somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিলোত্তমায় ঈদ আনন্দ ও ভাড়দের ভাড়ামী উপভোগ!

২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবারের ঈদে গ্রামের বাড়ি যেতে পারলাম না। না যাবার পিছে অনেকগুলো প্রতিকুল কারনও ছিলো। প্রথমত, অফিস থেকে ছুটি পাইনি। দ্বিতীয়ত, আমার বাচ্চারা সব ছোট ছোট, গ্রীস্মের এই তীব্র গরমে তাদের নিয়ে ঈদের সময গরু ছাগলের মতো ঠাসাঠাসি করে বাসে চড়া আমার পক্ষে রিস্কি। এসব বিবেচনায় গ্রামের বাড়ী যাওয়ার প্রোগ্রাম বাদ দিতে হলো।

যাই হোক ভাবছিলাম মাত্র তো তিনদিন, ঈদের সব বাহারি(!) টেলিভিশন প্রোগ্রাম আর সাথে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে সময় কাটিয়ে দেব। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপে এবার নামি দামি দেশের আজে বাজে খেলা দেখে একটু হতাশই হলাম। তারপর খুব গভীর ভাবে লক্ষ্য করলাম আমার সময় একদম কাটছেই না। কারন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ঈদের যে অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে তা দর্শকদের জোর করে হাসানোর মতো অত্যান্ত নিম্নমানের ভাড়ামিযুক্ত নাটক/অনুষ্ঠানে ভরা।যা ধৈয্য ধরে এবং সময় নষ্ট করে দেখার মতো কোন রুচিশীল দর্শকের আগ্রহ আছে বলে মনে হয়না(ঢালাও ভাবে সবাইকে অবশ্য বলা যাবেনা)। দুইএকটা হাতে গোনা অনুষ্ঠান ছাড়া প্রায় সব একেবারে চতুর্থ শ্রেনীর অভিনেতা(!) দিয়ে সব চ্যানেল তাদের নাটক প্রচার করছেন এবং সব আঞ্চলিকতায় ভরা বিশ্রি ভাষায় রচিত ও অভিনীত। নাটকের নামগুলোও অশ্রাব্য এবং অনেকটা অশালীনও বটে যেমনঃ খালাতে বউ,ভোদাই, কাউয়া মদন, ঘাউরা মজিদ, চালু মাল, ইত্যাদি।

অথচ আমরা যারা অজো পাড়া গাঁয়ে বড় হয়েছি, তখন টিভিতে যে সব নাটক দেখতাম এবং তাতে যারা অভিনয় করত তাদের ভাষা, সংলাপ দেখে মনে মনে মুগ্ধ হয়ে ভাবতাম তারা কতো সুন্দর করে কথা বলে। মনের মধ্যে তাদের জন্য ভালোলাগা ও শ্রদ্ধাবোধ তৈরী হতো। খারাপ লাগে আমাদের বাচ্চারা টিভি নাটক/অনুষ্ঠান বলতে বুজবে ভাড়ামি আর ভারদের এবং আজে বাজে জিনিস শিখবে।

বাচ্চারা ঈদের দিন বাইরে যাবার জন্য ঘ্যান ঘ্যান করলেও কোথাও গেলাম না এই গরমে কোথায় যাবো? পরের দিন চিন্তা করলাম ফাঁকা ঢাকার শহর একটু ঘুরে দেখি। আমি সল্পআয়ের মানুষ, গাড়ী নাই তাই দরকষা কষি করে সিএনজি ভাড়া করলাম। ঈদের সময় তাই সাধারন সময়ের চাইতে ভাড়া দেড়গুন বেশি। কি আর করার ভাবলাম বাচ্চাদের চিড়িয়াখানায় নিয়ে চিড়িয়া দেখিয়ে আনি, বাঘ,ভাল্লুক, বানর দেখে আনন্দ পাবে। চিড়িয়াখানায় পৌছে মনে হলো ঢাকার মানুষ কেউই গ্রামে যায়নি সব চিড়ীয়াখানায় আসছে। আমি আর ভিতরে ঢুকলাম না। চলে এলাম শিশু পার্কে কিন্তু হায় হায় এখানে গেটের সামনে পা ফেলার জায়গাও নাই আর ভিতরে হাজার হাজার মানুষ। আমার বাচ্চারা দরদর করে ঘামছে। নিরুপায় হয়ে ঢুকলাম রমনা পার্কে। সেখানেও সবশ্রেনির মানুষ গিজ গিজ করছে।তারপর বাচ্চাদের রমনার সবুজ ঘাসে কতক্ষন সময় কাটিয়ে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম।

প্রতিদিন আমরা প্রতক্ষ্য আর পরোক্ষ ভাবে আমরা যেসব মানসিক নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছি তা হয়ত আমাদের ভাবনায় আনার সময় আমরা পাইনা। টেলিভিশন চ্যানেলের অত্যাচার, বাড়ীওয়াল অত্যাচার, গাড়ী ভাড়ার অত্যাচার, ক্ষমতার অত্যাতার, চেতনার অত্যাচার, ফরমালিন আর ভেজালের অত্যাচার। এসব এখন গা-সওয়া করে নিয়েছি কিংবা বিবেকের সাথে সবাই আপোষ করে নিয়েছি। সবশেষে মনে হচ্ছিল আমার গ্রামে যাবার প্রোগ্রাম ক্যানসেল করা ঠিক হয়নি।একদিনের জন্য কষ্ট করে গেলেও অনন্তঃ এসব সহ্য করা লাগতনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:২৯
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×