এই ঘটনাগুলো আমার গুরুজনদের কাছ থেকে শোনা, এবং আমার ধারণা
ঘটনাগুলো সত্যি। কেননা আমি নিজেও একটি ঘটনার চাক্ষুশ সাক্ষী।
১) প্রায় চল্লিশ বছর আগের উত্তরবংগের ঘটনা। পারিবারিক মসজিদে এশার নামাজ পড়ার শেষে সালাম ফেরানোর সময় তিনি খেয়াল করেছিলেন যে তার ডানে একজন এবং বামে একজন দাড়ি্য়ে নামাজ পড়ছে। মোনাজাত করার পরে খেয়াল করেন কেউ নাই। সেই ঘটনায় উনি এত ভয় পেয়ে যান যে সপ্তাহ খানেক প্রচন্ড জ্বরে ভোগেন।
২) একটি ছাত্র হোস্টেলে দুই বন্ধু শুয়ে আছে। জানালা দিয়ে দূরের একটা গাছের পাকা আম দেখে এক বন্ধু আম খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে দ্বিতীয়
বন্ধু বলল "আচ্ছা এখনই আম পেড়ে আনছি। " প্রথম বন্ধু দেখল দ্বিতীয় বন্ধুর হাতটা লম্বা হতে হতে আমটা পেড়ে নিয়ে আসল । প্রথম বন্ধু অবাক হয়ে জিগ্যেস করল "তুমি কে?" দ্বিতীয় বন্ধু বলল "আমি জ্বীন।"এই বলে সে হাওয়া হয়ে গেল। এর পরে তাকে আর ঐ ছাত্র হোস্টেলে দেখা যায়নি।
৩)রহমান সাহেব আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছেন । পথে একটি মিষ্টির দোকানে ঢুকলেন। মিষ্টির অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করছেন, এমন সময় আরেক ক্রেতা এসে অনেক রকম মিষ্টির অর্ডার দেওয়া শুরু করল। দেরি হচ্ছে দেখে রহমান সাহেব দোকানিকে তাড়া দিয়ে বললেন আমার মিষ্টিটা দিয়ে ওনার সাথে কথা বলেন । রহমান সাহেব মিষ্টর প্যাকেট হাতে নিয়ে হেটে যাচ্ছেন। হটাৎ মনে হল পেছন থেক কেউ তাকে জোরে ধাক্কা দিয়ে চলে গেল। তিনি মাটিতে বসে পড়লেন, এবং পেছন দিয়ে তাকিয়ে দেখলেন কেউ নেই। রহমান সাহেবের মুখেই শুনেছি মিষ্টি নাকি জ্বীনদের খুব প্রিয় খাবার। মিষ্টি দোকানে একটি বড় অংশের ক্রেতা তারা।
৪) এবার আমার নিজের দেখা ঘটনা বর্ণনা করি।
স্কুল থকে দুপুরের পরে বাড়ি ফিরেছি। বাড়ির আশেপাশে দেখি হৈ চৈ। শুনলাম আমাদের প্রতিবেশির রাখার ছেলেকে জ্বীনে ধরেছে এবং সে
নারিকেল গাছের ওপরে উঠে বসে আছে। আমার বাড়ি থেকে ২০/২৫ হাত দূরের নারিকেল গাছের পাতার ওপরে বসে বিভিন্ন ধরণের গলায় গান গাইছে। গাছের কাছাকাছি যেয়ে কেউ তাকে নেমে আসতে বললেই সে তার দিকে ডাব ছুড়ে মারতে থাকে। উপায়ন্তর না দেখে প্রতিবেশি দমকলে খবর দিলে দমকলের লোকজন মই দিয়ে উঠে তাকে গাছ থেকে নামায়। এবার তার চিকিৎসার জন্য একজন ওঝা নিয়ে আসা হল। মুরুব্বিরা ওঝা ও রাখালকে সহ প্রতিবেশির ড্রয়িংরুমে ঢুকে দরজা, জানালা সব বন্ধ করে দিল। আমি ছোট ছিলাম বলে বাইরে থেকে তাদের কথাবার্তা শুনছিলাম। ওঝা বিভিন্ন প্রশ্ন করছিল আর রাখাল তার জবাব দিচ্ছিল। একসময় দরজা খুলে রাখাল ছেলে মুখে একটা হাড় নিয়ে বের হয়ে এসে তিন চার কদম হেটে আমার সামনেই মাটিতে পরে গেল। ওঝা বলল দেখেন হাড়টা ঠিক দিয়ে ফেলছে নাকি। একজন মুরুব্বি পরীক্ষা করে বলল হ্যা -হাড়টা বাম দিকেই ফেলছে। তাহলে সব ঠিক আছে বলে একটা ছোট মে্য়ের হাত ধরে অন্ধ ওঝা চলে গেল ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

