somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঙালীর চেতনায় আর একটি ছুরিকাঘাত। তবু কেন এই মৌনতা!! কোন এই নীরবতা!!

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১৯৭১। মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা।
প্রতিটি মুহূর্ত। বেঁচে থাকার আকুলতা। প্রিয়জনের সামনেই হারিয়ে যাওয়া।

আজও আমরা পরাধীন। না কোন বহির্শত্রুর কাছে নয়। আমরা পরাধীন ধর্মের কাছে, কতিপয় অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারায় মানবতার চেতনা বিবর্জিত মানুষের কাছে। না আমি মনে হয় ভুল বললাম। হ্যাঁ আমি ভুলই বলেছি। ওরা মানুষ না। ওরা সেই সব হায়নাদের প্রবর্তিত কিছু কু-চিন্তা। যা সেই ৭১ থেকেই লালিত হচ্ছিল মানুষরূপী কিছু অমানুষের হৃদয়ে। দুঃখিত, আমি আবারও ভুল বলেছি ওদের হৃদয় বলে কিছু নেই। ওরা হৃদয়হীন, ওরা যন্ত্রমানব। কিন্তু হায় সেখানেও প্রোগ্রামিং সমস্যা। যার চিহ্ন রেখেগেছে অভিজিৎ দা।



অভিজিৎ রায় এর নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শীদের কথাঃ

//ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, হামলার পর অভিজিৎ ও তাঁর স্ত্রী ঘটনাস্থলে পড়ে কাতরালেও কেউ হাসপাতালে নেওয়ার আগ্রহ দেখাননি।//

//প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে বলছেন, ঘটনাস্থল ও এর আশপাশে অস্ত্র হাতে পুলিশ সদস্যরা থাকলেও তাঁরা ছিলেন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। হামলাকারীদের ধাওয়াও করেননি তাঁরা।//

//অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অজয় কুমার রায় ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘পুলিশ হয়তো আমার ছেলের খুন ঠেকাতে পারত না। কিন্তু পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে না থেকে তারা তো খুনিদের ধরতে পারত।’//

ধীক্কার। সেই সব মানুষের প্রতি যারা শুধু উপভোগ করতে জানে। প্রতিবাদ নয়।

আজ আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? আমরা কি নিরাপদ? আমাদের প্রিয় মানুষেরা, আমাদের পরিবার কি বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকারটুকুও হারিয়ে ফেলেছে? কিন্তু যদি হারাই তবে কেন? কি দোষ আমাদের? কি দোষ এ দেশবাসীর? আমার এই প্রশ্নগুলো আজ প্রতিটি বাংলা ভাষাভাষীর প্রশ্ন। প্রতিটি দেশবাসীর প্রশ্ন।

সরকার। শব্দটি কি শুধুই ক্ষমতা কিংবা গদি এটে বসে থাকা। টাকার পাহাড় গড়া। নাকি আন্দোলনের নামে দেশকে পঙ্গু করে রাখা। আমাদের দেশের দুই প্রধান ক্ষমতাশীল দলদুটি যদি নিজেদের উদরপূর্তির জন্য ব্যস্ত থাকে তবে এ তো হবেই। একজন রাজীব, অভিজিৎ নয় সত্যের পথে থাকা প্রতিটি কলম থেমে যাবে। থামিয়ে দেওয়া হবে।

বাকস্বাধীনতা কথাটি প্রায়শই দেখেছি শুনছি। আরে কথা বলার জন্যইতো আমরা প্রাণ দিয়েছিলাম। বুক পেতে দিয়েছিলাম উত্তপ্ত বুলেটের সামনে। বারুদের পোড়া গন্ধে পরিশুদ্ধ করেছিলাম আমাদের বাংলাকে। কিন্তু করে কি হলো। সেই ভাষার মাসেই প্রাণ দিতে হলো 'অভিজিৎ' কে।এটা কি? কিসের দিক আঙ্গুল তুলছে? নতুন করে পরাধীন হচ্ছি কি আমরা।

যদি দেশকে ভালোবেসে থাকো হে বাঙালী, আবারো সময় এসেছে। অস্ত্র ধরো। তবে এবার গ্রেনেড কিংবা রাইফেল নয়। অস্ত্র হোক কলম। কিন্তু ক্ষেত্র শুধু ব্লগ নয়, নয় শুধু ফেসবুক। লেখার সাদা পৃষ্ঠা হোক দেশের প্রতিটি দেওয়াল। আর কোন সাগর রুনী কে হারাতে চাই না। হারাতে চাই না কোন রাজীবকে কোন অভিজিৎকে।

আজ যদি আমরা মুখোমুখি না হই এই অপশক্তির। যদি কটাক্ষের চোখে সরকারকে জানিয়ে না দেই "এটা আমার দেশ আমাদের দেশ এখানে স্বার্থ নিয়ে টিকে থাকা যাবে না। জনগণ সরকারকে যেমন সিংহাসনে বসিয়েছে ঠিক তেমনি টেনে হিঁচড়ে নামাতেও পারে। সে তুমি বঙ্গবন্ধু কন্যা হও কিংবা জিয়া পত্নী। তবে এ দেশ বুদ্ধিজীবী শূন্য হয়ে যাবে। সোনার বাংলা হারিয়ে ফেলবে তার প্রিয় সন্তানদের। যারা দেশকে ভালোবাসে ধর্মকে নয়, মানুষকে ভালোবাসে সাম্প্রদায়িকতাকে নয়।

মৌলবাদী। ধর্মান্ধতা।
ষোল কোটি মানুষ আমরা। ৯০ শতাংশ মুসলিম। কিভাবে ধর্মীয় ভেদাভেদ হয়। আরে ক্ষমতাই সব ধ্বংসের উৎস। ক্ষমতা কেড়ে নাও। সব মৌলবাদী হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে।

তাই গর্জে ওঠো বাঙালী। নিজের জন্য নিজের দেশের জন্য নিজের ভাষার জন্য।
২৭টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদির আকাশে সংঘাতের কালো মেঘ আর প্রবাসীদের পুরনো বন্দিদশা: আমাদের শ্রমবাজারের নতুন সংকট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৮

বাইরে যুদ্ধাবস্থা, রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হুতিদের লাগাতার ড্রাফট-মিসাইল হামলা, আর অন্যদিকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো একে একে বাতিল বা স্থগিত—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে আবারও এক মারাত্মক অন্ধকারের ছায়া নেমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×