somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদ অর্থ কি শুধুই আনন্দ ?

৩১ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৪:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুক্রবার , সন্ধ্যা ।

কালকে ঈদ। ঈদুল আযহা । ঈদ অর্থ হল আনন্দ । ঈদের অর্থ নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ঈদ সবার জন্য আনন্দদায়ক না। কারো কারো জন্য দুংখের। শুধু দুঃখের বললে ভুল হবে, প্রচন্ড দুঃখের ও কষ্টের । এতে অবশ্য কারো কিছু আসে যায় না । এই সৃষ্টিজগতের সব কিছুই সবার জন্য না। কাজেই এ থেকে শুধু মাত্র ঈদের আনন্দ টাই বা বাদ যাবে কেন? সেদিন প্রথম আলোর ছুটির দিনে একটা লেখা পড়লাম। বাবা মারা যাবার কারনে ছেলেটার ফ্যামিলিতে যে পরিস্থিতি আমাদের বাবা থাকা অবস্থায় তার চাইতেও করুণ । আহ !সেই দিনকার কথা , সারা বছরেও মাংসের সাথে কোন সময় পরিচয় ঘটেনি। তা মুরগি হোক আর গরুর মাংসই হোক । সেই কুরবানির ঈদের জন্য অপেক্ষা করতাম । সমাজের ভাগের অংশ । এত টুকুই ছিল সারা বছরের মাংস খাওয়া ।
বাসায় কেমন যেন থমথমে একটা পরিবেশ বিরাজ করছে । এটা বজায় থাকবে আগামিকাল সমাজের মাংস বাসায় না আসা পর্যন্ত । বাসায় এতো গুলো মানুষ অথচ ঈদের বাজার করার মত এক হাজার টাকা কারো কাছে নেই । আচ্ছা ঈদ জদি না থাকতো তাহলে মনে হয় ভালো হত অন্তত আজকে যে কষ্টটা পাচ্ছি তা পেতাম না । বাপ্পি একটু আগে এসএমএস দিছে , গতবার ঈদ টা ভালো যায়নি (ফাহিমের অসুস্থতার জন্য ) এবার ভালো ভাবে কাটাবি । কিন্তু দোস্ত তুই তো জানোস না আমার প্রতি টা ঈদ এমন ভাবেই কাটে । কাউকে কিছু বলতে পারিনা লজ্জা ও অপমানের ভয়ে । গতবার তাও হাসপাতালে কাটছে । ভালোই কাটছে মন্দ না ।
ফেসবুক, ব্লগে মাঝে মাঝে প্রাইভেট-পাব্লিক ভার্সিটি নিয়ে বিতর্ক উঠে । আমার মাঝে মাঝে ক্যাচাল করতে ইচ্ছে হয় । কিন্তু শেষ পর্যন্ত উৎসাহ থাকেনা । কাদের সাথে ক্যাচাল করবো? যাদের বাসার জার্মান শেফার্ড একদিনে যে মাংস খায় বছরের ৩৬৫ দিনেও তা পাবার সৌভাগ্য আমাদের হয়নি । ক্লাস নাইনে থাকার সময় বাবা প্রাইভেট পড়ার টাকা দিতে পারবেনা সেই ভয়ে বিজ্ঞান শাখা থেকে মানবিক শাখায় আসছিলাম । ধারনা ছিল এখানে প্রাইভেট পড়ার মত ঝামেলা ছারাই ভালো রেসাল্ট করা যায় । বাসায় তিন তিনটা টিউটর রেখে যারা স্কুল লাইফ পার করছে তারা এখন আমাদের মত পাব্লিকের স্টুডেন্ট দের বলে ফকিন্নি । হুম ফকিন্নিই তো । ফকিন্নির পোলারা ফকিন্নি ইউনিতে ফকিন্নি সাবজেক্টে পড়ি । ঢাবি-বুয়েটের তিন তিনটা টিউটরের কাছে পড়ে বড় হয়ে যখন নর্থসাউথ বা এআইউবিতে অ্যাডমিশন নেয় তখন বলে ঢাবির চাইতে আমাদের এনএসউ এর বাথরুম নীট অ্যান্ড ক্লিন। আর বুয়েটের পোলারা পারেই শুধু ভাব নিতে আর কি বাল জানে তারা ।

সমাজের উচ্চবিত্তের প্রতি অসম্ভব রকমের ঘৃণা বা বিতৃষ্ণা আছে । ধনবান নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে পাওয়া লাঞ্ছনা আর অবহেলাই এই ঘৃণার জন্ম দিয়েছে ।

সকালে মা’র সাথে ধর্ম পালন করা নিয়ে কথা হচ্ছিল। কাওয়াকের সেই দাদির কথা । কি অসম্ভব রকমের পরহেজগার একজন মহিলা।দিনে নয় ওয়াক্ত নামাজ পড়ে রেগুলার ,অথচ ! কি যন্ত্রণার মধ্যে দিয়েই না সে দিন যাপন করছে। নিজের ছেলের ঘরে বান্দির মেয়ের মত খেটে তিনবেলা খাবার পায় না। অথচ এই সমাজে কত শত জীবকে সৃষ্টিকর্তা দিব্যি সুখে রেখেছেন। আমিও ছেরে দিছি । ধর্ম কর্ম আর ভালো লাগেনা । অবশ্য ধর্ম পালন নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে , হুর পরির জন্য ধর্ম পালন আর নিজের আত্মার প্রশান্তির জন্যে ধর্ম পালন ভিন্ন জিনিষ ।

ঈদের সন্ধ্যা ।

থাঙ্কস গড ! সুন্দর একটা ঈদ দেয়ার জন্য । সুন্দর ! হ্যা সুন্দরই বলবো এ রকম ঈদ কাটানো কয়জনের সৌভাগ্য হয় । মোবাইলের সুইচ অফ করে রাখছি । মানুষের সাথে অভিনয় করতে আর ভালো লাগেনা । ছোটবোন বলছিল কুরাবানির ঈদের চাইতে রমজানের ঈদ ভাল অন্তত দুঃখটা এতো তীব্রভাবে অনুভুত হয়না । ঈদ যেমনি কাটুক এতটা বেদনানুভুতি তো জাগ্রত হয় না । এখন পর্যন্ত মাংসের চেহারা দেখার সৌভাগ্য হয়নি ।

প্রচণ্ড রাগ, হতাশা, ঈর্ষা সব কিছু একসাথে হচ্ছে । সৃষ্টিকর্তার প্রতি অভিমান , প্রচণ্ড অভিমান হচ্ছে। তিনি আছেন কি নেই সে বিতর্ক পরে ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×