somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রথম দৌলতদিয়া যৌনপল্লী দর্শণ (বিস্তারিত বর্ণনা)

০৯ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ৮:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাহস নিয়ে করা পোস্ট
(লেখাটি কোন অশ্লীলতা বা কোন যৌন সুড়সুড়ি মূলক লেখা নয়। ¯্রফে একটা ভ্রমন কাহিনী। এই লেখার দায়ে আমাকে জেনারেল বা ওয়াচে রাখা হলে বুঝব সামু লেখকের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয় না)
ইন্টারনেট ঘেটে ঘুটে দেশের দুটি সর্ববৃহত পতিতালয়ের কথা পড়েছিলাম অনেক আগেই। এদের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করে আছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট পতিতালয়টি ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে টাঙ্গাইল কান্দাপাড়া যৌনপ্লী।আমার অনেক দিনের সখ এখানটাতে ঘুরে আসার। কিন্তু সময় হচ্ছিল না। রমজানের আগে প্রায় ফাইনাল করেছিলাম টাঙ্গাইলের কান্দাপাড়াতে যাব। কারণ চেনা জানা পথ ঘাট। খুব বেশী সমস্যা হবার কথা নয়। কিন্তু বিধি বাম। যাওয়া হয়নি। ঈদের পরে যাবার কথা চিন্তা করছিলাম। মাঝপথে বাধা হয়ে দাঁড়াল আরেকটি সমস্যা। অনলাইন পত্রিকায় বড় বড় লাল অক্ষরের লিড নিউজ “প্রভাবশালীদের প্রভাবে নীরবে উচ্ছেদ টাঙ্গাইলের যৌনপল্লী” দেখে থমকে গেলাম। সেখানে আর যাওয়া হলো না। যদিও ঢাকার অলিতে গলিতে অনেক পতিতা ঘুরে বেড়ায় কিন্তু আমার টার্গেট ছিল প তি তা ল য়। ইটস ফাইনাল। সেকেন্ড টাইম দৌলতদিয়াতে যাবার কথাই মনে করি। তবু নেই চেনা জানা পথঘাট। নেই লোক জন্য। কিভাবে কি? অবশেষে মনে পড়ল মহা জ্ঞানী স্যার গুগলের কথা। স্যারকে সমস্যার কথা বললাম স্যার ভার্চুয়াল সব রকমের তথ্য দিয়ে দিলেন। কত টাকা সঙ্গে নিতে হবে। কি গাড়ীতে যেতে হবে? কত কিলোমিটার যেতে হবে। কাদের সাথে কিরকম আচরন করতে হবে। বিস্তারিত এই লিংক হতে জেনে নিতে পারেন। এর পর শুরু করলাম গুগল আর্থ। সার্চ করলাম গাবতলী টু দৌলতদিয়া। দেখাইয়া দিল পথ।

