ঈশাণ বায়ূ অগ্নি নৈঋত ২০০
আকীহরে ও আকীছিরে
মোবাইলে অতিকথন, আসক্তি ও ঘন ঘন মোবাইল ব্রাউজিং এর পাশাপাশি বিপরীত রকমের প্রবণতাও লক্ষ্যণীয়।
মোবাইলে সাড়া না দেয়ার এই প্রবণতা মানসিক রোগ বলে সনাক্ত। জাপানী আদলে এর নাম "আকীহরে"।
আমার পরিচিত অনেকেই এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
এই রোগের লক্ষণগুলো কতকগুলো দৃশ্যমান ও কতকগুলো অনুভবযোগ্য।
এই রোগাক্রান্তরা সাধারনতঃ মোবাইল ফোন খুবই কম ছোঁয়। ফোন রোগাক্রান্তদের ভাষ্যমতে চার্জ থাকে না বা সাইলেন্টে থাকে।
ফোনের প্রতিউত্তর কখনো আসে না। রোগাক্রান্তদের কাছে রিং দিলে সেই রিং অনবরত বাজতে থাকে, ধরা হয় না। আবার অনেক সময় ঘ্যাচাং করে কেটে দেওয়ার আলামত পাওয়া যায়।
রোগের মাত্রা নির্ভর করে অর্থনৈতিক / ব্যবসায়িক / চাকুরীর ষ্টাটাস / সামাজিক / রাজনৈতিক উর্ধ্বগামীতার উপর।
যেমন আমার এক বন্ধু যতদিন বেকার ছিলো ততদিন সকাল বিকাল দুপুর সারাদিন ফোনে জ্বালিয়ে মারতো। ষ্টার্ন্ডাড চার্টাড ব্যাংকে চাকুরী পাওয়ার পর তাকে মোবাইলে পাওয়া যায় না।
আরেক বন্ধু সিটি ব্যাংক এন এ তে ঢোকার পর তার মোবাইল ডেড হয়ে গেছে।
বন্ধু হুমায়ূন ট্রান্সর্পোট সমিতির সভাপতি হওয়ার পর তার মোবাইলে চার্জ থাকে না।
বন্ধু রিপন চায়না ইম্পোর্টার হওয়ার পর মোবাইল হ্যাং হয়ে গেছে।
বন্ধু সালাইদ্দিন বাংলাদেশ ব্যাংকে উচূঁ পদে যাওয়ার পর কারো মোবাইল নাম্বার চিনতে পারে না তাই ধরেও না।
আরো অনেক বন্ধু আছে যাদের ফোন ওয়ান সাইডেড হয়ে গেছে অর্থাৎ তাদের প্রয়োজনে আমার ফোনে ইনকামিং হয়।
জাপানী ভাষার এই রোগ - আকীহরে। (আমি কী হনু রে)
প্রতিষেধক - জাপানীরাই আবিস্কার করেছে - আকীছিরে। (আমি কী ছিলাম রে)। ভূক্ত ভোগী এমন ব্যবস্থা নিবেন নিজের বুদ্ধি মতো যাতে ঐ রোগাক্রান্ত বন্ধু আকীছিরে হয়ে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


