somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রযুক্তির এ যুগে 'মা-বাপ'দের কিছু কমন ভুল যেগুলা সন্তানের উপর প্রয়োগ করে

২৭ শে জুন, ২০১৬ রাত ১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি কথাগুলোকে যুক্তির বিচারে সাজিয়ে বলতে চেষ্টা করব। আশা করি আপনি মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে অযথায় গোঁড়ামীর আশ্রয় নিবেন না।
আচ্ছা বলুন তো বাজারের কোন পন্য কেমন সেটা কে ভাল বুঝবে ক্রেতা আই মিন যিনি ব্যবহারকারী তিঁনি? নাকি প্রস্তুতকারক কোম্পানী? অবশ্যই ক্রেতা তাইনা? যারা ভাবছেন প্রস্তুতকারক কোম্পানী তারা পড়ার টেবিলে বসে বসে আপাতত 'ইন্টারপ্রিনিউরশীপ' বইটা পড়তে পারেন। যে কথা বলতে চাচ্ছিলাম তা হলো আপনার সন্তানের ভাল কে বুঝবে? সন্তান নাকি অভিভাবক হিসেবে আপনি? নিশ্চয় এবার অংকটা আর মেলাতে পারছেন না তাইনা? জ্বি... অনেকেই ভুলের শুরুটা এখান থেকেই করে থাকেন। :|

মোবাইল-ফোন/কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিশ্চয় কড়াকড়ি আরোপ করে দিয়েছেন আপনার সন্তানদের প্রতি তাইনা? ক্ষেত্র বিশেষে বিশেষ করে সন্তান যদি টিন-এজার হয়ে থাকে তাহলে তো কোন কোন অভিভাবক তার সন্তানদের মোবাইল-ফোন/কম্পিউটার ব্যবহার করতেই দেন না তাইনা? আর সন্তান যদি মেয়ে হয়ে থাকে তাহলে তো বলাই বাহুল্য। অভিভাবক হিসেবে আপনি কি কখনও চিন্তা করেছেন; কড়াকড়ি, নজরদারি কিংবা ব্যবহার করতে না দেয়ার মাধ্যমে আপনি তাকে আরো বেশি অনৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিলেন? কারণ সে কোন না কোন ভাবে বন্ধু/বান্ধব বা ভিন্ন পরিবেশে প্রতিনিয়তই চলাচল করছে। প্রয়োজন কিন্তু আইন মানে না জানেনই তো! বিষয়টা মাথায় ভালভাবে ঢোকানোর জন্য একটা উদাহরণ দিচ্ছি তা হলো; ধরুন কোন যুবক/যুবতীর যদি স্ত্রী/স্বামী থেকে থাকে তাহলে তার অকাম-কুকাম করার সম্ভাবনা বেশি থাকে? নাকি কোন যুবক/যুবতীর স্ত্রী/স্বামী না থাকলে তার অকাম-কুকাম করার সম্ভাবনা বেশি? নিশ্চই না থাকলে সম্ভাবনার পরিমাণ বেশি তাইনা? তাহলে আপনি কেন কম্পিউটার/ফোনটা কেঁড়ে নিচ্ছেন কিংবা ব্যবহার করতেই দিচ্ছেন না? |-)

