জাবির অনেক পোলাপানের বিশেষ কইরা যাদের বাসা ঢাকায়, তাদের একটা ক্রনিক আক্ষেপ ছিল খাওয়া-দাওয়া। ডেইরি ফার্মে নানা, রাজ্জাক, শামসু ভাই আর সাঈদের হোটেল আর প্রান্তিকের শিরোনামহীন তিনটা র্সবমোট এই ৬টা রেস্টুরেন্ট। এগুলাতে বিশেষ কইরা প্রান্তিকের গুলাতে খাওয়ার চেয়ে আড্ডা বেশী হইছে। খাওয়া বলতে মূলত চা আর পুরী-সিঙ্গারা। ভাত খাইতাম মাঝে মধ্যে ডেইরি গেটে রাজ্জাকের আর সাঈদের হোটেলে। ১৯৯৬ তে যখন জাবিতে ঢুকি , চোরাবালির সাথে বেশীর ভাগ বসতাম সাঈদের হোটেলে। দুপুরের খাবার প্রথম ২বছর প্রায় নিয়মিত খাইছি কেন্দ্রিয় ক্যাফেটেরিয়ায়। ওইখানেই পরিচয় ভাস্কর'দা এবং তাগো লাইনের সবার লগে। ক্যাফেতে তখন সকালের নাস্তা ছিল লুচি আর ভাজি। লুচিতে তেল একটু বেশী হইলেও ভাল্লাগতো। আর দুপুরে গরু+দেড় ভাত+ডাইল= ১২ টাকা কিংবা মুরগী হইলে ১৭ টাকা। বিরানি খাকতো মঙ্গলবার ২৪টাকা। তেমন সস্তা না। হলে রেগুলার হইয়া শুরু করলাম ডাইনিং। প্রথম প্রথম বিরক্ত লাগতো। পরে সেই বিখ্যাত ডাইলের ভক্ত হইয়া গেলাম। হলের ক্যান্টিনে খাইলেও ডাইনিং থিকা ডাইল আনাইতাম। ডাইনিং এ মাছ-মাংস যাই থাক একপিসের বেশী দিতো না। সুতরাং ডাইলটারেই কায়দা কইরা সুস্বাদু বানাইয়া নিতে হইতো। প্লেটে ডাইল নিয়া লগে একটু লেবু,লবণ আর কাঁচামরিচ ডইলা দিতাম চুমুক। যারে কয় পরান ভইরা খাওয়া। ডাইনিং এ খাওয়ার পরে বিড়ি খাওয়া ফরজ ছিল। অনেক ননস্মোকারেও নিয়মিত ডাইনিং এ খাইয়া চেইন স্মোকার হইতে দেখছি।
থাকতাম মীর মশাররফ হোসেন হলে। এ আর বি ব্লকের দুইটা অতিবৃহৎ সাইজের ডাইনিং। এক কোনায় মেসও চলতো। এ-ব্লকে সাঈদের মেস, বি ব্লকে কালুর মেস। এ-ব্লকের ছাদে ইকবালের মেস (ক্যালিফোর্নিয়া নামে সমধিক পরিচিত)। ১৯৯৯তে কোপ খাইয়া ক্যাম্পাসে ফেরার পর থিকা শেষ র্পযন্ত কালুর মেসে খাইছি।
কালু প্রসঙ্গে মনে পড়লো। র্সবমোট ৩জন কালুভাই ছিল জাবিতে। এম.এইচের কালুভাই, কামালুদ্দিনের কালুভাই আর কলাভবনের কালুভাই। তিনজনের লগেই প্রচুর স্মৃতি। এম.এইচ হলের কমনরুমে যাওয়ার সিড়ির গোড়ায় ডানে-বামে দুইটা দোকান। হালিমভাই আর শহীদভাই এর দোকান। হালিমভাই দোকান নিছে আমরা ক্যাম্পাসে ঢোকার কিছুদিন আগে। তার আগে সেইটা ছিল কালুর দোকান। কালুভাই এর সারাজীবনের আক্ষেপ ওই দোকান হারানো। যাই হোক। দোকান হারাইয়া প্রথমে শুরু করলেন মেস। চললো না। তারপর এম.