সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:৪৪
আইফেল টাওয়ার বিক্রি
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
দুই-দুবার আইফেল টাওয়ার বিক্রিকারী চেকোশ্লোভাকিয়ার বহু ভাষায় পারদশর্ী ভিক্টর লুসটিগ এখন বেঁচে থাকলে হয়তো আমেরিকার হোয়াইট হাউজ কিংবা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর বাড়িটাকেও বিক্রি করে দিতেন। লুসটিগ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন বেপরোয়া। প্যারিস ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় বাড়ি থেকে হাত খরচের যে টাকা পেতেন তা দিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত জুয়া খেলতেন। জুয়া খেলে টাকা জিতে তিনি নিজেকে কাউন্ট বলে পরিচয় দিতেন। লোকের ধারণা ছিল কাউন্টরা কখনও চুরি করে না কিন্তু লুসটিগ তাস খেলায় চুরি করতেন দেদার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর লুসটিগ পাড়ি জমান আমেরিকায়। সেখানে নিজেকে তিনি একজন ব্রডওয়ের প্রযোজক হিসেবে পরিচয় দেন। একটি মিউজিক্যাল প্রোগ্রাম তৈরিতে বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে ঘোষণা দেয়ায় অনেকেই অর্থসহ এল; কিন্তু প্রায় সবারই বিনিয়োগের অর্থের পরিমাণ কম হওয়ায় তিনি হতাশ হলেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে এক জুতা ব্যবসায়ী 33 হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ইচ্ছুক হল। লুসটিক সেই অর্থ নিয়ে ভাগল আমেরিকা থেকে ইউরোপে। পুলিশ তার টিকিটাও খুঁজে পেল না। 1923 সালে লুসটিগ ফোরিডা অঞ্চলে বাড়ি ভাড়া করে বিলাসী জীবন অতিবাহিত করতে লাগল। তার বিলাসী জীবনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার পাশে ভিড়ে গেল ব্যবসায়ী লোলার। জানতে চাইল তার বিলাসী জীবনযাপনের পেছনে রহস্য কি? লুসটিগ তার কাছে জাল টাকা বানানোর একটি মেশিন আছে বলল। লোলালের ব্যবসার অবস্থা তখন খারাপ ছিল। তার অনেক টাকার প্রয়োজন ছিল। অনেক অনুরোধের পর লুসটিগ সেই মেশিনটি লোলারের কাছে 25 হাজার ডলারে বেচে দিল; কিন্তু লোলার বিন্দুমাত্রও বুঝতে পারল না যে মেশিনটি ভুয়া। মেশিনটি নিয়ে চলে যাওয়ার পরই লুসটিগ উড়াল দিল প্যারিসে। প্যারিসে যাওয়ার পর হঠাৎ একদিন পত্রিকায় দেখল_ আইফেল টাওয়ার মেরামতের চেয়ে ভেঙে ফেললেই বেশি লাভবান হবে সরকার। লুসটিগের মাথায় বুদ্ধি চলে এলো। সে নিজেকে সরকারি কর্মচারী পরিচয়ে আইফেল টাওয়ার বিক্রির ধান্ধায় নেমে গেল। পেয়েও গেল পুরনো লোহালক্কড় ব্যবসায়ী বার্লটকে। প্রচুর অর্থ দিয়ে আইফেল টাওয়ার কিনে নিল বার্লট। লুসটিগ পালাল অস্ট্রিয়াতে। বার্লট কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি বলে খবরটা খুব একটা জানাজানি হয়নি। প্যারিসে ফিরে এসে আবার আগের অভিনয়েই টাওয়ার বিক্রি করে দিলেন আরেকজনের কাছে। পুলিশে জানাজানি হয়ে গেল। লুসটিগ পাড়ি জমাল আমেরিকায়। 'চোরের দশ দিন গ্রেহস্তের একদিন' সে কথাই সত্যি হলো লুসটিগের জীবনে। 1934 সালে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টের হাতে টাকা জাল করা অবস্থায় ধরা পড়ল। জেল হয়ে গেল তার সতেরো বছরের।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে ফিরে আসো

সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?
আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন
“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।
দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।
ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন
সম্পত্তি
সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ
মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।