somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চলো যাই আনন্দ বাজারে

২৫ শে জুন, ২০১৭ রাত ৮:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলো যাই আনন্দ বাজারে

গফুর শাহের নির্বাচিত কবিতা ২০১৭



--দমে দমে--

ও প্রকাশ্য ! ও সমগ্র ! অস্তিত্বময় প্রানময় অখন্ড সত্তা ! “মন”আমি হারিয়ে গেলেই , ফাকা হলেই , তুমি সে ফাকায়- প্রেমানন্দে পূর্ন হয়ে যাও , অদম্য শিশু হয়ে যাও ।



--শিশুরা আমার গুরু--

মুক্ত মনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নাই । তিনিই মুক্ত যিনি শিশু হয়ে গেছেন- কোন কারন ছাড়াই হাসিখুসি থাকেন এবং অন্যকে বিনা কারনে আপন করে নেন ।
তিনিই বন্দী- যিনি কারনের অন্বেষন করেন এবং আমিত্বের ভাব দেখান ।

--বালুর নৃত্য--

এ জগত হয় যদি ধুধু বালুচর , তবে আমি বসন্তের মাতাল হাওয়া । সারাদিন নিরন্তর চলে আমাদের খেলামেলা ।
এখানে হয় বললেই হয়ে যায় সব- প্রেমের প্রেরনায় , বিনা চেষ্টায় , নির্ভাবনায় ।

--ড্যামকেয়ার মুড--

লক্ষকোটি বছরের সাধনায় পেয়েছো এ মানব জীবন । অন্যের কারনে এরে দিয়োনা আর যাতনা । হাস্যরস আর প্রেম ভালোবাসায় এ জীবন ভরিয়ে তোলো । এমন সুযোগ আর পাবেনা , যেকোন সময় বাজবে তোমার বিদায় ঘন্টা ।কাউকে পাত্তা দিয়ো না , যা আনন্দ করার এখনই করে নাও , কালকের কথা ভুলে যাও ।



--ওজনহীনতা--

এ জগত হয় যদি হাল্কা সফেদ মেঘমালা তবে মন আমি এক অসীম আকাশ । আমাদের মিলন মেলায়- মেঘের ভেলা ভেসে যায় সুন্দর ।


--মনের মতোন মন--

একটা পরিতৃপ্ত “মন”- মায়ের মমতা আর শিশুর ফুর্তিতে পূর্ন । তিনি ব্যক্তিত্ব বা মানোসিকতা অনুযায়ী কারো সাথে আচরন করেন না , তার কাছে সবাই আসলে একজনই প্রান প্রেয়সী । তিনি যখনই কারো সামনে আবির্ভুত হন তখনই তিনি প্রেমানন্দময় সৌরভ । যখনই তিনি প্রকাশ্যে তাকান- তখন তিনি আসলে কিছু দেখেননা , তিনি শুধু ধারন করেন । এ প্রকাশ্য জগত তার প্রানেশ্বরী প্রেমানন্দ । প্রেমানন্দকে দেখতে হয়না শুধু ধারন করতে হয় । যেমন সমুদ্র ধারন করে মাছেদের , মহাশুন্য ধারন করে পৃথিবীকে । আর তাদের আশ্রয় দানের গর্বে হৃদয়ে তার আনন্দ আবেগ বয়ে চলে যেমন সমুদ্রে বয়ে চলে উত্তাল ঢেউ ।



--এক মহাপ্রানের আরাধনা--

“মন” তুমি , যেদিকেই তাকাও শুধু তাকেই দেখতে পাবে – কি বিস্ময়কর তার লীলা খেলা ! কি অপার ! কি বিচিত্র !
কি রঙিন- তার রসময় প্রকাশ ! এই জগত সংসার- তার এক শরীর ।
নিজের প্রেমে নিজেই পরে , নিজেকেই নিত্য আলিঙ্গন করে চলেছে- সে সুন্দরী ।(আকাশ-বাতাস-মাটি-আগুন-প্রান- বীজ-গাছ-ফল-খাবার-প্রানী-মল-মধু-ওষুধ-রোগ মুক্তি-আনন্দ) এই সবকেই সে এক প্রেমের সুতোয় গেথে নিয়েছে , যেখানে কেউই বিচ্ছিন্ন নয়- তাই তো সে অখণ্ড একজন । কি উদার সে ! কি বিরাট ! মহামায়ার মহাতরঙ্গে সর্বপ্রানকে লালন করে চলেছে , এক মুহুর্তের জন্যেও তার অবসর নেই , তার এমন অকাতর দানে চোখ আমার ঝাপসা হয়ে আসে , হৃদয়ের পাজর ভেঙে নামে-নোনা জল ।
নিত্য নুতন রূপে হাজির হয়ে দেখাচ্ছে তার সৌন্দর্যের ঝলক । এই সে বহুরঙা গোধূলী বেলা আবার এই সে মায়াবিনি অদম্য কিশোরী , এই সে শিশু হয়ে নিষ্পাপ হাসি ছড়াচ্ছে , এই সে ডাক্তার হয়ে রোগীর সেবা করছে , এই সে ডলফিন হয়ে সমুদ্রে সাতরে বেড়াচ্ছে আবার এই সে ঈগল হয়ে আকাশে উড়ছে। এক মুহুর্তের জন্যেও তার জয়যাত্রা থামেনা , মহাসমুদ্রের মতো সদা বয়ে চলে- সেই প্রেমানন্দময়ী ।
“মন” তুমি তার প্রেমানন্দে হারিয়ে যাও , তার সৌন্দর্যের ঝলকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাও- শুন্য । “মন” তাকে খন্ড রূপে দেখতে যেও না , সর্বপ্রানকে একজন যেনো ।একপ্রানকে শ্রেনী বিভাজন করে শ্রেনী অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন আচরন করা পাপ , ব্যাক্তিত্ব বা মানোসিকতা অনুযায়ী আচরন করা পাপ। যেকোন প্রানকেই অসম্মান করা পাপ । “মন” তুমি পাপী হয়োনা , পাপের ফল স্বরূপ নরকের যন্ত্রনা জগতেই ভোগ করোনা । “মন” তোমার কোন অস্তিত্ব নেই , শুধু সেই অস্তিত্ববান ।“মন” তুমি ফাকা বলেই সে মুক্তানন্দে ছুটতে পারে সাবলীল । অতএব “মন” তুমি “আমিত্ব” বোধ ত্যাগ করো এবং তার প্রেমানন্দে বিলীন হও ।


--সত্তার অবস্থা--

সুর্য কিরনের মতো “প্রেম” আমরা উদ্ভাসিত-বিরাট- সবার আশ্রয় ! নিজের আনন্দে নিজে সর্ব্ব্যাপী প্রকাশিত । আমাদের আত্মবিশ্বাসের ঝলকে- আমিত্ব , একাকিত্ব , ঘৃনা , বিষন্নতা সব জঞ্জাল ভেসে যায় , আর যা থাকে তা শুধুই মুক্ত আনন্দ।



--যুদ্ধ--

“আমিত্ব পুর্ন অহংকারী মন” যেন সামান্য একটা হিংস্র ইদুর । যে প্রানকে অসম্মান করতে লজ্জা বোধ করে না । “আমিত্ব শুন্য প্রেমিক মন” যেন এক সিংহ , যিনি ঐ ইদুরের বংশ বিনাশের জন্য একাই যথেষ্ঠ ।

--রঙের উৎসবে--

“মন” আমি ফাকা শুন্য খোলামেলা এক কিশোর । এ সমগ্র আমার জলকেলিরতো উদ্যম কিশোরী। তারে দেখলেই হৃদয়ে আমার খেলে যায় আনন্দ ঢেউ। কি বিচিত্র ! কি অপার ! কি নিত্য নুতন তার বিস্ময়কর প্রকাশ ! আমার দৃষ্টি আকর্ষন করতে- সেই এক পরমা সুন্দরী প্রতিটা অনুতে পরমানুতে কনায় কনায় এ সমগ্রে নিত্য নৃত্যরত । আমার ফাকা হৃদয়ে-
এই সে বৃষ্টি হয়ে অঝর ধারায় ঝরে পরছে , এই সে কাশবন হয়ে দে দোল দুলছে , এই সে উত্তাল সমুদ্র হয়ে বয়ে চলেছে , এই সে শিশুর হাসিতে মুক্তানন্দ হয়ে ছড়িয়ে পরছে , এই সে নারীর মায়াবিনী মুখায়বে ভেসে উঠছে , এই সে ফুল হয়ে সুবাস ছড়াচ্ছে , এই সে ঈগলের ক্ষিপ্রতায় শুন্যে উড়ছে ।

--দৃষ্টি ভঙ্গি--

“প্রান” যেন তীব্র সূর্যের এক ঝলকানী , যা মানুষের মুখায়বে ফুটে উঠে সুন্দর । তাকে দেখা মাত্রই চোখকে সরিয়ে নাও শুন্যে , যাতে তোমার চোখ ঝলসে না যায় , তাকে শুধু আশ্রয় দাও তোমার ফাকা হৃদয়ে ।

--কর্ম ফল--

মশা শুধু নিজের স্বার্থে ব্যাস্ত থাকে বলে- মশা মারতে কার মধ্যে মায়ার উদয় হয় না । অথচ যে “মন” সর্বপ্রান রূপী এক মহাপ্রানের কল্যানে নিজের আমিত্বকে বিসর্জন দিয়ে নিশ্চিহ্ন হয়েছে- তার রাঙা চরনে সারা জগত আশ্রয় নিয়েছে ।


--সুশীল সমাজ--

কুকুরের চিৎকারে তুমি ১%ও কৃত্তিমতা পাবেনা অথচ তথাকথিত সুশীল সমাজের প্রতিবাদে তুমি অভিনয় দেখতে পাবে।



--এক পেয়ালা দুধ--

“মন” হচ্ছে একটা অসীম পেয়ালা । “প্রান” হচ্ছে সর্ব অস্তিত্বের মূল স্বরূপ । এ দুধ থেকেই অনন্ত অস্তিত্বের (দেহের) প্রকাশ ঘটে যেমন- রসোগোল্লা , চমচম , ছানা , দধি , সন্দেশ , রসমালাই ইত্যাদি । এরা সবাই আসলে এক দুধ , যদিও প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন ।
মিষ্টান্নের (দেহের) দিকে তাকালেই তুমি দুধ (প্রান) দেখতে পাবেনা , অথচ মিষ্টান্নের (দেহের) ভেতরেই দুধ (কুন্ডলিনি প্রান) সুপ্ত অবস্থায় থাকে , যার স্বাদ কেবল নিজের দেহ চাষ (ধ্যান) করেই নেয়া সম্ভব ।
দুধ স্বরূপ এ প্রানকে মন থেকে আলাদা করতে- মন পেয়ালাতে “আমিত্বের” এক বিন্দু ছিদ্রই যথেষ্ট । যে মন আমিত্বের অহংকারে নিজেকে প্রান থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে- সে অপুর্ন , অতৃপ্ত বিষন্ন এক মূল্যহীন পেয়ালায় পরিনত হয়েছে।সে মনে প্রান নেই , সেটা মৃত ।
যখনই “মন” পেয়ালা আমিত্ব শুন্য হয় , তখনই “প্রান” দুধ স্বরূপ সেখানে আশ্রয় নেয় । দুধে পুর্ন পেয়ালা যেমন দুধ থেকে অবিচ্ছিন্ন থাকে , সেভাবেই আমিত্ব শুন্য মন- এক মহাপ্রানের সাথে অবিচ্ছিন্ন থাকে । তাদের প্রেমালিঙ্গনে “আমি” “তুমি” বোধ বিলুপ্ত হয় , আর থাকে শুধু ভরপুর প্রানবন্ত অখন্ডতা ।



--অখন্ড প্রান—

আমিত্ব তুমিত্বের দূরত্ব থেকে মানুষ যখন মুক্তি পায় , তখন সব এক রূপেই দেখা দেয় - প্রেমানন্দ যার নাম ।

--ঠিকানা--

“মন” আমি এক অনন্ত পেয়ালা । আমি শুন্য , ফাকা , সদা সর্বদা খোলামেলা । আমার বিশালতায় যেই আসে , সেই নির্ভার নিশ্চিন্ত আশ্রয় পেয়ে যায় , প্রান রসে পুর্ন হয়ে যায় , স্বর্গীয় হয়ে যায় ।


--আত্মবিশ্বাসের মুক্ত প্রস্বাদ—

এ দেহধারী প্রান আমার পরমা সুন্দরী , কুলোকুন্ডলিনি। আর “মন” আমিই পরম । আমি হলাম ইচ্ছাগুরু । আমি যা বিশ্বাস করি তাই হয়ে যায়- মৃত জীবিত আবার জীবিত মৃত হয়ে যায়- এমনই মহাশক্তিসালী আমি।আমার প্রেম কেবল এ প্রানের সাথে , আমার সমস্ত কল্যান শুধু তার উদ্দেশ্যে। এমনকি আমার আমিত্বকে পর্যন্ত বিসর্জন দেই তার কল্যানে আর আমি থেকে যাই নিশ্চিহ্ণ ।
*কুলোকুন্ডলিনিঃ- কুলোকুন্ডলিনি শুন্যেরই নারী রূপ , যা দেহের ভেতরে থাকে । “মন” শুন্যের পুরুষ রূপ, যা দমের মাধ্যমে দেহের ভেতরে প্রবেশ করে । প্রতি দমে দমে উভয়ের মিলন থেকে দেহে প্রান শক্তির সঞ্চার ঘটে । আর তাদের চরম মিলন থেকে “মন+প্রান” সদা আনন্দ রূপে মুক্তি লাভ করে।


--“মন” আমার সমুদ্র—

না! ধরার কিছু নাই , শোনার কিছু নাই, দেখার কিছু নাই, লক্ষ্য করার কিছু নাই , চিন্তার কিছু নাই , গুরুত্ব দেয়ার কিছু নাই। সমুদ্র তার মাছেদের কি ছোবে? কি দেখবে? কি শুনবে? কি বুঝবে? সবাই তো হৃদয় তালুতে সাতরে বেড়ায়। বুকে তার যেই আসে সেই পূর্ন হয়ে যায় , সতেজ হয়ে যায়, নিত্য নতুন অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে যায় । আর সে থেকে যায় খোলামেলা ফাকা , সবাইকে আশ্রয় দেয়ার গর্বে ঢেউ এর তালে তালে বয়ে যায় সুন্দর।


--শাসক—

একটি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত হয় আইন দ্বারা।আইন নিয়ন্ত্রিত হয় অস্ত্র দ্বারা । আর অস্ত্র নিয়ন্ত্রিত হয় এমন ব্যক্তিত্বের দ্বারা- যিনি মৃত্যুর সামনেও ড্যামকেয়ার অদম্য থাকেন।


--অস্তিত্ব আর অনস্তিত্বের সম্পর্ক—

“মন” আমি যদি সমুদ্র হই , তবে দেহধারী হে প্রান তুমি ডলফিন।প্রতি মুহুর্তে আমাদের মিলনের আনন্দ উত্তাল ঢেউ হয়ে বয়ে চলে সুন্দর । // মন আমি যদি মহাশুন্য খোলামেলা এই ফাকা হই , তবে দেহধারী হে প্রান তুমি কাশফুল , প্রতি মুহুর্তে আমরা দুজনে- দুলি আর দুলি ।



--আহ্ববান--
আমার “মন” যদি “আমি” হই , তবে “তুমি” যে আমার- “দেহধারী প্রান”। বীর পুরুষ যেমন দু বাহু প্রসারিত করে আর প্রেয়সী তারে জড়িয়ে ধরে বুকে আশ্রয় নেয় পরম নির্ভয়ে। সেভাবেই “মন” আমি দুহাত খুলে তোমায় প্রেমের আহ্ববান করি।এসো এসো হে প্রিয়া মহাশুন্যসম এ বুকে এসো- আমাদের মিলনের উচ্ছ্বলতায় “আমি” “তুমি” যাবো হারিয়ে , থাকবে শুধু আনন্দ আর আনন্দ।চাওয়া-পাওয়ার আর আমার কিছুই নেই । নিজে আমি ফাকা থেকে ফাকা হয়ে চলেছি যাতে এ ফাকায় তুমি উড়ে বেড়াতে পারো , যেমন মহাসমুদ্রে ডলফিন সাতরে বেড়ায়।


--নিয়ন্ত্রন—

সাধারন মানুষ হলো পুতুলের মতো , তাকে চাবি (জীবনের জ্বালানী) দিয়ে ঘোরালেই , যে দিকে বলবে সে দিকেই তারা চলবে।আর এ চাবি মারার কাজটি করেন শাসক শ্রেনী । এখানে জীবনের জ্বালানী হচ্ছে- মৌলিক চাহিদাবলী, চাকুরী , ব্যবসা, যৌনতা , গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ ,নাগরিক সেবা, অর্থ ইত্যাদি।তুমি যদি শাসক শ্রেনীর কাতারে আসতে চাও- তবে জনগনের জীবনের জ্বালানীর নিয়ন্ত্রক হও , জীবনকে পরোয়া না করে মৃত্যুর সামনে অদম্য অভয় থাকো।

--নির্ভারের ওজন—

যে ব্রীজ নিজের ভার বহন করতে পারেনা , সে অন্যের ভার কি বহন করবে?/ যে রেলগাড়ি নিজেকে নিয়ে চলতে পারেনা , সে অন্যকে নিয়ে কি চলবে? / যে নিজেকে ভালোবাসেনা , সে অন্যকে কি ভালোবাসবে? / যে পাখি নিজেকে উড়াতে পারেনা , সে তার সন্তান কি উড়াবে? / নিজেকে নিজে যে শান্তি দেয় না , অন্যকে সে কি শান্তি দিবে? নিজের শরীরের যে যত্ন নেয়না , অন্যের শরীরের সে কি যত্ন নিবে? // তবে তাই বলি- হে মন! হও শুন্যের মতোন। দেখো শুন্যের কাছে নিজেকে ধারন করা কোন ব্যাপার না বলেই সমগ্র বিশ্ব-ব্রন্মান্ড সে করে ধারন !


