somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছিটমহল

২১ শে মে, ২০১২ রাত ৩:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কাঁটাতারের কোনো বেড়া নেই। খুঁটি কিংবা সীমানা পিলার খুঁজতে চাইলেও লাভ নেই। দেখা মিলবে না কোনোটারই। তার পরও মানুষগুলো চারদিক থেকে বন্দী। চাইলেই যখন-তখন যেভাবে খুশি বের হওয়ার উপায় নেই। রাস্তা বলতে কোথাও জমির আল ধরে চলা। আবার জলাভূমি থাকলে তার ওপর তৈরি হয়েছে বাঁশের সাঁকো। ভূমি থাকলেও দেশের ওপর অধিকার নেই। বাংলাদেশ ও ভারতে এ ধরনের ১৬২টি ভূখণ্ড রয়েছে, যার মধ্যে ভারতের ১১১টি ভূখণ্ড বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশের ৫১টি ভূখণ্ড রয়েছে ভারতে। ছুটে যাওয়া বলেই হয়তো এসব ভূখণ্ড পরিচিত ছিটমহল নামে। আর ‘ছিটের মানুষ’ নামে পরিচিত ছিটমহলের অধিবাসী।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে বাংলা ও পাঞ্জাবের সীমারেখা টানার পরিকল্পনা করেন লর্ড মাউন্টবেটন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্রিটিশ আইনজীবী সিরিল রেডক্লিফকে প্রধান করে সে বছরই গঠন করা হয় সীমানা নির্ধারণের কমিশন। ১৯৪৭ সালের ৮ জুলাই লন্ডন থেকে ভারতে আসেন রেডক্লিফ। মাত্র ছয় সপ্তাহের মাথায় ১৩ আগস্ট তিনি সীমানা নির্ধারণের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এর তিন দিন পর ১৬ আগস্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় সীমানার মানচিত্র।

কোনো রকম সুবিবেচনা ছাড়াই হুট করে এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি যথাযথভাবে হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, কমিশন সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তা আর জমিদার, নবাব, স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও চা-বাগানের মালিকেরা নিজেদের স্বার্থে দেশভাগের সীমারেখা নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে। আর উত্তারিকার সূত্রেই উপমহাদেশের বিভক্তির পর এই সমস্যা বয়ে বেড়াচ্ছে দুই দেশ।

১৯৫৮ সালের নেহেরু-নুন চক্তি অনুযায়ী বেরুবাড়ীর উত্তর দিকের অর্ধেক অংশ ভারত এবং দক্ষিণ দিকের অর্ধেক অংশ ও এর সংলগ্ন এলাকা পাবে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী বেরুবাড়ীর সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভারতের অসহযোগিতায় তা মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলে বেরুবাড়ীর দক্ষিণ দিকের অর্ধেক অংশ ও এর ছিটমহলের সুরাহা হয়নি।

এরপর সাতচল্লিশের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির পর দুই দেশ ছিটমহলের আলাদা আলাদাভাবে তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে। কিন্তু দুই পক্ষের তালিকায় দেখা দেয় গরমিল। পরে ১৯৯৭ সালের ৯ এপ্রিল চূড়ান্ত হয় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ও ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল রয়েছে।

এখানে বলে রাখা ভালো, ১৯৫৮ সালে সই হওয়া নেহেরু-নুন চুক্তিতে ছিটমহল বিনিময়ের উল্লেখ থাকলেও এ ব্যাপারে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সে দেশের সংবিধানের ১৪৩ ধারা সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চান। তখন আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবিধানের সংশোধনীর মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হবে। পরে ভারতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে সংবিধান সংশোধনী আর জনগণনার অজুহাতে বিলম্বিত হয়েছে ছিটমহল বিনিময়।

অবস্থান:
বাংলাদেশে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলের আয়তন ১৭ হাজার ১৫৮ একর। ভারতে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের আয়তন সাত হাজার ১১০ একর।
ভারতীয় ছিটমহলগুলোর বেশির ভাগই রয়েছে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। এসব ছিটমহলের ৫৯টি লালমনিরহাটে, পঞ্চগড়ে ৩৬টি, কুড়িগ্রামে ১২টি ও নীলফামারিতে চারটি।