এবার একটা ভয়াবহ বিষয় নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি তা হলো; অনেক অভিভাবকই তাদের টিনেজার সন্তানদের কোন মতে কম্পিউটার/মোবাইল-ফোন ব্যবহার করতে দিলেও সোস্যাল সাইট (ফেবু, টুইটার, ইউটিউব) ব্যবহারের উপর ডাইরেক্ট রেসট্রিকশন দিয়ে থাকেন। কেউবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য কম্পিউটার/ফোনটা ব্যবহার করতেই দেন না! কাজ কিন্তু মোটেও ঠিক করলেন না। আবারো একটা উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টা ক্লিয়ার করার চেষ্টা করছি তা হলো; মাথা ব্যাথা হলে কি মাথা কেটে ফেলেন? নিশ্চয় না। তো প্রবলেম যখন কম্পিউটার/মোবাইল-ফোন নিয়ে তখন কেন কম্পিউটার/মোবাইল-ফোনটি কেড়ে নিচ্ছেন বা ব্যবহারে রেসট্রিকশন বেঁধে দিচ্ছেন? কি? তাহলে আপনার সন্তানকে কিভাবে বাঁচাবেন ভেবে কুল পাচ্ছেন না? এতো ভাবতে হবে না উপায় তো কিছু না কিছু আছেই আর তা হল ছোট থাকতেই আপনার সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে! গাছটি চাঁরা অবস্থায় যখন আছে তখন যদি তাকে বাঁকা করে বেঁধে দেন তাহলে সে বাঁকা হয়েই বড় হবে। তেমনি আপনার সন্তানটিকে যদি ছোট থেকেই নৈতিক শিক্ষা বা ধর্ম শিক্ষা দিয়ে থাকেন তাহলে সে সেভাবেই বড় হবে। বড় হবার পর যদি আপনি গাছটিকে আবার সোজা করতে চান তাহলে কি পারবেন? ঠিক আপনার সন্তানটিকে যদি ছোট থেকেই নৈতিক শিক্ষা না দিয়ে থাকেন তাহলে বড় হলে কতটুকু পারবেন তা নিশ্চয় ক্লিয়ার বুঝে গেছেন? /:)

আরো পড়ুনঃ মোবাইল দিয়ে পোস্ট লিখে আয় করুন।

বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেরা যখন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগীতা করছে তখন আপনি আপনার সন্তানকে মোবাইল-কম্পিউটার থেকে দূরে সরিয়ে রাখছেন আর ভাবছেন মনে হয় এটাই তার জন্য মঙ্গলজনক। দুঃখিত যে, আপনি ভুল পথটিই বেঁছে নিয়েছেন। আপনি যতই বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেন না কেন আপনার সন্তান ইউটিউব (ব্লু-ফিল্ম) ঠিকই দেখবে। আপনি যদি খোদাভীতির বিষয়টা তার মগজে গেঁথে দিতে পারেন তাহলেই সে কেবল আপনার অনুপস্থিতেও খোদার ভয়ে ভীত হয়ে অনৈতিক কর্মকান্ড করতে পারবে না। বিষয়টা যদি মাথায় না ঢুকে থাকে তাহলে এখনই একটা ধর্মহীন আর একটা ধর্মভীরু সমাজের দিকে তাকান! আশা করি বিষয়টা পরিষ্কার বুঝবেন। আপনি যতই বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেন না কেন এক সময় আপনার সন্তানটি ঠিকই ফেসবুক চালানো শিখবে। হতে পারে সেটা বন্ধু-বান্ধবের পাল্লাই পড়ে ভুল ভাবে তাদের মত করে। কিন্তু আপনিও পারতেন আপনার সন্তানটির হাতে কম্পিউটার ধরিয়ে দিতে। আপনিই কিন্তু পারতেন আপনার সন্তানটিকে ফেসবুক চালানো শিখাতে। আপনিই কিন্তু পারতেন আপনার সন্তানকে প্রযুক্তির পজেটিভ বিষয়গুলো আতঃস্থ করাতে। আপনিই কিন্তু পারতেন তারে ক্ষুদে প্রোগ্রামার হবার সাহায্যকারী হতে। আপনিই কিন্তু পারতেন একজন ভবিষ্য-জাকারবার্গের অভিভাবক হতে। একটা বিষয় মনে রাখবেন আপনার সন্তান কিন্তু ঠিকই অস্ত্র ধরবে সেটা যদি বন্ধুবান্ধবের পাল্লাই পড়ে ধরে তাহলে হয়ত সন্ত্রাসী হবার শিক্ষা পাবে আর সেটা যদি আপনার পাল্লাই পড়ে ধরে তাহলে হয়ত সন্ত্রাসীদের বিপক্ষে ব্যবহার করা শিখবে। মনে রাখবেন প্রযুক্তিও একটা অস্ত্র! X(
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:২৩
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....

বর্তমান সচিবালয়ের আয়তনঃ ঢাকার আবদুল গনি রোড- সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বর্তমান বাংলাদেশ সচিবালয় প্রায় ৩২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে মাত্র ১৭ লাখ বর্গফুট যায়গায় অপরিকল্পিত ভবন নির্মিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×