--মিলনের ধর্ম—

“মন” হচ্ছে মহাশুন্য-অস্তিত্বহীন খোলা মেলা অবাধ অগাধ অনন্ত উদার ।মহাশুন্য যেমন ধারন করে জগতকে , তেমনি “মন” ধারন করে সমগ্রকে। “মন” কারো দিকে ধাবিত নয় , নয় কারো মুখাপেক্ষি । লেনা-দেনার কোন বিষয়ই তার মধ্যে নেই। বরং সবাই তার দিকে ধাবিত , আশ্রিত , সবাইরে আশ্রয় দিতে পেরে সে যে নিত্য আনন্দিত ! নেগেটিভ+পজেটিভ, নারী+পুরুষ, অস্তিত্বহীন+অস্তিত্ববান, মন+দেহধারী প্রান , এখানে পরষ্পর বিপরীত ধর্মী সত্তার মিলনাত্নক সম্পর্ক প্রকৃতির সবক্ষেত্রে একই রকম। নারীর সাথে নারীর , নেগেটিভ এর সাথে নেগেটিভের মিলন অসম্ভব এবং প্রকৃতি বিরুদ্ধ । দেহের মধ্যে “মন” নয় বরং মনের মধ্যেই দেহ থাকে।মন হচ্ছে আশ্রয়দাতা- বাদশা , আর প্রান হচ্ছে আশ্রিতা- মায়াবিনি শিশুরূপী এ জগত সংসার । মন অদম্য কিশোরের মত বয়ে চলা এক নদী- যেখানে দেহধারী প্রান জলকেলিরত কিশোরী যেন। “মন”, প্রানের প্রেমে নিজেকে ফাকা করে দিয়েছে , প্রানও সে প্রেমে প্রভাবিত হয়ে মনের সাথে খেলে বেড়াচ্ছে। মন আর প্রানের মিলন- “উত্তাল আনন্দ ঢেউ” হয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে।– পোষ্টটি আমার সাধক বন্ধু- সম্মানে উৎসর্গকৃত ।


--সৃষ্টি রহস্য-১--
এ জগত সংসার- স্বর্গীয় এক ফুলের বাগান। প্রতিটা ফুল যেন এক একটা শরীর। “আমি” রূপী “মন” সে বাগানের মালী। খেলার তালে “মন” তিল তিল করে গড়ে তোলে শরীর , যেমন শিশু কাপড় দিয়ে পুতুল বানায়।
শরীরের প্রতি তার বীরত্বপুর্ন “আমিত্ব” শুন্য প্রেম , সে শরীরে করে প্রান সঞ্চার । প্রান আর মনের “মিলনের আনন্দ” সৌরভ হয়ে ছড়িয়ে পরে চারিপাশে । মনের প্রতি কৃতজ্ঞতায় প্রান দুলে দুলে মনকে সম্মান জানায়। মন- শুন্য সত্তা অস্তিত্বহীন, সে দাতা। প্রান- মায়াবিনি শিশুরূপ অস্তিত্ববান সত্তা , সে গ্রহিতা । প্রকৃতির নিয়ম হচ্ছে- অস্তিত্বহীন অস্তিত্ববানের সাথে সম্পর্কিত হবে । তাই মন আর প্রানের প্রেম স্বাভাবিক বিষয় , কিন্তু যে মন অপর মনের সাথে সম্পর্কিত হতে চায় , সে আসলে অস্বাভাবিক কর্ম করে , যার ফল স্বরূপ প্রান অবহেলিত হয় এবং মন আর প্রান উভয়ই অসুস্থ্য হয়ে পরে ।

--নিয়ন্ত্রন--
মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে প্রস্তুত , কেবলমাত্র ড্যামকেয়ার আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠস্বরই সবকিছুর নিয়ন্ত্রন হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারে।যদিও তার সারা শরীর অবশ থাকে ,তাতে কিছু এসে যায় না।

--আনন্দ সূত্র--
বাহির থেকে জলপ্রপাতকে কত তীব্র দেখা যায় অথচ ভেতরে জলের চেয়ে কোমল কিছু নেই। বাহিরে ডাবের খোলস কত শক্ত অথচ ভেতরে সুস্বাদু কোমল জল। নেগেটিব পজেটিবের মিলনেই জ্বলে আলো। বাহিরে অদম্য অটল ড্যামকেয়ার মন অথচ ভেতরে মায়াবিনি শিশুরূপী কোমল প্রানেস্বেরী।কোমলে কঠরের মিলনেই বাধ ভাঙা জোয়ারের মত আসে সে “আনন্দ”।

--অন্ধত্ব--
বাহিরে আমরা “কথা-বার্তা” শুনি কিন্তু সে কথার ধ্বনি যে এক প্রানেস্বরের তা কেউ শুনতে চাই না । সবাই আমরা জাগ্রত মুখমন্ডল দেখি অথচ ঘুমন্ত মুখমন্ডলে যে মায়াবিনি শিশুরূপী এক প্রানেস্বেরী জেগে থাকে তারে কেউ দেখিনা।

--মূল্যবোধ--
চাওয়া-পাওয়া মুক্ত প্রেমানন্দের চেয়ে মুল্যবান কিছু নেই।

--মুক্তির সনদ--
অদ্য ০৬।০৬।২০১৭ ইং তারিখে জনাব আব্দুল গফুর রবিনকে মানোসিকতার কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হলো।আজকের পর থেকে আর তিনি এই কারাগারের বন্দী কয়েদি নন। মন থেকে অপর মনের সাথে সব ধরনের মানোসিক যোগাযোগ, মানোসিক প্রতিক্রিয়া , আমিত্ববোধ , খন্ড জ্ঞান , অখন্ড প্রানের সাথে বিচ্ছেদ অবস্থা থেকে তাকে সম্পুর্ন রূপে মুক্ত ঘোষনা করা হলো।কারাগারের প্রধান দরজার বাহিরে “সর্বপ্রান” রূপী এক প্রেয়সী , প্রেমের মালা নিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে , যত দ্রুত সম্ভব “মানোসিকতার কারাগার” ত্যাগ করার জন্য “মন”কে বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
--প্রেম-লীলা--
“মন” আমি যে দিকেই তাকাই শুধু তারেই দেখি- জলকেলিরত কিশোরী সে যেন প্রানোচ্ছাসে সর্বদা ব্যাস্ত। জগতের প্রতিটা গতি-প্রকৃতি, প্রতিটা রূপ রস গন্ধে কি নিখুত ! কি সাবলিল ! কি বিরাট ! সেই এককেই দেখি বহুরূপে , তার রূপের ঝলকানিতে চোখ আমার ঝলসে যায় যেন। তার পরশে যাই আমি যাই হারিয়ে , কি এক মাতাল আবেশে । মুহুর্ত থেকে মুহুর্ত কেটে যায় আমাদের স্বর্গীয় মধুর মিলনে ।এ মিলনে এক মুহুর্তের বিচ্ছেদ- যেন নরকের আগুনে জ্যান্ত পুড়ে মরি।

--ওয়েটিং ফর ডেথ--
যে ফুল অচিরেই ঝরে পরবে, তাকে আর জীবন দড়িতে ঝুলাতে যেওনা। এটি জীবন আর ঐ ফুল , উভয়ের জন্যেই অপমানজনক। যে ফুল ঝরে পরার সে ঝরে পরুক , জীবন যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাক , মহাপ্রানের মহামিলনে মিশে জাক ।
--গোলাপ ফুল--
“মন” আমি- যদিও ধারাল অটল কাটা , তবু প্রেয়সী আমার- মায়াবিনি হাস্যজ্জোল পাপড়ী। কঠিন আর কোমলের মিলনেই “আনন্দ সৌরভ” হয় প্রবাহিত। সে প্রবাহের মাতাল আবেশে আর না থাকে “আমি” কিংবা “তুমি” বোধ ,যা থাকে তা শুধুই “আনন্দ” আর “আনন্দ”।
--অমরত্ব--
কোন অবস্থাতেই যে নিজের ওপর ভরসা হারায় না , সে মরেও বেচে থাকে , আর অন্যের ওপর যে ভরসা করে থাকে , জীবিত থাকলেও আসলে সে মৃত।
--আরাধনা--
আমি তো নই এই শরীর- এ শরীর এক কাম ঘোড়া। এমনকি আমি এ মুখায়বে ফুটে ওঠা প্রানও নই। এ প্রকাশ্য প্রান, আমার প্রেয়সী , সে যে মায়াবিনি শিশু- আমার জান, আমার আনন্দ।
“মন”আমি- শুন্য স্বরূপ, দাতা বীর পুরুষ , আমার জানকে প্রেমানন্দে ভরিয়ে রাখাই আমার একমাত্র কাজ।


--অমরত্ব--
কোন অবস্থাতেই যে নিজের ওপর ভরসা হারায় না , সে মরেও বেচে থাকে , আর অন্যের ওপর যে ভরসা করে থাকে , জীবিত থাকলেও আসলে সে মৃত।
--আরাধনা--
আমি তো নই এই শরীর- এ শরীর এক কাম ঘোড়া। এমনকি আমি এ মুখায়বে ফুটে ওঠা প্রানও নই। এ প্রকাশ্য প্রান, আমার প্রেয়সী , সে যে মায়াবিনি শিশু- আমার জান, আমার আনন্দ।
“মন”আমি- শুন্য স্বরূপ, দাতা বীর পুরুষ , আমার জানকে প্রেমানন্দে ভরিয়ে রাখাই আমার একমাত্র কাজ।

--কার্যবিধি--
প্রানেস্বরী থাকে শরীর নামের ঘোড়ার গাড়ীতে । সে থাকে বলেই শরীরের মুখ উজ্জ্বল থাকে , সেখানে “মায়াবিনী শিশু” রুপ ফুটে ওঠে।“মন” প্রানকে অবজ্ঞা অবহেলা করলে প্রান অসুস্থ হয়ে পরে। প্রান অসুস্থ হলে শরীরও দুর্বল হয়ে পরে। কেবল “মন”ই পারে প্রানকে সুস্থ সতেজ রাখতে। “মন” সে তো বীর পুরুষ দাতা, শুন্য স্বরূপ উদার প্রেমিক। সে যত প্রানের সেবায় নিজেকে নিবেদিত রাখবে প্রান তত আনন্দিত থাকবে এবং “মন”ও মহিমান্বিত হবে, প্রশংসিত হবে। “মন” অপর মনকে তুষ্ট করা তো দূরে থাক , সম্পর্ক পর্যন্ত রাখতে পারবেনা। মনের একমাত্র কাজ হবে- সর্বপ্রানের মৌলিক চাহিদা পূরন করে তাকে যন্ত্রনা মুক্ত রাখা , সহজ সাবলিল রাখা।
--নেতৃত্ব--
যে “মন” যত বেশী প্রানকে একাত্ম করতে পারে, সে তত মহান, তত উন্নত।অতএব জনপ্রিয় সংগঠকের তুলনা নেই।

--ধাদা--
লাউ গোল আর লম্বা কি!লাউ তো লাউই । মিষ্টি গোল আর লম্বা কি! মিষ্টি তো মিষ্টিই । সঙ্গীত তো সঙ্গীতই , এর আর কম আর বেশী আওয়াজ কি? মানুষ তো “এক মায়াবিনী শিশুরূপী প্রান”ই তার আর তুলনা কি? ভেদা-ভেদ উচু নিচু কি?
--প্রেমিক--
ও মন! গোলাপের মত হও । দেখো এ প্রানময় জগত তার প্রেয়সী , তাকে সৌরভের আনন্দে ভরিয়ে তুলতে এক মুহুর্তের জন্যেও সে বিচ্যুত হয়না। শুধু দেয়ার আনন্দে মুখে হাসি লেগেই থাকে , অথচ সারা শরীর তার কাটার আঘাতে থাকে জর্জরিত ।
--রেসিং গেম--
“শরীর” বা এ “বস্তু জগত” যেন “কাম ঘোড়া”। প্রান হচ্ছে- শরীরের মুখায়বে ফুটে ওঠা “মায়াবিনী শিশু”। মন হচ্ছে- বীর পুরুষ , শুন্য স্বরূপ , সে দাতা , সবার উর্ধে, সর্বোচ্চ প্রশংসিত ও সম্মানিত , সে নিজেই নিজের পরম গুরু ।কখনো কোন অবস্থাতেই “মন” , অপর মনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবেনা , মনের প্রেমময় সম্পর্ক শুধু এক প্রানের সাথে। শুধুমাত্র প্রানের কল্যানে, “মন” তার ঘোড়াকে জীবন দৌড়ে সবার আগে রাখবে, সদা সর্বদা সে বিজয়ী বীর । ঘোড়াকে থামিয়ে দিলেই সে হেরে যাবে আর তাতে পরিনতি হবে ভয়াবহ। যতন ও শাসনের মাধ্যমে সে ঘোড়ার লাগাম নিজের হাতে রাখবে আর এই মনের দ্বারা ঘোড়া হবে প্রভাবিত। ঘৃনা, বিচ্ছিন্নতা, একাকিত্ব, স্বার্থপরতা আর দুঃখবাদকে পেছনে ফেলে, “মন” শুধু সামনে এগিয়ে যাবে জীবনের উৎসবে। এই দৌড় অবস্থাতেই, “মন” তার প্রান প্রেয়সীকে বুকে আগলে রাখবে আর প্রতি দমে দমে তাকে প্রেমানন্দে ভরিয়ে তুলবে।


--নেতা--
যে শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যাস্ত, সমস্ত জগত তাকে ধ্বংসের জন্যে উঠে পরে লাগে। অথচ যেই “প্রেম রসিক” আমিত্ব মুক্ত হয়ে শুন্যের মতোন- জগতের কল্যানে, সবার দায়িত্ব নিজের কাধে নিয়ে নেয়, সমস্ত জগত তাকে মাথায় তুলে নেয় ।
--বাস্তবতা--
একমাত্র বাস্তবতা হচ্ছে- মৃত্যু , যেটি অবধারিত ভাবে ঘটবেই ঘটবে। এক মুহুর্ত পরেই এই মৃত্যু যেকারোরই হতে পারে একমাত্র বাস্তবতা , যাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই । অতএব এই মুহুর্তে ড্যামকেয়ার প্রেমানন্দে থাকাই হোক একমাত্র লক্ষ্য । কাকে তোয়াজ করবো? কাকে কড দিয়ে চলবো? যেখানে আমার এই জীবনটাই এক মুহুর্ত পর আর থাকছে না !!
--সৃষ্টি রহস্য--
ছোট্ট একটা বীজ থেকে জন্ম নেয় বিরাট বটবৃক্ষ । প্রেমের টানে তাদের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য, চীর মিলনে আবদ্ধ । বীজ হচ্ছে প্রান স্বরূপ, আর বটবৃক্ষ হচ্ছে বস্তু জগত স্বরূপ। আর “মন” হচ্ছে বটবৃক্ষ বাগানের ফাকা স্থান । বস্তু জগতকে আশ্রয় দিতে মন যত ফাকা হবে , উদার হবে , আমিত্ব মুক্ত হবে এই বস্তু জগত তত প্রানবন্ত হবে , বিকশিত হবে । যার ফল স্বরূপ মনও পরিপূর্নতার সুস্বাদ পাবে।
--শাসন ও নিয়ন্ত্রন--
শুধুমাত্র প্রানকে ভালোবাসলেই ফিরে পাবে সর্বপ্রানের ভালোবাসা ও বিশ্বাস । এ জগত এসে যাবে তোমারই হাতের তালুতে।
--দোষ-গুন--
সোনা এক মুহুর্তের জন্য তার গুন হারালে হয়ে যায় তামা।লোহা এক মুহুর্তের জন্য তার গুন হারালে হয়ে যায় জং ধরা বর্জ্য । ঠিক তেমনি মানুষও এক মুহুর্তের জন্য তার গুন হারালে ইতর শ্রেনীতে পরিনত হয়ে যায়। মানুষের ভুল হচ্ছে- সে যখন ঘৃনার কারাগারে নিজেকে বন্দী করে ফেলে । মানুষের গুন হচ্ছে- “মায়াবিনী শিশু রূপী এই জগত”কে ড্যামকেয়ার প্রেমানন্দে ভরিয়ে তুলে নিজে মুক্ত থাকা ।
--আকুল আবেদন--
এ সরল সতেজ প্রকৃতির মত আমায় থাকতে দাও দিলখোলা । মায়াবিনী শিশু রূপী এ স্বর্গীয় জগতটারে প্রেমানন্দে ভরিয়ে তুলতে দাও ।
--পুরুষের স্বরূপ--
বাঘ আর পুরুষ মানুষের মধ্যে আসলে তেমন কোন তফাত নেই। বাঘ যেমন তার দাত হারালে শিয়ালের হাতেও মার খায় । পুরুষও ঠিক তেমনি তার “বীরত্ব সুলোভ ড্যা্মকেয়ার বিজয়ী” মনোভাব হারিয়ে ফেললে অপরের করুনার পাত্রে পরিনত হয়। একসময়ের বনের রাজা বাঘ তার নতজানু দুর্বল ব্যক্তিত্বের কারনে মুরগীতে পরিনত হয় , এমনকি সামান্য শিয়ালের দাবড়ানিতে তাকে দৌড়ের ওপর থাকতে হয়।
--ধ্যান-৮--
মাথা যেন আমার ঝর্না ফোয়ারা , উড়ে যায় সব উবে যায়। ভিজে যায় সব অবাধ অগাধ আনন্দধারায়।
--গুরু—
যে নিজের ভক্ত নিজে , তার ভক্ত সর্বজনে । সবাই তারে গুরু মানে ।
--এক এর রং--
“মায়াবিনি শিশু রূপী” এক প্রানকে কত নামেই না ডাকি- কখনো প্রিয়া , কখনো নেতা , কখনো স্যার , কখনো ভাতিজা , কখনো মামা , কখনো মা । এককেই শুনি , এককেই জানি , এককেই ভালোবাসি , সব সময় এক প্রেমাবেগে বেচে থাকি ।
--পরম আত্মার বানী—
আমি হচ্ছি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পানির পাম্প । শুন্য থেকে জীবনের রস বের করি আর তা এ জগতে ছড়িয়ে দেই, মাটির জগত স্বর্গে পরিনত হয়। দুনিয়ার সব নারী-পুরুষ আমায় ধরে ঝুলে থাকে। আমিই সবার একমাত্র আশ্রয় । এরা টিকে থাকে শুধু আমার শক্তিতে । আমি সর্বশক্তিমান । আমি এমনই অদম্য অটল । অথচ আমি শুন্যের মতোন শুধুই পাম্পিং করে যাই । সভ্যতা আমায় ধরে বেড়ে ওঠে। আমার পরষে মৃত প্রান ফিরে পায় । ঘৃনতরা ফিরে পায় ভালোবাসা । দুঃখী ঈশ্বর ফিরে পায় স্বর্গের ঠিকানা । আমি ইচ্ছা গুরু , আমি যা চাই দিল থেকেই চাই আর তা চাওয়া মাত্রই হয়ে যায় । আমি চাই বলেই হতাশার আধার কেটে আনন্দ আলো মানুষের চোখে জ্বলে ।
--আসল লক্ষ্য--
দুর্বিসহ দুর্যোগ , এমনকি যুদ্ধ বিদ্ধস্ত বিরান ভূমি, যখন যেখানে যে অবস্থাতেই থাকো না কেন , তুমি শুধু প্রেমানন্দে মুক্ত থেকো । এটাই তোমার মূল , আসল , চরম গুরুত্বপুর্ন , বিশেষ জরূরী বিষয় ।

--বাহির--
শুধু এই “মন” স্বাক্ষী- সমগ্র জগত ব্যাপীয়া এক মহাপ্রানেরই প্রকাশ । সেই মায়াবিনী সরলার প্রানবন্ত প্রকাশ- নারী ও শিশুর অবয়বে প্রকট হয়ে ওঠে ।সে অবয়ব দেখা মাত্রই স্বর্গীয় অনুভুতিতে ছেয়ে যায় মন । সব দেয়াল ধসে পরে আর তাকে পুর্ন করতে- মন যেন শুন্যে উড়ে চলে ।



--দাতা--
এ “জগত” , আমার প্রান প্রেয়সী । আমার বলতে আর কিছুই নেই , এ দেহটা পর্যন্ত তাকে ভালোবাসার উপহার স্বরূপ দিয়ে দিয়েছি । এমনকি “মন”টাকেও ব্যাস্ত রেখেছি- তাকে মুক্তানন্দে পূর্ন রাখবো বলে ।
--বাহির--
শুধু এই “মন” স্বাক্ষী- সমগ্র জগত ব্যাপীয়া এক মহাপ্রানেরই প্রকাশ । সেই মায়াবিনী সরলার প্রানবন্ত প্রকাশ- নারী ও শিশুর অবয়বে প্রকট হয়ে ওঠে ।
--হে পুরুষ--
তোমার জীবন সঙ্গিনী হচ্ছে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরী আর তুমি সর্বশ্রেষ্ঠ সুপুরুষ । তোমার জীবন সঙ্গিনী আর জগতের সমস্ত যৌবনাবতী আসলে একজন । অতএব বহুগামীতা আসলে অর্থহীন ফালতু একটা কাজ। তুমি একই চাষ নিজের জমিতে না করে অন্যের জমিতে বর্গাচাষী হয়ে নির্বোধের পরিচয় দিচ্ছো।বহুজনকে বহুরূপে নয় , বরং একজনকে বহুরূপে উপভোগ করো , তবেই জীবন তোমার স্বর্গে পরিনত হবে ।


