বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে রঙ মাখামাখির কোন রেওয়াজ মূলত ছিল না। এক হত বিয়ের পর্বে রঙ ছোড়াছুড়ি, কিন্তু সেটাও সংকীর্ণ পরিসরে, নিম্নবর্গীয় সমাজে। কোন সম্ভ্রান্ত পরিবারে রঙ মাখানোর মত হীন স্পর্ধা বা অভিরুচি কখনই হত না।
আমি পূব অঞ্চলের বিয়েতে রঙ মাখামাখিও দেখার অভিজ্ঞতা পেয়েছি, তবে সেটা বেশিরভাগই ছিল রসিকতার সম্পর্কীয় দাদী -ননদ - ভাবীদের রঙ কাদায় ঠাসাঠাসি, পুরুষদের এখানে অংশ নিতে দেখা যেত না, চক্ষুলজ্জা ও মানসম্মানের ভয়ে। দুঃসাহসিক দুয়েকজন থাকলেও তা বিশেষ দৃষ্টান্তযোগ্য নয়।
আমি এসব বেশ আগের কথা বলছি, বর্তমানে একটি বিয়েও পাওয়া কষ্টকর হবে যেখানে রঙ ছোড়াছুড়ি পর্ব পালন হচ্ছে। রুচি এবং উপযোগিতার প্রেক্ষাপটেই এটা বর্জিত হয়েছে। কারণ খুবই স্পষ্ট, এক. ভালো জামা কাপড়গুলো অযথা নষ্ট করবার কোন মানে হয় না, আর দুই. রঙ মাখামাখির ঘটনার ফল কোথাও কখনই ভালো হয়নি, প্রায়ই মারামারি বেঁধেছে, নয়ত ঝগড়া হয়ে থেমেছে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে এই এইটুকুই রঙ পাওয়া যায়। হোলি নামক রঙ মাখামাখির ব্যাপারটা কেবলই ভারতের, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও আসামে এর রেওয়াজ বেশি। হোলি মূলত বসন্ত উৎসব, এবং বাংলাদেশে এই উৎসব উদযাপনে মেলার আয়োজনের নজীর আছে রেওয়াজ হিসেবে। আর সামান্য কিছু পরিবার পাওয়া যায় যারা আত্মীয় স্বজন নিয়ে হোলির আয়োজন করত। অবশ্যই সেটা শালীনতা বজায় রেখে।
আমি যা বলছি এসব কোন হলফ করার বিষয়ও নয়। প্রত্যেকেই এটা জানেন।
সম্প্রতি আমাদের দেশে ভারতীয় হোলি ইম্পোর্ট করার চেষ্টা দেখা গেল, এবং এর নতিজাও সুস্পষ্ট। রাস্তাঘাটের যে কোন নারীর গায়ে হাত দেবার এই ব্যাপারটি কোন আনুষ্ঠানিকতা বা উৎসব কি আদৌ হতে পারে?? ভিডিও ফুটেজে আমরা পথচারী যযুবতীর ওপর কয়েকজন যুবকের রঙ মাখা হাত নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া এবং যত্রতত্র হাত দেবার অপচেষ্টাও দেখেছি, প্রতিবাদও দেখেছি, তারপর?
এই স্থুলতাটা কেন?
নিউজের রিপোর্টে দেখলাম, হোলির সার্বজনীনতা না কি যেন শিরোনাম, এবং সেটা কলঙ্কিত হয়েছে কতিপয় বখাটের উৎপাতে! তো সেই বখাটেদের চিহ্নিত করে কোন বিচারের আওতায় আনা হয়েছে কি?
হোলি হওয়া উচিত, যারা রঙ মাখাতে চায় কেবল তাদেরকেই নিয়ে। নিরীহ পথচারীদের কাপড় বরবাদ করা বা অচেনা অজানা মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া কেন??
অনলাইনে এর প্রতিক্রিয়ায় দেখলাম কেউ কেউ হিন্দুদের দোষারোপ করছে, এখানে হিন্দুদের দোষারোপ করার কারণ কী? পুরান ঢাকায় যারা হোলির নামে অশ্লীলতায় অংশ নিয়েছিল তারা কি সবাই হিন্দু ছিল??
মোটেই না! অতএব এই বিদ্বেষটাও উচিত নয়।
সর্বোপরি, এটা মোটেই আনন্দের ছিল না, বরং পুরোটাই হয়েছে নোংরামি। আমরা আশা করি না, একই নোংরামির পুনরাবৃত্তি পরের বছরগুলোতেও হোক।
যেখানে বিয়ে বাড়িতে পর্যন্ত রঙ মাখামাখি নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, সেখানে নতুন করে এই ফাজলামিটার আয়োজন বন্ধ করাই উচিত।
বাকি সিদ্ধান্ত প্রশাসনের, আমার প্রতিবাদ করার অধিকার আছে, আমি সেটুকু করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


