে রাখি মাথার
খোসাটা। সেই
খোসা পরে বাজারে বা ভ্যানগাড়িতে বিক্রি হয়
ত্রিশ চল্লিশ টাকা কেজি। চা পাতা এক
নম্বরটা রপ্তানি হয় বিদেশে। যেন
এটা খাওয়ার মতো যোগ্যতা বা অধিকার
এদেশীদের নেই! আমাদের গেলানো হয়
চার নম্বর কি ছয় নম্বরটা! কী আজব
আমাদের চেতনা!

বিদেশ হতে (বিশেষ করে কানাডা)
ছোলা বুট আসে যখন এদেশে, তখন বেশ
গুজব হয়েছিল যে ওটা ওদের দেশের
ঘোড়ার খাদ্য। সেটাই
আমাদেরকে পাঠিয়ে খাওয়াচ্ছে!
ভালোটা রাখছে ওরা নিজেরা খাওয়ার
জন্য। যে চাল আমরা চীন হতে আনি,
সেটা কি এক নম্বর? মোটেই না। এক
নম্বরটা খাবে ওরা নিজেরা। আগে ঘর,
ওদের কাছে, তারপর পর। অথচ আমাদের
দেখুন,
নিজেদেরকে আমরা নিজেরা ঠকাতে,
ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছি!

ময়ূখ চৌধুরীর কাছ
থেকে শোনা আরেকটি গল্প বলি এই
ভেজাল প্রসঙ্গে, এক
বাঙালি লন্ডনে সদ্য নাগরিকত্ব
পেয়ে বৌ নিয়ে উঠেছে। সেখানে তাদের
একটি মেয়ে হবার পর ওই নবজাতকের হয়
নিউমোনিয়া। আত্মীয়দের মধ্যে একজন
দেশ হতে টেলিফোনে উপদেশ দিয়ে বলল,
খাঁটি মধু
আঙুলে ভিজিয়ে বাচ্চাকে খাওয়া, কফ
ছেড়ে যাবে।

বেচারা তো দুপুরেই নেমেছে মধুর খোঁজে।
টেমস নদীর পার ঘেঁষে যে বিরাট
মার্কেট, সেখানকার প্রতিটি দোকান
সে তন্ন তন্ন করে খাঁটি মধুর খোঁজ
করেছে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
না পেয়ে তাকে খালি হাতেই
ফিরতে হয়েছে।

পরবর্তীতে সে লন্ডন প্রবাসী এক
বন্ধুকে বলে, "কী এক দেশে এলাম
এখানে সারাদিন খুঁজেও মধু পেলাম না!"

বন্ধু তো অবাক। এখানে মধু না পাওয়ার
কী আছে! হিসেব
মেলাতে না পেরে জিজ্ঞেস করল, তুই
কী বলে খোঁজ করেছিস?

বেচারা বলল, "আমি তো জিজ্ঞেস
করেছি, Excuse me, plz, have you got pure
honey?"

শুনে বন্ধুর তো চক্ষু চড়কগাছ। সে বলল,
"আরে বেকুব, তোর Honey দরকার তুই Honey
চাইবি। Pure honey কেন বলতে গেলি?
এটা কি বাংলাদেশ পেয়েছিস যে,
খাঁটি আর নকল খুঁজবি?"

ওরা মধু বলতে মধুই চেনে, ভেজাল মধু
যে হতে পারে এটা বলতে গেলে ওদের
ধারণাতেই নেই। ওদের
কাছে খাদ্যে ভেজাল
দেয়া মানে হচ্ছে জাতীর
বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা
র শামিল। অর্থাত তুমি এই জাতিকে ধ্বংস
করতে চাইছ বলেই খাদ্যে বিষ মেশাচ্ছ।
এবং সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়
শিশুখাদ্যে ভেজাল মেশালে। মৃত্যুদণ্ড।

সেখানকার পত্রিকা টিভিতে পণ্যের
বিজ্ঞাপন দিতে হলে আগে ওরা টেস্ট
করে দেখবে বিজ্ঞাপনে যেসব
কথা বলা হবে তার সব সত্য কি না। পাম
অয়েলকে সয়াবিন
বলে চালালে কোম্পানি তো যাবেই,
যে এই ভুয়া বিজ্ঞাপন বানিয়েছে ও
প্রচার করেছে তারও
কপালে খারাবি আছে। এরা বিষ
খাওয়াতে হয় অন্য কোন
জাতিকে খাওয়াবে,
নিজেরা খাবে সর্বোত্তম জিনিসটা।
স্বজাতির স্বার্থ এদের প্রত্যেক
কর্মকাণ্ডে প্রথম বিবেচনায় থাকে। এবার
তুলনা করে দেখুন, সে তুলনায় আমরা কী?
নৈতিকতার দিক দিয়ে আমরা ওদের
তুলনায় কোন অশ্লীল নর্দমায় আছি!

