তৈয়ব আলীকে খুশি খুশি লাগছে৷ গলার স্বরে মনে হচ্ছে আনন্দের হারমোনিয়াম বাজছে৷ আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলেন, বলেন তো, চিকেন চাপ, চিকেন টিক্কা আর চিকেন গ্রিলের মধ্যে পার্থক্য কী?
আমি একটু ভ্যাবাচেকা খেলাম৷ বললাম, পার্থক্য তো কখনও খেয়াল করিনি, সবগুলোকেই তো আগুনে ঝলসানো মুরগি অর্থাৎ গ্রিলই মনে হয়৷ আলাদা আলাদা নামের বিশেষত্ব জানি না৷
তৈয়ব আলী বললেন, হুর ভাই, গ্রিল হইতেছে আস্তা মুরগিরে যখন শিকে গাঁইথা খাঁড়া কইরা ঘুরাইয়া ঘুরাইয়া পোড়ায়!
আমি বললাম, বাকিগুলোও তো সেইম ঝলসানোই, তাই না?
হ, ঝলসানো, কিন্তু টিক্কা হইতেছে কাবাবের মত মুরগির মাংসরে পিস পিস কইরা শিকে গাঁইথা রোস্ট করা, আর চাপ হইতেছে মুরগির বিশেষ বিশেষ পার্ট পিস করা, যেমন ধরেন রান, ডেনা, বুকের আলাদা আলাদা ভাগ- এইগুলা!
ভাই আপনি কী সব ইঙ্গিতময় বডি পার্টের বিবরণ দেওয়া শুরু করলেন, সেন্সরে আটকাবে তো!
আরে রাখেন আপনার সেন্সর, আসলটা তো এখনও কই নাই!
কী?
আপনের তালতো বইন মানে আমার ছোট শ্যালিকা বাসায় বেড়াইতে আসছে৷ বিকালে বাসার সবাই ঘুরতে গেছে জাম্বুরি পার্কে৷ আমি সন্ধ্যায় বাসায় আইসা দেখি বাসা খালি, কেউ নাই৷ আপনার ভাবীরে ফোনে পাইলাম না, দিলাম আপনার শালীরে ফোন...
আমার শালী?
আরে না, আমার শালী৷ দিলাম শালীরে ফোন৷ রিসিভ কইরা কয়, ঘুরতে আসছি, এখন চাপ খাইতেছি! আমি লা হাওলা পইড়া কইলাম, ঘুরতে গিয়া চাপ খাও মানে? তোমারে কেডা চাপে! আমি অক্ষণ আইতাছি, ধইরা রাখো অরে!
বুঝছি, এই সেই চিকেন চাপ?
হ, ভাই৷ বুঝেন হঠাত শুনলে কেমনডা লাগে!
দিলেন তো মাথার ভেতর দুষ্টুমি ঢুকিয়ে৷ শোনেন, আমি এবার আপনাকে আরেকটা চাপের কথা বলি৷ এক লোক লিফটে উঠছে, লিফটে অনেক ভীড়, সে দাঁড়িয়ে আছে দুই মহিলার মাঝখানে৷ এক মহিলা বিরক্ত হয়ে বলল, ভাই একটু চাপেন তো! লোকটা গদগদ হয়ে বলল, তা কাকে চাপবো, আপনাকে না উনাকে?
তৈয়ব আলী হো হো করে হাসছেন এবার৷ ভাই, এইডা কৌতুক তো শিওর? এইডার জন্য দেখেন এইবার আপনেই সেন্সর খাইবেন, শিওর৷ দেখেন পোস্ট দিয়া দেখেন....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

