১. অনেকেই বলতে শুনি একটু গুছিয়ে নেই তারপর বিয়ে-সংসার করার কথা ভাবব। তাদেরকে বলতে চাই, সংসার ব্যাপারটা এমনই যে এখানে গুছিয়ে নেওয়ার কিছু নেই। সারাটা জীবন ধরেই সংসার গোছাতে হয়। ফলে, গুছিয়ে শুরু করব বলে কিছু নেই। যা শুরু করতে হবে সেটা শুরু করে দেওয়াই ভালো।
২. তাহলে প্রশ্ন হতে পারে বিয়ের জন্য কি কোন প্রস্তুতি দরকার নেই? অবশ্যই আছে। দু’জনের সংসার চালানোর মতো ন্যুনতম প্রস্তুতি থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে সংসারটা দু’জনের। আর সংসারের জিনিসপত্র ধীরে ধীরে হতে থাকবে। সাজানো সংসারের চেয়ে সংসার সাজানো মনে হয় অনেক বেশি আনন্দের হতে পারে।
৩. অনেকে মনে করেন ফ্রিজ, টিভি, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, এসি, ঘরের সব আসবাবপত্র, আইপিএস, গাড়ি, এমনকি বাড়ি পরযন্ত রেডি করে তারপর বিয়ে। মজার ব্যাপার হলো এর মধ্যে একমাত্র বাড়িটা দীর্ঘমেয়াদের হলেও বাকি জিনিসপত্র সংসার জীবনে একাধিকবার চেঞ্জ করার দরকার হয়। মূলত, সংসার জীবনে নতুন নতুন জিনিস যতো কেনা হয় তারচেয়ে বেশি খরচ হয় পুরনো জিনিসপত্র কিনতে বা মেরামত করতে। তখন মনে হয় গুছিয়ে শুরু করার কিছু নেই। ফলে, গুছিয়ে শুরু করার জন্য যে ৪০ বছর বয়সে বিয়ে করল। তার অবস্থা ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করার মানুষটির মতোই হয়। বিশ্বাস না হলে খোঁজ নিয়ে দেখুন।
৪. অনেকে আবার গুছিয়ে শুরু করা বলতে তার চাকরি কিংবা ক্যারিয়ার বোঝান। চাকরি কিংবা ক্যারিয়ারের শেষ বলে কিছু নেই। এটা একটা মোহ। এই মোহে পড়ে বিয়ে বিলম্বিত করার পর একটা সময়ে গিয়ে তারা বোঝেন যে, কাজটি ঠিক করেননি। কিন্তু তখন ফিরে আসার সময় থাকে না। অনেককে দেখেছি ক্যারিয়ার তৈরি করতে গিয়ে দীর্ঘদিনের ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে বিট্টে করেন। এরা সাধারণত আম ও ছালা দুটোই হারিয়ে থাকেন।
৫. বিয়ে একটা শারীরিক ও মানসিক বন্ধন। এখানে বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা দরকার। সেসঙ্গে মেনে নেওয়া ও মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দুই পরিবার থেকে আসা দু’টি পৃথক মানুষ যখন এক ছাদের নিচে থাকেন তাদেরকে অনেক কিছুই ছাড় দিতে হয়। এটা মনে রেখে বিয়ে করত হবে।
৬. বিয়ের একটি ফলাফল হলো প্রজন্ম বিস্তার! অর্থাৎ সন্তান। একটি পরিবারের সন্তান ওই পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নিজেদের ভোগ বিলাস, চাওয়া পাওয়া অনেক কিছুর চেয়ে তখন সন্তানের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। সন্তানের বেড়ে উঠার জন্য কল্যাণকর নয় এমন ধরনের আচরণ থেকে বাবা মাকে সবসময় বিরত থাকতে হবে। যার অভাব ইদানীংকালে খুব চোখে পড়ে।
৭. বিয়ের জন্য উপযুক্ত বয়স কতো, সেনিয়ে নানা মুনির নানা মত। তবে আমি মনে করি ২৫/২৬ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে করাটাই ভালো। আমি নিজে অবশ্য ২৪ বছর বয়সে বিয়ে করেছি।
৮. বিয়ে করার মধ্য দিয়ে নিজের সংসার হওয়া মানে, মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। একথাটা মনে রাখতে হবে। যে বাবা-মা আপনাকে বড় করেছে। আজকে এই অবস্থায় আসতে সাহায্য করেছে। তাকে কখনো অবহেলা করবেন না। মা-বাবা যতোদিন বেঁচে থাকবেন (স্বামী ও স্ত্রী দু’জনের জন্যই প্রযোজ্য) তাদের চাহিদার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদেরকে সময় দিতে হবে। সবসময় মনে রাখতে হবে একসময় আপনিও ওই অবস্থায় যাবেন
মূল ব্লগ ও প্রথম প্রকাশিত: http://mgnabi.wordpress.com/
আলোচিত ব্লগ
১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন
অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !
অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ব্লাইন্ড স্পট

ঘন কুয়াশার চাদর আর আঁকাবাঁকা সড়কের আড়ালে ‘পদ্মাডাঙা’ গ্রামটা দেখতে আর দশটা নীরব, নিরুপদ্রব পল্লীর মতোই। কিন্তু সাইবার অপরাধের মানচিত্রে এই জায়গার পরিচয় ভিন্ন। ফিশিং, ব্যাংক... ...বাকিটুকু পড়ুন
কাতুকুতু'র কাহিনীনামা
কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।
তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।