গত ০৭/০৮/২০১৪ইং। রোজ বৃহস্পতিবার। রাত ১১.০০টা। প্ল্যান ফাইনাল। সকল রকমের তথ্য ঘেটে ঘুটে দেখে শেষমেষ ঠিক করলাম কি কি সংগে নিব। মোবাইল নেয়ার ব্যাপারে স্যার আগেই সম্পূর্ণ রুপে না বলে দিয়েছিলেন। পরদিন সকাল ১০.০০টায় বাসা থেকে বের হলাম মোবাইল ফোন ছাড়াই। চলে গেলাম আমার এক ফ্রেন্ডস এর কাছে। গিয়ে দেখি সে নাই। তার বড়ভাইয়ের কাছ থেকে ফোন নিয়ে বল্লাম বিকেলে দিকে যদি আমি কোন বিপদে পড়ি তাকে আপনি আমাকে কিছু টাকা দেবেন বিকাশে। আর যদি না বিপদে পড়ি তাহলে লাগবে না। এরপর রওনা হলাম টার্গেটের দিকে ধামরাই-গুলিস্তানের গাড়িতে করে সোজা গাবতলী গিয়ে নামলাম। একটু ভালো গাড়ীর খোজঁ করতে লাগলাম যাতে একটু আরামে যাওয়া যায়। যথারীতি পেয়েও গেলাম। গাড়ী নাম মনে করতে পারছি না তবে দিগন্ত বা এইরকম কিছু একটা হবে। হেলপার আমাকে ধরেই বলল ঘাটে নাকি মামা। আমি বললাম হ্যাঁ। যেহেতু পাটুরিয়া লেখা আছে সেহেতু আর জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন দেখলাম না। ভাড়ার কথাও হেলপারই বলল। আমি মনে করেছিলাম ভাড়া ২০০/- টাকা বা এরকম হবে। কিন্তু আমার সব ধারনা ভেঙ্গে দিয়ে হেলপার বলল ভাড়া ৮০/- টাকা। সাথে সাথে রাজি। আর ঠেকায় কে। টিকিট নিয়ে সুন্দর একটা সিট দেখে বসে পড়লাম। গড়িতে দেখি টিভিও আছে। টিভিতে কলকাতার মুভি “বস” নায়ক জিৎ এর ছবি চলছিল। দেখা ছবি তবুও আজ দেখার ফিলিংসটা অন্যরকম হল। বাসায় বসে কমপক্ষে ৩-৪ বার এই মুভি দেখেছি। তবুও পাশে বসা এক ভদ্রলোকের সাথে বাংলাদেশে ভারতীয় মুভি, হিন্দি মুভি, ভারতীয় নাটক, সিরয়াল শে না হওয়ার কথা, পাখি জামা ইত্যাদি নিয়ে অনেক ভাবগম্ভীর কথা বললাম। ভদ্রলোক আমার জ্ঞান!!! গরীমা দেখে মুগ্ধ! আমার দেখাদেখি উনি সহ আরো কয়েক লোক বাংলাদেশকে নিয়ে গভীর সমালোচনায় মেতে উঠল। ইতি মধ্যে বাস ছেড়েছে। জীবনের প্রথম একটি নতুন রাস্তায় আবিস্কার করলাম নিজেকে। যেটা পাটুরিয়া টু ঢাকা সড়ক। বেলা ১.০০ টায় নামলাম পাটুরিয়া ঘাটে। যে রাস্তায় যাওয়ার কথা সেখানে না গিয়ে পশ্চিম দিকের একটি রাস্তায় আমাকে নামিয়ে দিল বাস। দেখি লোকজন নাই। ঘাটে শুধু লঞ্চগুলোতে বাসগুলোই উঠছে। সিঙ্গেল মানুষ। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে। একজনকে জিজ্ঞেস করলাম তিনি ঘাট দেখিয়ে দিলেন যেখানে মাত্র ত্রিশ টাকা নিল পতিতালয়ে যাবার ভাড়া।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৯:৫২
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Lost for words....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ সকাল ১০:৩৫

Lost for words....

ভৌগোলিক আয়তনে আমাদের দেশটা ছোট হলেও আমাদের দেশের অঞ্চলভিত্তিক ভাষার বিচিত্রিতা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। আমরা অনেকেই আমাদের আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে ট্রল করি। ইদানিং আমাদের দেশের বস্তাপচা নাটক সিনেমায় আকছার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর মত উনার মন্ত্রীগুলোও এখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে ব্রিজের পাশে দাঁড়ানোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ দুপুর ২:৪০


'বাংলার পথেঘাটে এখন টাকা বেশি। পায়ের নিচে টাকা পড়ে এখন'
বন্যার্তদের পাশে না দাঁড়িয়ে বন্যার্ত এলাকার মন্ত্রী যখন মিডিয়ার সামনে এমন উদ্ভট কথাবার্তা বলে, তখন কেমন লাগে বলেন দেখি! উনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

উত্তরবঙ্গ ভ্রমণ ২০২২ : সীতাকোট বিহার

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ দুপুর ২:৫৫


ডিসেম্বর মাসে বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ থাকে দীর্ঘ দিন। বেড়ানোর জন্যও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টাই বেস্ট। এবার ইচ্ছে ছিলো ডিসেম্বরেই উত্তরবঙ্গ বেরাতে যাওয়ার, যদিও এই সময়টায় ঐ দিকে প্রচন্ড শীত থাকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ বিকাল ৪:০২

ছবি ব্লগ-১

মিগ-২১ প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমানটি ১৯৭৩ সালে পাইলটদের প্রশিক্ষলেন জন্য অন্তর্ভুক্ত হয়।



এই বিমানটি ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি আকাশ তেকে ভুমিতে আক্রমনে পারদর্শী।
... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন কোন কোন সমস্যাকে মেগা-প্রজেক্ট হিসেবে প্রাইওরিটি দেয়ার দরকার?

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ রাত ৮:৩৮



পদ্মায় সেতুর প্রয়োজন ছিলো বলেই ইহা মেগা প্রজেক্টে পরিণত হয়েছিলো; যখন সরকারগুলো সেতু তৈরির জন্য মনস্হির করেনি, তখন তারা উনার বিকল্প ব্যবস্হা চালু রেখেছিলো (ফেরী ও লন্চ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×