somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অর্থ, শরীর এবং মন

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আয়নায় হৃদি নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে এই শাড়ীতে কি মানাচ্ছে না ! আজ তাকে পৃথিবীর সব চেয়ে সুন্দর মেয়েটি মনে হতে হবে... নীল শাড়ীটা পরবে? নাহ ! ওটা পরা যাবে না । ওটা তোলা থাক ওটা পরে সে সমুদ্রের তীরে তার হাত ধরে হেঁটে যাবে দূরে... জিয়ন আজ তাকে সকালে দেখা করতে বলেছে খুব নাকি জরুরী কথা আছে। হৃদি জানে কি বলবে, জিয়ন বলবে ‘চলো, হৃদি আমরা বিয়ে করে ফেলি, তুমি আমার সাথে সারাটা জীবন কাটাতে পারবে না? ।‘ আর সে বলবে ‘হাঁ , পারবো ।‘ হৃদি আপন মনে একটু রাঙা হয়ে উঠে ।
ওই যে জিয়ন , যেখানে থাকার কথা সেখানেই অপেক্ষা করছে।
জিয়ন- হৃদি , তুমি আমাকে বিশ্বাস করো?
হৃদি – হাঁ, করি
জিয়ন – আমি খুব বড় একটা সমস্যায় পড়েছি, এই মুহূর্তে আমার বেশ কিছু টাকা লাগবে , তুমি দিতে পারবে না? জানি পারবে । তোমার নামে তোমার বাবা যে টাকাটা ব্যাংকে রেখেছে, সেটা হলেই চলবে । তুমি টাকাটা আমাকে তুলে দাও। আর শুনো, আমি কয়দিন খুব ব্যস্ত থাকবো সমস্যা কেটে গেলেই তোমার সাথে যোগাযোগ করবো। তারপর আমরা বিয়ে করে ফেলবো।
হৃদি জানে জিয়ন মিথ্যা বলছে। জিয়নের চোখ দেখেই সে বুঝতে পারছে, টাকাটাই জিয়নের কাছে মুখ্য । জিয়ন আর কোন দিনও তার সাথে যোগাযোগ করবে না। জিয়ন তাকে ভালবাসেনি কিন্তু সে তো বেসেছে ! তার ভালোবাসা কি করে টাকার কাছে হেরে যাবে! হৃদি টাকাটা দিবে, ঠকে গিয়েও নিজের কাছে জিতে যেতে চায় হৃদি ।

হৃদি আয়নার সামনে এসে দাঁড়ালো, এলো চুল খোঁপা করতে গিয়ে হৃদির হাত থেমে যায়, হাতের নির্লিপ্ততায় চুল গুলি আবার পিঠে ছড়িয়ে পড়ে... ‘ খোলা চুলে আপনাকে ভালো লাগে।’ ইফতি বলেছিলো । রাত ১২টা থেকে সে ছটফট করছে, এখন ২টার উপরে বাজে। আজ বিশেষ একটা দিন । পাশের রুমে ইফতি কম্পিটারের সামনে বসে আছে সম্ভবত ফেসবুকে চ্যাটিং এ ব্যাস্ত, এ সময়ে ওই রুমে হৃদির প্রবেশ ইফতি পছন্দ করে না , প্রথম প্রথম না বুজেই ডুকে যেতো আর ইফতির চেহারায় বিরক্তি প্রকাশ পেতো। আজ সে ইচ্ছে করেই ডুকে, ‘ইফতি, ঘুমাবে না? অনেক রাত হল তো।‘ যথা রীতি বিরক্তি নিয়ে ইফতি তাকালো , তার আগে চ্যাটবক্স মিনি মাইজ করে নিলো। ‘হৃদি, তোমাকে তো আগেই বলেছি ঘুম পেলে ঘুমিয়ে পড়বা , আমার জন্যে অপেক্ষা করবে না। ‘আজকের তারিখটা কি তোমার মনে নেই! আজ আমাদের ম্যারিজডে , ইফতি!’ ইফতির কণ্ঠে বিরক্তি আরও বাড়ে ‘সব সময় অতো দিন তারিখ নিয়ে পড়ে থাকো কেনো? যাও শুয়ে পড়ো আমার দেরি হবে।‘
শরীরের আনাচে কানাচে কারো হাতের আনাগোনায় হৃদির ঘুম ভেঙ্গে যায়। ইফতি আজো নেশা করেছে , রোজই করে। হৃদি বাঁধা দেয় ‘ ইফতি, প্লীজ আজ না ... আমার শরীর ভালো লাগছে না।‘ ইফতি ধমকে উঠে ‘ ন্যাকামি করবা না , তোমাকে বিয়ে করছি কেনো ! তোমার এই শরীরের জন্যেই... ‘

হৃদির প্রচণ্ড গরম লাগছে। তার দু’রুমের এ বাসাটায় খুব গরম । এটাকে বাসা না বলে গুহা বলাই ভালো। গুহাটাকেই হৃদির খুব পছন্দ, একেবারে নিজের । জানালা দিয়েও কোন বাতাস আসে না বড় বড় বিল্ডিং বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ... একটা ফোন কলের অপেক্ষা করছে সে , প্রতিদিন করে... রাত ১ টার পর কলটা আসে। বহু বহু কাল পর সে আবার ভালবাসতে শুরু করেছে, আবার বিশ্বাস রেখেছে ... হৃদি আয়নার সামনে, একে একে শরীরের সব কাপড় খুলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়, আয়নায় তার শরীরের প্রতিবিম্ব। শরীর দেখা যায়, মন কেনো দেখা যায় না !
১৫টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×