somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওলট-পালট।।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন থেকেই উলটাপালটা কিছু চিন্তাভাবনা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। রাখার কোনো পাত্র পাচ্ছিলামনা। আজকে উগরে দিলাম ।।
আমার দৃষ্টিতে, স্কুল লাইফে আমি পড়াশোনায় সবচেয়ে ভালো ছিলাম। কলেজে কোনো মতে সামলে নিয়েছি। আর এখনের কথা নাই বা বললাম।সেটাই কেন হলো তাই ধরার চেষ্টা করছিলাম। ভেবেদেখলাম , স্কুলে আমি সবচেয়ে বেশী চঞ্চল ছিলাম। জীবনেও একটা ক্লাস মনোযোগ দিয়ে করিনি।ক্লাসে বসে খালি ইতরামী করতাম, নয়তো অন্য পড়া পড়তাম।বাসায় এসে আমার সাথে ইতরামী করার কোনো সঙ্গী পেতাম না । বাধ্য হয়ে পড়তে বসতে হতো।এভাবেই উতরে গেছি।
কলেজে গিয়ে একেবারে আলাদা হয়ে গেলাম,সরকারি কলেজ। বান্ধবীরা কেউ ক্লাসেই আসেনা।ক্লাসই আমার ঘিড়িংগাবাজী করার একমাত্র জায়গা।তাই ক্লাস করা ছাড়তে পারলামনা। আমি চলে গেলাম দুর্ভাগ্যবানদের দলে, যাদের বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড বা আড্ডা মারার সঙ্গীসাথী নাই।নিরুপায় হয়ে আমি তখন, যথাসম্ভব মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করি, ক্লাস নোট তুলি।স্যার ম্যাডামদের চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে আমার সাথে কেউ ইতরামী করতে আসেনা। আমিও উৎসাহ পাইনা তেমন। নীরবে নিশ্চুপে জ্ঞান আহরণ করি। কলেজে তো সেইরকম হারে প্রাইভেট পড়তে হত।সেখানে অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর । পয়সা দিয়ে পড়তে এসে ঘিড়িংগাবাজী করার মত দুঃসাহস কে দেখায়? সেখানে আমি প্রায় ভাবলেশহীন হয়েই স্যারদের লেকচার শুনে যেতাম। কোনো দিনই মাথায় কিছু ঢূকাতে পারিনি।ভাগ্যক্রমে ম্যাথ আর ইংলিশটা পছন্দ হয়েছিল। সেটাই আমাকে ্পরে প্রাণে বাচিয়ে দিয়েছে।তবে কখোনোই সদা ইতরামী করার জন্য আকুপাকু করা আমার মন কোনো কিছুতেই মনোযোগ বসাতে পারেনি। টেস্টপরীক্ষার পর দেখলাম রেজাল্ট বিপর্যয়।কোথাও ভর্তি হতে না পারার যতটূকু ভয় পেলাম তারচেয়েও বেশী ভয় পেলাম প্রাণহীনভাবে আরও কয়েকটি বছর এখানেই থেকে ভাবলেশহীন ভাবে পরে থাকাকে।তখন,আনন্দ উচ্ছ্বাসে পরিপুর্ণ বুয়েট লাইফ আমাকে হাতছানী দিয়ে ডাকল।(আমার ভাই , আর আমার মায়ের ভাই এরা বুয়েটিয়ান ছিল।আর তাদের জীবনযাপন প্রক্রিয়া আমার বিশাল আগ্রহের বস্তু ছিল।সেখান থেকেই বুয়েট সম্পর্কে ধারণা পাই) । কোমর বেধে পড়তে লেগে গেলাম। হোস্টেলজীবনের কষ্ট , অত্যধিক মেধাবীদের মধ্যে একাকীত্ব, হতাশা সব কিছু সহ্য করে বুয়েটের স্বপ্ন দেখতেই থাকলাম। স্বপ্ন সত্যি হয়। আমারটাও হলো।
আরো বিশাল স্বপ্ন আর আশা নিয়ে বুয়েট লাইফের যাত্রা শুরু করলাম। পড়াশোনা থাকবে জানতাম, পড়াশোনার চাপ থাকবে এটাও জানতাম। সবজায়গায়ই থাকবে তাই এটা মেনেই নিয়েছিলাম। তবে ধারণা ছিল , বুয়েট হবে ভিন্ন। বাংলাদেশের সব মেধাবীরা যেখানে পড়াশোনা করবে সেখানে নিশ্চই পড়াশোনার পদ্ধতি হবে উন্নত। অনেক কঠিন কঠিন পড়াও এখানে নির্মল আনন্দ দেবে আমাকে। জোর করে আর পড়তে হবে না। আমি ইতরামী করব আর পড়ব । মহাসুখে জীবন কাটাবো।
কিছুদিনের মধ্যেই টের পেলাম পড়াশোনা পড়াশোনাই। একে আনন্দময় করার কোনো জাদু বুয়েট জানেনা।বুয়েট আমাকে সল্প জ্ঞান দিয়ে, আমার কাছ থেকে পাহাড়সম জ্ঞান আশা করে। আর আমি প্রতিবার তাকে হতাশ করি,সেইসাথে নিজেও হতাশ হই। তবে, এখানে যারা পড়তে আসে তারা সত্যিকার অর্থেই মেধাবী। তাদের তুলনায় আমার সাথে করাও চলেনা। সেই ভাবনা আমার হতাশাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।মনে মনে আমি আমার আশা, হতাশা নিয়ে সপ্নের বুয়েটকে অজস্র চিঠি লিখতে থাকি। কখোনো পোস্ট করা হয়না শুধু।তবে আমার অবস্থা খুব বেশীদিন গোপন থাকলনা । প্রতিনিয়ত আমার নাম বোর্ডের/মার্কশিটের সবচেয়ে নিচে আসতে লাগল।আমি,মনের চিঠিকে সুইসাইড লেটারে রুপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিলাম, তবে জয় লোবোর(ত্রি ইডিয়টসের) মত ঝুলে যাওয়ারও সাহস হলোনা। কারণ ঝুলে গেলাম তো হেরে গেলাম। খেলা শেষ। আমার ইতরামী করার উৎসাহতো অবশিষ্ট রইলোই না, বরং কিভাবে ইতরামী করতে হয় ভুলেই গেলাম।এখন হঠাৎ, মনে হলে আফসোস হয়। ফিরে যেতে ইচ্ছে হয় স্কুলের সেই দিনগুলিতে । তবে এই ইচ্ছাটা হয়তো অপূর্ণই রয়ে যাবে......।
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×