somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চরিত্রের সার্টিফিকেট যখন (কাউন্সিলর) চেয়ারম্যানের হাতে

২১ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মেস/বাড়ি ভাড়া, চাকুরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন 'নাগরিকত্ব সনদ পত্র' নামে চরিত্রের সার্টিফিকেট যেন না নিলেই নয়। সে যাইহোক কার্যত এখন আমারও এই সার্টিফিকেট লাগবে। তো গেলাম ইউনিয়ন পরিষদে। কর্তব্যরত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করতেই বললেন চেয়ারম্যান এটা স্বহস্তে দিয়ে থাকেন। ইউ.পি থেকে এবার রওনা দিলাম চেয়ারম্যানের বাড়ি। পথিমধ্যে চেয়ারম্যানের সাথে দেখা। জানালেন তিনি (বাইক নিয়ে) কার্যালয়েই (ইউ.পি) যাচ্ছেন। তাই আমাকেও ঘুরে আবার সেখানে যেতে হবে। গিয়ে দেখি তিনি কার্যালয় থেকে উধাও। কর্তব্যরত ব্যক্তি জানালেন একটা জরুরি কাজে তিনি কোথায় যেন এইমাত্র গেলেন। অপেক্ষার বাঁধ যখন ভেঙে গেল তখন ঘুরে বাড়ি চলে আসলাম। পরদিন গিয়েও চেয়ারম্যানকে কার্যালয়ে না পেয়ে কর্তব্যরত ব্যক্তির নিকট থেকে তাঁর নাম্বার নিয়ে দিলাম কল। তিনি সন্ধ্যার আগে ফ্রি হতে পারবেন না কারণ মিটিংয়ে আছেন বলে জানালেন। পরদিন কার্যালয়ে গিয়ে আবার ফোন দিলাম। এবার তিনি জানালেন 'নাগরিক সনদ পত্র' তো কেবল তিনিই না কার্যালয় থেকেও দেয়া হয়। (কেমন লাগে বলেন) যাইহোক, কর্তব্যরত ব্যক্তি জানালেন সেটা নাকি চেয়ারম্যানের উপস্থিতেই কেবল। ধৈর্য্যের বাঁধ শক্ত করে আবার রওনা দিলাম চেয়ারম্যানের বাড়ি। গিয়ে কলিং বেলে চাপ দিতেই দেখি শর্টসার্কিটে নষ্ট হয়ে আছে। যাইহোক, চেয়ারম্যান তার পি.এসকে পাঠালেন আমার কাছে। (মাইরি! চেয়ারম্যানেরও পি.এস) যাইহোক, পি.এসের নিকট থেকে সেই বহু আকাঙ্ক্ষিত সনদ পেলাম। সনদ নিজ হাতেই পূরণ করতে হল। এখন শুধু এতে চেয়ারম্যানের সীল/ সাক্ষরের পালা। চেয়ারম্যান ভাত খেয়ে এসে হাসিমাখা মুখে জানালেন এটাতে সাক্ষরের জন্য আমাকে আবার কার্যালয়ে যেতে হবে। এই বলে তিনি বাইক নিয়ে কার্যালয়ে রওনা দিলেন। (মনে মনে বলছিলাম আগামী নির্বাচনে ভোট চাইতে আসিস... X((

যাইহোক, ভেঙে পড়া ধৈর্য্যের বাঁধকে জোড়া-তালি দিয়ে শক্ত করে দিলাম কার্যালয়ে রওনা। গিয়ে দেখি তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত। (একটা টানা দীর্ঘশ্বাস) এরপর তাঁর পি.এসকে ইশারায় ডেকে সাক্ষর করিয়ে নিয়ে আসার কথা বললাম। যথারীতি উনি করেও নিয়ে আসলেন। অবশেষে শেষ হল আমার 'চরিত্রের সার্টিফিকেট' সংগ্রহের ভোগান্তি। |-)

আসুন এবার একটু বৃত্তের বাহিরে নজর দিই।
চরিত্রের কথিত এই সনদ চেয়ারম্যান স্বহস্তে দিয়ে থাকেন বলা হলেও তিনি এতে কেবল মাত্র সাক্ষর ছাড়া আর কিছুই করেন না। ইভেন পড়েও দেখেন না যে আমি এটা আমার নামে পূরণ করেছি নাকি কোন টেরর ব্যক্তির নামে করেছি। বুঝা গেল সন্ত্রাসীও চাইলে কায়দা করে এই সনদ নিতে পারে যেখানে তাকে সৎ চরিত্রের সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে।
চেয়ারম্যান তাঁর সার্টিফিকেটে উল্লেখ করেছেন তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন যদিও সনদ নিতে গিয়েই তিনি সর্বপ্রথম আমার মুখখানা দর্শন করেছেন। যে ছেলের নাম পর্যন্ত তিনি ইতঃপূর্বে জানতেন না তিনি সেই ছেলেকে সৎ, নিষ্ঠাবান, রাষ্ট্র বিরোধী কাজের সাথে যুক্ত নয় সহ ব্লা ব্লা... সার্টিফাই করলেন।
প্রত্যেক নাগরিককেই যখন একই সনদ নির্বিচারে দেয়া হয় সেটা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা আর না দেয়ার পার্থক্য আমার মোটা মাথায় ঢুকলো না। B:-)
আদতে চুলের চেয়েও মূল্যহীন এই কথিত চারিত্রিক সার্টিফিকেটের নামে 'নাগরিক সনদ পত্রের' চাহিদা বাজারে বছরের পর বছর বহাল তবিয়েতে আছে। কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। নো ওয়ান কেয়ারস। জাতি হিসেবে আমরা কতই না কিউট! :-B
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:২৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....

বর্তমান সচিবালয়ের আয়তনঃ ঢাকার আবদুল গনি রোড- সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বর্তমান বাংলাদেশ সচিবালয় প্রায় ৩২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে মাত্র ১৭ লাখ বর্গফুট যায়গায় অপরিকল্পিত ভবন নির্মিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×