ছিটমহল মানে ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের আর বাংলাদেশের ভেতের ভারতীয় ভূখণ্ড। আবার এমনও আছে, বাংলাদেশের ভেতরে ভারত, তার ভেতরে আবার বাংলাদেশ। যেমন কুড়িগ্রামে ভারতের ছিটমহল দাশিয়ারছড়া। দাশিয়ারছড়ার ভেতরেই আছে চন্দ্রখানা নামের বাংলাদেশের একটি ছিটমহল।
বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের অবস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। ৪৭টি কুচবিহার এবং চারটি জলপাইগুড়ি জেলায়।


একনজরে ছিটমহল:
১৯৪৭ সালে রেডক্লিফের মানচিত্র বিভাজন থেকেই উদ্ভব ছিটমহলের। এক দেশের ভূখণ্ডে থেকে যায় অন্য দেশের অংশ। উদ্ভব হয় এক মানবিক সমস্যার।

১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা সীমান্ত চিহ্নিতকরণ চুক্তিতে বলা আছে, ভূমি বিনিময়ের সময় লোকজন যেখানে থাকতে চাইবে, সেখানেই তাদের থাকতে দেওয়া হবে।

১৬২ টি ছিটমহল আছে দুই প্রতিবেশী দেশে। এর মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল আছে বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতে।

৫১০০০ জনসংখ্যা রয়েছে এসব ছিটমহলে। সাম্প্রতিক জনগণনা অনুযায়ী, ভারতের ছিটমহলের লোকসংখ্যা ৩৭ হাজার। বাংলাদেশের ছিটমহলের লোকসংখ্যা ১৪ হাজার।

২৪২৬৮ একর ভূমি নিয়ে দুই দেশের ছিটমহল। তার মধ্যে ভারতের ১৭ হাজার ১৫৮ একর। বাংলাদেশের ছিটমহলের জমির পরিমাণ ৭ হাজার ১১০ একর।




































সূত্র: ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১২ রাত ৮:২৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পথেঘাটে -৩

লিখেছেন সামিয়া, ১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২



পার্কের বেঞ্চে আমাকে একলা বসে থাকতে দেখে এক মলিন জীর্ণ শীর্ণ দেহের মহিলা অনুমতি চাইলো বসার জন্য, বসেন বলার পর মহিলাটা নির্ধারিত দূরত্বে সসম্ভ্রমে বসে আমার দিকে তাকিয়ে এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আবোল তাবোল ইচ্ছে মনে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০৩


ইচ্ছে করে গড়ে তুলি
হাঁস মুরগির এক খামার,
শ' কবুতর পালার ইচ্ছে
বুকের ভেতর আমার।

ইচ্ছে করে পুকুর জলে
ছাড়ি মাছের পোনা
জল পুকুরে সাঁতার কাটি
হয় যে স্বপ্ন বোনা।

ইচ্ছে করে বিড়াল রাখি
বাইরে রাখি কুকুর,
শালিক ময়না রাখি... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতীয় নির্বাচনের আগেই ঢাকায় নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩০


বাংলাদেশের রাজনীতি যখন এক মহাসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই ঢাকার রাজপথে পা রাখলেন এক পরিচিত মুখ—ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ঘড়ির কাঁটা বলছে সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যা। শীতের কুয়াশা মোড়ানো শাহজালাল আন্তর্জাতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুভি "হক" : ডিভোর্সীর হক আবার কি জিনিস, খায় না মাথায় দেয়! :P

লিখেছেন সোহানী, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫



একটা ঘটনা শেয়ার করি। আমার কলিগ মারিয়া, মধ্য বয়সী সিঙ্গেল মাদার। চৈাদ্দ ও সাত বছরের দু'টো বাচ্চা তাঁর। স্কুল জীবনের সুইটহার্টের সাথে পনেরো বছর সংসার করার পর ডিভোর্সের পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা ও খোকার রাজ্যপাট

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪১


নদীর তীরে কাশের বন সেথায় ছোট্ট কুঁড়েঘর,
আমি থাকি মা-ও থাকে আর কেউ নেই আপন-পর।

ঘরের পাশে বাঁশের বন তার ওপারে সুদূর মাঠ
সেই মাঠেতে কাটে দিন সভা-সদ বিহীন রাজ্যপাট।

শান্ত শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×