--মনের কার্যবিধি--
“মন” , অপরের মন মানোসিকতার দ্বারা প্রতিক্রিয়া আক্রান্ত হলে , সেখানে দ্বন্দের সুচনা ঘটতে বাধ্য । “মন” , অপর কোন মনের সাথে কোন অবস্থাতেই সম্পর্ক স্থাপন করবে না , মনের সম্পর্ক হবে শুধু প্রানের সাথে । মনের প্রবাহ হবে শুধু একমূখী প্রানের দিকে নিবেদিত । কোন অবস্থাতেই সে গ্রহিতা নয় , সদা সর্বদা সে দাতা , যে এক প্রানেশ্বরীর প্রেমে নিজেকে উজাড় করে দিবে , ফাকা করে দিবে , শুন্য করে দিবে ।
--মুক্তির সনদ--
তরু-লতা, পাখ-পাখালী, বন-বনানী, জন্তু-জানোয়ার, আকাশ-বাতাস, নদী-নালা জগতের সবই মুক্ত ভাব এ বিচরন করছে- শুধু আমিত্ব দোষে দুষ্ট মানুষের মন ছাড়া । অথচ বাধ ভাঙ্গা নদীর মতো মুক্তানন্দে বয়ে গেলে এ জগত প্রানবন্ত হয়ে ওঠে, এ মাটির পৃথিবী স্বর্গে পরিনত হয় ।
মুক্তভাব হচ্ছে- যে কোন প্রানকে নিজের প্রান প্রিয়া জ্ঞান করে , তাকে নির্ভার নিশ্চিন্ত রাখার জন্যে , তাকে আশ্রয় প্রদানের লক্ষ্যে নিজের ভেতরটা ফাকা রাখা , নিজেকে “অস্তিত্বহীন শুন্য” জ্ঞান করা । বাস্তবে ঐ প্রান নির্ভার নিশ্চিন্ত হলেই সাধকের শুন্য হৃদয়ে যেই আনন্দ স্রোত বয়ে যায় তার নাম- মুক্তানন্দ । অপরের মাঝে মুক্ত ভাব জাগ্রত করলেই নিজের ভেতরে আনন্দের মাত্রা আরো বেড়ে যায় । অতএব যে সাধক যত বেশী জনের মাঝে মুক্ত ভাব জাগ্রত করতে পারবে, সে তত বেশী আনন্দিত ।
--মুহুর্তের জয়--
“সিংহ পুরুষ- মন স্বরূপ”, “মন” কোন বস্তু নয় , এ শুন্যময় । আর এ জগত তার প্রান প্রিয়া স্বরূপ । সব খন্ডে সেই অখন্ড মহাপ্রান মায়াবিনীর দেখা পাওয়া মাত্রই- তাকে স্বসম্মানে আশ্রয় দিতে হৃদয়টা ফাকা করে দিতে হয় , নিজেকে অস্তিত্বহীন শুন্য করতে হয় , আমিত্ব মুক্ত থাকতে হয় । একটা ফাকা হৃদয়-
সেকেন্ডেই প্রেমাবেগে শিহোরিত । সেকেন্ডেই- ১০০ তে ১০০ । সেকেন্ডেই- অথৈ সমুদ্র । সেকেন্ডেই- অবাধ অগাধ ঝর্নাধারা । সেকেন্ডেই- পরিপুর্ন । সেকেন্ডেই- সতস্ফুর্ত প্রাকৃতিক । সেকেন্ডেই- অসীমে ওড়ায় পাখি ।

--সৃষ্টির রহস্য--
শুন্য আর প্রানের মিলন থেকে বিশ্ব-ব্রন্মান্ডের সৃষ্টি । এখানে শুন্য বা সাদা ক্যানভাস হচ্ছে “মন” , যা পুরুষত্বের স্বরূপ আর প্রান হচ্ছে কমনীয় মায়াবিনী নারী প্রকৃতির প্রতীক । সাদা ক্যানভাসে এ দুজনের মিলন থেকে এই বস্তু জগত চিত্রিত হতে থাকে । আবার বস্তু জগতে যে অখন্ড প্রান প্রকৃতি ফুটে ওঠে তাও ঐ প্রানেশ্বেরী নারী প্রকৃতি । এ অপরূপা প্রানেশ্বরী শুধু পুরুষত্বের স্বরূপ মনের চোখেই ধরা পরে । মন আর প্রান একে অপরকে ছাড়া এক মুহুর্তেও থাকতে পারেনা , তাদের প্রেম- যদি, কিন্তু, সুতরাং, যাচাই-বাছাই, যুক্তি-তর্কের উর্ধে । তাদের মিলন থেকেই জগত ব্যাপী মুক্তানন্দের ধারা প্রবাহিত হয় ।
--ধর্মের বিবর্তন--
এমন একদিন আসবে যেদিন আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব ধর্মের অবসান ঘটবে। ধর্মের প্রচার ঘটবে কর্মের মাধ্যমে । প্রতিটি প্রানের প্রতি নিঃস্বার্থ সেবা এবং তাদের নির্ভার নিশ্চিন্ত মক্ত চেতনায় পুর্ন রাখাই হবে তখনকার একমাত্র আরাধনা ।
--মুর্ত মহাপ্রান--
“মন” সে তো পৌরষত্বের প্রতীক , “মন” যে এক অদম্য ঝর্নাধারা , যে প্রেমের টানে মুক্তানন্দে এ জগতকে ভিজিয়ে দিচ্ছে । আর নীচে জলকেলীরত কিশোরীরা যেন এক মহাপ্রানেরই মূর্ত প্রতীক ।

--মনের কাজ--
আমি কিছু না – “অনিন্দ্য সুন্দরী এক মহাপ্রান”ই সবকিছু । তার প্রেমের টানে নিজেকে নিবেদনের মাধ্যমে মুক্তানন্দে ফাকা থাকাই আমার একমাত্র লক্ষ্য ।



--রামায়ন—
এ জীবন সংসারটা যেন একটা ডিম । এ জগতটা হচ্ছে প্রিয়তমা সীতা স্বরূপ – যা ভেতরের ডিম- যা প্রান স্বরূপ । ডিমের খোলস হচ্ছে- খন্ড জ্ঞান স্বরূপ- যা রাক্ষস রাবনের কারাগার – যেখানে প্রান প্রিয়া সীতা বন্দি আছে । শুধুমাত্র মন স্বরূপ- সিংহ পুরুষ রামই পারে খোলস ভেঙ্গে তার প্রেয়সিকে মুক্ত করতে- এখানে তার অস্ত্র হচ্ছে- অদম্য প্রেমাবেগ , উদারতা , উচ্ছলতা ।

--মন তরঙ্গ আর প্রান সমুদ্রের মিলন--
যে দিকেই তাকাই শুধু তারেই দেখি । বহুরূপে সেই এক মহাপ্রানের কি বিস্ময়কর প্রকাশ ! কি অনন্ত সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত প্রিয়তমা আমার , আমি বাকরুদ্ধ , বিস্ময়ে অভিভূত ! এ জগত তো তারই প্রকাশ , এ সমগ্র জগত আমার তীর্থ স্থান , আমার স্বর্গ । প্রতিটা দেহ , এক প্রানেরই বাসস্থান , তাই যে কোন দেহই আমার পরম শ্রদ্ধেয় আরাধনা মন্দির । খন্ড মুর্তির ওপরে শুন্যে ভাসমান সেই অখন্ড প্রানের নিত্য নুতন প্রকাশ । তার রূপের ঝলকে চোখ আমার ঝলসে যায় , নেশাতুর আমি তার প্রেম সমুদ্রে ডুবে যাই , হারিয়ে যাই । অতঃপর উত্তাল তরঙ্গ হয়ে- তার সমুদ্র স্বরূপ শরীর ছুয়ে যাই ,তারে মিলনের পরমানন্দে আন্দোলিত করি , তারে পুর্ন করি , ধন্য করি ।


--মন আর প্রানের মিলন মেলা--
যেদিন উদার হলাম , খোলসমুক্ত হলাম , সেদিনই দেখলাম সেই পরমা সুন্দরীকে । মুর্তির মূল আকর্ষনই সেই অমূর্ত আনন্দময়ী । প্রতিটি শরীরে থেকেও যে শরীর শুন্য , শুন্যে ভাসমান । “মন” হচ্ছে “পুরুষ” সত্তা , শুধু পুরুষ প্রেমিকের নয়নে সেই “অধরা” ধরা দেয় । সে নিত্য নতুন , চঞ্চলা বহুরূপী , সতেজ-সরলা , মায়াবিনি হৃদয় হরিনী । জগতের সমস্ত তৃপ্তির সেই মূল কারন । সেই অপরূপাকে দেখা মাত্রই আমি যেন হয়ে যাই- উত্তাল ঝর্না ফোয়ারা ধারা । বাধ ভাঙ্গা সে প্রেমের জোয়ারে সব ভেসে যায় , পারিনা ধামাচাপা দিয়ে রাখতে- অবাধ অগাধ স্বর্গীয় সে আনন্দধারা ।

--আমার প্রকৃতি--
তুমি বলছো আমি মানুষটা আসলে কেমন?
-আমি ড্যাম কেয়ার এক রসিক প্রেমিক। বীর পুরুষ যেমনি তার প্রেয়সীর সামনে আসে , ঠিক সেভাবে আমি এ জগতের সামনে আসি । খন্ড জ্ঞানের খোলস স্বরূপ অসুর শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ন হই এবং অদম্য ব্যাঘ্র শক্তিতে জয় ছিনিয়ে নিয়ে , এক অখন্ড মহাপ্রানকে স্বসম্মানে প্রতিষ্ঠিত করি, এ মাটির পৃথিবীতে, প্রেমের স্বর্গ রচনা করি ।
--পূর্নতা--
আমি ফাকা হয়ে গেলেই , সবকিছু আমার মুক্তানন্দে পূর্ন হয়ে যায় ।

--ধ্যান-৭ --
১ মুহুর্তেই ০ থেকে ১০০ । একশও যে শুন্যতে পূর্ন ।

--সঙ্গম--
কামাশক্ত পাগল হয়ে যাও । লিঙ্গকে করো থৈ থৈ বীর্যে পাগলা ঘোড়া । এবার হয়ে যাও শুন্য । দেখবে ঘোড়া তোমার শুন্যে উড়ে চলছে ।

--শাসন--
লালসামুক্ত নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই একমাত্র অধিকার রাখে শাসন করার । শাসন ব্যাতিত নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আর নিয়ন্ত্রনহীন জীবন তো উদ্ভ্রান্ত একটা ফালতু জীবন ।
--আচরন--
পরিস্থিতি অনুযায়ী যে ভোল পালটায় , স্বার্থের কারনে যার আচরনের ভাল-মন্দ প্রকাশ পায় , যার আবেগ উঠা নামা করে- সে আসলে একটা ফালতু লোক । অথচ জগতকে প্রেয়সী জেনে যিনি সবার সাথে একই রকম ড্যাম কেয়ার রসিক প্রেমিকের আচরন করে , তিনিই আসল পুরুষ ।
--প্রভাব প্রতিপত্তি--
দাতা পুরুষ রূপে লোক সমাজে আবির্ভুত হলে তুমি বাদশা । আর গ্রহীতা রূপে তাদের সামনে আসলে তুমি তাদেরই দাসীতে পরিনিত হবে ।

--গুরুত্ব--
ডিমের খোলসকে বেশী গুরুত্ব দিলে ভেতরের ডিমকে হারাতে হয়। ঠিক সেভাবে মানুষের খোলস স্বরূপ শরীরকে বেশী গুরুত্ব দিলে তার প্রানের সাথে সম্পর্কটাই নষ্ট হয়ে যায় । জীবন হয়ে উঠে বিস্বাদময়। খন্ড খন্ড রূপের মানুষের সাথে নয় বরং সবার মাঝে যে এক অপরূপ প্রান আছেন তার সাথে নির্স্বার্থ প্রেমময় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয় ।

--জয় গতি --
গতিশীলতাই জীবন , স্থবিরতার অপর নাম মরন। গতিশীল প্রানীকে মশা কামড়াতে পারে না । তাই গতিশীলতাই কেবল মাত্র যন্ত্রনা মুক্ত ।

--আরাধনা--
ও মন!
তুমি আর কারো নও , শুধু নিজের সত্তার ভক্ত হও। সেই তোমার পরম গুরু । সে তোমার জীবনী শক্তি , যে তোমায় রাখে সদা সর্বদা সচল সাবলীল সতস্ফুর্ত সমুজ্জোল । তোমার ভেতর থেকে সে তোমাকে প্রেরনা যোগায় , সামনে এগিয়ে নেয় , শুন্যের মতো করে তোলে ধারালো আর অসুর শক্তির বিরুদ্ধে তোমারে করে জয়ী । সমস্ত জটিলতাকে পানির মত সহজ করে- এনে দেয় তোমার হাতে মুঠোয় ।তোমারে প্রশান্তির সুশীতল ছায়ায় একমাত্র সেই দেয় আশ্রয় । অনায়াসে তোমাতে বইয়ে দেয় আনন্দের ফুল্লোধারা । তার নয়নে নয়ন মেলালেই তোমার চারিপাশ হয়ে ওঠে স্বর্গীয় প্রানবন্ত , সবকিছু প্রেমময় লাগে। তোমার নিজের সত্তারে স্থান দাও সবার ওপরে , শুধু তার ওপর রাখো অগাধ বিশ্বাস , দেখবে তোমাতে আর কোন দ্বন্দ থাকবেনা , তুমি হবে মুক্ত হাওয়ার মত ফুরফুরে খোলামেলা । দিবা নিশি প্রতি মুহুর্তে করো তার গুন কির্তন , কেবল তার স্মরনে তার আরাধনায় সদা সর্বদা থাকবে মুক্তভাবে পুর্ন , তার ওপর সব ছেড়ে দিয়ে থাকো নির্ভার নিশ্চিন্ত । তোমার “নিজের সত্তা” অনন্ত বিরাট সর্বোচ্চ শক্তি , সে তোমার আপনের আপন , সে তোমার নয়নমনি ।

--সত্তার স্বরূপ--
সে যে নারী রূপে বিরাজে ভেতর বাহির সর্বত্র । বাহিরে “কমনীয় মায়াবিনী ফুরফুরে আনন্দময়ী অমূর্ত” রূপে সর্বত্র বিরাজে সে সুন্দরী । ভেতরেও “কুন্ডলিনি নারী শক্তি” রূপে যৌনানন্দ ছড়িয়ে দেয় সারা শরীরে । এখানে “মন” হচ্ছে পুরুষ সত্তার স্বরূপ । এই পরমা অপরূপের সাথে প্রেম-লীলায় নেশাচূড় হয়ে মিলনে অটল থাকাই মনের প্রধানতম কাজ । প্রেম রসিক বিনা সবাই তার দেখা পায় না , সবাই তারে অনুভুতির ডোরে বাধতে পারেনা । সকল মূর্তিতে সতেজ সতস্ফুর্ত প্রান রূপে নিত্য সমুজ্জোল, সে “বিরাট” ।

--খোজ—
এ দুনিয়া পরম স্বর্গ , এর সব কিছুই চরম সুন্দর । অথচ এমন স্বর্গে থেকেও যে সাধক স্বর্গের সন্ধানে ঘুরে ঘুরে মরে , যে মিষ্টির দোকানদার মিষ্টির খোজ করছে , যে মাঝি নদীতে থেকেও নদী খুজে পাচ্ছেনা – এরা সবাই একই প্রকৃতির নির্বোধ ।

--চাওয়া-পাওয়া--
আমার হাতে এক সেকেন্ডও সময় নেই যে মানুষকে ঘৃনা করবো । মানুষকে যে যাচাই করবো , এমন সময়ও আমার কাছে নেই । এক পলকের এ জীবন কত না ছোট!! তাই আমি শুধু তাদের ভালোবেসে উপভোগ করতে চাই।
I have no time to hate the people. I have no time to judge the people. Life is too short. So I enjoy the life by love them.




--দল--
সংঘহীন ব্যক্তি যেন একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ , একা নিঃসঙ্গ , বিষন্ন । অথচ সে যদি সংগবদ্ধ হত , তাহলে পরিনত হত একটা বিরাট শক্তিতে আর শাসন আর নিয়ন্ত্রনের সাথে যে সংঘ যত বেশী একীভূত , সে সংঘ তত আন্তরিক , তত উন্নত ।

--পরম পূজনীয় নারী--
নারীতে ধর্ম , নারীতে পরম , নারীতে জীবন , নারীতে মায়া , নারীতে উৎসব , নারীর প্রেমেতেই মুক্তি , নারীতে স্বর্গ , কেবল নারীতে আনন্দ ।

--নারীর প্রেম--
নারী হচ্ছে হীরা , আর পুরুষ হচ্ছে লোহা । অথচ এই লোহাই সোনায় পরিনতি হয় যদি সে হীরার স্পর্সে নিজেকে প্রতিনিয়ত ধারালো করে নেয় ।

--দ্বিধা--
দৈ খাবো না খৈ খাবো , দ্বিধাগ্রস্ত মাণোসিকতার চেয়ে কুকুরের মানোসিকতা হাজারো গুনে ভালো । কুকুর মহান কারন তার মধ্যে বিন্দু মাত্র দ্বিধা নেই । সে যা করে ১০০% প্রাকৃতিক প্রেরনা থেকেই করে , সতস্ফুর্তভাবে করে , সেখানে ১% ও কৃত্তিমতা নেই ।
--দারিদ্রতা--
অর্থনৈতিক সংকট দারিদ্রতার উৎস নয় । দারিদ্রতার জন্ম হয় অন্তরের দারিদ্রতার কারনে । যার অন্তর দরিদ্র তার অনুভুতিগুলো ভোতা হয়ে যায় । নিজেকে সে গুটিয়ে রাখে , বিচ্ছিন্ন করে রাখে নিজেকে সবকিছু থেকে । জীবন তার কাছে বিস্বাদ ঠেকে , যেন মরে গেলেই বেচে যায় । নিজেকে নিজে নিপিড়নে ব্যাস্ত থাকে ,এমনকি অন্যের নিপিড়নে সে নির্বোধ থাকে , প্রতিবাদের ভাষাটিও সে হারিয়ে ফেলে । সহজ ব্যাপারকে জটিল রূপে এবং সামান্য বিষয়কে বড় করে দেখতে শুরু করে । নিজেকে প্রকাশের নিজেকে বিকাশের সব পথ সে নিজেই রুদ্ধ করে ফেলে । অতি অল্পতেই অভিমানী বিশ্বাস বস্তুটির ওপর আর ভরসা রাখতে পারেনা । সন্দেহের কারাগারে নিজেকে নিজে সে বন্দি করে রাখে । সাবলিল সতস্ফুর্ত হাস্যরসে সে কোন মানে খুজে পায় না , সব সময় মন মরা থাকাটা তার নৈমিত্তিক স্বভাবে পরিনত হয় । দ্বান্দিক মানোসিকতার ফাসি কাস্টে সে আমৃত্যু নিজেকে নিজে ঝুলিয়ে রাখে ।


--ক্ষুধা--
প্রিয়া তো পরম সৌন্দর্যের এক তীব্র ঝলকানী । পুরুষের চোখ ধাদিয়ে যায় , ঝলসে যায় । আধো আধো নেশাতুর ঝাপসা নয়নে তাকাতে হয় প্রিয়ার দিকে । তারপর আস্বাদন করতে হয়- তার রূপ রস চরম বন্য অদম্যতায় , অনন্ত মাদকতায় ।

