somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

Papon Al Hasan

০৮ ই জুলাই, ২০১৪ ভোর ৪:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাকিব বাংলাদেশের ক্রীকেটের সব চেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হলে, ক্রীকেট বোর্ড বিসিবি হলো পুর বাংলাদেশেরই সব চেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

দরীদ্রতম দেশটার সরকার পরিচালিত Organization গুলোর মধ্যে এই বোর্ডটাই হলো সম্ভবত সব চেয়ে ব্যাবসা সফল বডি। যত টাকা তত চুরি, তত অনিয়ম। তাই সাত বছর নির্বাসনে থাকার ক্ষতি সাত দিনেই তুলে নিতে এই বোর্ডের প্রধান হওয়ার বায়না ধরে ফেনীর হাজরীর মত মাফিয়া ডনেরা। ক্রিকেটের যত টুকু উত্থান সবটারই শুরু কিছু সৌখিন ক্রিকেটারদের হাত ধরেই। এর পর বোর্ডের উত্থান যতই হোক তার ম্যানেজম্যান্ট রয়েছে সরকারের হাতেই। আর বাংলাদেশী মাত্রই জানে এই দেশের সরকারী ম্যানেজম্যান্ট ব্যাপারটা কতটা ভোগান্তির, কতটা বিভৎস। সে সরকারী ব্যাংক হোক, হসপিটাল হোক, হোক থানা- পুলিশ কিঙবা কর অফিস। সেখানে প্রেসিডেন্ট, চেয়ারম্যান পদে থাকা দুই এম.পি সাহেব যে ক্রীকেট বোর্ডকে উদ্ধার করে ফেলছেন সেটা নিশ্চয়ই তারা নিজেরাও বিশ্বাস করবে না। তাদের কে যদি জিজ্ঞেস করা হয় ভাইজান যে NOC (No Objection Certificate) নিয়ে আপনাদের এত্ত কথা আর এত্ত ব্যাথা সেই সার্টিফিকেট আসলে আপনাদের কে ইস্যু করে বলতে পারেন? তারা বলতে পারবে না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে একটা NOC‘র জন্যে সাকিবকে বোর্ডের চেয়ারম্যান থেকে পিয়ন ঝাড়ুদার সবার কাছ থেকেই অনুমতি নেয়ার দরকার ছিলো।

বিশ্বের প্রায় সব ক্রীকেট লীগে ডাক পাওয়া আর দাপট নিয়ে খেলার যোগ্যতা এই দেশে এক মাত্র সাকিবেরই আছে। কিন্তু এই লেভেলের খেলোয়াড়দের কন্ট্রোল করা, ম্যানেজ করার মত ম্যানেজার এবং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অবশ্যই এ ক্রীকেট বোর্ডে এখনো তৈরী হয়নি। তারা হঠাৎ পাওয়া টাকায় বিশাল বিল্ডিঙ বানিয়ে সুন্দর সুন্দর কাপড় পরে স্পন্সরদের সাথে আনাড়ী লেনদেন করা পর্যন্ত দৌড়াতে পারে। আর সৈয়দ রাসেলের মত জাতীয় দলের পেসাররা কাপড়ের দোকনদার হয়ে হারিয়ে যায়, তারা জনে না!

বোর্ডের সাথে আছে দেশের হিংসুটে আপামর কিছু আম-জনতা। এদের কথা হলো এই বয়েসী একটা ছেলের এত কিছু থাকবে কেন, যেখানে একটা ভালো জীন্সের টাকা যোগড়ে তারা হিমসীম খায়। তাদের অভিযোগের পুরটাই দেখি অর্থ-কড়ি আর দেশ প্রেম নিয়ে। সাকিব দেশের জন্যে খেলেনা, টাকার জন্যে খেলে। শুনে মনে হয় যেন দেশপ্রেমিক এই জনগনরা সবাই কোন দাতব্য আওতায় শুধু দেশ সেবাই করে যাচ্ছে। আর সাকিবকে তারা নিয়মিত দাওয়াত দিচ্ছে অথচ সে তাদের সাথে ফ্রি দেশ সেবা না করে শুধু টাকার জন্যে খেলেই যাচ্ছে। আর এজন্যেই দেশের এই অবস্থা!!

হয়তো সবাই’ই আসলে অনভিজ্ঞ। সাকিব দেশের অপ্রতিদ্বন্ধি, অভূতপূর্ব একজন তারকা যেটা ধরে রাখতে সে’ও হয়তো অনভিজ্ঞ; অনুসরন করার মত তার সামনে কেউ নাই। নিজ দেশের এত্ত বড় তারকাকে ধারন করার অভিজ্ঞতা নাই মানুষেরও। মানুষও এমন কাউকে আগে পায়নি। আর সাকিব যে বোর্ডে চাকরী করে তাদের জন্যেতো ব্যাপারটা পরাবাস্ত পর্যায়ের। বোর্ডের শীর্ষ্য পর্যায়ে রয়েছে রাজনৈতিক নেতারা। এই দেশের নেতারা তাদের এলাকায় ঠিক মত কথা না শুনলে কলেজের শিক্ষককেও ন্যাঙটো করে রাস্তায় ঘুরাতে অভস্ত। সেখানে বোর্ডের মধ্যে তাদের চেয়ে খেলোয়াড়েরা কিভাবে গুরুত্তপূর্ণ হয় সেটা নিশ্চয়ই তাদের মাথায় ঢুকার কথা না।

এক জন সাকিব তৈরীর সক্ষমতা এই বোর্ডের না থাকলেও নিজ উদ্যমে, ঘটনা চক্রে জন্মে যাওয়া সাকিবকে ধ্বংস করার ক্ষমতা তাদের আছে। বিদেশে সিরিজ হারার কারণে ক্যাপ্টেনকে সরিয়ে দেয়া বাংলাদেশে দলের জন্যে হাস্যকর ব্যাপারই। আর সেটাই ঘটেছিলো সাকিবের সাথে জিম্বাবুয়ে সিরিজ ৩-২ এ হারার পরে। অথচ ক্যাপ্টেন হিসেবে তার শেষ ম্যাচেও সাকিব ম্যান অব দ্যা ম্যাচ ছিলো! নজির বিহীন ব্যাপারই বটে, কারন হয়তো সাকিব নিজেই নজির বিহীন।

কিন্তু সব আয়োজনের মূল ক্রীকেট। আর খেলাটা খেলোয়াড়দের। মানুষ খেলায় বিনোদন চায় যন্ত্রণা না। বোর্ড যারে খুশী তারে খেলাক, যারে খুশী তারে বাদ দিক। প্রয়োজনে জনাব পাপন আর লোটাস সাহেব নিজে ব্যাট বল নিয়ে খেলতে নামুন। মানুষ কিছু মনে করবে না যদি তারা রেজাল্ট দিতে পারেন। নয়তো দর্শকের ছুঁড়ে মারা ইট পাত্থর খেলোয়াড়দের বাসে না পড়ে এর পর থেকে অবশ্যই জায়গা মতই পড়বে।

#Afnan Abdullah
০৭০৮১৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×