নরকের বাঙালি অগ্নিকূপের
গল্পটা আপনারা সকলেই জানেন,
সেটা বলে কথা বাড়াব না, আমার অন্য
আরো কথা আছে।

ফ্রেঞ্চদের জাতীয়তাবোধ
সম্পর্কে জেনে থাকবেন।
ওরা এবং জার্মানরা নিজের
ভাষা ছাড়া অন্য ভাষা কখনই বলবে না।
ফ্রেঞ্চদের
মতে ইংরেজি হচ্ছে চাষাভূষার ভাষা,
আর ফরাসি ভাষা রাজকীয় ভাষা!
দাবিটা একদম অহেতুকও নয়। অন্য
জাতিগুলোকে এরা এভাবেই দেখে।
জার্মানরা নিজেদের সম্পর্কে বলে, "Born
to be rulers!" সারা বিশ্বকে শাসন করার
জন্যই নাকি জন্ম এদের! এতটাই
উচ্চমুখী এবং উগ্র ধারণা!

বেলজিয়ান -ফ্রেঞ্চ বর্ডারের
কয়েকটি পথ আছে, যেগুলো শ্যাম্পেন রান
হিসেবে পরিচিত। এই
পথগুলো দিয়ে অনায়াসে দুই দেশের
মধ্যে পণ্য আসে যায়, তেমন কোন
চেকিংয়ের ঝামেলা হয় না। কারণ দুই
দেশই জানে যে, এদের জনগণ দেশের
স্বার্থ সম্পর্কে এতটাই সচেতন যে দেশের
জন্য সামান্য ক্ষতিকর কিছুও তারা এপার
ওপার করবে না।

জাতীয়তাবাদের উদাহরণ
এভাবে দিতে থাকলে পড়তে পড়তে আপনার
সারা দিন যাবে। এতসব কথার উদ্দেশ্য
একটাই, আমরা কেন পারছি না অমন সত
আর নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক ও
জাতীয়তাবাদী হতে?

এর কারণ দুইটি। এক. আমাদের আজন্ম
দারিদ্র্য, আর দুই. আমাদের কর্মবিমুখ
মানসিকতা।

আমরা দরিদ্র বলেই অন্ন বস্ত্রের সংকট,
খাবারের জন্য কাড়াকাড়ি, অতঃপর
মারামারি, খুনোখুনি, ছিনতাই,
রাহাজানি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির
অবনতি! আমরা ঘরে বসে টিভি দেখি আর
চেঁচিয়ে বলি, গেল, দেশটা রসাতলে গেল!
হ্যাঁ, দারিদ্র্য অবশ্যই নৈতিক অবক্ষয়ের
অন্যতম প্রধান কারণ, তবে অবক্ষয়ের
উতপত্তি মোটেই দারিদ্র হতে নয়। এই
সমস্যাটা মানসিকতার, চেতনাবোধের।

ব্যাখ্যা করি, আসলেই কি বাংলাদেশ
দরিদ্র? একজন রিকশাওয়ালার দৈনিক নিট
উপার্জন আটশো টাকা, একজন
চানাচুরওয়ালার দৈনিক কমপক্ষে দেড়
হাজার টাকা, একজন গার্মেন্ট্স শ্রমিকের
মাসিক বেতন সাকুল্যে চৌদ্দ হাজার
টাকা। কে গরীব এখন?
কে না খেয়ে থাকছে? জীবনযাত্রার মান
বেড়েই চলেছে, কিন্তু বাড়ছে না রুচি ও
চেতনাবোধ।

আপনি কাজ
না করে বসে থাকলে তো না খেয়ে থাকবেনই।
সে দোষ সরকারের নয়। সরকার
ঘরে এসে আপনাকে খাইয়ে দেবে না।
তবে হ্যাঁ, কর্মের সুযোগ ও ক্ষেত্র
তো করে দিতে হবে।

বিবিএ করেছে, ডিগ্রি পাশ করেছে অথচ
পরীক্ষায় খাতা ভরে লেখা ছাড়া এসব
শিক্ষার্থীর আর কোনই যোগ্যতা নেই।
এমন ছেলে জীবনে কী করে খাবে? এরকম
A প্লাসে ভাত জুটবে?

