somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাইরাস,ট্রোজান,ওয়রম,স্পাইওয়্যার,অ্যাডওয়ারে আর মেলওয়ার

০৩ রা মে, ২০১১ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিদিন কম্পিউটার ব্যাবহারকারির সংখ্যা বেরে চলেছে , সেই সাথে বেরে চলেছে ইন্টারনেট ব্যাবহারকারির সংখ্যা , বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যাবহারকারির সংখ্যা ২,০৭৬,১৫৫,০০০ উপরে (INTERNET USAGE STATISTIC), বেরে চলেছে বিভিন্ন ওয়েব সাইট ।
প্রতিদিন আমরা কতইনা ওয়েবসাইটে ঘুরে বেরাই , কত চেনা কত অচেনা, এভাবে আমরা সম্মুন হই কোন ভাইরাস,স্পাইওয়্যার,ট্রোজান বা এরকম অনেক সমস্যায় । পুরনো দিনে আমরা এরকম সবকিছু কে ভাইরাস নামে চিনতাম , তাহলে কেন এই নামের ভিন্নতা !
আসলে এই নিরাপত্তা জনিত হুমকি গুলোকে আরও বেশি যথাযত শ্রেনীবিভাগ করতে এই নাম গুলো দেওয়া হয়েছে ।

ভাইরাস


কম্পিউটার ভাইরাস হচ্ছে একটি ক্ষুদ্র প্রোগ্রাম, যা আপনার অজান্তে কম্পিউটারকে সংক্রমিত করার জন্য তৈরি করা হয়ে থাকে, এধরনের প্রোগ্রাম কি করবে তা নির্ভর করে প্রোগ্রামার একে কি কাজের জন্য তৈরি করেছে । এটি আপনার ফাইল নষ্ট করতে পারে, অপারেটিং সিস্টেম নষ্ট করতে পারে, নিজেকে আপনার কোন ফাইলে রেপ্লিস করতে পারে, নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে, এমনকি একটি বুট ভাইরাস আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারও ধ্বংস করতে সক্ষম ।
সহজ ভাবে বলতে হলে, একটি জিবন্ত ভাইরাস আমদেরকে যে ভাবে ক্ষতি করতে পারে কম্পিউটার ভাইরাসও এরকম ক্ষতি করতে পারে ।
আমরা যে ভাবে এক জন থেকে আন্য জন্য ভাইরাসে সংক্রমিত হই , কম্পিউটার ভাইরাসও এক কম্পিউটার থেকে ডিস্ক,নেট,পেন ড্রাইভ বা অন্য কোন যোগাযোগের মাধ্যমে ছরিয়ে পরে ।

ট্রোজান


ভাইরাসের পরপরি বর্তমানে সবচে বড় নিরাপত্তা জনিত হুমকি হচ্ছে ট্রোজান বা ট্রোজান হরসেস ।
একটি ভাইরাস এবং একটি ট্রোজান এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য যে এটি নিজেকে অন্য কোন ফাইল বা প্রোগ্রামে রিপ্লেস করে না , তাই বলে এটি কম ক্ষতিকারক নয় । ট্রোজানের প্রধান কাজ হচ্ছে অপারেটিংএ প্রোগ্রামারের জন্য ব্যাকডোর(backdoor) তৈরি করা । আর একবার ব্যাকডোর হলে প্রোগ্রামার বা প্রোগ্রামারের স্ক্রিপ্ট(Scripts) আপনার কম্পিউটারে রিমোটলি নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে সব কিছুই করতে পারবে । এছারাও ট্রোজান ভাইরাসের মত আমাদের কম্পিউটারের অনেক ভাবে ক্ষতি করতে পারে ।
দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এই ট্রোজানকে বেশির ভাগ সময় আমরা নিজেরাই ইনস্টল করে থাকি , কিভাবে !
যখন আমরা কোন ক্র্যাক করা প্রোগ্রামস ইনস্টল করি, কোন কীগান ব্যাবহার করি, কোন প্যাঁচ ব্যাবহার করি বা কোন ওয়েব থেকে ফ্রী গেমস ইনস্টল করি , এমনকি কোন MP3 বা ছবির ফাইল থেকেও ট্রোজানের শিকার হতে পারি ।

