শুক্রবার , সন্ধ্যা ।
কালকে ঈদ। ঈদুল আযহা । ঈদ অর্থ হল আনন্দ । ঈদের অর্থ নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ঈদ সবার জন্য আনন্দদায়ক না। কারো কারো জন্য দুংখের। শুধু দুঃখের বললে ভুল হবে, প্রচন্ড দুঃখের ও কষ্টের । এতে অবশ্য কারো কিছু আসে যায় না । এই সৃষ্টিজগতের সব কিছুই সবার জন্য না। কাজেই এ থেকে শুধু মাত্র ঈদের আনন্দ টাই বা বাদ যাবে কেন? সেদিন প্রথম আলোর ছুটির দিনে একটা লেখা পড়লাম। বাবা মারা যাবার কারনে ছেলেটার ফ্যামিলিতে যে পরিস্থিতি আমাদের বাবা থাকা অবস্থায় তার চাইতেও করুণ । আহ !সেই দিনকার কথা , সারা বছরেও মাংসের সাথে কোন সময় পরিচয় ঘটেনি। তা মুরগি হোক আর গরুর মাংসই হোক । সেই কুরবানির ঈদের জন্য অপেক্ষা করতাম । সমাজের ভাগের অংশ । এত টুকুই ছিল সারা বছরের মাংস খাওয়া ।
বাসায় কেমন যেন থমথমে একটা পরিবেশ বিরাজ করছে । এটা বজায় থাকবে আগামিকাল সমাজের মাংস বাসায় না আসা পর্যন্ত । বাসায় এতো গুলো মানুষ অথচ ঈদের বাজার করার মত এক হাজার টাকা কারো কাছে নেই । আচ্ছা ঈদ জদি না থাকতো তাহলে মনে হয় ভালো হত অন্তত আজকে যে কষ্টটা পাচ্ছি তা পেতাম না । বাপ্পি একটু আগে এসএমএস দিছে , গতবার ঈদ টা ভালো যায়নি (ফাহিমের অসুস্থতার জন্য ) এবার ভালো ভাবে কাটাবি । কিন্তু দোস্ত তুই তো জানোস না আমার প্রতি টা ঈদ এমন ভাবেই কাটে । কাউকে কিছু বলতে পারিনা লজ্জা ও অপমানের ভয়ে । গতবার তাও হাসপাতালে কাটছে । ভালোই কাটছে মন্দ না ।
ফেসবুক, ব্লগে মাঝে মাঝে প্রাইভেট-পাব্লিক ভার্সিটি নিয়ে বিতর্ক উঠে । আমার মাঝে মাঝে ক্যাচাল করতে ইচ্ছে হয় । কিন্তু শেষ পর্যন্ত উৎসাহ থাকেনা । কাদের সাথে ক্যাচাল করবো? যাদের বাসার জার্মান শেফার্ড একদিনে যে মাংস খায় বছরের ৩৬৫ দিনেও তা পাবার সৌভাগ্য আমাদের হয়নি । ক্লাস নাইনে থাকার সময় বাবা প্রাইভেট পড়ার টাকা দিতে পারবেনা সেই ভয়ে বিজ্ঞান শাখা থেকে মানবিক শাখায় আসছিলাম । ধারনা ছিল এখানে প্রাইভেট পড়ার মত ঝামেলা ছারাই ভালো রেসাল্ট করা যায় । বাসায় তিন তিনটা টিউটর রেখে যারা স্কুল লাইফ পার করছে তারা এখন আমাদের মত পাব্লিকের স্টুডেন্ট দের বলে ফকিন্নি । হুম ফকিন্নিই তো । ফকিন্নির পোলারা ফকিন্নি ইউনিতে ফকিন্নি সাবজেক্টে পড়ি । ঢাবি-বুয়েটের তিন তিনটা টিউটরের কাছে পড়ে বড় হয়ে যখন নর্থসাউথ বা এআইউবিতে অ্যাডমিশন নেয় তখন বলে ঢাবির চাইতে আমাদের এনএসউ এর বাথরুম নীট অ্যান্ড ক্লিন। আর বুয়েটের পোলারা পারেই শুধু ভাব নিতে আর কি বাল জানে তারা ।
সমাজের উচ্চবিত্তের প্রতি অসম্ভব রকমের ঘৃণা বা বিতৃষ্ণা আছে । ধনবান নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে পাওয়া লাঞ্ছনা আর অবহেলাই এই ঘৃণার জন্ম দিয়েছে ।
সকালে মা’র সাথে ধর্ম পালন করা নিয়ে কথা হচ্ছিল। কাওয়াকের সেই দাদির কথা । কি অসম্ভব রকমের পরহেজগার একজন মহিলা।দিনে নয় ওয়াক্ত নামাজ পড়ে রেগুলার ,অথচ ! কি যন্ত্রণার মধ্যে দিয়েই না সে দিন যাপন করছে। নিজের ছেলের ঘরে বান্দির মেয়ের মত খেটে তিনবেলা খাবার পায় না। অথচ এই সমাজে কত শত জীবকে সৃষ্টিকর্তা দিব্যি সুখে রেখেছেন। আমিও ছেরে দিছি । ধর্ম কর্ম আর ভালো লাগেনা । অবশ্য ধর্ম পালন নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে , হুর পরির জন্য ধর্ম পালন আর নিজের আত্মার প্রশান্তির জন্যে ধর্ম পালন ভিন্ন জিনিষ ।
ঈদের সন্ধ্যা ।
থাঙ্কস গড ! সুন্দর একটা ঈদ দেয়ার জন্য । সুন্দর ! হ্যা সুন্দরই বলবো এ রকম ঈদ কাটানো কয়জনের সৌভাগ্য হয় । মোবাইলের সুইচ অফ করে রাখছি । মানুষের সাথে অভিনয় করতে আর ভালো লাগেনা । ছোটবোন বলছিল কুরাবানির ঈদের চাইতে রমজানের ঈদ ভাল অন্তত দুঃখটা এতো তীব্রভাবে অনুভুত হয়না । ঈদ যেমনি কাটুক এতটা বেদনানুভুতি তো জাগ্রত হয় না । এখন পর্যন্ত মাংসের চেহারা দেখার সৌভাগ্য হয়নি ।
প্রচণ্ড রাগ, হতাশা, ঈর্ষা সব কিছু একসাথে হচ্ছে । সৃষ্টিকর্তার প্রতি অভিমান , প্রচণ্ড অভিমান হচ্ছে। তিনি আছেন কি নেই সে বিতর্ক পরে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