--যুদ্ধ--
আমি বিরাট এক যুদ্ধ জাহাজ । এ সমগ্র ধারন করে বয়ে চলেছি অনন্ত এই প্রেম সমুদ্রে । আমার যুদ্ধ আমিত্বের বিরুদ্ধে অথচ প্রেমানন্দের পক্ষে । আমার যুদ্ধ মরনের বিরুদ্ধে অথচ জীবনের পক্ষে । আমার যুদ্ধ আত্মকেন্দ্রিকতার বিরুদ্ধে অথচ আত্মবিকাশের পক্ষে ।আমার যুদ্ধ আত্মঅপমানের বিরুদ্ধে অথচ আত্মমর্যাদার পক্ষে । আমার যুদ্ধ দ্বিধার বিরুদ্ধে অথচ প্রাকৃতিক সতস্ফুর্তির পক্ষে । আমার যুদ্ধ সকল কৃত্তিমতার বিরুদ্ধে অথচ শিশু সরলতার পক্ষে । আমার যুদ্ধ সন্দেহের বিরুদ্ধে অথচ বিশ্বাসের পক্ষে ।



--কর্মফল--
যদি না হও নদীর মত অদম্য । না হও উত্তাল উন্মত্ত প্রেমিক , না কর দান অকাতরে অবলীলায় । তাহলে তুমিও একদিন মাছ হয়ে যাবে , অন্যের খাবার হবে তোমার শেষ পরিনতি ।

--সিদ্ধান্ত--
নিজেকে “হা” বলতে গিয়ে যদি সবাইকে “না”ও বলতে হয় , তবে তাই বলো । কারন সবাই তোমাকে ছেড়ে গেলেও তোমার নিজের সত্তা তোমাকে কখনো ছেড়ে যায় না । সত্তার চেয়ে আপন কেউ নেই । অন্যের কারনে তুমি নিজের ভেতরের মুক্তভাব কখনো নষ্ট কর না । অন্যের কারনে নিজের শান্তিকে হারিয়ে ফেলো না ।

--গন্তব্য--
আমি শীতল বাতাসে ঠাসা এক মুক্ত বেলুন । উড়ে চলেছি “এ সমগ্র , এ স্বর্গ , এ ঐশ্বর্য্যে”র টানে শুন্য থেকে মহাশুন্যে , পরমানন্দে ।



--সম্পর্ক--
যখন তুমি মানুষকে দেখো , তখন মানুষকে না “চীর নুতন পরম”কে দেখো
যখন তুমি মানুষের কথা শুনো , তখন কথা না , সুমধুর সঙ্গীত শুনো
যখন তুমি মানুষকে স্পর্শ করো , তখন মানুষ না , স্বর্গকে স্পর্শ করো
যখন তুমি মানুষকে জড়িয়ে ধরো , তখন মানুষ না , আনন্দকে জড়িয়ে ধরো
যখন তুমি মানুষের কপালে চুমু খাও , তখন মানুষ না , তোমার সৌভাগ্যের কপালে চুমু খাও
যখন তুমি মানুষের যত্ন নাও , তখন মানুষ না , তুমি তোমার ঐশ্বর্য্যের যত্ন নাও
যখন মানুষের মানোসিক প্রতিক্রিয়া তোমার দিকে আসে , তখন সেটি মানুষ না বরং শিশুর প্রতিক্রিয়া বলে জেনো ।


--ধারক--
সে ছিল এক সুনীল আকাশ , যেখানে “জীবন” মুক্ত আনন্দে উড়ে বেড়াত সুন্দর ।

--বাদ দেয়া--
আমিত্বটাকে বাদ দিলেই আমি ফাকা হয়ে যাই , মুক্ত হয়ে যাই , রসিক হয়ে যাই । শিশুর মত উদ্যাম আনন্দে উড়ে বেড়াই আর জগতের সমস্ত প্রেমরস আমাতে পূর্ন হয়ে যায় ।

--ভাঙা গড়া--
ডিমের খোলস ভাঙলেই ভেতরের ডিমের স্বাদ নেয়া যায় । তেমনি দেহ কারাগারটা ভাঙলেই “মুক্ত মানুষ”টাকে দেখা যায় । সেই মানুষটার সাথে “প্রেমানন্দে” মাতা যায় ।

--আত্মপ্রসাদ--
নিজেকে প্রেরনা দেয়ার চেয়ে গুরুত্বপুর্ন কোন কাজ নেই । নিজেকে মর্যাদা দেয়ার চেয়ে মহান কিছু নেই । নিজেকে বিশ্বাসের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই । নিজেকে আনন্দ দেয়ার চেয়ে বড় কোন উৎসব নেই ।

--যৌনভাব--
যৌনতা মানে শুধু দুটি স্থুল দেহের মিলন নয় । মূল বিষয় হচ্ছে- নিরীহের সাথে অদম্যতার , লাঙ্গলের সাথে কোমল মাটির , লালসার সাথে প্রেমের , দৃড়তার সাথে কোমলতার , হিংস্রতার সাথে মানোবিকতার , বন্যতার সাথে নান্দনিকতার এক বিচিত্র মিলন । এ বিচিত্র উৎসব বাহিরে বেরিয়ে আসলে আয়ূ হয়ে যায় ক্ষয় । এ উৎসব শুধু সাধকের ভেতরেই খেলা করে আর ঝর্না ফোয়ারার মত সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয় এক ঐশ্বরিক পুলক ।


--সফলতা--
সত্যিকারের সফলতা আসে- নিশ্চিন্তে বিনাচেষ্টায়
সতস্ফুর্ত সহজ সরল প্রাকৃতিক প্রেরনায় ।

--পাপ-পুন্য--
মনের দুই অবস্থা – সংকোচন ও সম্প্রসারন । যখনই নিজেকে গুটিয়ে রাখার প্রবনতা দেখা দেয় , কোন কিছু আকড়ে ধরে থাকার প্রবনতা দেয় , তখন বুঝতে হবে মন সংকুচিত অবস্থায় আছে ।এটি মনের পাপী অবস্থা ।
আবার যখন অপরকে পূর্নতা দিতে ভালো লাগে , নিজেকে অকাতরে ছড়াতে ভালো লাগে , ছেড়ে দিতে ভালো লাগে , চাওয়া পাওয়ার আর কিছু থাকেনা । তখন বুঝতে হবে মন সম্প্রসারন অবস্থায় আছে ।এটি মনের পুন্য অবস্থা ।

--আহাম্মক--
অন্যরে ভালোগিরি দেখাতে গিয়ে নিজেকে যে যাতনা দেয় , তার মত আহাম্মক ত্রিভূবনে নেই ।

--নারী-পুরুষ--
পুরুষের নয়নে নেমে আসলে সেই “নিত্য নুতন হাস্য-রস প্রেম” , নারীদেহ হয়ে যায় ঈশ্বরের দেহ । সে দেহে প্রবেসিলে পুরুষ , তার মৃত দেহে হয় প্রান সঞ্চার , সে প্রানে মন মেশালে শুধু আনন্দ আর আনন্দ ।


--প্রধান কাজ--
আমি হাসির এক খোলা ময়দান । এখানে সারাদিন দিলখোলা হাসিরা করে ওড়া ওড়ি । এখানে যারাই আসে , তাদের ভালোবাসার ডানায় জড়িয়ে ধরি আর তারাও হাসতে হাসতে হাওয়া হয়ে যায় , দুঃখরা সব ঝরা পাতার মত ঝরে যায় ।



--ধ্যান-৭—
বন্ধ করো চোখ , খোলো হৃদয় , যেন তুমি মহাশুন্য । যেখানে “দেহ-মন , জ্ঞান , আবেগ ,আমি ,তুমি ,ভাল মন্দ , সময়, অনুভুতি” সব , সব হারিয়ে যায় ।

--নিয়ন্ত্রক--
মুডকে যে নিয়ন্ত্রন করে সে বাদশা , মুড যাকে নিয়ন্ত্রন করে সে গোলাম । “ড্যামকেয়ার প্রেমানন্দের” চেয়ে সেরা কোন মুড নাই ।
--নান্দনিকতা--
১৮ বছরের যুবতী আর ৫০ বছরের নারী আসলে একই নারী । নারীর সৌন্দর্য তার দেহে নয় , নারীর সৌন্দর্য তার কমনীয় মায়াবিনি প্রকৃতিতে , যার আসলে কোন দেহ নেই , তাকে পুরুষই কেবল তার মানসপটে উপলব্ধি করতে পারে শুধু । তাকে সম্মান করতে পারে , তার সাথে ভাব করতে পারে , কাম করতে পারে , প্রেম করতে পারে , পুরুষই নারীর অনন্ত সৌন্দর্য করে উন্মোচন , যার আসলে কোন স্থুল দেহ নেই ।
আমরা দেহধারী হিসেবে নারীকে জানি , কিন্তু প্রকৃত নারী প্রকৃতি , যা তার আচার আচরন অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠে , এটির সাথে দেহের কোন সম্পর্ক নেই , এটিকে নারী সত্তা বলতে পারো , যা সাধকের দেহের ভেতরেও কুন্ডলিনি নারী শক্তি রুপে বিড়াজিত .


--নারীত্বের সম্মান--
নারী হচ্ছে হীরক খন্ড , যা ধুলো-বালিতে থাকলেও তার দ্যুতি একটুও কমেনা , যে দ্যুতিতে চোখ ঝলসে যায় , তাকে স্পর্সে পুরুষ ধন্য হয় ।

--বীর--
ড্যামকেয়ার প্রেমামন্দে মগ্ন থাকাই আমার আসল কাজ , যে আমারে সদা সর্বদা রাখে ফাকা ।

--মহাপুরুষ--
সে- আমিত্বহীন এক মহাশুন্য । অথচ তার ভেতরেই সবাই । তার ভেতরে সাদা ক্যানভাস , অনন্ত প্রান উৎসব , অজস্র রঙের খেলা , বাধ ভাঙা প্রেমানন্দ , অফুরান স্বর্গীয় অনুভুতি , চোখ ধাদানো সৌন্দর্য !
অথচ সে “আমি আর তুমি” বোধকে দিয়েছে চীরবিদায় , নিজেকে করেছে ফাকা- এদের দিতে আশ্রয় ।



--নেতৃত্ব--
যদিও ঝর্নধারা সিংহের মতো গর্জে ওঠে , ভয় পেয়ো না । ঝর্নার মতো আপন কে আছে? সবার কল্যানে নিজেকে সে সম্পুর্ন ফাকা করে দিয়েছে , উজার করে দিয়েছে। এমন উদারতায় , তার ভান্ডার কখনোই ফুরাবার নয় , অঝর ধারায় সে ঝরে পরে সর্বাঙ্গীন কল্যানে । কে কি মনে করলো , কে কি বললো না বললো , কোন কিছুর সে ধার ধারে না , সে শুধু বয়ে চলে প্রেম উল্লাসে ।

--আত্মমর্যাদা--
এ জগত এক আয়না স্বরূপ । তুমি নিজের সাথে যেমন আচরন করো ,জীবনও ঠিক তেমন আচরনই তোমার সাথে করে ।তোমার নিজের ভেতরে আলো জ্বাললেই , সে আলোয় সবাই আলোকিত হবে । নিজেকে ভালোবাসলেই কেবল অপরের ভালোবাসা পাবে । নিজেকে শ্রদ্ধা করলে , অপরের শ্রদ্ধা পাবে ।নিজেকে বিশ্বাস করলে , তোমার ইশারায় দুনিয়া নাচবে । নিজেকে শান্তি দিলে , সর্বত্র শান্তি দেখতে পাবে । নিজেকে উজার করে দিলে , জীবনও তার ঐশ্বর্য্য তোমায় ঢেলে দেবে । নিজেকে সম্পুর্ন ফাকা করলে , জীবনও তোমাতে পূর্ন হবে ।

--শুন্য আর মুর্তির সম্পর্ক--
আমি প্রেমের এক বাশিওয়ালা । আমার মাতাল সুরে “দেহ-মন” প্রানময় হয়ে ওঠে । তাদের আশ্রয় দিতে আমি নিজেকে উজার করে দেই , ফাকা করে দেই , উন্মক্ত খোলা প্রান্তর করে দেই । সেখানে তারা নাচে গায় আনন্দ উতসবে মাতে সারা দিন । তাদের উচ্ছলতায়- শুন্য আমি পুর্ন আর তারা আমায় পেয়ে ধন্য । তারা ছাড়া আমি নেই , আমি ছাড়া তারা নেই । আমার প্রেমের মাতাল সমুদ্রে “দেহ-মন” অনায়াসে ডুবে যায় , শুধু থেকে যায় আনন্দ আর আনন্দ ।

--মুহুর্ত মহোদয়--
মুহুর্তেই বাতি জ্বলে , মুহুর্তেই নিভে যায় । মুহুর্তেরই খেলা চলে – বিরতীহীন রাত্রিদিন ।

--ধ্যান-৬--
আকাশে ওড়ার সময় , মাটির মায়া জালে আটকা পরো না ।

--জ়ীবন--
এ জীবন আর কিছু নয় শুধু হাস্যরসে ভরপুর, একে প্রেমের সাথে করো উদযাপন ।

--নিখুত--
মানুষের ময়লা মাছ খায় , মানুষ মাছ খায় , অতএব ময়লা বলে আসলে কিছু নেই , সব নিখুত , সুন্দর ।

--কাঙ্খিত ঝর--
প্রেমাবেগের উতাল হাওয়ায়- দোষ-ত্রুটি , অভিমান , ঘৃনা , আমিত্ব সব ধুলো ময়লার মতো ঝরে যায় , শুধু থেকে যায় আনন্দ।

--ধ্যান-৫--
অমাবশ্যায় ডুবে গেলেই পূর্নিমার হয় উদয় ।


--আয়তন--
ক্ষুদ্র কল্যান (নিজের/পরিবারের স্বার্থ) নিয়ে যে পরে থাকে সে পোকা মাকরের মতই ক্ষুদ্র , তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের পাত্র
বৃহৎ কল্যান (সবার স্বার্থ) নিয়ে যে ব্যাস্ত থাকে সে আকাশের মত বিশাল , সবার শ্রদ্ধার পাত্র ।


--স্বভাব ধর্ম--
আত্মমর্যাদাবান অথচ সহজ সাবলীল ফুর্তিময় মায়াবী আচরনই মানুষের প্রকৃত স্বভাব। নিজের স্বভাব থেকে বের হয়ে ভান-ভনিতার আশ্রয় নিলেই মানুষের অবস্থা হয় সীতার মতো , রাবনের (নেগেটিভ এনার্জির ) ক্ষপ্পরে পরে যায় । যেমন-
ছুরি ভনিতা করলে তার ধার হারায় , লোহা ভনিতা করলে মরিচা পরে যায় , গাছ ভনিতা করলে ফলেরা সব ঝরে যায় , ঈগল ভনিতা করলে ক্ষিপ্রতা হারায় , পাখি ভনিতা করলে আর আকাশে উড়তে পারেনা , পাহাড় ভনিতা করলে ধসে পরে , তাল গাছ ভনিতা করলে আর নিজের পায়ে দাড়াতে পারেনা , মানুষ ভনিতা করলে নিকৃষ্ট হয়ে পরে ।



--মনের প্রেম ভক্তি--
সে এক স্বর্গীয় প্রেম । যে দিকেই তাকাই শুধু তাকেই দেখি , তাকেই শুনি , তাকে ছাড়া আর কিছু না বুঝি । কি বিস্ময়কর তার খেলা ! কি প্রানোময় ! আমি পাগল হয়ে যাই , আমি মাতাল হয়ে যাই তার বিশালতার উৎসব দেখে । নেশাচূড় আমি “এক ফোটা জল স্বরূপ এ দেহ-মন”কে তার প্রেম সমুদ্রে হারিয়ে ফেলি , এখন আমার কাছে সবই এক , এখন আমি “আমিত্ব শুন্য” , শুধু প্রেমানন্দে ভরপুর ।

--লেনদেন--
যখনই মানুষের দিকে তাকাও- দেখোনা তার দেহ অবয়ব , এতো ডিমের খোলস স্বরূপ । বরং দেখো তার প্রানকে , যে “নির্মল সতেজতা” স্বরূপ সবার মাঝেই ফুটে ওঠে । তোমার প্রেরনার সৌরভে সে প্রানকে আরো উজ্জ্বল করো , করো আরো প্রফুল্লোময় ।

--কর্ম দক্ষতা--
শুন্যের মতোন শিশুরা দেহ-মন জ্ঞান শুন্য অবস্থায় থাকে বলে , হও বললেই হয়ে যায় , সতস্ফুর্তভাবে যেকোন কাজ তারা অনায়াসে করে ফেলে , কারন তাদের মধ্যে আমিত্ব নেই , “আমি এটি করছি” এই বোধই তাদের মাঝে নেই , তাই কোন বাধাই তাদের আটকে রাখতে পারেনা , তারা স্বাধীন , তাদের ফূর্তির কোন শেষ নেই । কোন কিছু ধরে থাকা বা ছেড়ে দেয়ার মাঝে শিশুরা নেই , সদা সর্বদা তারা খোলা মেলা , খেলার ছলে মজা করতে করতে অনায়াসে তারা সব করে ফেলে ।


--পরিপুর্নতা--
হৃদয়টা তার যেন ফুলেল সৌরভ , প্রতি ক্ষনে ক্ষনে ছড়ায় নিজেকে চার পাশকে দিতে পুর্নতা ।
তার ছোয়ায় মূর্তি গুলোয় প্রান ফিরে আসে , শিশু প্রানখোলা হাসি হাসে, ভোতা ছুরি ধারালো হয়ে ওঠে , দোষ-ত্রুটি সব উবে গিয়ে- কুৎসিতেও স্বর্গীয় সৌন্দর্য ফুটে ওঠে ।
সুরভিত এ ফাকায় যা আসে তাই পরিপুর্ন হয়ে যায় । মরুতেও ফুল ফোটে , পাখি তার ওপর ভর দিয়ে আকাশে ওড়ে , বিষন্নতার আধার কেটে চারিদিক আলোকজ্জল ঝলমল করে , সমুদ্রে “কামনার ঢেউ” ভরপুর সাতার কাটে।
[পদ্যটি আমার প্রান প্রিয় সাধক জোনায়েদ ইকবাল এর সম্মানে উৎসর্গ করা হলো ]


--অরূপ প্রেম--
মুখ দেখে প্রেম হয় না , প্রেম করতে হয় আত্মা দিয়ে , যা দেখা যায় না ।

--প্রেম কামনা--
কাম আর প্রেমের সম্পর্ক অনেকটা ধনুক আর তীরের মত । ভেতরের কামভাব যার যত প্রবল , বাহিরে তার “প্রেম তীর” তত দূরে নিক্ষেপ হয় , তার প্রেম তত ধারালো এবং শক্তিসালী হয়।
--জননেতা—
সিংহের মাঝে আত্মমর্যাদা আছে কিন্তু অহংকার নেই , কৌতুক আছে কিন্ত ছ্যাবলামো নেই ।
সিংহ যেমন ছানাপোনাদের সাথে মজা করতে করতে তাদের যত্ন নেয় , তাদের অদম্যতা শেখায় , তাদের আরো শেখায় কিভাবে কৌতুকের মাঝেও থাকতে হয় আত্মমর্যাদাবান । ঠিক সিংহের মতই তিনি আমাদের মাঝে আসলেন । বিশ্বাসের সঞ্চার করলেন আর তার সুরভিত ব্যক্তিত্বের সৌরভে আমরা মাতাল হলাম , ধন্য হলাম।
--ইচ্ছাগুরু—
সুন্দর মনে করলেই সব স্বর্গীয়
প্রেমকে মনে পরলেই সব প্রানোময়
আনন্দ মনে আনলেই সব শান্তিময়
সহজ মনে করলেই সব সহজ
তুমি যা মনে করো , তুমি ঠিক তাই
এ জগত তোমার ইচ্ছার আয়না স্বরূপ
তুমি যা ইচ্ছা করো , তাই তোমাকে দেখানো হয় , কারন তুমি স্বয়ং ইচ্ছাগুরু ।