এইচ গেটে দোকান। ওইখানে খাইছি অনেক। মোস্টলি সকালের নাস্তা আর রাত্রের খাবার। ১৯৯৯ এর গ্রীষ্মের বন্ধের পর সেইটাও গেলো। একই সমস্যা। ভালোবেসে অনাদায়ী বাকি। তারপর ডেইরি ফার্মে নানার হোটেল। এইটা লাটে উঠলো ১মাসে।সুতরাং ব্যাক টু এম.এইচ.। তারপর আবার মেস। এইবার কাম হইলো। এইখানেই খাইছি শেষ র্পযন্ত। কালু রানতো ভালোই। তবে ওর মুরগীভুনা জাবিতে বেস্ট। এইটা ইকবালের মেসের বোর্ডাররাও স্বীকার করতো। তবে কালু সহজে মুরগীভুনা করতে চাইতোনা। কারণ তরকারি ভালো হইলে পাব্লিকে ভাত বেশী টানে। মেসে যেহেতু ডাইনিং এর মতো ডাইল আর ভাত আনলিমিটেড সুতরাং কেউ যাতে হিসাবের বাইরে না টানতে পারে। ভাতের হিসাব করতে গিয়া হুজুরগো ঢুকতে দেয় নাই মেসে। কারণ কালুর মতে হুজুররা ভাত বেশী খায়। আমি একদিন জিগাইলাম কাহিনি কি? কয়, এই হুজুরগুলা সকালে ২ পিছ ব্রেড খায়। চা-সিরকেট খায় না, বিকালেও কোন নাস্তা খায়না। দুপুরের আর রাত্রের খাবারটারে জীবনের একমাত্র হাউস হিসাবে নেয়। যাই হোক। মাঝে মধ্যে ফিস্টের আয়োজন করাইতাম আমরা পটাইয়া। তাতে গেস্ট অ্যালাউড তবে ৫ টাকা বেশী দিয়া। এই মেস ২০০৩ এ প্রথমবার জার্মানীতে আসার আগেও দেখছিলাম। কিছুদিন আগে এই ব্লগেই শুদ্ধ শঙ্কর সিদ্ধার্থর কাছে শুনলাম কালু এর পর আরো অনেক কাহিনি করছে।
কামালুদ্দিন হলের কালুভাই দক্ষব্যবসায়ী। আমার কিছু বন্ধু-বান্ধব ছিল ওইখানে। দুই ব্লকের মাঝখানে দোকান। প্রধাণ আকর্ষণ সকালের নাস্তা। ডাইল-ভাত-আলুভর্তা। লগে ইচ্ছা করলে ডিমভাজা। ডিমসহ ১৫টাকা। খুবই সিম্পল মেনু। তবে খাইতে সেরম মজা। এইখানে খাইছি ক্যাম্পাস ছাড়ার আগের কয়েকমাস।
কলাভবনের কালুভাই এর কাছ থিকা মূলত চা আর সিগারেট খাওয়া হইছে। ১৯৯৮ এর প্রথম ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের পর রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক চাপাবাজীর আড্ডাগুলা ক্যাফেটেরিয়া থিকা কলাভবনে শিফট করে। চা-সিগারেট সেইখানে ফরজ। ভাত খাওয়ার টাকা না থাকলেও চা-বিড়ি খাওয়া হইতোই। এই কালু ভাই বাকি দেওয়ার বিষয়ে খুবই সতর্ক ছিলেন। উনার ব্যবসাও জমজমাট ছিল। ২০০২ এর মাঝামাঝি কলাভবন শিফট করার পরের কাহিনি আমি জানিনা। মাহবুব মোর্শেদ বলতে পারবো।
প্রান্তিক-চৌরঙ্গী বিষয়ে পরবর্তী পোস্ট কামিঙাপ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৩:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


