
শিরোনামেই বোঝা যায় ওভার ওয়েটেড সুন্দরীকে নিয়ে কাহিনী। আসলেই তাই। 200 Pounds Beauty ছবিটি সাউথ কোরিয়ার হলেও এটি নির্মাণ করা হয়েছে জাপানের প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট ইউমিকু সুজুকির Kanna’s Big Success নামের কমিক বই থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। ২০০৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া ছবিটির পরিচালক কিম ইয়ং-হুয়া যিনি Take Off নামের আরেকটি ছবির জন্য বিশ্ব জোড়া সমাদৃত। ১২০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবিটির চিত্রনাট্যের কাজও পরিচালকের নিজের।
রোম্যান্টিক কমেডি ঘরানার ছবিটির কাহিনী আবর্তিত হয় হানা কাং নামের একজন ওভার ওয়েটেড তরুণীকে ঘিরে যে কিনা পার্ট টাইমার হিসেবে ফোন সেক্স করে এবং একজন গোস্ট সিঙ্গার হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ স্টেজে পারফর্ম করে একজন এবং ব্যাক স্টেজে তার হয়ে গান করে হানা। নিজের মাত্রাতিরিক্ত ওজন এবং অসুন্দরতার জন্য কখনও স্টেজে গান করার সুযোগ পায় না হানা। অন্য দিকে যার গোস্ট সিঙ্গার হয়ে কাজ করে হানা সেই অ্যামির পরিপূর্ণ সৌন্দর্য বলে যা বোঝায় তার সব ছিল কিন্তু গানের সুন্দর কণ্ঠ ছিল না। তাই হানার গানের সাথে স্টেজে কণ্ঠ মিলাতো অ্যামি। এদিকে হানার সাং জুন নামের এক তরুণের উপর ক্রাশ যে কিনা হানা এবং অ্যামি যে মিউজিক কোম্পানিতে কাজ করে তার ডিরেক্টর। একদিন হানা কোন ভাবে অ্যামি এবং সাং-জুনের মধ্যকার কথা শুনে জানতে পারে যে শুধু নিজেদের প্রয়োজনে হানাকে ব্যবহার করছে তারা। সাং-জুন আরও জানায় অ্যামিকে যে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য হানার সাথে ভালো খাতিরের অভিনয় করে সে। এ সব কিছু শুনে দুঃখে হানা আত্মহত্যা করতে চায় কিন্তু সে ব্যার্থ হয়। পরবর্তীতে একজন প্ল্যাস্টিক সার্জারির সার্জন ডাক্তারের শরণাপন্ন হয় সে। বলা বাহুল্য এই ডাক্তারই হানাকে ফোন দিয়ে ফোন সেক্স করতো। ডাক্তার জানায় যে সমস্ত শরীরে প্ল্যাস্টিক সার্জারি করাতে প্রচুর টাকা লাগবে। হানা জানায় যে সে পরে টাকা পরিশোধ করে দিবে কিন্তু ডাক্তার রাজী হয় না। পরবর্তীতে হানা ডাক্তারকে ব্ল্যাকমেইল করে যে তার সার্জারি না করালে ফোন সেক্সের সকল রেকর্ড ডাক্তারের বউয়ের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ডাক্তার চক্ষু লজ্জার ভয়ে পরে হানার সার্জারি করে। এবং এক বছরের মাথায় অভাবনীয় সুন্দরী হয়ে ওঠে সে। পরে সে নিজের পরিচয় গোপন করে আবার সাং জুনের মিউজিক কোম্পানিতে যায় এবং এক সময় নিজেই স্টেজ শো করার সুযোগ পেয়ে যায়। কিন্তু কাহিনী মোড় নেয় অন্য দিকে।
ভালবাসা, আবেগ আর হাস্যরসাত্মকের মিশেলে নির্মিত 200 pound beauty ছবির বাজেট ছিল চার মিলিয়ন ডলার কিন্তু ব্যবসা করে প্রায় ৪২ মিলিয়ন ডলার।
ছবির প্রত্যেকের অভিনয় অসাধারণ লেগেছে। বিশেষ করে হানার অভিনয় করা কিম আহ-জুং এর অভিনয় ছিল চোখে লেগে থাকার মত। হানার ক্রাশ সাং জুনের চরিত্রে অভিনয় করা জু জিন মো সহ সকল পার্শ্ব চরিত্রের অভিনয় ভালো লেগেছে। মন প্রান ঢেলে অভিনয় করেছে প্রত্যেকে।
ছবির সঙ্গীতায়জনও ছিল উল্লেখ করার মত। বলা বাহুল্য ছবির অভিনেত্রী কিম আহ-জুং একাধারে সঙ্গীতশিল্পীও। ছবির ৯ টি গানের মধ্যে ৪ টিতেই কিম কণ্ঠ দিয়েছে।
ছবির শিল্প নির্দেশনা ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ দেওয়া ফরজ রূপসজ্জাকরকেও। কারণ হানা চরিত্রের কিমকে মোটা দেখাতে যেভাবে তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে, সার্জারির পরের দৃশ্য দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটাই সেই মোটা হানা। মোটা হানাকে যথাযথই ন্যাচারাল মনে হয়েছে।
ছবিটি সে বছর কোরিয়ার সকল এ্যাওয়ার্ডের আসরে কাড়ি কাড়ি পুরস্কার জিতে বাজিমাৎ করে দেয়। Chunsa Film Art Awards, Grand Bell Awards, Korea Movie Star Awards, Blue Dragon Film Awards, Korean Film Awards এর আসরে সেরা অভিনেত্রী, সেরা চিত্রগ্রহন, সেরা মিউজিক, সেরা পরিচালক, সেরা জুটি, সেরা সম্পাদনা, সেরা পোশাক ডিজাইন এবং সেরা পার্শ্ব চরিত্রের পুরস্কার জিতে নেয় 200 pounds beauty ছবিটি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৬ বিকাল ৪:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



