ফেসবুকের এক পেইজে ক্ষমতাশীল দলের তরুণ দুইজন পার্লামেন্ট-সদস্যের সমালোচনামূলক একটা পোস্ট শেয়ার করেছিলাম। তাদের একজনের বিরুদ্ধে এমন অপবাদ আছে- স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের না খাইয়ে রাখা হয়েছিলো সারাদিন, উনি আসবেন বলে ওরা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলো ঘন্টার পর ঘন্টা। শেয়ার করা ঐ পোস্টের কমেন্টে এক ভাই দিলেন অন্য এক "খবর", আর সাথে বললেন আমি কখনোই কোন পজিটিভ পোস্ট শেয়ার করি না, তাই আমার সেটা জানার কথা না। খবরটা ছিল- "সেই এমপি ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন"।
হ্যাঁ, এটা নিঃসন্দেহে ভাল উদ্যোগ, কিন্তু এটা ঐ এমপির দায়িত্বের মধ্যেই পরে। এর জন্য অতিরিক্ত প্রশংসা করে, "তোষামোদী" বাহুল্যবাচক শব্দ উচ্চারণ করে, কার কি লাভ হবে সেটা আমি জানি না, বুঝি না! বরং আমি আজই ঐ এমপিকে গিয়ে পায়ে ধরে প্রণাম করে আসবো, যদি সে ক্যামেরার সামনে দেশের সব ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতার প্রতি এই অনুরোধ জানায় যে, "আর কখনো নেতাদেরকে সাদর-সম্ভাষণ জানানোর জন্য লাখ টাকা ব্যয়ে তোরণ নির্মাণ করা হবে না, এলাকার স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করা হবে না, মানুষের জীবনযাপনে অহেতুক বিঘ্ন ঘটানো হবে না!" যিনি সত্যিকারের জনদরদী প্রতিনধি, তার জন্য ডাক-ঢোল পেটাতে হয় না, মানুষ এমনিই তার জন্য জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত থাকে।
চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সুযোগ পেলে আমি সেই এমপিকে আপাতত ৩টি প্রশ্ন করতাম-
১) ব্যাটারী চলিত মোটর রিকশা ফের চালু করে মাসে ৫০০ টাকার বিনিময়ে দেয়া টোকেনের ভাগ বাটোয়ারা কোথায় কোথায় হবে?
২) আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের আশেপাশের এলাকায় বছরের বেশির ভাগ সময়ের জলাবদ্ধতার দায়ভার কার?
৩) আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের সামনে অর্ধেকের বেশি রাস্তা হকারদের দখলে দিয়ে দিয়েছে কার বাপে?
জানি, এই ধরণের প্রশ্নগুলোর কোন সদুত্তর এই রাজনীতিবিদদের কেউই দিতে পারবেন না। এগুলোর সমাধান করতে পারলে, সেটা হত একটা সত্যিকারের ভাল কাজ!
ভাল কাজ ভাল কাজের জায়গায়, খারাপ কাজ খারাপ কাজের জায়গায়। দশটা খারাপ কাজ যেরকম একটা ভাল কাজকে মুছে দিতে পারে না, তেমনি দশটা ভাল কাজ-ও একটা খারাপ কাজকে মুছে দিতে পারে না। আর, যে জিনিসটা কারো দায়িত্ব, যে জিনিসটার জন্যই মানুষ নেতাকে নির্বাচিত করে, সেটাকে নেতা কখনো ভাল কাজ বলে, নিজের ক্রেডিট বলে চালিয়ে দিতে পারে না।
আমি শত হলেও সাধারণ প্রজা। আমি যে এখন ল্যাপটপের কি-বোর্ড কাঁপাচ্ছি, তাতে সরকারের অবশ্যই অবদান আছে; তারমানে এই নয় যে প্রতি মুহুর্তে আমি সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে আমার পোস্ট শুরু করব। এই যে আমি বেঁচে আছি, এর জন্য প্রতি মুহুর্তে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করা উচিত, কিন্তু তা করি না। তবে বিপদে পরলে, ঠেকায় পরলে, ঠিকই ডাকতে ডাকতে গলা শুকায় ফেলি।
রাজনীতিবিদদের ভাল কাজ কখনো পেলে অবশ্যই শেয়ার করব। কিন্তু যা পাই, সবই হয়তো তাদের কর্তব্যের মধ্যে পরে, না হয় তাদের অপকর্মের মধ্যে পরে। তাই আমার শেয়ার করা নিউজগুলো "নেগেটিভ" হয়ে গেলে আমার কিছুই করার নেই।
গণতন্ত্রে ধ্বজাধারী শুধু নামেই হলে হবে না, সমালোচনা-অপবাদ-নিন্দা-কুৎসা-সন্দেহ শোনার ক্ষমতা থাকতে হবে; আর দূর্বল চিত্তের হলে এসব রাজনীতিবিদদের উচিত দামী গাড়ী-বাড়ির ভিতরে লুকাইয়া থাকা। রাজনীতিবিদদের কথা-কাজ-চিন্তার সমালোচনা মানেই "বিরাজনীতিকরণের সমর্থক" না।
দেশে সাধারণ মানুষ বলে একটা বিরল প্রজাতি এখনো আছে; ভোট দেওয়ার সময় তারা হয়তো উপায় না দেখে কাউকে না কাউকে (মন্দের ভালো) ভোট ঠিকই দেয়, কিন্তু রাজার প্রজা-শাসনের পুরোটা সময় ধরে তারা সবসময় ধোকাবাজির শিকার হয়, রাজসভার কেউ না কেউ লুটে-পুটে খায় প্রজাদের সম্পদ/অধিকার।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



