![]()
১৯৭১। মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা।
প্রতিটি মুহূর্ত। বেঁচে থাকার আকুলতা। প্রিয়জনের সামনেই হারিয়ে যাওয়া।
আজও আমরা পরাধীন। না কোন বহির্শত্রুর কাছে নয়। আমরা পরাধীন ধর্মের কাছে, কতিপয় অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারায় মানবতার চেতনা বিবর্জিত মানুষের কাছে। না আমি মনে হয় ভুল বললাম। হ্যাঁ আমি ভুলই বলেছি। ওরা মানুষ না। ওরা সেই সব হায়নাদের প্রবর্তিত কিছু কু-চিন্তা। যা সেই ৭১ থেকেই লালিত হচ্ছিল মানুষরূপী কিছু অমানুষের হৃদয়ে। দুঃখিত, আমি আবারও ভুল বলেছি ওদের হৃদয় বলে কিছু নেই। ওরা হৃদয়হীন, ওরা যন্ত্রমানব। কিন্তু হায় সেখানেও প্রোগ্রামিং সমস্যা। যার চিহ্ন রেখেগেছে অভিজিৎ দা।
![]()
অভিজিৎ রায় এর নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শীদের কথাঃ
//ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, হামলার পর অভিজিৎ ও তাঁর স্ত্রী ঘটনাস্থলে পড়ে কাতরালেও কেউ হাসপাতালে নেওয়ার আগ্রহ দেখাননি।//
//প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে বলছেন, ঘটনাস্থল ও এর আশপাশে অস্ত্র হাতে পুলিশ সদস্যরা থাকলেও তাঁরা ছিলেন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। হামলাকারীদের ধাওয়াও করেননি তাঁরা।//
//অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অজয় কুমার রায় ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘পুলিশ হয়তো আমার ছেলের খুন ঠেকাতে পারত না। কিন্তু পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে না থেকে তারা তো খুনিদের ধরতে পারত।’//
ধীক্কার। সেই সব মানুষের প্রতি যারা শুধু উপভোগ করতে জানে। প্রতিবাদ নয়।
আজ আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? আমরা কি নিরাপদ? আমাদের প্রিয় মানুষেরা, আমাদের পরিবার কি বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকারটুকুও হারিয়ে ফেলেছে? কিন্তু যদি হারাই তবে কেন? কি দোষ আমাদের? কি দোষ এ দেশবাসীর? আমার এই প্রশ্নগুলো আজ প্রতিটি বাংলা ভাষাভাষীর প্রশ্ন। প্রতিটি দেশবাসীর প্রশ্ন।
সরকার। শব্দটি কি শুধুই ক্ষমতা কিংবা গদি এটে বসে থাকা। টাকার পাহাড় গড়া। নাকি আন্দোলনের নামে দেশকে পঙ্গু করে রাখা। আমাদের দেশের দুই প্রধান ক্ষমতাশীল দলদুটি যদি নিজেদের উদরপূর্তির জন্য ব্যস্ত থাকে তবে এ তো হবেই। একজন রাজীব, অভিজিৎ নয় সত্যের পথে থাকা প্রতিটি কলম থেমে যাবে। থামিয়ে দেওয়া হবে।
বাকস্বাধীনতা কথাটি প্রায়শই দেখেছি শুনছি। আরে কথা বলার জন্যইতো আমরা প্রাণ দিয়েছিলাম। বুক পেতে দিয়েছিলাম উত্তপ্ত বুলেটের সামনে। বারুদের পোড়া গন্ধে পরিশুদ্ধ করেছিলাম আমাদের বাংলাকে। কিন্তু করে কি হলো। সেই ভাষার মাসেই প্রাণ দিতে হলো 'অভিজিৎ' কে।এটা কি? কিসের দিক আঙ্গুল তুলছে? নতুন করে পরাধীন হচ্ছি কি আমরা।
যদি দেশকে ভালোবেসে থাকো হে বাঙালী, আবারো সময় এসেছে। অস্ত্র ধরো। তবে এবার গ্রেনেড কিংবা রাইফেল নয়। অস্ত্র হোক কলম। কিন্তু ক্ষেত্র শুধু ব্লগ নয়, নয় শুধু ফেসবুক। লেখার সাদা পৃষ্ঠা হোক দেশের প্রতিটি দেওয়াল। আর কোন সাগর রুনী কে হারাতে চাই না। হারাতে চাই না কোন রাজীবকে কোন অভিজিৎকে।
আজ যদি আমরা মুখোমুখি না হই এই অপশক্তির। যদি কটাক্ষের চোখে সরকারকে জানিয়ে না দেই "এটা আমার দেশ আমাদের দেশ এখানে স্বার্থ নিয়ে টিকে থাকা যাবে না। জনগণ সরকারকে যেমন সিংহাসনে বসিয়েছে ঠিক তেমনি টেনে হিঁচড়ে নামাতেও পারে। সে তুমি বঙ্গবন্ধু কন্যা হও কিংবা জিয়া পত্নী। তবে এ দেশ বুদ্ধিজীবী শূন্য হয়ে যাবে। সোনার বাংলা হারিয়ে ফেলবে তার প্রিয় সন্তানদের। যারা দেশকে ভালোবাসে ধর্মকে নয়, মানুষকে ভালোবাসে সাম্প্রদায়িকতাকে নয়।
মৌলবাদী। ধর্মান্ধতা।
ষোল কোটি মানুষ আমরা। ৯০ শতাংশ মুসলিম। কিভাবে ধর্মীয় ভেদাভেদ হয়। আরে ক্ষমতাই সব ধ্বংসের উৎস। ক্ষমতা কেড়ে নাও। সব মৌলবাদী হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে।
তাই গর্জে ওঠো বাঙালী। নিজের জন্য নিজের দেশের জন্য নিজের ভাষার জন্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


