somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ আব্দুল্লাহ আল-আমিন
ঢাকার এই ব্যাস্ত নগরীর আমি এক ক্ষুদ্র পথচারী , লিখা লিখি করার ভীষন ইচ্ছা । তাই নিজের কথা গুলো তুলে ধরতে্‌ আমি ব্লগে লিখা লিখি শুরু করলাম।আমি আল-আমিন । মধ্যবৃত্য পরিবারের আমি সন্তান। স্বপ্ন তো সবাই দেখতে পারে । তাই আমিও দেখছি।

ব্লগ এখন আতংকের নাম

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টিভি খুলতেই যাহ চোখে পড়ে, আজ এই ব্লগার কাল ওই ব্লগার, মরছে তো মরছে। সেদিন ল্যাপটপ অন রেখেই ভার্সিটি চলে গেছি। বড় দুলু ভাই বাসায় এসেছে আমাকে না জেনেই। ল্যাপটপ খুলতেই আমার ব্লগ তিনি দেখলেন। সাথে সাথে ফোন। রাগের সুরে বললেন আল-আমিন তুমি কোথায়? ঢাকায় আমাকে দেখতে এসেছেন কিন্তু এমন করে কথা বলার কি হল?
চিন্তা করলাম,আমি তো কোন মেয়েকে নিয়ে কিছু করি নাই।
ভয়ে ভয়ে বাসায় আসলাম। দেখলাম মা বাসা থেকে অনেক কিছু পাঠিয়েছেন। আমি এসেই খাওয়া শুরু করেছি। উনি কোন কিছু না বলেই বলতে শুরু করল, তুমি কি পড়াশুনা করছও না অন্য কিছু করছ।
আমি ভীত হয়ে বললাম- কেন ভাইয়া আমি তো কিছু করি নাই।
-করো নি মানে? তুমি ব্লগার, মরার ইচ্ছা হয়েছে তোমার।
-কেন আমি তো কোন বাঝে কথা লিখি না ভাইয়া।
-বেআদব, মুখে মুখে কথা বল। আগে তো এমন ছিলে না। ব্লগ তোমাকে নষ্ট করেছে।ফেসবুক চালাও তাতে হয় না।
-মহা সমস্যায় পরেগেলাম।

ভাইয়া চলে গেলেন।বিপদ দূর হওয়াতে একটু শান্তি পেলাম।

কিন্তু এরপর আম্মুর ফোন, আমার মনে ১০ নম্বর বিপদসংকেত বেজে উঠলও,শুরু হলও বক্তব্য,
''শোন, তোর বাবার এগুলো রক্ত পানি করা টাকা। তোকে কোন কিছুর অভাব দেয় নি। যা চেয়াছিস তাই পেয়েছিস।আমি কখনো ভাবিনি আমার পেটে এমন ফাজিল জন্মও নিবে।
-মা, আমি কি করেছি বলও তো?

কি করিস নি তুই, তুই ব্লগার।

-মা। দু-মাস হলও খুলেছি।

কেন বাবা তুই তো ধর্ম ভিরু ছেলে আর তুই কি না ঢাকায় গিয়ে এমন হলি বাবা। শুরু হলও আমার মায়ের কান্না।

-মা আমি তো ইসলামের বিপক্ষে লিখি না। আমি লিখা লিখি করি তুমি তো জানোই।

এরপর শুরু হলও আব্বুর বক্তব্য,
''তুমি আমাদের চেয়ে বেশি বুঝো, তুমি খাতায় লিখো। আমি তোমার বই বার করে দিবো।
-বাবা, আমি তো বাজে কিছু লিখি না।

তুমি দেখছও ব্লগার গুলোকে কিভাবে মারছে।

-বাবা, ওরা মরেছে কারন ধর্ম নিয়ে বাজে কথা বলেছে।

বেশি বুঝো না। ওরাও তোমার মতো ছেলে-পেলে। বাবা হও তখন বুঝবা।

-বাবা যে কবে হবো।

এরপর একটা বড় লেকচারের পর বাবা ফোন কেটে দিলেন।"

এরপর ভাবতে শুরু করলাম। কেন যে ল্যাপটপ অফ করলাম না।

দু ঘণ্টা পর। মেঝ আপুর বাসা থেকে ফন।আবার বক্তব্য শুরু,
''ভাই তুই কি করছিস। তোর জন্য কি শান্তিতে থাকতে পারবো না।
-কেন আপা, কি করলাম আমি?

তুই ক্যান এমন করলি, জানিস বাসায় বাবা মা দুজনি অসুস্ত। দুজনি সকাল থেকে কিছুই খায় নাই।

-মানুষের সংসারে কত আমি গর্ব করি তোকে নিয়ে, আর তুই কি না এমন করলি।

দূর, যত সব পাগলের দল।

-কে পাগল, আমরা পাগল, আর তুই কি?

ক্যানও এমন করছিস, আমি তো কারো মেয়ে কি উঠায়ে নিয়ে আসি নি।

-উঠায় নিয়ে আসলেও তো এমন হত না। তাও সেটা মেয়ে হত। আর তুই নিয়ে আসছিস ব্লগ।বল,তুই তো আমাদের বংশের একমাত্র ছেলে। যদি তোর কিছু হয়''

ফোন কেটে দিলাম।মেজাজ খুব খারাপ হচ্ছে, বড় দুলা ভাইয়ের প্রতি।


এমন এক ডিজিটাল যুগ আসলো। লিখা লিখিও বন্ধও করে দিতে হবে।
এখন কার শ্লোগান, ''ব্লগার হবই তো মরবি''
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×