somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নবীর খাঁটি অনুসারী চেনার উপায়

০২ রা এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রত্যেক নবী-রাসূলকে (আ.) (ও তাদের অনুসারীদেরকেও) প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হয়েছে:
কুরআনের স্পষ্ট ঘোষণা:
(ক) “বান্দাদের জন্যে বড়োই আক্ষেপ (বা আফসোস) যে, তাদের কাছে এমন কোনো রাসূলই আগমন করেনি যাদের প্রতি তারা ঠাট্ট-বিদ্রূপ করেনি।” (৩৬/সূরা ইয়াসীন:৩০)
(খ) “যখনই তাদের কাছে কোন রাসূল আগমন করেছেন, তখনই তারা তাঁর সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে।” (৪৩/সূরা আয যুখরুফ:৭)

বিভিন্ন বিষয়ে নবীদের মধ্যে পার্থক্য ছিল:
যেমন: দ্বীনকে বিজয়ী করতে পারা না পারা, বিধি-বিধান এর ধরণ, সাহাবীর (বা সাথীর) সংখ্যা, নিকটজনকের দ্বীন গ্রহণ করা না করা, ইবাদাতের পদ্ধতি, পোশাক এর ধরণ, খাবার এর ধরণ ইত্যাদি। কিন্তু একটি বিষয় সকল নবীর জন্য একই ছিল। আর তা হলো, ঠাট্টা-বিদ্রুপ, অত্যাচার, নির্যাতন, খুন-যখম, বহিষ্কার ইত্যাদির একটি, কয়েকটি বা সবগুলোর সম্মুখীন হওয়া। এক কথায়, নবীরা সকলে অবশ্যই প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিলেন।
লক্ষাধিক নবীর মধ্যে এ বিষয়ে ব্যতিক্রম কেবল দু’একজন যেমন: প্রথম (মানুষ ও নবী) আদম আ. ও আল্লাহর ইচ্ছায় শাসনকর্তত্ব (প্রকৃত অর্থে খিলাফাত) লাভকারী নবী সোলায়মান আ.। এটা নিতান্তই ব্যতিক্রম- যা স্বাভাবিকভাবেই উদারহণ হতে পারে না।

প্রতিরোধের সম্মুখীন না হয়ে জান্নাত আশা করা বোকামী:
আল্লাহ বলেছেন,“তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা (এমনি এমনিই) জান্নাতে চলে যাবে, (অথচ) সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে (বহু ধরণের) বিপদ ও কষ্ট (অভাব, অভিযোগ, রোগ-ব্যধি)। আর এমনিভাবে (কঠিন নিপীড়নে তাদেরকে) শিহরিত (বা প্রকম্পিত) হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত (অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে) একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্যে! (আল্লাহ সান্ত্বনা দিয়ে বললেন) তোমরা শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী। (২/সূরা আল বাকারাহ:২১৪)

নবী রাসূল প্রেরণের উদ্দেশ্য:
“তিনি (আল্লাহ) তাঁর রাসূলকে (সুস্পষ্ট) পথনির্দেশ (হিদায়াত) ও সঠিক জীবনবিধান (দ্বীনে হক) দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যাতে (সে) একে (বা ইসলামেকে) (দুনিয়ায় প্রচলিত অন্য) সকল মতবাদের (বা জীবনদর্শনের) উপর প্রবল (বা বিজয়ী) করে দিতে পারেন। (৬১/সফ:৯, ৯/তাওবা:৩৩, ৪৮/ফাতহ:২৮) (তিনটি আয়াতেই এ একই ঘোষণার পর দু’টি আয়াতে বলা হয়েছে, “যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।” (৬১/সফ:৯, ৯/তাওবা:৩৩)(মানে- ইসলামের বিজয়ে শিরককারীরাই অসন্তুষ্ট হয় তারা অখুশি হবে বলে সত্যের বিজয় থেমে থাকতে পারে না) এবং অন্য আয়াতটিতে বলা হয়েছে “সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে আল্লাহ যথেষ্ট।” (৪৮/ফাতহ:২৮) (মানে- কেউ ইসলামের বিজয়ে ভূমিকা পালন না করলেও ইসলামের বিজয় হবেই, আল্লাহ ইসলামকে বিজয়ী করবেনই, যে/যারা এ কাজে ভূমিকা পালন করবে না সে/তারা নিজেরই ক্ষতি করবে।)

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় জান্নাতে যাওয়ার উপায় (বা মাপকাঠি) হলো:
(ক) প্রতিরোধ, বিপদ-আপদ, অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়ন ইত্যাদির সম্মুখীন হয়েও ন্যায়ের পথে দৃঢ়পদ থাকা
(খ) ভয় না পেয়ে, লোভ এ না পড়ে এবং পার্থিব লাভ-ক্ষতির পরোয়া না করে আল্লাহর পথে সংগ্রামে অনড় থাকা।

জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায়:
আল্লাহ বলেন, “মুমিনগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি (লাভজনক) ব্যবসার সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে (মহাবিচারের দিনে) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে? তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর (দ্বীন প্রতিষ্ঠার) পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ করে জিহাদ (ইসলাম পালন ও প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা) করবে। এটাই তোমাদের জন্যে ভালো; যদি তোমরা (কথাটা) বুঝো। (ঠিকমতো এ কাজ করতে পারলে) তিনি (আল্লাহ) তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন এবং (শেষ বিচারের দিন) এমন (সুরম্য) জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত থাকবে এবং (সর্বোপরি আল্লাহ তোমাদের প্রবেশ করাবেন) বসবাসের জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। এবং (আল্লাহ) আরও একটি (বড়ো ধরণের) অনুগ্রহ দিবেন, যা তোমরা পছন্দ কর। (তা হচ্ছে) আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং (ময়দানের) আসন্ন বিজয়। (যাও, তোমরা) মুমিনদেরকে এর সুসংবাদ দান করো।” (৬১/সূরা আস সফ:১০-১৩)

মনে রাখা প্রয়োজন:
সত্যের (বা ইসলামের) বিজয়ে যাদেরই স্বার্থহানী ঘটে তারাই সত্যেকে প্রতিরোধ করে। যেমন: অনৈসলামিক শাসনশক্তি, অনৈসলামিক সাংস্কৃতিক শক্তি, অনৈসলামিক ব্যবসায়িক শক্তি, প্রতিষ্ঠিত ভ্রান্ত ধর্মীয়শক্তি প্রভৃতি।

সংকলণ ও সম্পাদনা: ইঞ্জিনিয়ার আবু রামিন
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×