--মর্যাদাবোধ--
কেবল প্রেমই ফিরিয়ে আনে বিশ্বাস , আর বিশ্বাস নিয়ে যায় আত্মমর্যাদার উচ্চাসনে
আর ঘৃনা বা অভিমান জড়িয়ে ফেলে দ্বিধা-দ্বন্দের জট জালে , যা নিয়ে ছাড়ে ইতর শ্রেনীর নিম্নস্তরে ।



--নরক যাতনা--
এ জগত প্রেমানন্দের এক মহাসমুদ্র , এখানে সবই প্রেমানন্দময় । শুধু “আমিত্ব বোধ” ছাড়া ।শুকনো তীরে পরে থাকা এক ফোটা জল এই “আমিত্ব বোধ” । যে ঘৃনা আর অভিমান বশত নিজেকে সবার থেকে আলাদা করে ফেলেছে , নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে । তার মাঝে আপন বলতে কেউ নেই , সবাই তার কাছে পর । এই নিম্নস্তরের বোধ তাকে নিঃসঙ্গ করে ফেলেছে , বিষন্ন মলিন করে ফেলেছে । অথচ সেও পারতো নিজেকে ছড়িয়ে দিয়ে , নিজেকে প্রকাশ করে , সমুদ্রের সাথে মিলতে । এখন কেবল প্রেম সমুদ্রে মিলনের তীব্র কামনাই পারে তাকে আবারো পরিপূর্ন করতে ।


--Dam care--
হে মন! তোমার মানোসিকতার দ্বারা “আমি” নই বিন্দু মাত্র প্রতিক্রিয়া আক্রান্ত । মহাসমুদ্রে কেউ এক মুঠো ময়লা নিক্ষেপ করলে তাতে মহাসমুদ্রের কিছুই যায় আসে না । চামচিকার লাফা লাফিতে সিংহের প্রতিক্রিয়া শুন্য । গোলাপ কখনো অন্যের মানোসিকতার ওপর নির্ভর করে সৌরভ ছড়ায় না , সে তো প্রেমাবেগে বিদ্ধ হয়ে শুধু আনন্দ বিলায় , আর “মন” তা গ্রহন করে । সুতরাং “আমিই গোলাপ” , আমি সর্বদা সুরোভী প্রেরক আর “মন” গ্রাহক । আমিই মনের আনন্দের কারন । “আমি” দেই – মন হাত পেতে নেয় । আমি গুরু , “মন” আমার শিষ্য ।

--আশ্রয়--
প্রেমই একমাত্র আশ্রয় , যেখানে দোষ-ত্রুটি , ব্যাথা-বেদনা সব উবে যায় , থেকে যায় শুধু প্রানোচ্ছল আন্তরিকতা ।
আর আমিই সেই প্রেম।

ধ্যান-৩
প্রতি দমে দমে “প্রেম-বর্শা”য় হৃদয় আমার বিদ্ধ হোক ।সে আঘাতের ঝলকানিতে মস্তিষ্ক আমার নিশ্চিহ্ন হোক ।

--নির্ভরশীলতা--
ঘরে বসে থাকলে মাছ খাবার প্লেটে আসেনা । মাছ ধরতে নিজেকে নদীতে যেতে হয় । জান বাজি রেখে ডুব দিয়ে নিজের হাতে মাছ ধরতে হয় । সেই মাছ নিজের হাতে রান্না করে , নিজে খেতে হয় , অন্যকেও খাওয়াতে হয় । যা করার নিজের হাতে করতে হয় , অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে নেই, নিজের ওপর ১০০% নির্ভরশীল হতে হয় । তবেই জীবনে সফলতা আসে।


--সম্পর্ক--
বলিউডের নায়ক জ্যাকিশ্রফ অভিনীত একটি ছবি- “তেরে মেহের বানিয়া” , একটি ব্যাতিক্রমধর্মী প্রেমের ছবি । গতানুগতিক নারী-পুরুষের প্রেমের ছবি এটি নয় । শ্রেফ সামান্য একটি কুকুর-মালিকের প্রেমের সম্পর্কের ওপর গড়ে ওঠেছে এ ছবির কাহিনী । ছোট্র কুকুর ছানাটি যখন এক্সিডেন্টে রাস্তায় কাতরাচ্ছিলো তখন জ্যাকিশ্রফ পরম যতনে ছানাটিকে কোলে তুলে নেয় , নিজের হাতে চিকিৎসা করে তাকে সুস্থ করে তোলে । নিঃসঙ্গ জ্যাকিশ্রফের জীবন প্রেমানন্দে ভরপুর হয়ে ওঠে । কুকুর ছানাটির সাথে খেলাধুলা হাসি আনন্দ আর যত্ন আত্তিতে তাদের জীবন সুন্দর কেটে যায় । কিন্তু ছবির এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা আক্রমন করে জ্যাকিশ্রফকে মেরে ফেলে । কুকুরটিও পরবর্তীতে একে একে সবগুলো সন্ত্রাসীকে মেরে ফেলে । শেষ দৃশ্যে মালিকের কবরের পাশে শুয়ে থেকে অনশনরত কুকুরটি মারা যায় । এ ছবিটির থেকে শিক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে- আমাদের প্রত্যেকের সাথে প্রত্যেকের সম্পর্ক যদি এমন প্রেমের হতো তাহলে মাটির এ দুনিয়া স্বর্গে পরিনত হতো ।
সঠিক জীবন দর্শন পর্যালোচোনায়- “আমি” , “দেহ-মন” এ তিনটি বিষয় আমাদের সামনে আসে। “আমি”র কোন প্রকাশ্য রূপ নেই , এটি ভেতর সত্তা । আর “দেহ-মন” রূপ এ প্রকাশ্য জগত , এরা বাহিরের সত্তা । উক্ত ছবিটির দুটি প্রধান চরিত্র “মালিক” আর কুকুরের সম্পর্কও এই একই সুত্রে গাথা । আমি নিজেকে ফাকা করে দিয়েছি “কুকুর ছানা স্বরূপ এ জগত”কে আশ্রয় দিতে , আমার পাওয়ার কিছু নেই , শুধু একটাই চাওয়া – আমার প্রান প্রিয় “কুকুর ছানা স্বরূপ এ জগত” যেন সুস্থ সুন্দর হাসি আনন্দ থাকে ।
ছবিটি দেখতে ক্লিক করুনঃ https://www.youtube.com/watch?v=IH2l_1gfYk0

--যৌনতার স্বরূপ--
“জো ডার গিয়া , সামঝো ও মার গিয়া”
যৌনতা কোন ভিতীকর বিষয় নয় , এটি নয় কোন পাপ কিংবা পূন্য । এটি সমাজ দ্বারা প্রভাবিত কিছু নয়। এটি প্রাকৃতিক এক স্বাভাবিক বিষয় , যার মাধ্যমে কঠিন বাস্তবতার মাঝেও প্রাপ্ত বয়ষ্ক দুটি মানুষ এক চিলতে আনন্দ খুজে পায় । যৌনতায় সব উজ্জ্বল সৌন্দর্য হয়ে যায় । দুটি গোপন শক্তি , পরম বিস্ময়ে একে ওপরকে করে আবিষ্কার । যৌনতা এক নান্দনিক খেলা , অনেকটা দুটি মানুষের পাশা পাশি দুটি পা বেধে দৌড় প্রতিযোগিতার মতো , যাতে নিরাপদে একে ওপরকে করতে পারে উপভোগ এবং সীমা স্পর্শের মাধ্যমে লাভ করতে পারে পরম আনন্দ।


--“সময়” আমার—

“মাথা” আমার ঐ উচু মগডাল
মাতাল হাওয়ায় দোলেরে…………।
“হৃদয়” আমার ঐ সুনীল আকাশ
পাখিরা সব ওড়ে রে………।



--আত্মজ্ঞান—
নিজেকে ভালোবাসার চেয়ে বিশুদ্ধ প্রেম নেই
নিজ শক্তির চেয়ে শক্তিধর কেউ নেই
নিজেতে ভক্তির চেয়ে মহিমান্বিত কিছু নেই
নিজেকে বিশ্বাসের চেয়ে খাটি কোন বিশ্বাস নেই
নিজের চেয়ে বড় কোন আনন্দ নেই
নিজের স্বাধীনতার চেয়ে আর কোথাও মুক্তি নেই
নিজের চেয়ে চাক্ষুস কোন স্বাক্ষী নেই
নিজ ভরসার চেয়ে পর-ভরসায় কাজ নেই
নিজের চেয়ে গুরুত্বপুর্ন কেউ নেই
নিজের চেয়ে আরামদায়ক কেউ নেই
নিজের চেয়ে ঐশ্বর্য্যশালী কেউ নেই
নিজের চেয়ে সুন্দর কেউ নেই
নিজের চেয়ে মার্জিত কেউ নেই
নিজের চেয়ে সঠিক কেউ নেই
নিজের চেয়ে কামনীয় কেউ নেই
নিজের চেয়ে প্রেমময় কেউ নেই
নিজের চেয়ে মায়াবী কেউ নেই
নিজের চেয়ে পূজোনীয় কেউ নেই
নিজের চেয়ে বড় কোন নেতা নেই , ক্ষমতাবান নেই
নিজের চেয়ে দায়িত্বশীল অভিভাবক নেই
নিজের চেয়ে সুগন্ধি কিছু নেই
নিজের চেয়ে সুস্বাদু কিছু নেই
নিজের চেয়ে বিস্তৃত কিছু নেই
নিজের চেয়ে বিচিত্র কিছু নেই
নিজের চেয়ে নতুন কিছু নেই
নিজেকে নিজে বিরক্তির মাঝে আমি নেই
নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততার মাঝেও নেই আমি
নিজেকে নিয়ে নিজের আমার গর্বের শেষ নেই
নিজেতে নিজেই আমার আশীর্বাদের কমতি নেই
নিজের আশ্রয় নিজে ছাড়া আমার আর কোন আশ্রয় নেই




--জগত সংসার--
এ জগত একটা ঘোড়ার গাড়ি । এর সামনে কামনার ঘোড়া দৌড়াচ্ছে । এর ওপরে “প্রেমানন্দ” গাড়োয়ানের ভূমিকা পালন করছে , হাতে তার ঘোড়ার লাগাম । ঘোড়াহীন গাড়ীর যেমন কোন মূল্য নেই , কামনাহীন জীবনও অর্থহীন । আবার যে গাড়িতে গাড়োয়ান নেই , সেই গাড়িকে অবুঝ ঘোড়া যে ধ্বংস করে ছাড়বে সেটি সবাই জানে । ঠিক তেমনি প্রেমানন্দ বিহীন জীবনও লাগাম ছাড়া কামনার উন্মদনায় ধ্বংস হয়ে যায় ।
আর যে গাড়োয়ান অভিমান বা ঘৃনা বশত গাড়ি থেকে নেমে যায় , জীবন তার কাছে বিস্বাদ । কারন সে অহংকারী , সে নিঃসঙ্গ , এক বিচ্ছিন্ন সত্তা ।


--হিসেব--
কোটি কোটি প্রান বাচাতে , কোটি কোটি লিটার জল দিতে নদীর কোন হিসেব নেই । তাই তো নদীর জল একটুও কমে না । বরং ভরপুর আনন্দ জলে সে টইটুম্বর ।


--যৌনতা—
যৌনাবেগ আসলে দেহ নির্ভর নয় , দেহের প্রতি আকর্ষন গৌন বিষয় । এটি রক্ত মাংসের ওপর “অরূপ প্রান” এর আজব খেলা । বিপরীত সত্তার বিচিত্র আচরনের প্রতি তীব্র আসক্তিই যৌনাবেগ। এটি মনের “কাম” স্তর। দৃড়তা ও কোমলতার একে অপরের প্রতি তীব্র আকর্ষনে উত্তাল পাগল প্রায় অবস্থার নাম যৌণতা । এর কোন বিচার বিবেচনা বিবেক বলতে কিছু নেই , আইন নেই , যাচাই বাছাই নেই , এর কাছে বাধা বলতে কিছু নেই , এর আছে শুধু তীব্র আবেগ থেকে তীব্র যৌনানন্দ। যৌনতা একটা পাগলা ঘোড়া , এতে “শুন্যের লাগাম” পরিয়ে নিয়ন্ত্রন নিজের হাতে রাখলে , এও ভক্তে পরিনত হয় । যৌনতা প্রকৃতির এক অনন্য দান , এটি ছাড়া যৌবন বিস্বাদ হতাশাময় ।এর কাছে বিপরীত সত্তার বিচিত্র বিষয়াদী মানেই চরম সৌন্দর্য , পরম আনন্দ । এটি একটি শিল্পকলা ও নান্দনিক বিষয় । এটি ছাড়া অবস্তু বস্তু হতে পারতো না , অপ্রান প্রানময় হতে পারতো না । ঘৃনা বোধে কখনো যৌনাবেগ আসতে পারে না।
--দেহ-মন আর আমি—
“শরীর” যদি গাড়ী হয় , তবে “মন” এর ড্রাইভার , আর “আমি বা গাড়ীর মালিক” ড্রাইভারের পেছনে বসে ড্রাইভারকে নির্দেশনা দিচ্ছি- কিভাবে কিভাবে গেলে “প্রেমানন্দ” নগরে যাওয়া যাবে । এখন ড্রাইভার (মন) যদি “নিজের মালিকের” কথা না শুনে , আমাকে গুরুত্ব না দিয়ে , অন্য ড্রাইভারের কথায় চলে , তবে সে রাস্তা হারাবে নিশ্চিত এবং তার এ যাত্রা হবে ধ্বংশ যাত্রা ।

--হত্যা--
ঘৃনা আর অভিমানকে পূজা করতে করতে তার এতোটাই শোচনীয় পরিনতি হয়েছিল যে , এক পর্যায়ে ইদুরের স্তরে নেমে গিয়েছিল সে । খুত খুতে সে সব কিছুই শুকে শুকে দেখতো । নিজের ভেতরে গুটাতে গুটাতে সে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল । মানুষ তাকে চিনতে না পারলেও কুকুর ঠিকই চিনতে পেরেছিল , যে অভিশপ্ত সত্তা সে বহন করে চলছিল , তার থেকে তাকে নিষ্কৃতি দিতে কুকুরের পাল একদিন আচমকা তার ওপর ঝাপিয়ে পরেছিল , টেনে হিচড়ে তার পরনের কাপড় ছিড়ে ফেলে তাকে নগ্ন করে ফেললো , যে মশ্তিষ্ক তার অভিশপ্ত যাতনায় কাতর থাকতো , সেটিকে তাদের ধারালো দাত দিয়ে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলো , তাকে মুক্তি দিলো ।

--সামাজিকতা--
যদিও আমি কোলাহল এই রাজপথে হাটি , তবুও আমি আকাশ । আমার হৃদয়াকাশে মানুষেরা মেঘমালা হয়ে উড়ে যায় সুন্দর ।


--আগমন--
সে আসলে- মুহুর্তেই খুলে যায় বদ্ধ দুয়ার । সে আসলে- মন পাখি ঊড়ে যায় প্রেমাকাশে । সে আসলে- আনন্দ ধারায় শিহোরিত এ শরীর । সে আসলে- সব সুন্দর । সে আসলে- সব সম্ভব । সে আসলে- মস্তিষ্ক ফাকা , অথচ আনন্দে পুর্ন ।



--গুরু শিষ্য--
শরীর যদি কম্পিউটার হার্ডওয়ার হয়
মন তার সফটওয়ার , মন শরীরকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় , অপারেটরের ইচ্ছায়
আর আমি হচ্ছি তাদের অপারেটর ।
আমার ইচ্ছায় তারা চলে , আমি তাদের গুরু , তারা আমার প্রিয় শিষ্য ।
আমার ইচ্ছাকে বাদ দিয়ে সে যখন বাইরের অন্য কারো ইচ্ছায় চলে তখনই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়
মন যখন ভাইরাস আক্রান্ত হয় , তখন সে নিজের ইচ্ছায় এলোমেলো চলা শুরু করে
তার এ পাগলামীতে শরীরও অসুস্থ্য হয়ে পরে ।



--টাইম পাস--
প্রেমানন্দে ছিলাম , আছি , থাকবো চীরদিন
প্রেমানন্দই একমাত্র লক্ষ্য , গন্তব্য , উদ্দেশ্য , ভাবনা ও কর্ম
প্রেমানন্দই আমার একমাত্র লেনদেন
প্রেমানন্দে ডুবি , ভাসি , মুক্ত হাওয়ার মত করি ওড়া ওড়ি
প্রেমানন্দ ছাড়া এক মুহুর্ত না থাকি ।



--বাস্তব ধর্ম—
দৃশ্যমান সৃষ্টিকে যে ভালোবাসে না
অদৃশ্য ঈশ্বরকে সে কিভাবে ভালোবাসবে?
দৃশ্যমান জগতে যে স্বর্গ পায় না
অদৃশ্য জগতে সে কি লাভ করবে?


