somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীদের জন্য নাকফুল পরার হুকুম কী

২৭ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রশ্ন:

নারীদের জন্য নাকফুল পরার হুকুম কী? পরা কি বৈধ? বৈধ হলে পরা কি জরুরি? না পরলে কি কোনো ক্ষতির আশংকা আছে?

প্রশ্নকারী- মাওলানা আব্দুর রহমান



উত্তর:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে নারীরা কানের দুল পরতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে বাধা দিতেন না। সহীহ বুখারীর একটি হাদীসে এসেছে,

عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى يوم العيد ركعتين لم يصل قبلها ولا بعدها ثم أتى النساء ومعه بلال فأمرهن بالصدقة فجعلت المرأة تلقي قرطها.

(كتاب اللباس،باب القرط للنساء، رقم: ۵۸۸۳، ج: ۲، ص: ۸۷۴،ط:المکتبۃ المظہریہ،کراچی)

“ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন … (নামায শেষে) নারীদের কাছে গেলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বেলাল রা.। তিনি নারীদেরকে সাদাকা করার নির্দেশ দিলেন। নারীরা তাদের কানের দুল খুলে দান করতে লাগলেন।” –সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৮৩

ফতোয়া কাজিখানে বলা হয়েছে,

ولابأس بثقب أذن الطفل لأنهم كانوا يفعلون ذلك فى الجاهلية ولم ينكر عليهم ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم.

-الخانية على هامش الهندية، كتاب الحظر والاباحة، باب مايكره من النظر والمس للأقارب والأجانب ومالايكره، فصل فى الختان،۳/۴۱۰،ط: دارالصادر

“মেয়েশিশুর কান ফোঁড়াতে অসুবিধা নেই। কারণ জাহেলি যুগে সবাই তা করত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে বাধা দেননি।” –ফতোয়া কাজিখান: ৩/৪১০

কান ফুঁড়িয়ে অলঙ্কার পরার বিষয়টি যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্বীকৃত, তখন তার উপর ভিত্তি করে ফুকাহায়ে কেরাম নারীদের সাজ গ্রহণের উদ্দেশ্যে নাক ফুঁড়িয়ে নাকফুল পরাকেও জায়েয বলেছেন। আল্লামা শামী রহ. বলেন,

قلت: إن كان مما يتزين النساء به كما هو في بعض البلاد فهو فيها كثقب القرط اهـ ط. 6/420

‘(নাক ফোঁড়ানো) যদি নারীদের সজ্জার অংশ হয়, যেমনটি বিভিন্ন দেশে দেখা যায়, তাহলে এটি দুল পরার জন্য কান ফোঁড়ানোর মতোই (জায়েয)। -ফতোয়া শামি: ৬/৪২০

তবে নাকফুল পরা জরুরি নয় এবং এনিয়ে সমাজে যেসব রেওয়াজ চালু আছে, যেমন স্বামী থাকলে নাকফুল পরা জরুরি; না পরলে ক্ষতি হয়, এসব সম্পূর্ণ কুসংস্কার। শরীয়তে এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।

فقط، والله تعالى أعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫০১’কে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে উদযাপন করছেন তারা ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:১৮


আবাসিক হোটেলের দরজা ভেঙে যখন একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসছে তখন সাধারণ মানুষের চোখ ছানাবড়া হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি গাজীপুরের এক হোটেলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ যখন দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোগী

লিখেছেন শাহেদ শাহরিয়ার জয়, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৭

ভাইরাল ফেভারে
জাতি ভোগে যে হারে
কোথা যাবে ঠিক নাই,
কোনো দিকে দিগ নাই
সংকর - বাঙাল,
আহারে আহারে!



সবি হলো জ্ঞানী
যারটা সে মানি,
তাল গাছ আমারই'
যাইহোক বিচারে! ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচার করতে হবে! :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি লুইচ্যা হামিদের সংগে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ভোল পাল্টিয়ে বিএনপিতে যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ই-পাসপোর্ট নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

আমার সর্বশেষ পাসপোর্টটি করেছিলাম ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ততদিনে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ই-পাসপোর্টের অন্যতম একটি বাড়তি সুবিধে ছিল এই যে চাইলে সেটা একসাথে দশ বছরের জন্য ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×