গাড়ির সামনের সিটে ইত্তেফাকের শফিক ভাই। কুমিল্লার পথে গাড়ি। হঠাত দেখি শফিক ভাই গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভারকে বাইরে উঠবস করাচ্ছেন। জানলাম যে ড্রাইভার ঘুমাচ্ছিল। তারও তেমন দোষ ছিল না। সারারাত চট্টগ্রাম থেকে ফিরতেই আবার আমাদের সঙ্গে দিয়ে দিয়েছে তাকে। সারারাত না ঘুমাতে পারলে গাড়িতে তো ঘুমাবেই।
সিলেটে আমরা উঠলাম সার্কিট হাইজে। উপধ্য আবদুস শহিদের এলাকা। সারাদিন একর পর নির্বাচনী সভা যখন শেষ তখন রাত প্রায় ৯ টা। তখন ই-মেইল ছিল না। হাতে লিখে ফ্যাক্স করতে হতো। নিউজ দিয়ে সার্কিট হাউজে ফিরতে ফিরতে রাত ১২-১টা। খাওয়া নেই। শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে ছিল প্রায় ২০ জনের মতো পুলিশ। তারা থাকা মানেই খাওয়া আর পাওয়া যাবে না। মুহূর্তের মধ্যে টেবিলে ঝাপিয়ে পড়া আমি ঐবারই প্রথম দেখেছিলাম।
বাইরে রেস্তোরায় খেয়ে গেলাম আমাদের জন্য নির্ধারিত গেস্ট হাইজে। তখন রাত ২টা। কথা ছিল বড় গেস্ট হাইজের এক রুমে থাকবেন শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও সাবেক সচিব মির্জা জলিল। আমরা প্রায় আধ ঘন্টা ধাক্কিয়েও দরজা খুলাতে পারলাম না। নেতারা নাক ঢাকিয়ে ঘুমালেন। আর আমরা ১৭ সাংবাদিক, সঙ্গে শেখ হাসিনার পরে লোক মৃনাল দা। যার দায়িত্ব আমাদের দেখভাল করা। রাত ৩টায় একটা হোটেল খুঁজে বের করে এর রুমে থাকলাম ১৭জন।
পরেরদিন অনেক সকালে, শেখ হাসিনা বের হওয়ার আগেই সবাই হাজির হলাম তার রুমের সামনে। সুলতার মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ কিছুতেই নালিশ জানাতে দেবেন না, কিন্তু আমরা যাবোই। সেসময়ের ভোরের কাগজের প্রণবদা ও জনকেণ্ঠের ওবায়েদের নেতৃত্বে আমারা তার রুমে গেলাম, জানালাম সব কিছু। সাংবাদিকদের দেখভাল করার মূল দায়িত্বে ছিলেন অসীম কুমার উকিল। বিশাল ঝাড়ি দেওয়া হল। শেখ হাসিনা আমাদের সবাইকে বসিয়ে নিজের হাতে খাওয়ালেন। এর পর থেকে তিন বেলা তিনি নিজে আমাদের খবর নিয়েছেন, খাইয়েছেন। আমরা ভাল গাড়িও পেলাম।
সিলেট থেকে অ্যারো বেঙ্গলের প্লেনে করে গেলাম রাজশাহীতে। ছোট প্লেন। ঢাকায় ফেরার সময় প্লেনে শেখ হাসিনা তার সব সফর সঙ্গীদের বাদ দিয়ে শুধু সাংবাদিকদের নিয়ে ঢাকায় ফিরলেন। প্লেনে ছিলাম সব সাংবাদিক আর তিনি। অনেক ধরণের গল্প করেছিলেন মনে আছে আমার।
আবার আমি নির্বাচনী সফরে যাই ২০০১ সালে। এবার চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে সড়ক পথে নোয়াখালী-ফেনী হয়ে ঢাকা। তিনদিন ছিলাম সেবার। একবারও কথা বলা যায়নি শেখ হাসিনার সঙ্গে। সব সময়ই এসএসএফ পরিবেষ্টিত। আইন করে তিনি নিরাপত্তা নিয়েছেন। মঞ্চের ৩শ গজের মধ্যে কারোই প্রবেশ নিষেধ। মঞ্চে যেতে শেখ হাসিনার জন্য আলাদা রাস্তা। আমরা একবারের জন্যও শেখ হাসিনার কাছাকাছি যেতে পারিনি সেবার। আর সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা। পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন তখন শেখ হাসিনা। জনবিচ্ছিন্ন হলে যে নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায়না তা কে না জানে।
সেই শেখ হাসিনা আবার জনবিচ্ছিন্ন। সাবজেলে। এই জনবিচ্ছিন্নতা এবার চাপিয়ে দেওয়া। কি হবে কে জানে?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