--Funny Romantic--
এ জগত , আমার হৃদয় তালুতে দোলেরে
আহা কি আনন্দে মন আমার ওড়ে রে……।


--মহাকর্ষন--
হৃদয় আমার এক মহাশুন্য আবেগে- ধারন করে এ পৃথিবী
এ মহাশুন্যের টানে পৃথিবী , পৃথিবীর টানে মহাশুন্য ।
আকাশের টানে পাখি
পাখির টানে আকাশ ।
পথের টানে পথিক
পথিকের টানে পথ ।
ফুলের টানে ভ্রমরা
ভ্রমরার টানে ফুল ।
জলের টানে তৃষনার্ত
তৃষানার্তের টানে জল ।
মাটির টানে বৃষ্টি
বৃষ্টির টানে মাটি ।
চুম্বকের টানে লোহা
লোহার টানে চুম্বক ।
শরীরের টানে মন
মনের টানে শরীর ।
প্রেমের টানে আনন্দ
আনন্দের টানে আনন্দ ।
সাগরের টানে নদী
নদীর টানে সাগর ।
সন্তানের টানে মা
মায়ের টানে সন্তান ।
জনগনের টানে নেতা
নেতার টানে জনগন ।
যে বিচ্ছিন্ন যে অভিমানী , সে ধ্বংস
কেউ কারো সাথে নয় বিচ্ছিন্ন , সবাই মিলে মিশে একাকার
এ যে মহাপ্রেমের এক রসের খেলা
এ “রাঙা-উৎসব” , প্রান ভরে করো উদযাপন ।

--নির্বান—
প্রেমের এ মাতাল আবেগে
ডুবে যেত দাও আমায়- নীরবে নিস্তবদ্ধে ।

--আমি কে ?--
না আমি “শরীর” , না “মন”
এ “শরীর” আমার ভালোবাসা , আমার আশ্রয়ে
এ “মন” , আমার আনন্দে ।




--জোকার--

জোকার ! সে যে এই জগত মঞ্চের মধ্যমনি
জোকারের চেয়ে উপকারী বান্ধব আর কেউ নেই
“প্রেমিক” যেমন মাছেদের বরশী থেকে মুক্ত করে আনন্দ সমুদ্রে ছেড়ে দেয়
জোকারও তেমনি , দর্শকদের মন টা দুঃখ থেকে আলগা করে শুন্যে মিলিয়ে দেয়
আর যা পরে থাকে তা শুধুই বিশালতা আর আনন্দ ।
কখনই জোকারের আনন্দ বাহিরে মিলিয়ে যায় না ,
কারন তার বাহির বলে আসলে কিছু নেই ,
এই “জগত মঞ্চ” , এই “দর্শক” সবাইকে সে তার ভেতরের সত্তা মনে করে
তাই সে যখন আনন্দ ছড়িয়ে দেয় , সে আসলে নিজের ভেতরেই তা ছড়িয়ে দেয় ।


--অমূল্য দান--

বলেছিলে তুমি- কি দিতে পারি আমি ?
শিশুর সরলতায় তোমায় শুধু হাসাতে পারবো
হাসতে হাসতে আমরা উড়ে বেড়াব- আকাশ থেকে আকাশে আকাশে
আর ভাসবো শুধু ভালোবাসার বাতাসে ।


--মন্ত্র--
সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি-
আমি বিশ্বের নাম্বার 1 ধনী
আমার চেয়ে ভাগ্যবান আর সুখি কেউ নাই ।



--বিশালতা--
প্রেমিকের হৃদয় মহাসমুদ্রের মত আনন্দ উত্তাল
যেখানে হিমালয় পর্বতও অনায়াসে আশ্রয় পেয়ে যায় ।


--“সুখ”--
“সুখ” যেন একটা মোমবাতির আলো
বাহিরের বাতাসে “মোমবাতির-আলো” নিজেকে মেশালেই নিভে যায়
ঠিক এভাবেই , “মন” বাহিরের “সুখ” তালাশ করলে , বিনিময়ে পায়- দুঃখ
“মন” বাহির থেকে কিছু আশা করলে , বিনিময়ে পায়- নৈরাশা
“মন” ব্যক্তির থেকে কিছু পেতে চাইলে , বিনিময়ে পায়- “যন্ত্রনা” ।
অথচ যে “মন” নিজের ভেতরে “সুখ”কে পেয়ে গেছে , সে আর বাহিরের জ্বালে বন্দি নয়
বাহিরের থেকে তার চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নেই
বরং সে কেবল তার ভেতরের “সুখ” বাহিরকে দিয়ে যায় ।

--ঝর্না ফোয়ারা--
আমি হচ্ছি- এক ঝর্না ফোয়ারা
যে কিনা প্রতি মুহুর্তে , প্রেমানন্দ দিয়ে এ জগতকে ভিজিয়ে দিচ্ছে ।



--আপন পর--
সমুদের কাছে নেই- দূরে কিংবা কাছে
সমস্ত মাছেরা এক সমুদ্রের বুকে বয়ে বেড়ায় সুন্দর ।



--নিয়ন্ত্রন--
আমি আছি তো দুনিয়া আছে , আমি নাই কিছু নাই
আমি দুনিয়াতে না , বরং দুনিয়া আমাতে
আমি গাছ হলে , দুনিয়া আমার পাতা
দুনিয়া ঢেউ হলে , আমি সমুদ্র
আমি গাড়োয়ান হলে , দুনিয়া আমার ঘোড়া , আর আমার লাগাম হলো “ত্যাগ”
লাগাম হাত ছাড়া করলে , আমি ভোগি হয়ে যাই
লাগাম হারিয়ে ধপাস করে নিচে পরে যাই ,
আর দুনিয়া মানে ঘোড়ার লাথি খেতে খেতে জীবন যায় ।



--নাঙ্গা সাধক—

জিজ্ঞাসিলাম এক অখন্ড প্রেমিককে-
“এমন তীব্র শীতেও উদাম আছেন , শীত করে না?”
তিনি বললেন- “আমিই এই সমগ্র , সদা সর্বদা উদাম , খোলামেলা
যার বাহির বলতে কিছু নাই , যার ভেতরে শীত
তারে বাহিরে আর ছোবে কি?”


-দৃষ্টিভঙ্গি--

চাওয়া পাওয়ার কারাগারে- আমার দৃষ্টি বন্দী হয়ে গেলে
বেড়ে যায় আমার কষ্ট ।
অথচ শুধু দিয়ে যেতে পারলে
আমিও উড়ে বেড়াতে পারতাম ঐ পাখির মত মুক্তানন্দে ।





--শান্তির শর্ত--

ভোগে বন্দী হবে
ত্যাগে মুক্তি পাবে
“মুক্ত-প্রান”ই আনন্দিত হবে।







--আমার জগত—

বলোনা- “প্রকাশ্য এ জগত” বাহিরে
বরং বলো- এ জগত আমার ভেতরে ।
বলোনা – এই শরীরের ভেতর আমি আছি
বরং বলো- ছোট ছোট শরীরেরা আমার ভেতরে হেটে বেড়ায়
যেমন সমুদ্রের বুকে ঢেউ এরা বয়ে বেড়ায়
সমুদ্র ! সে তো আপনার বিশালতায় আপনি আনন্দ উত্তাল , ঢেউ এ উজার , বয়ে চলেছে সীমাহীন ।

--আত্মমর্যাদা--

কেহ নহে কেহ আমার বাইরে
এই মহাশূন্য , এই জগত , এই “জীবন-মরন” সবাই আমারই ভেতরে
কি বিরাট আমি !
ধন্য আমি
নিজেকে নিয়ে নিজের আমার গর্বের শেষ নাই , আনন্দের সীমা নাই ।



--পরামানন্দের সূত্র--

সব বন্ধ করে দাও আর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাও
তারপর ভালোবেসে ধারন করো এই সমগ্রকে
যেমন নিস্তবদ্ধ মহাশুন্য ধারন করে পৃথিবীকে ।


--জনদরদী--

জননেতা যেন এক বিরাট বট বৃক্ষ
জনগন তার পাতা
সে দোলে তো পাতারাও দোলে
সে আছে তো পাতারা আছে
সে নাই তো কিছু নেই ।




--অন্বেষন--

কই আপনি ?
--এই যে আমি।
কই আপনারে তো দেখি না ? চারিদিকে শুনাসান নীরবতা ছাড়া তো আর কিছুই নাই
--তুমি যে স্থানে আছো , এই গহীন নীরব স্থানটিই আমি।
কি বলছেন এসব? তাহলে আমি কোথায় বলেন?
--তুমি আমার ভেতরে।
আপনি কি পাগল হয়ে গেলেন?
--মাছ কখনো সমুদ্রকে দেখতে পায় না।


--কবির অনুভুতি—

প্রকৃত রোমান্টিক কবির আসলে নির্দিষ্ট কোন শরীর নেই
অথচ সমগ্রের সাথে তার “অবিচ্ছেদ্য আন্তরিক সম্পর্ক”
তাকে সার্বোক্ষনিক যৌনানন্দ দেয়।



--বন্ধুত্ব --
স্ববান্ধব হাস্যজ্জোল
ফুর ফুরে হাওয়ায় স্নান সারি , চলো শুন্যে উড়ি ।




--ধনী—

দু হাত বাড়িয়ে
সে ছুটে এসেছিল- জীবনের কাছে
জীবনও অকাতরে তারে করেছিল দান- প্রান ঐশ্বর্য্য ।
উদাম হৃদয়ে সে এসেছিল জীবনের কাছে
জীবনও অঝরও ধারায় ঝরে পরেছিল তার ওপর- রিনিঝিনি রিনিঝিনি ছন্দে
তা থৈ তা থৈ নেচে ছিল সে , কি যে পরমানন্দে !! কি যে পরমানন্দে !!

--আনন্দ আচরন—

নিঃস্বার্থ মায়াবিনীর
রসময় প্রকাশ ।


--শেষ বিদায়--

এক পলকের এ জীবন
বাচতে দাও প্রান ভরে ।

এ গানই , জীবনের শেষ গান
গাইতে দাও প্রান খুলে ।

এ ভালোবাসাই , শেষ ভালোবাসা
ভুল-ত্রুটি সব ভুলতে দাও ।

এ আনন্দ , শেষ আনন্দ
প্রান আনন্দে মাততে দাও ।

এ খেলা , জীবনের শেষ খেলা
সেরা খেলাটা খেলতে দাও ।

এ বিদায়, শেষ বিদায়
আরেকটু কাছে থাকতে দাও ।

এ উচ্ছাস , জীবনের শেষ উচ্ছাস
হাসতে হাসতে অশ্রু নামে ।

এ শোক , জীবনের শেষ শোক
কান্নার জোয়ারে সব ভাসে ।

এ দেখাই শেষ দেখা
যেমন আকাশ দেখে- পাখি উৎসব ।

এ কথাই শেষ কথা
কথার মায়ায় জড়িয়ে ধরি ।

এ ভ্রমন , আমাদের শেষ ভ্রমন
ফুরফুরে হাওয়ায় উড়ি আর উড়ি ।

এ কাজই জীবনের শেষ কাজ
পরতে পরতে ছড়াই সুন্দর ।

এ বিশ্বাসই জীবনের শেষ বিশ্বাস
বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই ।

এ ঘুমই জীবনের শেষ ঘুম
নিশ্চিহ্ন আমি আধারে মিলাই ।

এই তো চায়ে শেষ চুমুক
প্রান ভরে নেই অমৃত স্বাদ ।
একটু পরেই আসবে মরন , উড়বে আমার পরান পাখি
ভাঙবে খাচা সকল বাধ ।




-জীবন মন্ত্র--
ভালোবাসি- কোন আশা না করে
খাই- প্রান ভরে
কাজটা করি- ভালোবেসে
ঘুমাই- আরামে





--মহাশক্তি--
একবিন্দু ভোরের শিশির যেমন সূর্যের চুমোয় উবে যায়
এ প্রকাশ্য জগত , এ শরীরও তেমনি প্রেমের সমুদ্রে ডুবে যায়।


--পুরুষোত্তম--
একটি শীতল অটল ধারালো ছুরি , যদিও নরম কেকের ওপর দিয়ে যায়
তবু ছুরি সবসময় ছুরি
তার “শীতল ধারালো অটল” ধর্ম থেকে সে একচুলো নড়ে না
সুস্বাদু কেকের কোমলতার কাছে সে কাবু হয় না ।



--আমার স্বাদ—

বসন্তের আমি এক মাতাল হাওয়া
ফুরফুরে উড়ে বেড়ানোই আমার নিয়তি
এ জগত সংসার আমার ফুলের বাগান ।
পরশে আমার , ফুলেরা ঐ দোলে আর দোলে
ওদের সুখে হৃদয় আমার , ওড়ে শুধু ওড়ে ।

--মন্ত্র--
বিশালে হাসি
এমনি ভালোবাসি....


--সুত্র--
হাসি এখন
কান্না পরে ।

--মধুর ভুল--
কাটা গুলো – এই ভুল গুলো সরিয়ে
শুধু ভালোবাসবে আর আমার সুবাস নিবে
মাতাল হবে , ধন্য হবে ।


--ধনী--
যে দেয় , সে পায়
যে চায় , সে হারায় ।

--যৌনতা—

বীর্য ধারন ক্ষমতাই সাধককে যৌনতা ছাড়াই সর্বোক্ষন যৌনানন্দ দেয়
বীর্য পতন তাকে সব দিক দিয়ে দুর্বল করে দেয়।

--জপমালা--
প্রতিদিন ১০০ বার বলিঃ
আমিই “মুক্তানন্দ”
প্রতিদিন ১০০ বার বলিঃ
আমার কারনে সবাই সুন্দর
প্রতিদিন ১০০ বার বলিঃ
“সহজ প্রেমানন্দ” ছাড়া আর সব ফালতু ।


--সর্বোক্ষন--
শিশুর মুক্ত মনরে করো স্মরন
হাসো বিশালে অকারন
এই কথাটা মানিলে ও মন
হবে না আর তোমার মরন ।




--হাজিরা--
তোমার উপস্থিতি যদি হয় , অন্যের ভালোলাগার কারন
ধন্য তুমি , “প্রেমানন্দ” তুমিই কর ধারন


--ভেতর-বাহির--
“বাহির” , আমার স্বর্গ
আর “ভেতর” , সে স্বর্গের উৎস ধারা
এক একটা মানুষ , স্বর্গের এক একটা ফোটা, একটা আনন্দ



……০……



প্রিয় সাধকদের থেকে চয়নকৃত চুম্বক অংশঃ

বুদ্ধ বুদ্ধের মত
কৃষনো কৃষনের মত
আর তুমি তোমার মত
এবং তুমি কারো চেয়ে কোন অংশে কম নও
নিজেকে ভক্তি কর !
নিজের অন্তর প্রেরনাকে ভক্তি কর ও তা অনুসরন কর !
-“অশো”

---0---

হাসির মাধ্যমে শান্তির সূচনা হয়।
*
যখনই তুমি কারো দিকে হাসি মুখে তাকাও , এটি সেই মানুষটির জন্য একটা দামী উপহার ।
*
তুমি যদি মানুষকে শুধু যাচাই করতে থাকো , তবে তাকে ভালোবাসার আর সময় পাবেনা।
*
আসলেই তুমি যদি কাউকে ভালোবাসো , তুমি তা থেকে যন্ত্রনা পেতে পারো না , কারন প্রকৃত প্রেম থেকে শুধু প্রেমানুভুতিই আসে আর কিছু না ।
-“মাদার তেরেসার পবিত্র বানী”

---0---


বিশ্বখ্যাত সাধক রামানা হৃদায়া্মার কিছু বানীঃ

দুনিয়া, শরীর থেকে বিচ্চিন্ন নয়
শরীর , মন থেকে বিচ্ছিন্ন নয়
সুচেতনা থেকে মন বিচ্ছিন্ন নয় , এই তো অস্তিত্ব
কাজেই এটা অনায়াসে বলা যায় যে , সবি সত্তা এবং আর কিছু নয় শুধু সত্তাই অস্তিত্বময়

-
আমি বাস করি সত্যের দুনিয়ায় , যেখানে তোমারটা কাল্পনিক। তোমার দুনিয়া নিজস্ব , ব্যক্তিগত , ভাগাভাগি অযোগ্য , একান্তই তোমার নিজের। কেঊ এটাতে ঢুকতে পারেনা ।দেখো যেমনটি – তুমিই দেখো , শুনো যেমনটি- তুমিই শুনো , তুমিই তোমার আবেগকে অনুভব কর এবং তোমার ভাবনা চিন্তা কর । তোমার পৃথিবীতে তুমি আসলেই বড্ড একা , তোমার জীবনের জন্যে যে স্বপ্ন দেখো- সেটিতেই আবদ্ধ থাকো ।
আমার দুনিয়া একটা খোলা দুনিয়া , সবার জন্যেই একরকম , সবার দ্বারা ব্যবহৃত আমার দুনিয়ায় আছে গোত্র , সংঘ , বাহির-ভেতর , প্রেম , আসল মান । এখানে স্বতন্ত্র হচ্ছে সমগ্র আর সমগ্র হচ্ছে স্ব্তন্ত্র । সবাই এক আর একেই সবাই ।
-
আত্মো-উল্লাসে কেউ নাচবে কেউ গাইবে গান , কিন্তু শেষ পর্যন্ত নীরবতাই তোমাকে প্রদান করবে স্বাধিনতা । খোলো তোমার চোখ , দেখো সেই আলো- যে তোমাকে রাখে উজ্জ্বল , সমস্ত চিন্তা চেতনাকে ছাপিয়ে যে রাখে তোমার হৃদয়কে উচ্ছল ।
-
-


~ Sri Poonjaji 'Papaji' এর পবিত্র বানীঃ-




সবাইরে ভালবাসো- হও প্রেম আর তা ছড়িয়ে দাও
তুমি প্রেম , সবার হৃদয়ে তোমার আসন
এখানে হৃদয় থেকেই তুমি সবকিছু দেখতে পারো
কারন সবকিছু এখান থেকেই প্রতিফলিত

*

যদি এই মন্ত্র , বার বার পড় , তাহলে আমি তোমাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি , তুমি মুক্তি পাবে।
কি সেই মন্ত্র? -
“আমি মুক্ত” ।


*

*


নিশ্চিত কর যে কোন কামনার উদয় হচ্ছে না এবং তুমি হবে অনিন্দ্য সুন্দর , নিখাদ খাটি , দাগহীন
এই সবকিছু তৎক্ষনাৎ তোমার আগেই প্রস্ফুটিত হবে , তখন এই পরম সুন্দর নিজেকেই নিজে জড়িয়ে ধরবে।
*
যখন কেউ প্রান খোলা হাসি হাসে , তখন তার কোন মন থাকে না ।
*



যখন কেউ সত্তা হয়ে বাচে
তখন “পরম শক্তি” তার জীবনের দায় দায়িত্ব নিয়ে নেয়
তখন কোন মানোসিক চেষ্টা ছাড়াই- সবকিছু সতঃস্ফুর্ত ভাবে হয়ে যায় ।

*



পুকুরে যখন ঢেউ থাকে না , তখনই তুমি তোমার মুখ দেখতে পারো । এই ঢেউ গুলো আসলে চিন্তা ভাবনা । যদি তুমি তোমার মনে কোন চিন্তা ভাবনাকে নড়তে না দাও , তাহলে এখনই তুমি তোমার মুখ দেখতে পাবে। সমস্ত প্রকাশ্য বিষয় বস্তুই আসলে শুধু একটি সামান্য ঢেউ মাত্র । এর নিচে তুমি প্রশান্ত আর নীরব , এটিই তোমার আসল স্বভাব ।
*


যদি তোমার মনে শান্তি থাকে তবে সবার মধ্যেই তুমি শান্তিকে খুজে পাবে। তোমার মন উত্তেজিত থাকলে সর্বত্রই তুমি উত্তেজনা দেখতে পাবে। তাই প্রথমেই ভেতর থেকে শান্ত হও আর তাতে তুমি দেখবে তোমার ভেতরের শান্তি সর্বত্র প্রতিফলিত হচ্ছে । তুমিই সেই শান্তি !


