somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের কথা (প্রথম পর্ব )

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৮:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বন্ধুত্ব কি ? এক বিখ্যাত মনীষী বলতে চেয়েছেন ," Friendship is a type of relationship between two who care about each other"
সত্য কথা । তবে শুধু কেয়ার টা থাকলেই হবে না সাথে সেক্রিফাইস আর প্যারা দেওয়ার অসাধারন ক্ষমতাও থাকতে হবে B-)।

আমার ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত পড়া হয় নি , আগেই অনেক লেখায় বলেছি । ৪র্থ শ্রেণীতে ভর্তি হলাম নতুন এক স্কুলে মে বি ৪৮ বা ৪৯ নং পশ্চিম ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে । নেকজাহান প্রাইমারি হিসেবেই সর্বজন স্বীকৃত । স্কুল নতুন হলেও বেশীর ভাগ ছাত্র ছাত্রী আগে থেকেই পরিচিত ছিল , তাই আর খুব একটা নতুন লাগে নি ।তবে টিচার সবাই নতুন ।টিচার বলতে সবাই শিক্ষিকা :) । অর্থাৎ পুরুষ বিহীন টিচার প্যানেল । প্রথম দিন ভর্তি হওয়ার সময় পান খেতে খেতে চমৎকার ভাষায় প্রশ্ন ছুড়তে থাকলো ঝর্না ম্যাডাম , আমাদের প্রধান শিক্ষিকা। নতুন স্কুল সম্পর্কে যতটা উচ্ছাস নিয়ে এসেছিলাম , ততোটাই মিইয়ে যেতে থাকলাম প্রশ্নবাণে । ম্যাডাম একের পর এক ইয়রকার ,বাউন্সার ,আউটসুইং দিচ্ছে আর আমি বলে বলে পরাস্থ হচ্ছি ।ম্যাডাম বলে , ট্রান্সসিলেশন কর মুসুলধারে বৃষ্টি হচ্ছে , আমি ম্যাডামের পিছনে দরজা দিয়ে তাকিয়ে দেখি ফকফকা রোদ ;)। উনি জিজ্ঞাস করেন বল ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গেল , আমি চিন্তা করি তাহলে আর ডাক্তার আইসা কি লাভ হইল :P মাঝখান থেকে মনে হয় ভিজিটের টাকাটা গেল । উনি জিজ্ঞাস করেন সম্পূরক কোন কি , আমি ভাবি এই টা বাংলা না সমাজ থেকে প্রশ্ন করল ? কিন্তু যখন দেখলাম শেষে কোন আছে পটাপট বলে দিলাম যে কোন চাদার সম্পূর্ণ অংশ কেই সম্পূরক কোন বলে, কেননা আমার কাছে তখন কোণ মানেই চাঁদা :)। আমার উত্তর শুনে আব্বু চিন্তিত হইলেন ,আর ম্যাডাম চূড়ান্ত রকমের হতাশ হইলেন । শেষ পর্যন্ত অনেকক্ষণ চিন্তা ভাবন করে সিদ্ধান্ত জানাইলেন , ভর্তি করা যাবে কিন্তু পড়তে হবে । আব্বুও বেশ শাসিয়ে দিলেন পড়তে হবে ।