এদেশের প্রেক্ষাপটে কর্মমুখী শিক্ষার
প্রচলন দরকার ছিল একাত্তরের পর হতেই,
চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষই ছিল আমাদের জন্য
সঠিক নির্দেশনা। কিন্তু আফসোস,
তেনাদের টনক নড়েনি।

যে ছেলে মোটর ওয়ার্কশপ
নিয়ে পড়েছে সে জীবনে চাকরির জন্য
কারো দুয়ারে গিয়ে দাঁড়াবে না, রাস্তার
পাশে নিজেই একটা দোকান
পেতে জীবিকার ব্যবস্থা করে নেবে!
জীবন কত সহজ হত তবে! এদেশের
জনশক্তির প্রধান
বারোটা বাজানো হচ্ছে এই
অকেজো শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে। আমাদের
জনশক্তিকে এভাবেই বেকার ও দরিদ্র
করে রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেবার
কিছু নেই। বিনা পরিশ্রমে অন্যের
টাকা নিজের পকেটে আনার
মানসিকতা হয়ত সব যুগেই কিছু মানুষের
ছিল।

সম্ভবত লিংকন বলেছিলেন, আপনি গরীব
হয়ে জন্মালে সে আপনার দোষ নয়,
তবে আপনি একটা দীর্ঘ জীবন পাবার পরও
যদি গরীব থেকেই মরেন, তবে সে দায়
অবশ্যই আপনার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ইতিহাসে মাস্টার্স করা এক ছেলে গত
বছর বেকারত্বের যন্ত্রণায়
আত্মহত্যা করেছিল। অবাক হয়েছিলাম,
আরে ব্যাটা, তুই আর কিছু না হোক,
একটা গার্মেন্টসের
গেটে গিয়ে দাঁড়ালেও তো তোর
চাকরি হয়! জীবনে কিছু না কিছু
তো করতে হবে, এটাই একসময় বড়
হয়ে উঠবে। ব্যক্তিগত উন্নয়নের সমষ্টিই
তো জাতীয় উন্নয়ন।

যাইহোক, জাতীয়তা নিয়ে বলছিলাম,
আমাদের দেশের একটা বিশেষ গোষ্ঠীর
কথা বলি, এরা যদি নিজে কোথাও একটু
সুযোগ পায়, তবে যেভাবেই হোক,
চেষ্টা করবে অন্যদের সরিয়ে হলেও
নিজের জাতের
কাউকে ওখানে এনে ঢোকাতে।
এটা খারাপ না। এটুকু স্বজাত্যবোধ থাকাই
বরং ভালো।

আমাদের সন্দ্বীপের কথা বলি (আমার
বাড়ি কিন্তু সন্দ্বীপে নয়), এরা সব
ধনী এবং প্রবাসী। এদের মধ্যকার
স্বজাত্যবোধও অত্যন্ত ভালো। এলাকায়
যদি কেউ অসহায় থাকে, তবে সবাই
মিলে অনুদান বা ধার দিয়ে তাকেও
বিদেশ পাঠায় বা কাজ করে খাওয়ার
একটা ব্যবস্থা করে দেয়। এই
না হলে স্বজাত্যবোধ!

অনেক কথাই বললাম, প্রত্যেকের ধ্যান
ধারণা এবং মানসিকতা আলাদা হলেও
জাতীয়তার প্রশ্নে আমরা দল মত
ছাড়িয়ে এক হতে পারি। এ
ছাড়া উন্নতি অসম্ভব। আমরা ঠিক
হলে আমাদের নেতারাও ঠিক হতে বাধ্য।

:
শেষ কথা, আপনার সন্তানের চেতনায়
এখনই বপন করুন জাতীয়তাবোধের বীজ।
এখনই সময় একটি সচেতন প্রজন্ম সৃষ্টির।

জয় বাংলা! বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হোক!
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×