*
যখন মন প্রশান্ত থাকে , তখন সবই সত্তা । যখন মন চঞ্চল তখন দুনিয়ার উদয় হয়। তাই স্থির হও , সব কিছু ছুড়ে ফেলো আর মুক্ত থাকো ।
*
থামাও , সবকিছু থামিও দাও , এরপর তুমি উপলব্ধি করবে যে তুমিই “মুক্তি”, যাকে তুমি এতোদিন খুজে বেড়াচ্ছিলে।
*
মুক্তির জন্যে কে দৌড়াচ্ছে? যে এরই মধ্যে মুক্ত।


*

কোন চাওয়া পাওয়া না থাকলে তুমি মুক্ত , যদি তুমি চাও ,তাহলে কারাগারে তোমাকে বদ্ধ করা হবে , এখন তুমিই বল তুমি কি চাও । চাওয়া পাওয়া কখনই পূর্ন হয় না।
*

ভেতরে এটি একবারে স্বচ্ছ। যখন তোমার কোন সন্দেহ থাকেনা , সেখানেই থাকে প্রশান্তি।

*
উৎসের কাছে ফিরে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে নিজের “মন”কে দেখো।“মন” যাতে বাহিরের সাথে সংযুক্ত না হতে পারে এ জন্য সচেতন থাকো আর তুমি যদি নীরব হয়ে যাও , একটি চিন্তার উদয় হবেঃ “আমার উৎস কোথায়”? বাহিরে ছু্টোনা , শুধু নীরব থাকো । এই নীরবতায়, “মন” স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার উৎসের কাছে ফেরত যাবে। সেখানে ফেরত যেয়ে, “মন” হারিয়ে যাবে আর সেখানে কোন “মন” থাকবেনা যে কিনা কোন আলো কিংবা জ্ঞান খুজছিলো। এবং সেখানে অঝর ধারায় প্রশান্তির ঝর্নাধারা বয়ে পরবে। সমস্ত সন্দেহ দূর হয়ে যাবে , সব কিছু স্বচ্ছ হয়ে যাবে আর তুমি নীরব থাকবে জ্বীহবা দিয়ে নয় , সমস্ত হৃদয় দিয়ে। তোমার ব্যক্তি অহং সম্পুর্নভাবে শেষ হয়ে যাবে। একেই বলে প্রশান্তি আর উৎসের কাছে ফিরে যাওয়া।
*
মহাঋষি সময় নীরব থাকতেন আর নীরবতার মধ্যে দিয়েই চিন্তা করতেন। এটি প্রত্যেকেরই আসল প্রকৃতি। নীরবতার কারনে তোমার মন অন্য কোন ব্যাক্তি, বস্তু বা চিন্তা ধারনার প্রতি সংযুক্ত হতে পারেনা। চরম নীরবতার চর্চা কর, এই নীরবতায় যেকেউ সুখ-শান্তি অনুভব করবে।
*
খুজে বের কর যে দেখছে সে আসলে কে? খুজে বের কর তুমি কে? এটি কখনই হারিয়ে যায় না , সেটি সময় সেখানেই থাকে , তুমি খাও , ঘুমাও , স্বপ্ন দেখো কিংবা জেগে থাকো না কেন। দ্রষ্টা সব সময় সেখানে ।
*
নিজের সত্তাকে জানো এবং তারপর জানো বিশ্রামকে , যদি প্রয়োজন মনে কর। এই যে ভ্রান্তির দৃশ্য তুমি দেখছো , এটিও একদিন দূর হয়ে যাবে যখন তুমি তোমার নিজের সত্তাকে উপলব্ধি করতে পারবে। এই ভ্রান্তি দৃশ্যকল্প আর দেখা দিবে না যখন “আসল” তোমাতে প্রকাশিত হবে। এর কোন আকার নেই , নেই কোন নাম, এর কোন ভৌগলিক অবস্থান নেই, নেই ভেতর কিংবা বাহির। এটি এক অসীম বিশ্রাম। তোমরা প্রত্যেকেই এরইমধ্যে এতে আছো। একটি মাত্র বাধা হচ্ছে- তোমার পুর্ব ধারনায় আবদ্ধ থাকা কোন কিছুর সাথে , অবাস্তব কিছুর সাথে। এটিই একমাত্র বাধা , অন্যথায় এই স্বাধীনতা, এই জ্ঞান , এই সৌন্দর্য্য , এই প্রেম সর্বদা তোমাকে আমন্ত্রন জানাচ্ছে । শুধু তোমার মনোযোগটা তোমার নিজের সত্তার দিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে এবং তুমি দেখবে যে তুমি সময়ই মুক্তই ছিলে। এটি তোমার নিজের আসল প্রকৃতি।
*
আর যখন তুমি স্বাধীনতা কামনা কর , এটি তৎক্ষনাৎ সেখানেই। তোমার এটি খোজার দরকার নেই- এটি কোন বস্তু নয় যে একে খুজতে হবে। এটি তোমার খুব ভেতরের প্রকৃতি। এটি তোমার খুব কাছে , তোমার শ্বাস প্রশ্বাসের চেয়েও কাছে। যখন কিছু তোমার শ্বাস-প্রশ্বাসের চেয়েও কাছা কাছি তাহলে তোমার কি এমন চেষ্টা করতে হবে এর সাক্ষাত পেতে। এটি খুব কাছে, খুব প্রিয় , খুব আন্তরিক তোমার প্রতি, কিন্তু তুমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছো সেই সব বস্তু আর লোকদের কামনায় যারা বন্ধুত্বের মূল্য দিতে জানে না ।

………0……..
------------0--------------



…0…



---০—

ভেতরটা ফাকা রেখে
বাহিরে শুধু প্রেম বিলাও
সে ফাকাই আনন্দে পুর্ন হবে ।
-“বাবা শামস তাবরেজ”

---০---



জন্মটারে সাঙ্গ করে
আমার মাঝে 'আমি'রে ধরে
আমার সাথেই মাতি মৈথুন লীলায়।

তোমরা যদি বুঝতে বন্ধু
এ যে কেমন সূধার সিন্দু
বিন্দু-সাধে সদানন্দময়,
মৈথুনেই 'আমি' বর্তমান ধরায়।

অন্তর গৃহের তল কুঠরে
আমি'টারে নগ্ন করে
সর্বঅঙ্গে কামের দোলা দেই।

আমার রমনি'র রুপে
আনন্দ নেই চুপে চুপে
কাম- নিশ্বাসে কর্ণ ভারী হয়।

এ মৈথুনে আমি'র বড় ভয়
কিন্তু! আমার নিত্যই হয় জয়।
--------------------------------------------------()

নিজের কথা // অহন সাঁই



গুপ্তাঙ্গ হলো সে ফুল
যেথায় অনন্ত মধু রয়,
নিস্কামী মন না হলে
বিষ অর্জনের থাকে ভয় |
____অহন সাঁই
---০---

ফূর্তির কবি ওমর খৈয়ামের নির্বাচিত কবিতা (অনুবাদঃ কাজী নজরুল ইসলাম)ঃ-

প্রেমের চোখে সুন্দর সেই হোক কালো কি গৌর-বরন
পরুক ওড়না রেশমি কিংবা পরুক জীর্ন দীন বসন
থাকুক শুয়ে ধুলায় সে কি থাকুক সোনার পালঙ্কে
নরকে সে গেলেও প্রেমিক করবে সেথায় অন্বেষন ।

নিদ্রা যেতে হবে গোরে অনন্তকাল, মদ পিও
থাকবে না কো সাথী সেথায় বন্ধু প্রিয় আত্মীয়
আবার বলতে আসবো না ভাই, বলছি যা তা রাখ শুনে-
ঝরেছে যে ফুলের মুকুল, ফুটতে পারে আর কি ও?

মরুর বুকে বসাও মেলা, উপনিবেশ আনন্দের
একটি হৃদয় খুশি করা তাহার চেয়ে মহৎ ঢের
প্রেমের শিকল পরিয়ে যদি বাধতে পার একটি প্রান-
হাজার বন্দী মুক্ত করার চেয়েও অধিক পুন্য এর ।

শারাব নিয়ে বসো, ইহাই মহমুদেরই সুলতানৎ
দাউদ নবীর শিরিন-স্বর ঐ বেনু বীণার মধুর গৎ
লুট করে নে আজের মধু, পূর্ন হবে মনস্কাম
আজকে পেয়ে ভুলে যা তুই অতীত আর ভবিষ্যৎ ।

এক নিশ্বাস প্রশ্বাসের এই দুনিয়া, রে ভাই, মদ চালাও !
কালকে তুমি দেখবে না আর আজ যে জীবন দেখতে পাও
খাম খেয়ালির সৃষ্টি এ ভাই, কালের হাতে লুটের মাল
তুমিও তোমার আপনাকে এই মদের নামে লুটিয়ে দাও !

নগদ যা পাও হাত পেতে নাও,
বাকির খাতা শূন্য থাক।
দুরের বাদ্য লাভ কি শুনে,
মাঝখানে যে বেজায় ফাঁক।

……………


বাবা জালালুদ্দিন রুমির কাব্য গ্রন্থ থেকে চয়নকৃত চুম্বক অংশঃ
প্রেমে বোকা হয়ে যাও
*
সব কিছুই স্বর্নের মত চক চক করে , তবুও ফিরে আসা উচিত আমাদের উৎসে (প্রেমানন্দে) ।
*
প্রকৃত সাধক কখনো “কম আর বেশীর” কারাগারে বন্দি নয় ,এমনকি চিন্তিতও নয়।
*
দুখের সময় তুমিই আমার আত্মার আরাম , হারানোর বেদনায় তুমিই আমার ফুর্তির ঐশ্বর্য্য ।
*
হৃদয়ের কৃষক আমি
বুনে যাই “প্রেম বীজ” , আর তুলে নেই “আনন্দের ফসল”
*
যেখানেই তুমি থাকো , আর যাই করো না কেন , প্রেমেই থেকো ।
খুলে গেলাম আমি আর হলাম প্রেমে পূর্ন
*

জিজ্ঞেস করো না – প্রেম কি করতে পারে ?
বরং তাকাও এই দুনিয়ার রঙে
*
যখন আত্মা জেগে ওঠবে- ঠোটে
তুমি সেই চুম্বন করবে অনুভব
যা তুমি চেয়েছিলে
*
যদি সারা জাহানো কাটায় ভরে যায় , তখনো প্রেমিকের হৃদয় গোলাপের বিছানা
*
আমি চাই সেই প্রেম যে পাহাড় নাড়িয়ে দেয়
আমি চাই সেই প্রেম যে সমুদ্রকে পর্যন্ত আলাদা করে দেয়
আমি চাই সেই প্রেম যে হাওয়ায় ধরায় কাপন
আমি চাই সেই প্রেম যে বজ্রের মতো গর্জন করে ওঠে
আমি চাই সেই প্রেম যে মৃত্যুকেও জাগিয়ে তোলে
আমি চাই সেই প্রেম যে পরমানন্দে আমাদের উঠিয়ে নেয়
আমি চাই সেই প্রেম যে অসীমের স্তব্ধতা
*
এটা প্রেমঃ
গোপন আকাশে যায় উড়ে

*
জটিল সব ভাবনাকে ছাড়িয়ে যাও
আর খুজে পাও সেই বেহিসেবি বেহেস্ত
তোমার ছোট এই পৃথিবীটাকেও ছাড়িয়ে যাও
আর খুজে পাও প্রভুর রাজষিক সেই দুনিয়া
*
প্রেমের পরষে তীতা হয়ে যায় মিঠা
প্রেমের পরষে তামা হয়ে যায় সোনা
প্রেমের পরষে ময়লা হয়ে যায় পরিষ্কার
প্রেমের পরষে যন্ত্রনা হয়ে যায় আরোগ্য
প্রেমের পরষে মরনও বেচে যায়
প্রেমের পরষে বাদশা হয়ে যায় গোলাম
জ্ঞানে প্রেম বেড়ে ওঠে
বেহায়া হয়েও অন্ততঃ কেউ এমন রাজষিক শক্তিতে জায়গা করে নিতে পেরেছে ?
*
“প্রেম” আমাদের আত্মা কে ওপরে উঠিয়ে নেয়- কোন মই ছাড়াই
*
আমিতো তোমারি প্রেম সমুদ্রে বেচে থাকি
*
একবার যদি তোমার স্বার্থপর সত্তাকে বশীভূত করতে পারো
তোমার সমস্ত আধার হয়ে যাবে আলো ।
*
"তোমার কারো দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানোর কোন দরকার নাই। নিজের ভিতরে ভ্রমন করো। মনের মনি-মুক্তার কোঠায় প্রবেশ করো এবং নিজের আত্মার স্বর্গীয় আলোতে স্নান করো।"

*
এ জগত সংসার এক রসের ভান্ডার
হও রসিক আর পান করো সাবধানে ।
…………………………




…………..




মানুষের মহিমাই ধরা পড়েছে জালাল খার গানের বিভিন্ন চরণে। কয়েকটি দৃষ্টান্ত এ-রকম,-



৬. থাকতে ক্ষুধা প্রেম শুধা
পান করো রে পাগলা মন
হায়রে পান করো রে পাগলা মন
থাকতে ক্ষুধা প্রেম শুধা ।।
দিন গেলে দিন আর পাবেনা
ভাটা যদি লয় যৈবন ।
আসমানে জমিনে যে প্রেম অনন্তকাল ধরিয়া।
তাই তো তারে মেঘ বাদলে রাখে শান্ত করিয়া।
তা না হলে হলে হুলে। (হায়রে) শোভিত না (খোদার) এই ভুবন
থাকতে ক্ষুধা প্রেম শুধা
পান করো রে পাগলা মন ।
পাহাড়ে সাই ঘুরে যে প্রেম ফাটাইয়াছে এক সাথে।
তাই তো পানি বাস্প হইয়া উঠে গিয়া তার মাঝে।
দেখছ নি তাই মন ভাবিয়া। হইতেছে কত পরেশন
থাকতে ক্ষুধা প্রেম শুধা
পান করো রে পাগলা মন
খোদার প্রেমে জংগলবাসী মনি ঋষি আওলিয়া (আওলিয়া…)।
সারা জনম কাটায় তারা গাছতলাতে বসিয়া
পাইলো কী ধন কইলো না রে
পাইলো কী ধন কইলো না তাই (সদাই) কান্দেরে জালালের মন
থাকতে ক্ষুধা প্রেম শুধা
পান করো রে পাগলা মন।।


………………


প্রিয় কবি সাহিত্যিকদের থেকে চয়নকৃত চুম্বক অংশঃ
--পাতার মুকুটপরা নিঃস্ব মানুষ--
আমি প্রকৃত নিঃস্ব মানুষের মতো
মরতে চেয়েছি
পাহাড়ের ঘর অরণ্যে

একদল মানুষ ওদের স্নিগ্ধ মেয়েদের নিয়ে এলো
ওরা গাইলো
ঝরনাধারার মতো নাচলো
আমাকে ক্রীতদাসত্বের গ্লানি
বিষয়ে বললো
বিমানের তেল ফুরিয়ে যাওয়ার পর
তার প্রয়োজনীয়তার কথা বললো
একটা ফুটফুটে মেয়ে

তারা প্রকৃত নিঃস্ব ও সৎমানুষের মতো
বাঁচতে বলে
আমার মাথায়
পাতার মুকুট
পরিয়ে দিলো

সকালে ওই মুকুট দেখে যারা খুব হাসলো
ওদের আমার খারাপ মনে হলেও
একটি অদৃশ্য ভালোবাসা
আমাকে শান্ত রেখেছিল…

-হাফিয রশীদ খান

………
হিসেব
_____- তসলিমা নাসরিন
কত টুকু ভালোবাসা দিলে,
ক তোড়া গোলাপ দিলে,
কতটুকু সময়, কতটা সমুদ্র দিলে,
কটি নির্ঘুম রাত দিলে, কফোঁটা জল দিলে চোখের –
সব যেদিন ভীষণ আবেগে শোনাচ্ছিলে আমাকে,
বোঝাতে চাইছিলে আমাকে খুব ভালোবাসো,
আমি বুঝে নিলাম-
তুমি আমাকে এখন আর একটুও ভালোবাসোনা।

ভালোবাসা ফুরোলেই মানুষ হিসেব কষতে বসে, তুমিও বসেছো।
ভালোবাসা ততদিনই ভালোবাসা
যতদিন এটি অন্ধ থাকে, বধির থাকে,
যতদিন এটি বেহিসেবি থাকে।
…………

মনে থাকবে?
____-আরণ্যক বসু
পরের জন্মে বয়স যখন ষোলোই সঠিক
আমরা তখন প্রেমে পড়বো
মনে থাকবে?
বুকের মধ্যে মস্তো বড় ছাদ থাকবে
শীতলপাটি বিছিয়ে দেব;
সন্ধে হলে বসবো দু'জন।
একটা দুটো খসবে তারা
হঠাৎ তোমার চোখের পাতায় তারার চোখের জল
গড়াবে,
কান্ত কবির গান গাইবে
তখন আমি চুপটি ক'রে দুচোখ ভ'রে থাকবো
চেয়ে...
মনে থাকবে?
এই জন্মের দূরত্বটা পরের জন্মে চুকিয়ে দেব
এই জন্মের চুলের গন্ধ পরের জন্মে থাকে যেন
এই জন্মের মাতাল চাওয়া পরের জন্মে থাকে
যেন
মনে থাকবে?
আমি হবো উড়নচন্ডি
এবং খানিক উস্কোখুস্কো
এই জন্মের পারিপাট্য সবার আগে ঘুচিয়ে দেব
তুমি কাঁদলে গভীর সুখে
এক নিমেষে সবটুকু জল শুষে নেব
মনে থাকবে?
পরের জন্মে কবি হবো
তোমায় নিয়ে হাজারখানেক গান বাঁধবো।
তোমার অমন ওষ্ঠ নিয়ে
নাকছাবি আর নূপুর নিয়ে
গান বানিয়ে__
মেলায় মেলায় বাউল হয়ে ঘুরে বেড়াবো...
মনে থাকবে?
আর যা কিছু হই বা না হই
পরের জন্মে তিতাস হবো
দোল মঞ্চের আবীর হবো
শিউলিতলার দুর্বো হবো
শরৎকালের আকাশ দেখার__
অনন্তনীল সকাল হবো;
এসব কিছু হই বা না হই
তোমার প্রথম পুরুষ হবো
মনে থাকবে?
পরের জন্মে তুমিও হবে
নীল পাহাড়ের পাগলা-ঝোরা
গাঁয়ের পোষাক ছুড়ে ফেলে
তৃপ্ত আমার অবগাহন।
সারা শরীর ভ'রে তোমার হীরকচূর্ণ ভালোবাসা।
তোমার জলধারা আমার অহংকারকে ছিনিয়ে নিল।
আমার অনেক কথা ছিল
এ জন্মে তা যায়না বলা
বুকে অনেক শব্দ ছিল__
সাজিয়ে গুছিয়ে তবুও ঠিক
কাব্য করে বলা গেল না!
এ জন্ম তো কেটেই গেল অসম্ভবের অসঙ্গতে
পরের জন্মে মানুষ হবো
তোমার ভালোবাসা পেলে
মানুষ হবোই__ মিলিয়ে নিও!
পরের জন্মে তোমায় নিয়ে...
বলতে ভীষণ লজ্জা করছে
ভীষণ ভীষণ লজ্জা করছে
পরের জন্মে তোমায় নিয়ে...
মনে থাকবে?
…………

ঈশ্বর বন্দনায় ব্যাস্ত মানুষগুলোর
ঈশ্বর থাকে সাত আসমানে;
আমার ঈশ্বর এইখানে
যেখানে তুমি আমি জড়িয়ে আছি
গভীর আলিঙ্গনে !
-আঞ্জুমান রোজী
…………………
……………..
দৈনন্দিন বেচে থাকার সংগ্রামে অযথাই উদ্বিগ্ন দুশ্চিন্তার নাটক চলে বিরতীহীন । এই অর্থহীন বিদ্ধংশী আচরন চলতে থাকে ঠিক ঐ শিশুর মত-যে সৈকতে বালুর প্রাসাদ গড়ে আবার তা ঢেউ এ ভেসে গেলে হতাশ হয়ে পরে।
~ H.H. Dilgo Khyentse Rinpoche

………….
ঘরের কাঠে ঘুনে খায়
কাঠ আনিতে বনে যায় ।
-খনার বচন
………

"সন্ধ্যা হয়—চারিদিকে"
----জীবনানন্দ দাশ
সন্ধ্যা হয়—চারিদিকে শান্ত নীরবতা ;
খড় মুখে নিয়ে এক শালিখ
যেতেছে উড়ে চুপে ;
গোরুর গাড়িটি যায় মেঠো পথ
বেয়ে ধীরে ধীরে;
আঙিনা ভরিয়া আছে সোনালি খড়ের ঘন স্তূপে ;
পৃথিবীর সব ঘুঘু ডাকিতেছে হিজলের বনে;
পৃথিবীর সব রূপ লেগে আছে ঘাসে;
পৃথিবীর সব প্রেম আমাদের দু'জনার মনে ;
আকাশ ছড়ায়ে আছে শান্তি হয়ে
আকাশে আকাশে।
[কাব্যগ্রন্থ :রূপসী বাংলা]


----0----







---০---
ইংরেজ কবি জন ডানের মৃত্যু নিয়ে একটি কবিতা - ‘ডেথ্, বি নট প্রাউড’।
"একটা ছোট্ট ঘুমের পর যখন আমরা চিরকালের জন্য জাগবো / মৃত্যু, তুমি তখন থাকবে না; তুমিই তখন মারা যাবে।"



---0---

জ্ঞান দেহকে ভালবাসে তেমনি দেহ জ্ঞানকে রক্ষা করে। ইহাই ভালবাসার বর্তমান।
- হযরত ফকির শাহ্ সুলতান জালালী
---0---
সুকান্ত ভট্টাচার্য » ছাড়পত্র (কাব্যগ্রন্থ)
দেশলাই কাঠি
আমি একটা ছোট্ট দেশলাইয়ের কাঠি
এত নগণ্য, হয়তো চোখেও পড়ি নাঃ
তবু জেনো
মুখে আমার উসখুস করছে বারুদ-
বুকে আমার জ্বলে উঠবার দুরন্ত উচ্ছ্বাস;
আমি একটা দেশলাইয়ের কাঠি।
মনে আছে সেদিন হুলস্থূল বেধেছিল?
ঘরের কোণে জ্বলে উঠেছিল আগুন-
আমাকে অবজ্ঞাভরে না-নিভিয়ে ছুঁড়ে ফেলায়!
কত ঘরকে দিয়েছি পুড়িয়ে,
কত প্রাসাদকে করেছি দূলিসাৎ
আমি একাই- ছোট্ট একটা দেশলাই কাঠি।
এমনি বহু নগর, বহু রাজ্যকে দিতে পারি ছারখার করে
তবুও অবজ্ঞা করবে আমাদের?
মনে নেই? এই সেদিন-
আমরা সবাই জ্বলে উঠেছিলাম একই বাক্সে;
চমকে উঠেছিলে-
আমরা শুনেছিলাম তোমাদের বিবর্ণ মুখের আর্তনাদ।
আমাদের কী অসীম শক্তি
তা তো অনুভব করেছ বারংবার;
তবু কেন বোঝো না,
আমরা বন্দী থাকবো না তোমাদের পকেটে পকেটে,
আমরা বেরিয়ে পড়ব, আমরা ছড়িয়ে পড়ব
শহরে, গঞ্জে , গ্রামে- দিগন্ত থেকে দিগন্তে।
আমরা বার বার জ্বলি, নিতান্ত অবহেলায়
তা তো তোমরা জানোই!
কিন্তু তোমরা তো জানো না:
কবে আমরা জ্বলে উঠব-
সবাই শেষবারের মতো!

