somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ যেন “গরিবের বউ সকলের ভাবি”!!!!

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি ভাই সরল মানুষ। ছোট বেলায় গ্রামে থাকতে একটা কথা শুনেছিলাম যে “গরিবের বউ সকলের ভাবি হয়” পরবর্তীতে একটু একটু করে বড় হতে থাকলাম আর বুঝলাম যে কথাটা একটা প্রবাদ মাত্র। প্রবাদ তৈরি হয় কোন কঠিন বাস্তবতাকে সহজ করে প্রকাশ করার জন্য। প্রতিটি প্রবাদে রুপকতা থাক্লেও বাস্তবতা বুঝতে কথক বা স্রোতার কারোই কষ্ট হয় না। এই প্রবাদটির কথা মনে পড়ল গত দুদিনের পত্রিকা পড়ে। বিশ্ব শান্তির অগ্রদুত, গনতন্ত্রের তথা ধনতন্ত্রের একমাত্র ভানগার্ড, জঙ্গিবাদ নির্মূলকারী, মানবাধিকারের একমাত্র রক্ষাকবচ, আটলান্টিক মহাসাগরের অপারের মধু ও দুধের দেশের ডোনেশনে চলা দুটি বিখ্যাত মানবাধিকার সংগঠনের বিবৃতির বিবরণ পড়ে। প্রথম দিন হিউমান রাইটস ওয়াচ তার পরের দিন আমন্যাসটি ইন্টারন্যাশনাল তাদের খুব উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের চলমান আইন সংশোধনের জন্য। তারা বলেছে এতে করে আসামি পক্ষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে, তাদের রাজনৈতিক ভাবে ধংস করার জন্য সরকার হয়ত এটা করতে চাচ্ছে, সর্বপরি বিচার বেবস্থা তার স্বাধীনতা হারাবে। ভাই আপনারা বলেন মানুষ কি আইনের জন্য না আইন মানুষের জন্য? ১৯৭১ সনে যারা অর্থাৎ আজকের আসামিরা যে কাজ করেছিল সেই সময়ে মনে হয় মানবাধিকার নামের কোন ধারনাই ছিল না ? লক্ষ লক্ষ মানুষের হাত পা বাধা লাশ, ভাসমান পচা দুরগন্ধযুক্ত লাশ যা শকুনে কুরে কুরে খাচ্ছিল তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈসা খা রোডের বাসা থেকে মুনির চৌধুরী, জি.সি দেব, সহিদুল্লা কায়সার, আনয়ার পাশা সহ দেশের বুদ্ধিজিবিদের ধরে নিয়ে হত্যা করেছিল তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল। এত গেল অতিতের কথা চলুন এবার বর্তমানের দিকে তাকাই, যখন নরওয়েতে বোমা মেরে গুলি করে, আমেরিকায় স্কুলের ভেতর ঢুকে, অস্ট্রেলিয়ায় বাসের ভেতর মানুষ হত্যা করা হয় তখন এদের বলে মানসিকভাবে অসুস্থ আর এই মানবাধিকার সংগঠন গুলো থাকে নিশ্চুপ!!! এগুলো সেই সব দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এখন দেখি এর বাইরে কি হচ্ছে সউদি আরবে যখন এক সাথে দশজনের শিরচ্ছেদ করা হয় প্রকাশ্য দিনের আলতে, ইরানে যখন শত শত মানুষের সামনে প্রস্তর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয় কোন অবলা অসহায় নারীকে, যখন জঙ্গি বাদ নির্মূলের নামে অত্তাধুনিক ড্রন হামলার মাধ্যমে শত শত বেসামরিক মানুষ হত্যা করা হয় তখন মানবাধিকার কই থাকে?? আজ পর্যন্ত জঙ্গিবাদ নির্মূলের নামে যত জঙ্গি মারা গেছে তার কএকগুন বেশী সাধারন বেসামরিক লোক মারা গেছে যা যেকোনো সাধারন মানুষের বোধগম্য, আসলে যদি কাউকে মানুষ ভাবা হয় তবেইত মানবাধিকার এরা ত মানুষ ই না এই সংগঠনগুলর চোখে!! তাহলে কারা মানুষ প্রস্ন সহজেই অনুমেয় যারা তাদের দোসর, যারা সমরাজ্য বাদের পা চাটা কুকুর, তারাই মানুষ যে শাসক প্রভুভক্ত কুকুরের ন্যায় সমরাজ্য বাদের দালালি করতে পারে যা পেরেছিল তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া এরাই মানুষ । একটি কথা স্মরণ রাখা উচিৎ যে সামরাজ্য বাদিদের কাছে শাসকের মতাদর্শ, দল বা পোশাক কোন ব্যাপার না এরা চাইলে কোন শাসককে গনতন্ত্রের বরপুত্র করতে পারে আবার কোন দেশপ্রেমিক শাসককে মুহূর্তে দেশদ্রহি বানাতে পারে । আমরা দেখেছি সমরাজ্য বাদ প্রতিষ্ঠার জন্য আফগানিস্তানে ধর্মকে ব্যাবহার হতে, পাকিস্তানে দেখেছি সামরিক শাসনকে গনতান্ত্রিক বৈধতা দিতে, সবই সম্ভব হয়েছে আধিপত্য বিস্তারের জন্য।
পররাষ্ট্র নীতির সাধারন সুত্র অনুযায়ী আজ সেই সমরাজ্যবাদীদের জামাত শিবির তথা ধর্ম ভিত্তিক দল সমূহ কে সমর্থন দেয়ার কথা কেননা যদি এই দেশকে তারা পরাজিত, উগ্র, ধরন্মান্ধ দেশ বানাতে পারে তবেই তাদের এখানে এসে ঘাটি গাড়ার পথ সুগম হয়। বাংলাদেশ এমন এক অবস্থানে যে যদি কোন সমরাজ্যবাদি রাষ্ট্র এখানে আসতে পারে তবে তার জন্য সমগ্র এশিয়াকে নিয়ন্ত্রন করা খুবই সহজ হবে এবং কাজটি করার জন্য দেশের অভ্যন্তরে একটা গণ্ডগোল জিইয়ে রাখা অত্যাবশ্যক। আমরা জানি এই সব মানবাধিকার সংগঠন গুলো সমরাজ্য বাদীদের ধজ্জাধারি যারা তাদের মিশন বাস্তবায়ন করে কিছু দেশিও দালালদের সহযোগিতায়। আমরা যেহেতু উন্নয়নশীল অর্থনীতি, অস্থির রাজনিতি, দুর্বল প্রশাসন, বিভক্ত জনগনের দেশ তাই আমরা হয়েছি গরিবের বউ যাকে সবাই ভাবি বলতে অভ্যস্ত! যখন যার যা ইচ্ছা হয় সেই তাই বলে যেমনটি ঐ দুই সংগঠনদ্বয় করল, তারা শুধু আমাদের ইতিহাসের অবমূল্যায়নই করেনি যথারীতি আমাদের তরুন প্রজন্মের স্বপ্নকে অপমান করেছে। স্বাধীনতার সময়ের ঐ সমরাজ্য বাদীদের ভুমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিল, কিন্তু তারা সফল হবেনা যতক্ষণ আমাদের ধমনীতে আদর্শের রক্ত প্রবাহিত হবে, আমরা কোন ধর্মীও উগ্রপন্থি, জলপাই পোশাক পরিহিত শাসক কিংবা স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের সহ্য করব না। আমরা গরিবের বউয়ের মত কারো ভাবি হব না। রাজাকারের নিপাত হবেই, তরুণের বিজয় সুনিশ্চিত ...
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৩:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×