কাব ইবনে জুহায়ীর মহানবী হযরত মোহাম্মদ ( স

এর সময়কালীন একজন প্রখ্যাত আরবীয় কবি । তিনি প্রথমে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হননি, কিন্ত তার ভাই বুজায়ীর ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত ছিলেন । জুহায়ীর যে শুধু তখন বিধর্মীই ছিলেন তা নয় । তিনি মহানবীর নামে ব্যঙ্গাত্মক কবিতাও লিখতেন, যার গুটি কয়েক এখন পাশ্চাত্তের অনেক ওরিয়েন্টালিষ্ট লেখক ইসলামের বিপক্ষে প্রোপাগান্ডা হিসাবে ব্যাবহার করে । তবে জুহায়ীর তার ভাই বুজায়ির এর পরামর্শ এবং উৎসাহে এক পর্যায়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং মহানবীর প্রসংসা সুচক কাছিদা বা নাথে রসুল রচনা করেন। তিনি মহানবীর উফাৎ গ্রহণের ২ বছর পুর্বে ‘বনাত ছোয়াদ ‘নামে মহানবীর প্রসংসা সুচক একটি কাছিদা সামগ্রী রচনা করেন (Journal of Arabic Literature Vol. 21, No. 2 (Sep., 1990), pp. 140-154) এবং মহানবীকে তা পাঠ করে শোনান। আরবী ভাষায় এটাই প্রথম নাতে রসুল হিসাবে বিবেচিত (Tarikhul adab AL arabi by Ahmad Hasan zaiyaat, ISBN 9953850097) । তাঁর রচিত ‘বনাত ছোয়াদ’ বিশ্ব সাহিত্য ভান্ডারে তার নিখুত কাব্যগুণে এখনো বেশ সমাদৃত । বনাত ছোয়াদে তিনটি সুসমম্বিত অধ্যায় রয়েছে । প্রথম অধ্যায় এর নাম নসিব, প্রেম ও ভালবাসায় পুর্ণ কবিতা সম্ভার , দ্বিতীয় অধ্যায় 'গুল' তথা ভালবাসার রুপান্তর সংক্রান্ত রচনা এবং তৃতীয় অধ্যায় 'রাহিল অফ বনাত ছোয়াদ যা ক্লাসিক্যাল কাছিদায় পরিপুর্ণ অপুর্ব রচনা সম্ভার। নীচে এর থেকে একটি কাছিদার ভাষান্তর দেয়া হলো । তবে বিণীত ভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এই বলে যে, কালোত্তীর্ণ একজন বিখ্যাত কবির অমর রচনার কাব্যিক ও ভাবার্থের যথাযথ সম্মিলন ঘটিয়ে বংগানুবাদ করার মত সামর্থ আমার মত একজন সাধারণ পাঠকের নেই । শুধু মহানবীর প্রসংসাসুচক কাছিদা প্রনয়ণকারী একজন আরবীয় ছাহাবী কবির কাছিদা যা তিনি মহানবীকে পাঠ করে শুনিয়েছিলেন তার সাথে আমাদের সন্মানীত পাঠকদেরকে পরিচিত করার লক্ষ্যে সামুর ভাই বোনদের সাথে শেয়ার করাই এ লেখাটির মুখ্য উদ্দেশ্য ।
নবীর প্রসংসা মুল : কাব ইবনে জুহায়ীর
মোদের নেতা নবী (মোহাম্মদ) দৃঢ়
বিশুদ্ধ হৃদয় অপলক বিশ্বময়ী
সহজবোধ্য, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, ও ক্ষমাশীলতায় পূর্ণ
যিনি অসার ,হালকা কিংবা নন কুসংস্কারছন্ন ।
মান্য করি নবীকে আমার
সে সাথে আনুগত্য মহা প্রভুর
যিনি আমাদের প্রতি করুণাময়
অসীম দয়ালু প্রগার ।
যদি কর গ্রহন তোমরা
নবীর দেয়া শান্তির বাণী
বরণ করব তোমায়
আর শান্তির কাফেলায়
করে নিব অংশীদার ।
করলে নবীকে অস্বীকার নির্ঘাৎ
তোমার সাথে হবে শান্তির লড়াই
হবেনা তা কোন মতেই তা
দুর্বল কোন পরিনতির ব্যাপার ।
যতদিন রব বেঁচে
ততোদিন করে যাব যুদ্ধ
যতদিন না ফিরে আস ইসলামে
আর বিনীতভাবে আশ্রয় চাও।
সংগ্রাম করেই যাব
করিনা পরোয়া সে যেই হোক
দলিত মথিত করে যাব
অবিশ্বাসীদের যন্ত্র মন্ত্রের আস্তানা
যতই দাঁড় করুকনা কেন বাধার পাহাড়
হাতে নিয়ে সুতীক্ষ্ণ হাতিয়ার ।
আসে ধেয়ে ভেবে হবেনা বিনাশ
তবে মাত্র দুটি তৌহিদী কথা
আল্লাহু আকবর করে দেয়
তাদের অন্তরে ভিতীর সঞ্চার
ভয় পেয়ে হয় যদি তারা বিশ্বাসী
পরম প্রভু হতে পায় তারা শান্তির নির্যাস।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১:১১