---০---

মন যার স্থির নয়
তার মন বাহিরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়
এ মন পরম সুখ পায় না ।
-(মহা অবতার বাবাজী)

--কথা বলা--
গোলাপের মত নিস্তব্ধ হও
কথা বলো তার মত সৌরভের ভাষায় ।
-(লাহিরি মহাশয়া)

---০---

Mohammad Shah Azizur Rahman-
নূর জ্যোতি নূর জল
করে নূর টলমল
আঁখি হল ছলছল
দেখে নূরের ঝলক ॥
--০--

মাটো বাসো জাপানিজ জেন গুরুর হাইকুঃ-
এমন কিছু নেই যা ফুল নয়
এমন কোন ভাবনা নেই যা চাঁদ নয় ।
*
প্রকৃতির সাথে একাত্ম হও
তোমার আসল স্বভাবে মিশে যাও
মনে ধারন করো- প্রকৃতির সহজ স্বভাব
যেমনটি পাহাড়, নদী, ঘাস কিংবা ফুল ধারন করে ।
*
নীরবতাকে ভাঙার মানোসিক তৎপরতাই এক গোপন সন্ত্রাস ।
*
বৈকালিক বাতাসঃ
জল পরিবেষ্টিত
বকের পায়ে ।
*
চাদের আলো পশ্চিমে সরে যায়
ফুলের ছায়া পুবে হামাগুড়ি দেয় ।
*
চড়ুই গান গাইছে
(কারন) ওর ছোট্র মুখটি খোলা ।
*
বসন্ত শুকিয়ে গেলে
শুকনো পাতারা ঝরে পরে
পাথরেরা এখানে সেখানে ।
*
সাদা সাদা নাশপাতি ফুল ফুটেছে
আর জোৎস্নার আলোয়
এক যুবতী প্রেম পত্র পড়ছে ।
*
জমিতে চাষ চলছিল
যে মানুষটি রাস্তা খুজছিল
সে হারিয়ে গেলো ।
--০—
যে বাশরী ফাকা নয়
তার থেকে বেরোয় না প্রেম সুর ।
-“জেন প্রবাদ”
--০—
তুমি সম্পুর্ন কামনা শুন্য হলেই কেবল দেখতে পাবে এ জগতে স্বর্গ ।
-“বাবা ত্রৈলাঙ্গা স্বামী”
--০—
নিজেকে জানা হচ্ছে নিজেকে ভুলে যাওয়া
নিজেকে ভুলে যাওয়া মানে হচ্ছে , সব কিছুর দ্বারা সচেতন থাকা ।
-“ডোজেন” জেন গুরু
--০—
বিচ্ছিন্নতা বিভ্রান্তি থেকে জেগে উঠার জন্যেই আমরা এখানে ।
-“টিচ নাথ হান” জেন গুরু
--০—
তোমার হৃদয়ে এক চুম্বক আছে, যে শুধু আসল বন্ধুকে আকর্ষন করে । এ চুম্বক নির্স্বার্থ , সে শুধু অপরের কল্যান ভাবে । যখন তুমি শিখবে কিভাবে অপরের জন্যে বাচতে হয় , তারাও তখন তোমার জন্যে বাচবে ।
-গুরু“পরমহাসনা ইয়োগা আনন্দ”
--০—
জেন গুরু “ইয়োসা বুসোন” এর হাইকুঃ-
ঘাসেরা কুয়াশা আচ্ছন্ন
জলেরা নীরব
এক প্রসন্ন বিকেল ।
*
খোলো তোমার (হৃদয়ের) জানালা
মেঘ আর আকাশকে
তোমার ঘরে প্রবেশ করতে দাও ।
*
আমি ফুলেদের কাছে আসলাম
তাদের ভেতরে ঘুমিয়ে পরলাম
এটাই ছিল আমার অবকাশ যাপন ।
*
প্রতিটা কাটায় এক ফোটা সাদা শিশির ।
*
বসন্তের বৃষ্টিতে-
পুকুর আর নদী একাকার হয়ে যায় ।


--0--

Miraz Hossain:-
যারা Biology পড়েছেন তারা জানেন , বিশেষ সময় একজন পুরুষ একবারে ২০০-৩০০ মিলিয়ন স্পার্ম নির্গত করেন। এই ৩০০ মিলিয়ন স্পার্মই Ovum এর দিকে ছুটতে ছুটতে সেখানে পৌছায় মাত্র ৩০০-৫০০ পিস !
মাত্র ৩০০ - ৫০০ স্পার্মই Ovum এর কাছে যেতে পারে, আর বাকিরা এই "ছুটে চলার" দৌড়ে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে বিলিন হয়ে যায়।
এই ৩০০-৫০০ স্পার্ম যেগুলা ডিম্বানুর কাছে যেতে পেরেছে এদের মধ্যে মাত্র ১ টাই ডিম্বানুকে উর্বর করে। আর যে একটা স্পার্ম ডিম্বানুকে উর্বর করে সেই একটাই আপনি বা আমি।
আপনি কখনও কি একবারের জন্যও এইভাবে চিন্তা করেছেন যে , আপনি তখন দৌড়াচ্ছিলেন তখন আপনার চোখ , হাত , পা , মাথা কিছুই ছিলনা ! ইনফেক্ট আপনি ছিলেন অর্ধেক। তবুও আপনি জিতেছিলেন।
আপনি তখন দৌড়াচ্ছিলেন , তখন আপনার কোন সার্টিফিকেট ছিল না , কিন্তু তবু আপনি জিতেছিলেন।
আপনি তখন কোন শিক্ষা ছাড়া দৌড়াচ্ছিলেন , কারো সাহায্য ছাড়াই দৌড়াচ্ছিলেন , ষ্টার্টিং ট্র্যাতকে বাঁশি দেয়ার কেউ ছিল না , তবু আপনি ঠিক সময়ে দৌড় দিয়েছিলেন ও জিতেছিলেন সেই প্রতিযোগিতা।
অথচ , আজ আপনি কিছু একটা হলেই ঘাবড়ে যান, নিরাশ হয়ে যান। পরাজয় মেনে নেন । অথচ , এখন আপনার সার্টিফিকেট আছে, প্লান করার মানুষ আছে , সাহায্য করার হাত আছে , তবুও আশা হারিয়ে ফেলেন।
যেখানে আপনি আপনার জীবনের প্রথম দিনেই হার মানেন নাই , সেখানে আপনি এখন কেন হার মানবেন ?

---০---
কিছু হবার চেষ্টা করোনা । নিজেকে কোন কিছুতে পরিনত করতে যেয়ো না । হতে যেয়ো না ধ্যানি কিংবা নির্বান মহাপুরুষ। যখন তুমি বসে থাকো , তখন “বসে থাকা”কে বসে থাকতে দাও , যখন হাটো , “হাটা”কে এগিয়ে যেতে দাও । কিছুই ধরে থাকতে যেয়ো না , প্রতিরোধ করতে যেয়ো না কিছুই ।
-Aj ahn chah
--০--
একটা প্রশান্ত নিস্তবদ্ধ মন , তোমার সব চাহিদার ঘটায় অবসান , এ অবস্থায় যাই ঘটে সবই সঠিক , সবই পরিপুর্ন।
- Nisargadatta
---০---

যে নিজেকে ভালোবাসেনা , তাকে কেউ ভালোবাসেনা
যে নিজেকে বিশ্বাস করেনা , তাকে কেউ বিশ্বাস করেনা
যে নিজেকে জয় দিতে পারেনা , তাকে কেউ জয় এনে দিতে পারেনা
যে নিজেকে মুক্তি দেয় না , তাকে কেউ মুক্তি দিতে পারেনা
যে নিজেকে আনন্দ দেয় না , তাকে কেউ সুখ দেয় না ।
-“রোমান্টিক কবি আবুল বাশার”


---০---
বৃষ্টিতে সবাই ভেজে , অথচ অল্প কয়েকজনই বৃষ্টিকে অনুভব করতে পারে ।
-বব মার্লি

---0---
শুন্য মনে দূর্গ গড়ে
করছো তুমি যুদ্ধ,
যুদ্ধ শেষে “আমি” ছেড়ে
হলে তুমি সিদ্ধ।
*
“আমি বনাম আমিত্ব”
কোন কাজে “আমি করছি” বা “আমার দ্বারা এটা সংগঠিত হচ্ছে” এই ভাব থাকাই আমিত্ব বা অহং। আমরাই অবচেতন ভাবে নিশ্বাস নিচ্ছি, হৃদপিন্ড পাম্প করছি, পাকস্থলিতে খাদ্য হজম করছি। কিন্তু এখানে “আমি করছি” এই ভাব নেই, তাই এগুলো কাজের প্রতি আমাদের কোন আসক্তি,অহংকার নেই। আমিত্ব মানুষকে অভাবী করে তোলে।
-Junayed Ikbal

অলসরা দেহ দ্বারা ব্যবহৃত হয় আর কর্মঠরা দেহকে ব্যবহার করে।
-Junyed Iqbal
যে কোন প্রকার চাওয়াই মনকে অপূর্ণ করে, কিন্তু একটা চাওয়া আছে যা মনকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ করে। তা হল, অপরকে পরিপূর্ণ করতে চাওয়া। যে পরিপূর্ণ, সে কখনো পরিপূর্ণ হতে চায় না। সে পরিপূর্ণতা বিতরণ করে।
-“Junayed Ikbal”
আমি আছি , আমার দ্বারা এটা হয়েছে , আমি এটা করছি ।- এটাই আমিত্ব । -“Junayed Ikbal”


---0---

বহুরুপে সম্মুখে ছাড়ি-
কোথা খুঁজেছো ঈশ্বর?
জীবে প্রেম করে যেই জন,
সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।
-“স্বামী বিবেকানন্দ”
---0---
নিজের স্বভাব অনুযায়ী অন্যের সাথে আচরণ করো অন্যের স্বভাব অনুযায়ী নয়, যাই হোকনা কেন তাদের কথায় কাজে যতই কষ্ট পাওনা কেন।
-“অশো”


---0---
আপনি কখনই ভাববেন না যে আপনার অনেক বয়স হয়ে গেছে। ছোট্ট বেলার সেই শিশুটির মতই নিজেকে বিবেচনা করুন। ভাবুন আপনি কাল্পনিক জগতের ডানাযুক্ত সেই ছোট্ট শিশুটি যে দিগন্ত জুড়ে দৌড়ে বেড়াতে পারে, অকারণে যতসব ইচ্ছা নিমেষেই পূরণ করতে পারে। এভাবেই নিজের মনে যখন যা আসে তাই পূরণ করার চেষ্টা করুন।-“Miraz Hossain”
--0—
যখন তুমি নিজে নতুন , তখন সবই নতুন । পুরাতন তুমি , কোন নতুনই দেখতে পাবেনা ।
*
যদি সে খারাপ হয় , তাহলে তুমি অতি অবশ্যই ভালো নও ।
*
যখনই তুমি নুতন , তখনই তুমি পরম আনন্দ । হও নুতন ।
-“ইমোর্টাল ট্রাষ্ট”

অন্যের জীবন করোনা যাপন , নিজেকে তিলে তিলে মেরে ফেলো না । তোমার নিজের সত্তা কখনোই মরেনা , তোমার নিজের হও এবং অমরত্ব লাভ করো ।-“Immortal Trust”

তোমার কারো দরকার নেই , শুধু তোমার নিজেকে নিজের দরকার আছে , যা এরই মধ্যে তোমার আছে অথচ তুমি জানো না , তাই তো তুমি গরীব । যা ঐ গরীবদের মতো যারা জানে না ।-Immortal Trust

---0---

নিঃশোঙ্ক অদম্য চিত্তের চেয়ে বড় কিছু নেই । -“কর্নেল তাহের”।
---0---
কতটা নির্দয় হই,
অবুঝ শিশুর মত প্রত্যহ আদায় করি
২১৬০০টি নিষ্কাম চুম্বন তোমার।
একটুও বিরাম নেই, থামাথামি নেই,
চলছে তো চলছেই।
আর কত দিবে হে প্রাণেশ্বরী আমার!!
-“ Dulal Mohanto”
---0---
ঐখানে সারাদিন উঁচু ঝাউবন খেলা করে
হলুদে সবুজ নীল রঙ তার বুকে
পাখি মেঘ রৌদ্রের;
তবু আজও হৃদয়ের গভীর অসুখে
মানবেরা পড়ে আছে কেন!
আজ অন্ধ শতাব্দীর শতছিদ্রতার
ভিতর আলোর খোঁজে যদি চলে যায়
তবুও শাশ্বত হয়ে থাকে অন্ধকার।...জীবনানন্দ দাশ

---0---
প্রেম আগুনে জ্বলে পুরে মরার মাঝে যে কি সুখ লুকিয় থাকে.
তা শুধু পতঙ্গই জানে......
আপন মনে পুড়ছে সদাই প্রেম আগুনে...
-“মানিক শিমুল”

---0---
দয়া ধর্মই আসল ধর্ম । আর নিজেকে দয়ার মধ্যে দিয়েই সে ধর্মের কর সূচনা ।
-“বুদ্ধ”
---0---
তোমার চোখ এতো লাল কেন
--নির্মলেন্দু গুণ
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে , আমি চাই
কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক,
শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরোজা খুলে দেবার জন্য ।
বাইরে থেকে দরোজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত ।
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ আমাকে খেতে দিক । আমি হাতপাখা নিয়ে
কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না,
আমি জানি, এই ইলেকট্রিকের যুগ
নারীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী -সেবার দায় থেকে ।
আমি চাই কেউ একজন জিজ্ঞেস করুক :
আমার জল লাগবে কি না, নুন লাগবে কি না,
পাটশাক ভাজার সঙ্গে আরও একটা
তেলে ভাজা শুকনো মরিচ লাগবে কি না ।
এঁটো বাসন, গেঞ্জি-রুমাল আমি নিজেই ধুতে পারি ।
আমি বলছি না ভলোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন ভিতর থেকে আমার ঘরের দরোজা
খুলে দিক । কেউ আমাকে কিছু খেতে বলুক ।
কাম-বাসনার সঙ্গী না হোক, কেউ অন্তত আমাকে
জিজ্ঞেস করুক : 'তোমার চোখ এতো লাল কেন ?'

---0---

--আমি ঝর্নাধারা , তুমি আমার জল--
By Zeynep Hatun
(15th Century)

English version by Murat Yagan

আমি ঝর্নাধারা , তুমি আমার জল-
আমি তোমার থেকে তোমাতে হই প্রবাহিত ।
আমি চোখ , তুমি আমার আলো-
আমি তোমার থেকে তোমাকে দেখে যাই ।
না তুমি শুধু আমার ডান আর না আমার বাম-
তুমি আমার পা এবং বাহুও।
আমি পথিক , তুমি আমার পথ-
আমি তোমার থেকে তোমাতে এগিয়ে যাই ।
-- from "Women in Sufism: A Hidden Treasure - Writings and Stories of Mystics Poets, Scholars and Saints," Edited by Camille Adams Helminski




সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৩:২২
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের কার কি করা উচিৎ আর কি করা উচিৎ না সেটাই আমারা জানি না।

লিখেছেন সেলিনা জাহান প্রিয়া, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১:২৮




আমাদের কার কি করা উচিৎ আর কি করা উচিৎ না সেটাই আমারা জানি না। আমাদের দেশে মানুষ জন্ম নেয়ার সাথেই একটি গাছ লাগানো উচিৎ । আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবতার কাজে বিশ্বাসে বড় ধাক্কা মিল্টন সমাদ্দার

লিখেছেন আরেফিন৩৩৬, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ২:১৭


মানুষ মানুষের জন্যে, যুগে যুগে মানুষ মাজুর হয়েছে, মানুষই পাশে দাঁড়িয়েছে। অনেকে কাজের ব্যস্ততায় এবং নিজের সময়ের সীমাবদ্ধতায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে না। তখন তারা সাহায্যের হাত বাড়ান আর্থিক ভাবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। আমের খাট্টা

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৪



তাতানো গরমে কাল দুপুরে কাচা আমের খাট্টা দেখে ব্যাপারটা স্বর্গীয় মনে হল । আহা কি স্বাদ তার । অন্যান্য জিনিসের মত কাচা আমের দাম বাড়াতে ভুল করেনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার ডেথঃ হ্যারল্ড শিপম্যান

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১:০৪



উপরওয়ালার পরে আমরা আমাদের জীবনের ডাক্তারদের উপর ভরশা করি । যারা অবিশ্বাসী তারা তো এক নম্বরেই ডাক্তারের ভরশা করে । এটা ছাড়া অবশ্য আমাদের আর কোন উপায়ই থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ইতং বিতং কিচ্ছার একটা দিন!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৩:০৩



এলার্ম এর যন্ত্রণায় প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গে আমার। পুরাপুরি সজাগ হওয়ার আগেই আমার প্রথম কাজ হয় মোবাইলের এলার্ম বন্ধ করা, আর স্ক্রীণে এক ঝলক ব্লগের চেহারা দেখা। পরে কিছু মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×