তো ক্লাস শুরু হল লাইলি ম্যাডামের ইংরেজি ক্লাস দিয়ে । অনেকদিন না পড়ায় আমি সব ভুলে গেছি । কিছু পারি না আর ম্যাডাম আমার দিকে হতাশার দৃষ্টি নিয়ে তাকায় , আমি ও বাধ্য ছেলের মত ম্যাডাম কে পুনঃপুন হতাশ করে শূন্য দৃষ্টি নিয়ে পাশের চালের কলের দিকে তাকিয়ে থাকি । তবে গানে গানে ভরপুর বুলবুলি ম্যাডামের ক্লাস ছিল অতি চমৎকার । সবাই তালি দিতাম আর গাইতাম ,We shall over come, We shall over come , We shall over come... someday ... কিন্তু দুঃখিত ম্যাডাম আমি এখনো কিছুই অভারকাম করতে পারি নি বরং সব জট পাকিয়ে ফেলেছি ।
তবে নুরী ম্যাডামের ক্লাস ছিল অতিব সুন্দর , ঐ ক্লাস থেকেই মূলত শিখেছি কিভাবে ক্লাসের সময়কে মূল্যবান করে তুলতে হয় , কিভাবে আড্ডা ঘুমে ক্লাস পার করিতে হয় :P ।তবে এ সময় বেশ কিছু ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ । সাইম নামে এক ছেলে ছিল যার কাজ ছিল নানা রকমের অপকর্ম করে সর্বদা পরিবেশ উত্তপ্ত রাখা , তবে আমাদের লাইলি ম্যাডামও কম কীসের ? নাখে খদ দেওয়া , এক পায়ে বেঞ্চের উপর দাঁড়ানো হেন কোন ব্যবস্থা নেই যে উনি ব্যবহার করেন নি । কিন্তু সাইম ছিল রিয়েল প্ল্যেয়ার । এত সহজে হার মানবে কেন ? প্রতিদিন নিত্য নতুন ফন্দি আঁটত । আর ম্যাডামও ওর পেছনে দিব্যি লেগে থাকতো ।
ক্লাসের প্রথম দিকে দুটি বেঞ্চ এক সাথে করে আমরা ৪ জন বসতাম । একজন শাওন , বিয়ে ঠা করে এখন সন্তানের বাবা । তবে ওর বিয়ে টা বেশ রোমাঞ্চের যোগান দিয়েছে । সেদিকে আর না যায় । তবে ছেলেটার কাছে আমি কৃতজ্ঞ , সমস্ত স্কুল লাইফ ও আমাকে সাইকেলের পেছনে নিয়ে ঘুরেছে।সুখী পরিবার হোক তোর :)।
বাকি ২ জন শান্ত আর মেহেদী । একজন আগাগোড়া নিরামিষ , তবে এখন প্রেমটেম করে বেশ আমিষবান হচ্ছে B-) , তবে মনে হয় ছেলেটার সমস্যা ছিল, না হলে বছরের পর বছর একটা ছেলে ফাস্ট হয় কি করে ? আর একজন মেহেদী । আমার মা বাবা আত্মীয়স্বজন বাদ দিলে ওর সাথে আমার সব থেকে দীর্ঘ সম্পর্ক , সেই প্লে গ্রুপ থেকে ।ওর বিষয়ে আর একটু পরে আসবো ।তারপর কোন রকম পাস পুস করে ৫ম শ্রেণীতে উঠলাম । এবার বেশ ঝামেলায় পড়ে গেলাম বৃত্তি নামক এক বৃত্তে , আর সুযোগ নাই এখন পড়তে হবে ।

মেহেদী ই প্রথম ইসলামপুর অজিত ও সাইফুল স্যার এর বৃত্তি কোচিং এর খোজ আনে । শুরু হল নতুন জীবন । উত্তেজনায় ভরপুর । রিক্সা ঠিক করা হল প্রতিদিন ৪ জন মিলে কোচিং এ যাই । এত সুন্দর সুন্দর মেয়ে , সেই কচি বয়েসেই আমাদের রোম্যান্টিক করে দিল । ছেলে মেয়ের একসাথে কোচিং গুলোতে এই জন্যেই মে বি রেজাল্ট ভাল হয় , কারন সেখানে প্রেস্টিজ ইস্যু বলে একটা বিষয় থাকে । সেখানেই পরিচয় সাদমান , কাফি, লাবন ,রনি , মেহেদী ,প্রনয়, রাব্বিদের সাথে । তবে লাবণকে আগে থেকেই চিনতাম । কি দুর্দান্ত জীবন সবাই তোখড় স্টুডেন্ট , অগত্যাই পড়াশুনা করতে হয় । এক এক জন ছাত্রী কি মেধাবী ! ঝর্না ম্যাডামের ভাগ্নি নীলিমা , সোমা , সেতু , আর মন্ত্রীর নাতনি । এই মন্ত্রীর নাতনীটা একটা আলাদা বিনোদন ছিল ।প্রনয় নাকি একবার কি যেন দেখে ফেললো ।পরে সেটা একটা আলদা হিস্টোরি হয়ে গেল :P।এত কিছুর মধ্যে একটা আলাদা পাওয়া ছিল অজিত স্যার । স্যার আপনি শতআয়ু হোন । যুগ যুগ ধরে আপনার মত টিচার রা আমার মত নির্বোধ দের অনুপ্রেরণা দিয়ে যাক । ছেলেপেলে শুধু টিচার দেখে ভয় না পেয়ে আনন্দের সাথে কিছু শিখুক ।

