"বৃষ্টি ভেজা তোমার চলে যাওয়া"
বৃষ্টিটা বেশ জোরেই হচ্ছিল। মনে হচ্ছে আকাশ যেন আজ কেঁদে ভাসাবে।
আমি নিশ্চিত যে আমায় ভিজতেই হবে। জোড়াতালির এই কপালে রিক্সা আমার জুটবে না। কিন্তু বিস্ফোরিত চোখে একটা রিক্সা আসতে দেখে যার পর নাই অবাক হলাম। আমার ভাগ্যের বিরোধী দলীয় নেতা মিঃ বিধাতা যে আজ প্রসন্ন চিত্তে এত সহজে আমায় রিক্সা পাইয়ে দেবে তা আমার চিন্তার ও অতীত ছিল।
যা হোক বেশ উৎফুল্ল মনেই রিক্সায় চড়লাম। আর সাথে সাথে মেঘ বাবাজি সজোরে চিল্লানি দিল আর তার সাথে বিদ্যুৎ মহাশয়ের অটো ফ্লাস।
কিছুদূর যেতেই দেখলাম অনতিদূরে এক অতিমাত্রায় সুন্দরী তরুণী ছাতা হাতে বৃষ্টির বিরুদ্ধে বৃথা লড়াই করে চলেছে। প্রায় পুরোটাই ভিজে গেছে। বাতাসে চুলগুলো উড়ছে আর মেয়েটা এক হাতে ছাতা সামলাচ্ছে আর অন্য হাতে কামিজ। পুরোই বেসামাল অবস্থা। যদিও আমার বেশ খারাপ লাগছিল মেয়েটির জন্য কিন্তু আশেপাশ উৎসুক লোকের লুল দৃষ্টিভঙ্গী আসলেই বিব্রতকর।
আরও একটু কাছে আসতেই আমি পুরা টাসকিত। এ যে নীলা! ওয়ান এন অনলি নীলাঞ্জনা। আমার ক্লাস মেট।
আসলে নীলা অনেক চুপচাপ একটা মেয়ে। আমি ওর নাম দিয়েছি রাজকণ্যা। তীক্ষ্ণ মর্মভেদী দৃষ্টি আর ভুবন ভোলানো মোহিনী হাসি। মেয়েটি আসলেই অসাধারণ। সত্যি বলতে মেয়েটির জন্য বুকের গভীরে এক ধরনের অজানা অনুভূতি হয়। যতবারই দেখি নিজেকে আরও বেশি করে যেন হারিয়ে ফেলি ওর চোখের গভীরে। জানি না এটা কি? ভালোবাসা নাকি শুধুই ভালোলাগা?
আর আজ সেই নীলা বৃষ্টিতে হেঁটে যাচ্ছে। আমার রাজকণ্যা একাকী ভিজতে ভিজতে। আমার বুকের মধ্যে হৃদপিন্ডটা বিপ্লবী হয়ে ওঠে। আমার আরাধ্য দেবী অসহায়ের মতো ভিজে যাবে আর আমি বাংলার শেষ নবাবের মতো রিক্সায়। কাভি নেহি।
রিক্সাচালক মামারে বললাম মামা রিক্সা ঘুরায়ে ঐ মেয়েটার সামনে নিয়া রাখেন তো।
রিক্সাচালক মামা মুখে ঘোৎ করে একটা শব্দ করে রিক্সা ঘুরিয়ে একেবারে নীলার সামনে বলিউড স্টাইলে ব্রেক কসলো।
আমি রিক্সার ভেতর থেকেই মুখ বাড়িয়ে বললাল, "নীলা উঠে আসো। অনেক বৃষ্টি হচ্ছে। ভিজে যাবে"।
নীলা যেন একটু দ্বিদ্ধা করছিল।মনে হয় আমার সাথে রিক্সায় ওঠাটা ওর পছন্দ হচ্ছিল না। বিষয়টা বুঝতে পেরে ঐ নিদারুন বরষার মধ্যে রিক্সা থেকে নেমে ওকে বল্লাম এবার ঠিক আছে??
একটু হেসে বলল 'হুম'।
এরপর? এরপর আর কি?
আমার চোখের সামনে দিয়েই নীলার রিক্সায় প্রস্থান। আর আমি ভরা বর্ষার মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে।
আচ্ছা ছাতাটাও কি জুটতে পারতো না কপালে।
আড়চোখে আকাশপানে চাইলাম।
বিরোধী দলীয় নেতার কটাহ্মের হাসিটা বড় বেশি কানে বাজতে লাগল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


