কি করিমো, কুন্ঠে যামো-
মাঘ মাসিয়া জারত /
দার্জিলিংগের হেমপাহাড়খান
ভাঙ্গে পইছে ঘাড়ত ।
লেপ-তোষক মোর নাই তাতে-কী-
কপাল হইছে পুড়া /
চৌকিত বিছানু খসলা- খের
জ্বলানু বাঁশের মুড়হা ।
খাটা- খাটনির দেহাতে আইজ
নিন্দত হনু ককরা /
গাওত গুদুলী সামটে দিনু
তারহে উপরে ধকরা ।
বিহানে ডাকে টোটুয়া মুরগা
কুহাকাপে মোর দিহা /
ভাদরকাটানীর আগের রাইতত
নিকাত কইছু বিহা ।
হামরা বলে বনিহার
আর নিনাংটিয়ার জাত /
ঝাল- সিদলে জার কাটে আর
লাফা শাকে ভাত ।
হাত-পা টাটায় শীল-পাথরত
ভজনপুরের খামার /
দশ চাকার এক আস্ত ট্রাক
বুকত বইসছে হামার ।
ঘসি- পোয়ালে জ্বলায় অগুন
হাত-পা শেকি পোড়ত /
পইশাঞ্জতে রাইত নাভেছে
সন্দায় সবায় ঘড়ত ।
চেংরা-চেংরির দশা পইছে
চুপসে গেইছে মহড়া /
এই নিদানকাল কয়দিন রহে-
সবাকে ধইছে গহরা... !
==============
(**)
#সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ে 2.6 ডিগ্রি সেলসিয়াস । আমার মনে হয়, এই তাপমাত্রা এখানে এটি নুতন নয় । এখানকার মানুষ প্রকৃতির এই বিরুপ আবহাওয়ায় যুগ যুগ ধরে অভ্যস্ত এবং কঠোর পরিশ্রম আর মেধাবলে বর্তমানে চরম দারিদ্রসীমা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে । নিম্নবিত্ত মজুর শ্রেণীর মানুষেরা এই প্রবল ঠান্ডা উপেক্ষা করে নিত্যনৈমিত্তিক কাজে শ্রম দেয় । বিশেষ করে, জেলার উত্তর প্রান্তের মানুষ এই প্রবল শীতেও পাথর উত্তোলনসহ সংশ্লিষ্ট কাজকর্ম করেই চলেছে যা দেখে বাইরের মানুষ অবাক না হয়ে পারেনা ! ' ব্যাঙের আবার সর্দ্দি কী ...' বিষয়টি হয়'তো সেরকম । ছড়াটিতে যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা কয়েক দশক আগের ।
কিছু শব্দার্থ : গহরা-প্রবল ঠান্ডা । জারত- এই শীতে । নিন্দত-ঘুম । ককরা-কাহিল । ধকরা- পাটের তৈরী মোটা চট । বনিহার,নিনাংটিয়া-ছোট লোক ।পইশাঞ্জতে -সন্ধ্যায় । সন্দায় - প্রবেশ করা ।দশা-অবস্থা ।গুদুলি-কাঁথা । শেকা-আগুনে তাপ দেয়া । নিদানকাল- দুরবস্থা ।রহে- থাকবে ।সিদল- শুটকি মাছের প্রক্রিয়াকরণ একটি খাবার বিশেষ ৷সবাকে ধইছে-সবাইকে ধরেছে ৷

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