তারপর স্কুল শুরু হল , নতুন জীবন । বিশাল ক্লাস , হাজারো ছাত্র । তমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা । আবারও যথারীতি ফাস্ট শান্ত । তারপর নতুন করে আরও কিছু ছেলেপেলের সাথে পরিচয় হল ইসমাইল , স্বপন ,মুন্না ,আরাফাত ।জীবন বয়ে চলতে থাকলো তার গতিতেই । একে একে নতুন ক্লাসে উঠছি , পরিবর্তন হচ্ছে এক সময় হেড স্যার শান্তর বাবা চলে গেল , আইজুল স্যার এল । নতুন নিয়ম হল , নতুন ইউনিফর্ম এল । কিন্তু সবার মধ্যে আগের প্রানবন্ত ব্যপারটা টা ফুরিয়ে গেল । তবে স্কুল এ যে দুটো স্যার এর কথা ভুলা সম্ভব না, তাঁদের একজন ওমর স্যার আর এক জন হালিম স্যার । এই কোণ ওই কোণ কে এভাবে ছেদ করল , এই টা ওই টার ভেতর দিয়ে গেল । অদ্ভুত ,কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে ক্লাসে কেউ কথা বলতে পারত না , সে কি ক্লাস নিত সম্ভবত সেও ভাল করে বুঝত না আর আমদের তো বুঝার প্রশ্নই উঠে না , কিন্তু সবাই ক্লাসে এমন ভাব নিয়ে থাকতো যে এক জন গতিতে নোবেল পাবে পাবে অবস্থা :প । আর হালিম স্যার মানেই আলাদা উত্তেজনা । সব প্রশ্ন দাগাই দিত । এখন আপনাকে সব মুখস্থ করতে হবে , না হইলে পশ্চাৎদেশের অবস্থা খারাপ :P ।

স্কুলের কোচিং এর জীবনটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ । আগে তো আমরা কেউ মেয়েদের সাথে কথা বলতাম না , কিন্তু পপুলার কোচিং এ আসার পর রীতিটা চালু হল । তারপর কিভাবে কিভাবে জানি সম্পর্ক গুলো অন্যখাতে বাক নিতে থাকলো । এর মধ্যে কেউ সফল ,কেউ ব্যর্থ । ইসমাইল হারিয়ে গেল আমবাড়িয়াতে ,কিন্তু গলিপথ আর খুজে পেল না । স্বপন রোমান রাজত্ব কায়েম করার আগেই দখল করে নিল অন্য কোন প্রতাপশালী । জুয়েল ফেরারি প্রেমিক হয়ে ঘুরে ফেরল পৃথিবী ।এখনও সে আকর্ষণেই ছেলেটা বুদ হয়ে আছে । তারপরও কিছু সম্পর্কের সুন্দর পরিনতি ভালো লাগায় । রনি সিমির নাকি সব কিছু ঠিক ঠাক , সেতু র নাকি এখন সুখের সংসার । শাওন , কাফি দের হাতেও নাকি এখন নরম স্পর্শের ছোঁয়া:) ।

আর শ্যালা দোস্ত তোকে বলছি তাড়াতাড়ি বিয়ে কর । ডাক্তার হতে হতে অনেক দেরী ।এত দিন ওয়েট করতে পারব না, ভাতিজা দরকার ক্রিকেট খেলবো B-)।

সুখে থাক সম্পর্ক গুলো , লাল খামে ভালোবাসার আদান প্রদান করুক ছেলে মেয়ে গুলো ।দুয়া করি তাড়াতাড়িই পরিণতি পাক প্রনয় গুলো বৈধতাই ।

দেখতে দেখতে কত টা বেলা গড়িয়ে গেল । সেদিনের ছোট্ট ছেলে পেলে গুলো আজ সবাই ২০ বছরের তরুন । চোখে মুখে স্বপ্নের ছটা নিয়ে সবাই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে , সাথে বড় হওয়ার প্রচণ্ড আকাঙ্খায় সবাই ব্যস্ত ।

জীবন সবাইকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে , অবস্থানটা তাই বিক্ষিপ্ত ।কিন্তু ছোট্ট সম্পর্কের চারাগাছটি আজ শিকড় গজিয়ে ডাল পালা শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে ফেলেছে । তাই ভুলে যাওয়া আর সম্ভব না , ভালো থাক তোরা । স্বপ্নের চেয়েও বড় হো সবাই ।।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৮:২৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×