হাসিন ভাই দিলো নস্টালজিয়া উস্কাইয়া! একলগে বহুৎ পুরাণা কাহিনি কিলবিল কইরা উঠলো চান্দিতে। হিসাব কইরা দেখলাম রাস্তার পাশের হোটেল গুলা জীবনের অনেকটা সময় - অনেকটা ভালো সময় ধারণ কইরা আছে। স্মৃতি ঘাটতে গেলে লাক্সারির ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা গুলা একেবারেই কোন আবেদন সৃষ্টি করে না। সেই দুর্দান্ত শৈশবে বন্ধু-বান্ধব আর খালাত-মামাতো ভাইবোনদের গ্রুপ ধইরা মোটামুটি গোপনে পুরি-সিঙ্গারা থিকা শুরু কইরা একেবারে গ্রেট জাহাঙ্গীরনগর পর্যন্ত দীর্ঘ স্মৃতি। পরোটা থাবড়ানোর দৃশ্য চোখের সামনে ভাসতাছে ..লগে এক হাফ ''মজক''।
আজিমপুরে নানীবাড়ি। আমার শৈশব ভর্তি আজিমপুরা। কাছাকাছি বয়সের খালাতো ভাইবোনরা দাপাইয়া বেড়াইছি বি.ডি.আর থিকা পলাশি। যাইহোক প্রসঙ্গে ফিরি। আশির দশকের প্রথমার্ধে যখন আজব বিল্ডিং এর পিছন দিকে কলোনির সীমানার দেওয়াল ভাঙ্গা ছিল...সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধের পর থিকাই ভাঙ্গা ছিল । সেই ভাঙ্গার পাশে একটা হালিমের দোকান ছিল। দেড় টাকা হাফ, তিনটাকা ফুল। তখন একটাকা জোগাড় করতে হইতো অনেক সাধনা কইরা। লগে আর আটআনা। পকেটে দেড়টাকা জমলেই দৌড়। ভয়াবহ মজার ছিল। তিনটাকার বাটিতে প্রায়ই এক পিছ নল্লি পাওয়া যাইতো। বয়সে একটু বড় খালাতো ভাই মাঝেমধ্যে নানা র্শত সাপেক্ষে খাওয়াইতো। বড় হইয়া বহুৎ হালিম খাইছি। কিন্তু ওই দোকানের মতো মজা আর কোথাও পাই নাই। ১৯৮৮/৮৯ এর দিকে কলোনির সীমানার দেওয়াল মেরামত হইলো। হালিমের গাড়ি গেলগা কমিউনিটি সেন্টারের টেনিস কোর্টের পাশে। ভৌগলিক পরির্বতনে কোয়ালিটিও গেলগা।
আজিমপুরের অনেক মজাই অবশ্য আমি বয়সে অনেক ছোট হওয়ায় করতে পারি নাই। আমার বড়ভাই আর খালাতো ভাইরা করছে। বিশেষ কইরা যারা ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুলে পড়ছে। ওয়েস্ট এন্ড স্কুলের পাশের অতিশয় চিপা গল্লি দিয়া কেল্লার দিক যাইতে মোড়ে একটা হোটেল ছিল। এখনো আছে। তবে অনেক বড় হইছে। সেইখানে পৃথিবীর র্সবশ্রেষ্ঠ বালুসাঁই পাওয়া যাইতো। আমি অবশ্য ওদিক কমই গেছি।'৮০র দশক শেষ হইতে হইতে আত্মীয় স্বজনরা ছড়াইয়া ছিটাইয়া পড়লো নানাদিকে। আজিমপুরের পাট উঠলো। শুধু নানা-নানী আর মামার কবরগুলা আছে।
ইংরেজী পড়তে যাইতাম ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুলের আশরাফুল হক স্যারের বাসায়। স্যারের গল্প কমুনে অন্যকোনদিন। স্যারের বাসা গণকটুলি। ট্যানারি থিকা বি.ডি.আর এর দিক আইতে চিপাচুপা ভর্তি হোটেল। সেইখানের এক হোটেলে ১৯৯১ থিকা ১৯৯৩-৯৪। কত যে খাইছি হিসাব নাই। জেনুইন প্রলেতারিয়ান রেস্টুরেন্ট। পরোটা+ভাজি+চা ৫ টাকা। ১০-১২ টাকায় গরুর মাংস বা মজক ম্যানেজ হইতো। বাখরখানির দাম ছিল তখন দেড়টাকা। এইটা অবশ্য ৯৩ এর দিকে একলাফে ৪ টাকা হইয়া গেছিলগা। আমারও আর তেমন যাওয়া হয় নাই।
এইবার আসি নিজেগো পাড়ায়। এইটা ক্লাস নাইন এর পরের কথা। এগুলা নিতান্তই সাধারণ মানের সাধারণ হোটেল। এইগুলাতে মূলত পুরি/সিঙ্গারা খাওয়া হইছে (ঝোল দিয়া)। সিরাজের হোটেলের পুরি ছিল মোটামুটি কাটাসুর থিকা মিতালী রোডের মধ্যে বেস্ট। কারণ এইখানকার ডাইলপুরিতে আসলেই ডাইল দেওয়া হইতো। অনেক পরে পাঠশালার গলির মাথায় মোশাররফ ভাই হোটেল খুলছিল। সেইখানে তেমন খাওয়া হয় নাই। কারণ হল থিকা বাসায় আসলে বাসার খাবারের দিকেই দৃষ্টি থাকতো। শংকরে ক্যাফে সমাহারেও কিছুদিন আড্ডা মারা হইছে ইন্টারের পরে। তবে সিরাজের হোটেলের মতো না। জার্মানীতে আসার আগের দিন সন্ধ্যায় শেষবারের মতো পুরি খাইছি ওইখানে।
জাহাঙ্গীরনগরের গল্প পরে কমু।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৩:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


