somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভূতুড়ে ভূত-2 সালেহা ফুফু

২৫ শে মে, ২০১৪ দুপুর ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভূতুড়ে ভূত-2

সালেহা ফুফু

ছোট বেলায় আমাদের বাড়ীতে মাঝে মাঝে বেড়াতে আসতেন আমাদের লতাপাতার এক ফুফু সালেহা ফুফু। তবে উনি কখনো নিজে থেকে নাকি আসতেন না। উনাকে নিয়ে আসতো উনার সাথে থাকা ‘জেঠা’।

ফুফু ছোট বেলায় তাঁর নিজের জেঠার সাথে মাছ ধরতে গেলে হঠাৎ পানিতে পড়ে গিয়ে জ্যাঠরে জ্যাঠারে বলে চিৎকার করতে থাকেন। তখন সেখানে থাকা এই বুড়ো জ্বীন উনাকে উদ্ধার করেন। তাই ফুফু জ্বীনটাকেই জ্যাঠা ডাকতেন, আর আমরা ডাকতাম নানা।

ফুফু অনেক দূর থেকে হেঁটে আমাদের বাড়ীতে আসতেন, এসে সবাইকে তুই তুই করে বলতেন। ঘোষনার মত করে জানাতেন ‘সালেহারে নিয়া আসলাম, কয় দিন থাকবে, মাঝে মাঝে আসি দেখে যাবো, ঠিক মত রাখিস ওরে।’ যতক্ষন এই জ্যাঠা সাথে আছে আমরা ফুফু কে নানা ডাকতাম। জ্যাঠা চলে গেলে আবার ফুফু। চলে যাওয়ার সময় ফুফুর পুর শরীর কুঁচকে যেত যেন খুব যন্ত্রনা পাচ্ছেন, দরজা থেকে সবাইকে সরে বসতে হতো। জ্যাঠার বিদায়ের পর উনি বেশ কিছুক্ষণ ঝিম মেরে বসে থাকতেন, মাঝে মাঝে ঘুমাই পড়তেন। এর পর উঠে বড় সবাইকে সালাম করতেন যাদের একেটু আগেই তিনি তুই তুই করছিলেন।

জ্যাঠা নিজের বয়স কয়েক ’শ বছর বলে দাবী করতেন, কত ’শ বছর যেন উনি বতলে বন্ধী হয়ে পুকুরের নিচে পড়ে ছিলেন। অন্য কাউকে জ্বীনে ভূতে ধরলে তিনি সেটারও চিকিৎসা করতেন।

কিছু দিন পর জ্যাঠা এসে ফুফুকে নিয়ে যেত। পুর বাড়ীর পিচ্চি-পাচ্চির দল উনার পিছু নিত। বলে বেড়াতো – ফুফু বয়েসের তুলনায় অসম্ভব জোরে হেটে যাচ্ছেন, এর পর বলতো উনি খানা খন্দ ঝোপঝাড়ের উপর দিয়েও স্বচ্ছন্দে চলে যাচ্ছেন। সেটাকে বাড়িয়ে কেউ এমনও বলতে চাইতো যে ফুফু তো মূলত হাঁটি’ই যাননা অনেকটা উড়ে উড়ে যান।
জ্যাঠাকে আমরা বলতাম আপনি দেখতে কেমন? চেহারাটা একটু দেখান না।’ মুচকি হেঁসে বলতেন- ‘না, না, তোমরা ভয় পাবা।’ ফুফু এমনিতে পান-টান খান না। কিন্তু যখন জ্যাঠা থাকে তখন পান চিবান। আমরা আমাদের স্যার কে জিজ্ঞেস করতাম- ‘স্যার, পান দেখি ফুফুই চিবাইতেছেন অথচে খাইতেছে নাকি নাকি জ্বীনে। পানটা আসলে স্যার কার পেটে যায়!!??’

# Afnan
[email protected]
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×