somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৈষম্যের ব্যবচ্ছেদ, কয় প্রজন্মে হয় শেষ!

২৮ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আফ্রিকার দাহোমি সম্রাজ্য (বর্তমান বেনিন) ইউরোপিয়ানদের কাছে দাস বিক্রি করে ১৭৫০ এর দিকে আয় করে প্রায় আড়াই লাখ পাউন্ড। বর্তমান সময়ের প্রায় এক হাজার কোটি টাকার মত। এইভাবে আরব আর ইউরোপ এ দাস বিক্রি করে ফুলে ফেঁপে উঠেছিলো সেখানকার আশান্তি সম্রাজ্যের (বর্তমান ঘানা) মত বিভিন্ন সম্রাজ্য।
.


.
দাস সংগ্রহের জন্যে এইসব সম্রাটরা নিয়মিত যুদ্ধ বাধাতো। পরাজিতদের জমি, ফসল থেকে অনেক বেশি মূল্যবান ছিলো সকল যুদ্ধ-বন্দী। চিনির চাহিদা বাড়লে ব্রাজীল, ক্যারেবিয়ান আর আমেরিকার আঁখ ক্ষেত এ আরো শ্রমীক এর দরকার হতো। আর আফ্রিকায় দরকার পরতো আরো যুদ্ধের। যত যুদ্ধ, তত যুদ্ধ বন্দী। তত দাস। তাতেও চাহিদা না মিটলে, শক্তিশালী আফ্রিকান সম্রাটদের রক্ষীরা গ্রামের পর গ্রাম এ রেইড দিতো দাস শিকার করতে। হঠাৎ ঘীরে ধরে গ্রাম শুদ্ধ লোক বন্দী করে নিয়ে আসতো। সার বেঁধে এনে রাজ বাহিনী তাদের বেচে দিতো মার্চেন্টদের কাছে। এই মিডলম্যানরা দাসদের নিয়ে যেতো আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে পর্তুগীজদের তৈরী এ্যালমিনা ক্যাসেল এর মত বন্দর গুলোতে। সেখানে ইউরোপীয়ান বণিকদের কাছে দাস বেচে দিয়ে বিনিময়ে নিতো কাপড়, তামাক, মদ আর অস্ত্রশস্ত্র। এই সব বাণিজ্যে আফ্রিকান ধনীক শ্রেণী আরো ধনী হয়ে উঠতো। বাড়তি ক্ষমতা দিয়ে বাড়তি দাস সংগ্রহ করতে পারতো তারা। পালতে হতো শক্তিশালী দাস শিকারী বাহিনী।
.
এই বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে দাস বানিজ্যে ইউরোপীয়ানদের দীর্ঘ্য মেয়াদী লাভের সাথে সাথে দাসদেরই প্রতিবেশী আফ্রীকান শাসক আর তাদের ভাই ব্রাদাররাও স্বল্প মেয়াদে বিপুল বিলাসের জীবন পায়। ভয়ঙ্কর দুর্ভোগে পড়তো শুধু দাসরাই। বিদেশের মাটিতে তাদের শ্রম, ঘাম, রক্ত, জান, সম্মান সব কিছুরই মূল্য ভোগ করতো তাদেরই স্বজাতি রাজ আর রাজঘনিষ্ঠ বণিক গোষ্ঠী। দাসদের ১০% থেকে ১৫% যাত্রা পথে সাগরে মরতো। পরে কেউ কাজের চাপে, কেউবা মালিকের খেয়ালে খুন হতো। আর অনেকে করতো আত্মহত্যা। সারা জীবনের জন্যে দিয়ে যেতো পেট চুক্তির শ্রম। এই শ্রমের মুজুরি তাদেরকে নিজ দেশে রেমিট বা হুন্ডি কোনটাই করতে হতো না। যেহেতু তাদের পুর জীবনের মুজুরী এক কালীন, অগ্রীম নিয়ে নিতো তাদের রাজামশাইরা। আর তাদের দাহোমি বা আশান্তি সম্রাটদের লেজুড়দেরকেও এই সব শ্রমীকের মুজুরীর টাকা দিয়ে ইউরোপিয়ানদের কাছ থেকেই বাড়তি দাম দেখিয়ে এটা ওটা কিনে চুরি চামারি করা লাগতো না। যা হতো খোলাখুলি, মুখোমুখি। সম্রাজ্যগুলো ধ্বংসও হয়েছে বেশ খোলখুলি ভাবে। নিজের মানুষদের চিবিয়ে খাওয়া রাজা আর তার বণিক শ্রেনী শত বছর আগে বিদায় নিয়েছে বিদেশীদের হাতেই। বিষয় হলো, শ্রমদাসদের চুষে খাওয়া সেই উন্নত রাজা-বাদশাদের অর্থনীতির ঘানি তাদের মানুষকে টানতে হচ্ছে এখনো। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বৈষম্যের ব্যবচ্ছেদ করেই যেতে হয়।
সূত্র:
১। Origins of the Slave Trade
Written by: Mark Christensen, Assumption College
২। Implications of the slave trade for African societies: Roles played by leaders of African societies। BBC
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:৪০
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কদমের পাপড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এ আষাঢ়ের চোখ কেমন জানি-
চৈত্রের হাওয়ায় কদম নয় যেনো
আগুন- আগুন- তবু ভেজে যাচ্ছে-
শান্তি চুক্তির গন্ধ বাতাস-বাতাসে;
আনন্দময় আষাঢ়ে কাম ভাবনায়
শুধু মাটির বুক গড়ে- গড়ে আসে
জলকাঁদার শ্রেষ্ঠ হাসি অথচ বসন্ত
কান্না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×