somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ অনুভব

১৫ ই অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবন নিয়ে বড্ড সিরিয়াস সাব্বির। নো হাঙ্কি পাঙ্কি, নিজের ইচ্ছে মত বাঁচো আর মাঝে মাঝে পড়াশোনা কর। এই দর্শন নিয়ে ছাত্র জীবন কাটিয়েছে। দেখতে দেখতে সেই ছাত্র জীবন শেষ করে কর্ম জীবনে প্রবেশের সময়। চিরায়ত প্রথার মত খুলনা থেকে সাব্বিরের ঢাকায় আগমন। নিষ্ঠুর এই ঢাকা শহরে যখন টিকে থাকা দায়, সাব্বির যেন দেখলো আশীর্বাদ হয়ে আসছে তার ঢাকা জীবন। দেশের এক নামকরা কোম্পানি তাঁকে স্টার্টিং ৪০ হাজার বেতনে নিয়ে ফেললো। হুজুগে চাকরিটা হয়ে গেলো কিনা এই ভাবতে ভাবতে তিনমাস পর যখন পরিচালক পক্ষে থেকে চিঠি চলেই আসলো, " Mr. Sabbir, You are one of the most talented persons in our company. After one year we will increase your salary to 60% rate with accommodation facility. Hope you will continue with us"।

এই অবস্থা যে কোন বাঙ্গালী পুরুষ ভাবে যে ভবিষ্যৎ নিশ্চিত। আর বাসা থেকে চাপ আসে জীবনে আরেকজন কে নিয়ে আসার। সাব্বির এর লাইফেও ব্যতিক্রম ঘটলো না। সেই সাথে পরিবার থেকে বলা হল, "নিজের পছন্দ মত একজন কে বেছে নে"। এইবার ধরা খেলে সাব্বির। জীবনে পছন্দ করে... ভাবতেই পারছে না সে। স্নিগ্ধ বাতাসে ভরা এক সন্ধ্যায় কফির কাপ হাতে নিয়ে জীবনের ডায়েরি উল্টাতে থাকলো। কেউ কেউ এসেছিল ক্ষণিকের জন্য, কেউ নাড়া দিয়ে চলে গেছে। যার প্রতি আকর্ষণ ছিল সে তো হারিয়ে গেছে কালের অতল গহ্বরে।

ঢাকায় সাব্বিরের এক চাচা থাকেন। সেই চাচা মেডিকেল ভর্তি। চাচা কে দেখতে গেল সাব্বির। কে জানতো এই দেখতে যাওয়া ওলট পালট করে দিবে সব। চাচার অবস্থা মোটামুটি, কিন্তু ডাক্তার বলেছেন কিছুদিন ওয়েট করতে। সাব্বির যেয়ে দেখে চাচার বেড থেকে একটু দূরে এক লাস্যময়ী নারী বসে আছে। প্রথমে খেয়াল না করলেও কিছুক্ষণ পর খালি ওর দিকে চোখ সাব্বিরের। কে এই মেয়ে? এই ভাবতে ভাবতে চাচার কাছ হতে বিদায় নিয়ে ফেললো সেদিনকার মত।

পরের দিন বিকেলে অফিস থেকে আবার হাসপাতালে ছুট সাব্বিরের। চাচার প্রতি ভালোবাসা নাকি কোন মোহ কে জানে? আজও সেই মেয়ে দাঁড়িয়ে। একটু দূরে অবশ্য।
- আপনি কি চাচার কেউ হন?
- জি আপনার চাচা আমার খালু হন।
- ও আচ্ছা আমার নাম সাব্বির। আপনি?
- বললাম না আপনার চাচা আমার খালু হন।
- না না, আপনার নাম আর কি...
- ও, আমার নাম চৈতি।
- থাকেন যায়

আর কথা না বাড়িয়ে বাড়ির দিকে পা বাড়ালো সাব্বির। সমস্যা হল যে সাব্বিরের কণ্ঠ দিয়ে বেড়িয়ে আসছে, " Ek ladki ko dekha to aisa laga/Jaise khilta gulaab/Jaise shaayar ka khwaab/Jaise ujli kiran... "

বিকেল করে হাসপাতালে ঢু মারতে থাকলো সাব্বির। এরই মধ্যে চৈতি সম্বন্ধে মোটামুটি খোঁজ লাগিয়ে ফেললো সাব্বির, মেয়ে বিবিএ ফাইনাল ইয়ার। মোটামুটি ভদ্র। চাচীর কল্যাণে জেনে ফেলল চমৎকার মুরগির মাংস রাঁধে সে। সুযোগ পেলেই অপলক চোখে তাকিয়ে থাকতো। এই মেয়ে কেমন জানি একা একা। চুপ করে বসে আছে। চাচার কিছু লাগলে এগিয়ে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে। সে সময় সূর্যের আলো মেয়েটার মুখে এসে পরে। এক অপরূপ দৃশ্য! আর অজান্তেই সাব্বিরের কণ্ঠ দিয়ে বের হয় আসে, " Ek ladki ko dekha..."। ইচ্ছে হয় মেয়েটার সাথে গল্প করতে। নরমাল গল্প গুজব। কিন্তু হয়ে উঠে না।

আজ চাচার রিলিজ। সাব্বির আজকেও এসেছে। ফর্মালিটিস গুলো ঐ পূরণ করছে। যাওয়ার পথে চৈতি ডেকে বলল,
- সাব্বির সাহেব শুনেন
- বলো মানে বলেন চৈতি
-আপনি তো একদিন কথা বলে আর বললেন না
- না আপনি যদি কিছু মনে করেন
মুচকি একটা হেসে চৈতি বলল, " আপনার সবই ভাল বুঝলেন, খালি বেসুরে গলায় হিন্দি গানটা গাইবেন না আর। বলে রাখি কথা বলতে আসলে কিছু মনে করতাম না। যাই হোক দেখা হবে আবার, বাসায় বেড়াতে আসবেন।"।

হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজের হাতে একটা লাল গোলাপ না থাকার অভাব টা অনুভব করল সাব্বির।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×