ওয়রম


ওয়রম(worm) বা ক্রিমি ,
ক্রিমিরা যা করে , এটি ফায়ারওয়াল্ল ছিদ্র সৃষ্টি করে সয়ংক্রিয়ভাবে এক পিসি থেকে অন্যান্য পিসিতে নিজের কপি পাঠায় ।
নেটওয়ার্ককে এরা খুব দ্রুত ছরিয়ে পরতে পারে । এটি সবচে বড় সমস্যা করে কম্পিউটারের নিরাপদতা বেষ্টনীতে ,যা থেকে আপনার কম্পিউটার আনান্য ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে । এছারাও এটি কম্পিউটার হার্ডওয়্যারকে সর্বচো ব্যাবহার করে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে ।

স্পাইওয়্যার


স্পাইওয়্যার মূল কাজ হচ্ছে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তার রচয়িতাকে পেরন করা , যাতে তারা এই সব তথ্য আইনবহির্ভূত কাজে ব্যাবহার করতে পারে । স্পাইওয়্যার আপনার ব্রাউজারের হোম পেজ পরিবর্তন, সার্চং পেজ পরিবর্তন , অনাকাংকিত টুলবার যোগ করে নানান সমস্যার সৃষ্টি করে, যা খুবই বিরক্তকর । এছাড়া এই সমস্ত স্পাইওয়্যার সাথে কীলজ্ঞিং(keylogging) থাকতে পারে , যা থেকে স্পাইওয়্যার রচয়িতা আপনার ক্রেডিট কার্ড নাম্বার, পাসওয়ার্ড, ইউজার নামের মত বিভিন্ন তথ্য পতে পারে ।
স্পাইওয়্যার নিজে নিজে ছড়াতে পারে না, এটা কোন প্রোগ্রামের বা ওয়েবপেজর অংশ হিসেবে কম্পিউটার ইনস্টল হয় , তারপর তার কাজ শুরু করে । সবচে বড় ভাবনার বিষয় হচ্ছে , সাধারণ এন্টিভাইরাস এদের শনাক্ত করতে পারে না । এর জন্য এন্টিভাইরাসে এন্টিস্পাইওয়্যার অপশন থাকতে হয় ।

অ্যাডওয়ার


অ্যাডওয়ার সধারন্ত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন কাজে ব্যাবহার হয় , যেমন উইন্ডোজ লাইভ মেসেঞ্জার বা ইয়াহু মেসেঞ্জারে অ্যাডওয়ার সংযত করা থাকে । যাকিনা মেসেঞ্জার ইনস্টল করার সময় চক্তির অন্তর্ভুক্ত থাকে । এছাড়াও অনেক প্রকার অ্যাডওয়ার আছে , যে সব আপনার অনুমতি ছারাই কম্পিউটার ইনস্টল হতে পারে , যদিও অ্যাডওয়ার সরাসরি আমাদের কোন ক্ষতি করে না তবুও অবৈধ অ্যাডওয়ার অনান্য ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম আনার রাস্তা হয়ে যায় ।

মেলওয়ার


মেলওয়ার(malware)কেও বানান হয় অসদুদ্দেশ্য । মেলিকিওউস(malicious) সফটওয়্যারের সংক্ষিপ্ত রূপ মেলওয়ার ।
ঘটনাক্রমে যদি পিসিতে মেলওয়ার ইনস্টল হয়, তাহলে এটি ভাইরাস,ট্রোজান,ওয়রম,স্পাইওয়্যার,অ্যাডওয়ারে বা অন্য মেলওয়ার কাজে ব্যাবহার করতে পারে, মোট কথা উপরের যেকন ক্ষতিকারক দিক থেকে ক্ষতি হতে পারে ।মেলওয়ারকেও সাধারণ এন্টিভাইরাস শনাক্ত করতে পারে না , আর ক্র্যাক করা এন্টিভাইরাসের কথা নাই বা বললাম ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×